সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অপরাধ

সরকারি সুবিধার অর্থ নিয়ে জা লি য়া তির বিরুদ্ধে কঠোর শা স্তির প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।   ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।   শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।   মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।   ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল।   মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা।   তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে।   ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৫:৫৬
২৪ বছর বয়সী দিয়েগো রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে প্রায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার গ্রে ফ তার করা হয়েছে
সকালে ডা কা তি, রাতে শ্লীলতা হা নি র অভিযোগ; ১৮ ঘণ্টায় দুইবার গ্রে ফ তার অবৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুটনাম কাউন্টিতে ২৪ বছর বয়সী দিয়েগো রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে প্রায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার গ্রে ফ তার করা হয়েছে। প্রথমে একটি গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে আ ক্র ম ণ এবং পণ্য চুরির ঘটনায় ডা কা তি র অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন রাতে একটি ট্রেনে এক নারীকে জোরপূর্বক স্পর্শের অভিযোগে আবারও তাকে গ্রে ফ তার করে পুলিশ। পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ভোর প্রায় ৩টা ৫ মিনিটে কেন্ট শহরের একটি সিনক্লেয়ার গ্যাস স্টেশনে পণ্য চুরি ঠেকাতে গিয়ে এক দোকানকর্মী আ ক্রা ন্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে কাছের একটি জলাভূমি এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় খুঁজে পান এবং তাকে হেফাজতে নেন। কেন্ট পুলিশ তার বিরুদ্ধে ডা কা তি ও আ ক্র ম ণের অভিযোগ আনে। কাছের একটি ব্যাংকের পৃথক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগও আনা হয়।   এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত প্রায় ৯টা ৯ মিনিটে পুটনাম কাউন্টির জরুরি নম্বরে আরেকটি খবর আসে। একটি ট্রেনের নারী যাত্রী পুলিশকে জানান, ট্রেনে থাকা এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক স্পর্শ করেছেন। ডেপুটিরা পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পরে ট্রেন ইয়ার্ডের কাছে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে শনাক্ত করেন এক ডেপুটি।   পুলিশের দাবি, তাকে থামার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি এবং গ্রে ফ তারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ টে জা র ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হেফাজতে নেয়। দ্বিতীয় ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ, সরকারি কাজে বাধা, গ্রে ফ তারে বাধা এবং অন ধি কার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   আদালতে হাজির করার পর তার জামিনের পরিমাণ ১০ হাজার ডলার নগদ অথবা ২০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ঘটনায় গ্রে ফ তারের পর তিনি আবারও বাইরে ছিলেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় ঘটনায় তাকে আটক করা হয়।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজ গুয়াতেমালার নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নেই। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, তার আগের একাধিক মা ম লা ও দো ষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানিয়েছে, গত দুই বছরে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে ১৭ বার গ্রে ফ তার করা হয়েছে বলে পুটনাম কাউন্টির শেরিফ ব্রায়ান হেস দাবি করেছেন। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রে ফ তার করা হয়েছে—এ তথ্য নিজেই প্রতিটি ঘটনায় দো ষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়।   ঘটনার পর নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। পুটনাম কাউন্টির শেরিফ ব্রায়ান হেসসহ স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ নীতির সমালোচনা করেছেন এবং স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আরও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান হিসেবে এসেছে।   পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই ঘটনায় জড়িত দুই ভু ক্ত ভো গী গুরুতরভাবে আ হ ত হননি। একই সঙ্গে পুলিশের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দো ষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২:৫০
কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় আদালতে বাবা-মায়ের সাজা
মাতৃদুগ্ধ পানের পর নবজাতকের মৃ ত্যু, শরীরে কো কে ন; বাবা-মা গ্রে প্তা র

ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী এক শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায় স্বীকার করা বাবা-মাকে আড়াই বছর করে কা রা দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা তিন বছরের জন্য স্থ গিত রাখা হয়েছে। ফলে তাদের এখনই কা রা গা রে যেতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে রোশেল থমাস ও অ্যান্ড্রু মন্ডারের সাজা ঘোষণা করা হয়।   ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর নিউকির হোটেল ভিক্টোরিয়ায় তাদের মেয়ে ডার্সিকে অ চে তন অবস্থায় পাওয়া যায়। জ রু রি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে কো কে নের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ঘটনার পর গ্রে প্তা র হওয়া দুজনই শিশুর প্রতি অবহেলার একটি করে অ ভি যোগে দোষ স্বীকার করেন।   আদালতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক সাইমন কার বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুটির শরীরে কো কে ন প্রবেশ করাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে শিশুটির মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাবা-মায়ের কর্মকাণ্ডই ডার্সির মৃ ত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তও শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, দুজনই কো কে ন ব্যবহার করতেন। তাদের পোশাক ও আঙুলের পাশাপাশি হোটেলকক্ষের একটি কাপেও কো কে ন পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, তাদের মা দ ক ব্যবহার শিশুটির জীবনকে ঝুঁ কির মধ্যে ফেলেছিল।   সাজা নির্ধারণের সময় বিচারক থমাসের মা ন সিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং মন্ডারের অনুশোচনা ও মা ন সিক অবস্থার বিষয় বিবেচনা করেন। স্থ গিত কা রা দণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে এক বছর পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। থমাসকে অতিরিক্ত ছয় মাসের মা দ ক পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ল্যাক্টমেড তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, কো কে ন ও এর বিপাকজাত উপাদান বুকের দুধে পাওয়া যেতে পারে। নবজাতকের শরীরে কো কে ন নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় এনজাইম পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা এ মা দ কে র প্রভাবে বিশেষভাবে ঝুঁ কিপূর্ণ। তবে এই সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য দিয়ে ডার্সির মৃ ত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৮:৫০
তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান
তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান

ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।   পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন।   কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।   আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি।   বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল।   তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।   গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৫:৫৬
জর্জিয়ার কলেজ পার্কের সেই সুপার ৮ হোটেল, যেখানে শি শু পা চা রের ঘটনায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলারের রায় হয়েছে
১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে পা চা রের মামলায় হোটেল মালিককে ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি হোটেলে শি শু পা চা রের মামলায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জুরির সদস্যরা। মামলায় হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। ২০২০ সালে তাকে পা চা রকারীরা কলেজ পার্কের ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের সুপার ৮ হোটেলে নিয়ে যায়। ২০২০ ও ২০২১ সালে তাকে একাধিকবার ওই হোটেলে রাখা হয়।   মামলায় ভুক্তভোগীকে পরিচয় গোপন রাখতে জে.আর. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আদালতে জানান, এক পর্যায়ে পা চা রকারীদের কাছ থেকে পালানোর জন্য হোটেলের এক কর্মীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওই কর্মী তাকে সহায়তা করেননি এবং হোটেলের ফোন ব্যবহার করতেও দেননি।   মামলার শুনানিতে সাবেক এক হাউসকিপারও সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলে শি শু পা চা রের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন লক্ষণ কর্মীদের নজরে আসত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কর্মী পা চা রকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পুলিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন।   ফেডারেল জুরি লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে মোট ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। এর মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১২০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। জুরিরা প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে রায়ে পৌঁছান।   মামলাটি ফেডারেল ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথোরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় করা হয়েছিল। এই আইনে পা চা রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত ছিল এবং সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে—এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মা ম লা করার সুযোগ রয়েছে।   এই হোটেলকে ঘিরে আরও কয়েকটি একই ধরনের মা ম লা বিচারাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন। এর আগে জর্জিয়ার ডিকাটারের একটি হোটেলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পা চা রের ঘটনায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি জুরি রায় হয়েছিল।   ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের ওই সুপার ৮ হোটেলটি বর্তমানে নতুন মালিকানায় রয়েছে। লিংকন ব্যানকর্পের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে থাকা এলাকাতেও মানব পা চা র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে হোটেল ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পা চা রের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৯:২
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সন্দেহজনক যানবাহন পরীক্ষা করছে ব্রিটিশ বাহিনী
বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনের আওতায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজন আ টক

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে স ন্ত্রা স ও বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনে পাঁচজনকে আ টক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। রোববার সকালে আমেরিকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আ টক করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, আ টক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বি স্ফো র ক আইনের আওতায় অ প রা ধের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের স ন্ত্রা সী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গেও জড়িত থাকার সন্দেহে আ টক করা হয়েছে। তারা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।   ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ডের কাছের উইলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। উইলফোর্ড আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে।   ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বি স্ফো র ক-নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আ টক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ কাউন্টার টে র রি জ ম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে।   আরএএফ ফেয়ারফোর্ড আমেরিকান বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো মার্কিন বি মান অবস্থান করেছে।   ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, তারা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষ তি করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।   সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।   ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, জরুরি সাড়াদানকারী দল ও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদও ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।   আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে থাকা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং জানিয়েছে, ঘটনাটির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরএএফ লাকেনহিথের ৪৮তম ফাইটার উইং জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে লাকেনহিথ, মাইল্ডেনহল ও ফেল্টওয়েল ঘাঁটি নিয়ে গঠিত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৮:২৫
স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে স্বামী এরিক রিচিনসকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি তাঁকে গুরুতর হ ত্যা, হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-সংক্রান্ত দুটি প্র তারণাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৩ মে আদালত তাঁর সাজার ঘোষণা দেয়।   ৩৫ বছর বয়সী কৌরি রিচিনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২২ সালের ৪ মার্চ পার্ক সিটির কাছে তাঁদের বাড়িতে স্বামী এরিকের পানীয় মস্কো মিউলে প্রাণঘাতী মাত্রার ফেন্টানিল মিশিয়ে দেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এরিককে পরে বিছানায় মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ফেন্টানিলের মাত্রা প্রাণঘাতী মাত্রার প্রায় পাঁচ গুণ ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়।   বিচারে আরও উঠে আসে, স্বামীর মৃ ত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে হ ত্যার আরেকটি চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রসিকিউটরদের দাবি, ভ্যালেন্টাইনস ডের সময় এরিককে ফেন্টানিল মেশানো একটি স্যান্ডউইচ দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায়ও কৌরিকে হ ত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জুরি।   প্রসিকিউটররা দাবি করেন, আর্থিক লাভই ছিল হ ত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কৌরি আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং স্বামীর জীবনবীমা ও সম্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশা করছিলেন। বিচারে স্বামীর নামে বীমা পলিসি এবং তাঁর মৃ ত্যুর পর বীমার অর্থ পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্র তারণার বিষয়ও উঠে আসে।   তবে কৌরি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। সাজা ঘোষণার দিন আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বামীকে হ ত্যা করেননি। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।   এই মামলাটি আলোচনায় আসে আরেকটি কারণে। এরিকের মৃ ত্যুর পর কৌরি ‘Are You With Me?’ নামে শিশুদের একটি বই প্রকাশ করেন। বইটিতে প্রিয়জনকে হারানোর পর শোক সামলানোর বিষয় তুলে ধরা হয়। বইটির প্রচারের সময় কৌরি তাঁর তিন সন্তান কীভাবে বাবাকে হারানোর শোক সামলাচ্ছিল, সে বিষয়েও কথা বলেছিলেন।   ২০২৩ সালে কৌরিকে গ্রে প্তার করা হয়। এরপর বইটি এবং তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন তাঁর প্রকাশিত বই এবং স্বামীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করে।   ১৩ মে সাজা ঘোষণার শুনানিতে এরিকের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। কৌরির তিন সন্তানের পক্ষ থেকেও আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের বক্তব্যে মাকে হারানোর পাশাপাশি বাবাকে হারানোর পর পরিবারের ওপর পড়া প্রভাবের কথা উঠে আসে।   সব বক্তব্য শোনার পর বিচারক রিচার্ড ম্রাজিক কৌরিকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-প্র তারণার অভিযোগে পাওয়া অন্যান্য সাজাগুলোও ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কৌরির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:১১
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়
‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।   পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি।   আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।    

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:৫
ওয়ালমার্টে হামলার সময় নজরদারি ক্যামেরায় কিশোরীর বাবা-মা
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৫৩
উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর তরুণীর মৃত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার
ঝগড়ার পর উবার থেকে নামিয়ে দেওয়া তরুণীর মৃ ত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র‌্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন।   ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না।   সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে।   রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৮:১৫
মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে এক বাবার বিরুদ্ধে নিজের নবজাতক কন্যাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে ও তীব্রভাবে ঝাঁকিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ২৩ বছর বয়সী নোয়াহ হাম্পাস নামের ওই বাবাকে গত বুধবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ল অ্যান্ড ক্রাইম-এর প্রাপ্ত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ পান।   জেফারসন সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির পাঁজরের হাড় ও ফিমার (ঊরুর হাড়) ভাঙা ছিল। এছাড়া তার মুখমণ্ডল ও শরীরে কালশিটে দাগ ছিল এবং তাকে তীব্রভাবে ঝাঁকানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে।   শিশুটির মায়ের ভাষ্যমতে, নোয়াহ প্রতিদিন অন্তত দুবার মেয়েকে এভাবে ধরে ঝাঁকাতেন। পুলিশকে তিনি জানান, নোয়াহ তাকে বলতেন—বাচ্চাদের 'শক্ত' বা মজবুত করার জন্যই এমনটা করা দরকার এবং শিশুদের সাথে একটু 'কঠোর' আচরণ করাটা খুবই স্বাভাবিক।   পুলিশের জেরার মুখে নোয়াহ নিজেও স্বীকার করেন যে, বাচ্চাটি যখন কাঁদত এবং তিনি বিরক্ত হতেন, তখন একাধিকবার তিনি তাকে এভাবে ঝাঁকিয়েছেন। একটি পুতুল ব্যবহার করে তিনি পুলিশকে দেখান কীভাবে তিনি মেয়েকে পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে দোলাতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক এ কারণেই শিশুটির পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের ক্ষতগুলো শুকানোর বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে দীর্ঘ সময় ধরেই তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। নোয়াহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি অন্তত ১০ থেকে ২০ বার নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানবিক আচরণ করেছেন।   বর্তমানে তাকে কোল কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও শিশুর জীবন বিপন্ন করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২৩:১৪
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়িতে ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছর বয়সি এডওয়ার্ড ব্রাউন নামের এক প্রবীণ বাবা নিহত হয়েছেন। লেবার ডে-এর প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সি ছেলে সেজ এরিয়াস-ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সাফক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লং আইল্যান্ডের ম্যাস্টিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন সেজ এরিয়াস-ব্রাউন।   এরপর তিনি তার বাবা এডওয়ার্ড ব্রাউনের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ, বাবার চিৎকার এবং হামলাকারীকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেন।   গুরুতর আহত অবস্থায়ও এডওয়ার্ড ব্রাউন নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ফোনের কাছে পৌঁছে ৯১১-এ কল করে হামলার বিবরণ দেন এবং পুলিশের সহায়তা চান। তবে সাহায্য পৌঁছানোর আগেই তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ আসার সামান্য দূর থেকেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এরিয়াস-ব্রাউনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ডাকাতির মামলাও বিচারাধীন ছিল। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী ক্যাথরিন ফার্নান্দেজ উপস্থিত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যা মামলায় দ্বিতীয় ডিগ্রি খুনের অভিযোগ আনা হলেও অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   আদালত তাকে জামিনঅযোগ্য ঘোষণা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী শুক্রবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:২৯
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন।   খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়।   তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৫:৪১
সিয়াটলের বেলটাউনে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা
বেলটাউনে একদিনে তিন গুলির ঘটনা, কিশোরসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:৪১
ভোরের গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী, পেছনে পুলিশের গাড়ি
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের সান অ্যান্টোনিওতে ভোরে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে গেছে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রোববার সকাল ৭টার ঠিক আগে নর্থওয়েস্ট সাইডের লুপ ৪১০-এর কাছে চেরি রিজ ড্রাইভ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৪ ও ৬১ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২৭ বছর বয়সী এবং তিনি আহত দুই ব্যক্তিকে চিনতেন। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আহত দুইজনের নাম প্রকাশ করেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।  

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:৫১
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।   ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়।   প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন।   প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন।   তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল।   সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন।   মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন।   প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।   এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন।   ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত।   প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।   এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:৩৯
স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নিউইয়র্কে প্রাক্তন ছাত্রীকে স্টকিংয়ের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলজীবনেই যৌ ন সম্পর্কের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন এক ছাত্রীকে ক্রমাগত অনুসরণ বা স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের এক হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বে শোর হাইস্কুলের শিল্পকলার এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ১৮ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রীর পিছু নিয়েছিলেন।   সাফোক কাউন্টি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী তরুণী যখন ওই স্কুলে ১৭ বছর বয়সী সিনিয়র ছাত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের যৌন সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে ওই তরুণী সাফোক কমিউনিটি কলেজে পড়ছেন এবং গত এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার সেখানে গিয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন।   পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেলডেনে যাওয়ার পথে ওই তরুণী বুঝতে পারেন যে কেনেডি তার পিছু নিয়েছেন। এর আগে তরুণী তাকে দূরে থাকার কথা বললেও তিনি বারবার কথা বলার চেষ্টা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ কমিশনার কেভিন ক্যাটালিনা জানান, শিক্ষক বারবার তাকে অনুসরণ করায় তরুণী অত্যন্ত অস্বস্তিবোধ করেন এবং বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন।   এছাড়া অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর বাড়ির আশেপাশেও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে 'ফোর্থ-ডিগ্রি স্টকিং'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কেনেডির আইনজীবী কেভিন সেম্যান এই অভিযোগ ও যৌন সম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেনেডি জনসমক্ষে ছিলেন এবং পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।   এদিকে, বে শোর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর করা দেওয়ানি মামলার জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই কেনেডিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং স্কুল চত্বরে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে মামলাকারী শিক্ষার্থী এবং বর্তমান ভুক্তভোগী একই ব্যক্তি কি না, তা স্পষ্ট নয়।   এড্রিয়ানা সিনকে নামের ওই স্কুলের আরেক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষকের এমন আচরণের খবরে তিনি খুব একটা অবাক হননি, কারণ আগে একটি ফিল্ড ট্রিপে এই শিক্ষকের আচরণ তাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। শুক্রবার আদালত থেকে কেনেডি জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেও বিচারক তাকে ওই তরুণীর কাছ থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:১
প্রবীণদের লক্ষ্য করে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ, মুজামিল আহমেদ নামে একজন গ্রেপ্তার
ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের ফাঁদে ফেলত, এরপর যেভাবে হাতিয়ে নিত সোনা ও লাখ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কৌশল নিয়ে টেক্সাসের ট্যারান্ট কাউন্টির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতারকরা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ফেডারেল এজেন্টের পরিচয়ে প্রবীণদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখাত।   এরপর নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে সোনার বার, বিটকয়েন বা নগদ অর্থে রূপান্তর করতে বলা হতো।   প্রতারণার পরের ধাপ ছিল আরও কৌশলী। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, তাদের অর্থ নিরাপদ রাখতে একজন ফেডারেল এজেন্ট এসে সোনা বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করবেন। পরে চক্রের কুরিয়াররা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেই সোনা বা টাকা নিয়ে যেত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।   কর্তৃপক্ষের মতে, চক্রটির একটি অংশ বিদেশি কল সেন্টার থেকে প্রবীণদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ফোনে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হতো, এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে ভুক্তভোগীরা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চয় প্রতারকদের হাতে তুলে দিতেন।   চুরি করা সোনা ও অর্থ এরপর চক্রটির অন্য সদস্যদের কাছে চলে যেত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সোনা বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন গয়নায় রূপান্তর করা হতো। এতে সোনার আসল উৎস আড়াল করা সহজ হতো। পরে এসব গয়না বা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   অন্যদিকে, চুরি করা অর্থ এবং সোনার মূল্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ পাচার ব্যবস্থায় নিউ জার্সিতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে চুরি করা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   মুজামিল আহমেদকে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসে ফিরিয়ে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে আহমেদই এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার ব্যক্তি নন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি ইনডাইটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ১৮টি ইনডাইটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর ১২ জন আসামি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার শিকাগো ও নিউয়ার্ক থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   পুরো তদন্তে ২০০-এর বেশি প্রবীণ ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সোনাও জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   একজন ভুক্তভোগী এই প্রতারণায় প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক প্রবীণ এই প্রতারণার শিকার হলেও লজ্জা, ভয় বা বিভ্রান্তির কারণে এখনো বিষয়টি পুলিশকে জানাননি।   কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্ট ফোন করে সোনা, নগদ অর্থ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে সেটিকে বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে।   সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ফোনে কাউকে সোনা বা নগদ অর্থ কিনে দেওয়ার নির্দেশ দেয় না। সন্দেহ হলে ফোনে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত।   মুজামিল আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৮:২২
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেস্টলাইনে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মানবিকতার খাতিরে এক অপরিচিত যুবককে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে চরম পরিণতির শিকার হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী থেরেস গার্সিয়া নামের এক বৃদ্ধা।   ২৬ বছর বয়সী ওই যুবক ঘুমন্ত অবস্থায় গার্সিয়াকে অ্যালুমিনিয়ামের বেসবল ব্যাট দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় মস্তিষ্কে আঘাতের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, হামলার পর বৃদ্ধার সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যাওয়া ওই যুবক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।   ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়ে অ্যাবি গার্সিয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসিএলএ-কে জানান, তার মা প্রায়ই বাড়ির বারান্দায় বসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করতেন। একদিন ওই যুবক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গার্সিয়ার সঙ্গে কথা বলে এবং জানায়, ক্যাম্পিং করার সময় তার সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।   দয়ালু গার্সিয়া তার দুর্দশার কথা শুনে তাকে নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর যুবকটি ধীরে ধীরে বাড়িটির ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গার্সিয়া তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবক।   ঘটনার রাতে গার্সিয়া ঘুমিয়ে পড়লে ওই যুবক তাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। অ্যাবি গার্সিয়া জানান, তার মা ব্যথায় জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং একটু জ্ঞান ফিরলেই যুবকটি আবারও তাকে পেটাতে শুরু করে, যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যান। হামলার পর ওই পাষণ্ড যুবক বৃদ্ধার বাড়ির চাবি, মোবাইল ফোন এবং ই-বাইক চুরি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই হামলাকারীকে ধরতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:৭
নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।   আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন।    এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।    ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান।    এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:১৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল।   সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়।   তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত।   বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:৪৯
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০