রাজনীতি

বিএনপির বাইরে মির্জা ফখরুলের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৩৯
সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের ভোটে তিনি পেয়েছেন মোট ২৫৫ ভোট।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

 

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন এবং মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

 

বিএনপির নিজস্ব ভোট ২৪৪

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল তাঁর দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। দলটির নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ৩৬ জনও তাঁকে ভোট দিয়েছেন।

 

অর্থাৎ বিএনপির নিজস্ব ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ২৪৪টি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। ফলে বিএনপির নিজস্ব ভোটের বাইরে তাঁর পক্ষে পড়েছে আরও ১১টি ভোট।

 

এই অতিরিক্ত ১১ ভোটের মধ্যে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে এসেছে তিনটি ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সাতটি ভোট। আর ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।

 

সব মিলিয়ে বিএনপির ২৪৪ ভোটের সঙ্গে জোটসঙ্গীদের তিন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সাত এবং হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজনের ভোট যোগ হয়ে তাঁর মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ২৫৫টিতে।

 

অলি আহমদ পেলেন ৮৮ ভোট

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রদত্ত ৩৪৩ ভোটের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর ভোট যোগ করলে মোট ভোটের হিসাবও মিলে যায়।

 

ফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

 

নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এই ফলাফলে মির্জা ফখরুল শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমর্থনই পাননি, জোটসঙ্গী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একটি অংশের ভোটও পেয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় ভোটের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থেকে পাওয়া এই ১১ ভোটও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির বাইরে মির্জা ফখরুলের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবারের ভোটে তিনি পেয়েছেন মোট ২৫৫ ভোট।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।   বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন এবং মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।   বিএনপির নিজস্ব ভোট ২৪৪ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল তাঁর দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। দলটির নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ৩৬ জনও তাঁকে ভোট দিয়েছেন।   অর্থাৎ বিএনপির নিজস্ব ভোটের হিসাব দাঁড়ায় ২৪৪টি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। ফলে বিএনপির নিজস্ব ভোটের বাইরে তাঁর পক্ষে পড়েছে আরও ১১টি ভোট।   এই অতিরিক্ত ১১ ভোটের মধ্যে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে এসেছে তিনটি ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সাতটি ভোট। আর ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যও মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।   সব মিলিয়ে বিএনপির ২৪৪ ভোটের সঙ্গে জোটসঙ্গীদের তিন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সাত এবং হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচিত একজনের ভোট যোগ হয়ে তাঁর মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ২৫৫টিতে।   অলি আহমদ পেলেন ৮৮ ভোট অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রদত্ত ৩৪৩ ভোটের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর ভোট যোগ করলে মোট ভোটের হিসাবও মিলে যায়।   ফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।   নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এই ফলাফলে মির্জা ফখরুল শুধু বিএনপির সংসদ সদস্যদের সমর্থনই পাননি, জোটসঙ্গী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের একটি অংশের ভোটও পেয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় ভোটের পাশাপাশি সংসদের বাইরে থেকে পাওয়া এই ১১ ভোটও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১২:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) নর্থ জোনের উদ্যোগে দিনব্যাপী দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স

১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে ড. অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে আলোচনায় বসলে দুই দেশের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।   রোববার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জনবান্ধব। দুই দেশের দুই নেতা একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি। দুই দেশের প্রধান একসঙ্গে হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস আছে।’   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক ভালো থাকলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথও তৈরি হয়।   তিনি বলেন, ‘মানুষ এক আছে, সমাধান হবেই। কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সব ইতিবাচক আছে।’   বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এই সম্পর্ক শুধু জনগণের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখা প্রয়োজন।   তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে।’   বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।   একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের খরচ কমানো এবং ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আচরণ খুবই ভালো এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কও ভালো। এই ইতিবাচক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়েও আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং জনগণের সম্পর্ককে সরকারি পর্যায়ের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ৬:৫২
শেখ হাসিনার দেশত্যাগকে ঘিরে একাধিক সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ

ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান

এনআইএআইডি এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসিকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিনেটের একটি তদন্তমূলক শুনানি। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা, উহানের গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, সরকারি নীতিনির্ধারণ এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্য নিয়ে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফাউসি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা আত্মঅভিযোগ এড়ানোর সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুনানির শুরু থেকেই সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফাউসির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯-এর উৎস, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এদিনও তিনি জানতে চান, উহানের গবেষণায় মার্কিন অর্থায়নের বিষয়ে ফাউসি কি কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছিলেন, কোভিড-১৯-এর উৎস সম্পর্কে জনগণকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তিনি পূর্ববর্তী সাক্ষ্যে সত্য গোপন করেছিলেন কি না।     প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে ফাউসি একই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’-এর অধিকার ব্যবহার করছেন। ফলে এসব প্রশ্নের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। এরপর রিপাবলিকান সদস্যরা মহামারির সময় নেওয়া বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু ছিল লকডাউন, স্কুল বন্ধ, মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা, টিকা নীতি এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি বার্তা। তারা জানতে চান, এসব সিদ্ধান্তের ফলে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে ফাউসি কোনো ভুল স্বীকার করেন কি না। কিন্তু এসব প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি ফাউসি। তিনি বারবার একই সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করে নীরব থাকেন। শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি ফাউসির নীরবতার সীমা যাচাই করতে কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ প্রশ্নও করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিনের নাম, ফাউসির পরা টাইয়ের রং এবং শুনানিকক্ষের কার্পেটের রং সম্পর্কেও প্রশ্ন করেন। কিন্তু এসব প্রশ্নের ক্ষেত্রেও ফাউসি উত্তর না দিয়ে ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করেন। অন্য রিপাবলিকান সদস্য বার্নি মোরেনো মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানতে চান, চাকরি হারানো মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসার মালিক কিংবা দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে ফাউসি ক্ষমা চাইবেন কি না। এসব প্রশ্নেরও কোনো সরাসরি জবাব দেননি সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।     তবে শুনানির শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফাউসি বলেন, বহু বছর ধরে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, চলমান পরিস্থিতিতে যেকোনো বক্তব্য ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। সে কারণেই তিনি আইনজীবীর পরামর্শে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে র‍্যান্ড পল দাবি করেন, ফাউসির নীরবতা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর জবাব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তার অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া প্রি-এম্পটিভ ক্ষমার পরও ফাউসির ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, কমিটি ফাউসির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। শুনানিতে রিপাবলিকান সদস্যদের মূল প্রশ্নগুলো ছিল উহান গবেষণাগারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন, ‘গেইন অব ফাংশন’ গবেষণা, কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য উৎস, মহামারির সময় সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কংগ্রেসে দেওয়া পূর্ববর্তী সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য নন যা ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক অধিকার। তবে এই অধিকার ব্যবহার করা অপরাধ স্বীকার করার সমতুল্য নয়; বরং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়ানোর একটি সাংবিধানিক সুযোগ।     দিনব্যাপী শুনানির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রশ্নেই ফাউসির একই অবস্থান। এতে শুনানি রাজনৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকানরা এটিকে জবাবদিহি এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর ফাউসির পক্ষের যুক্তি হলো, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত একটি অধিকার প্রয়োগ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ০:১৩
ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পরদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন সাবেক ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

সংগৃহীত

এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল

0 Comments