সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অপরাধ

মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
মিসৌরিতে কান্নারত নবজাতক কন্যাকে উল্টো ঝুলিয়ে ঝাঁকাতেন বাবা, নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে এক বাবার বিরুদ্ধে নিজের নবজাতক কন্যাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে ও তীব্রভাবে ঝাঁকিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ২৩ বছর বয়সী নোয়াহ হাম্পাস নামের ওই বাবাকে গত বুধবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ল অ্যান্ড ক্রাইম-এর প্রাপ্ত একটি এফিডেভিট অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ পান।   জেফারসন সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাছে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির পাঁজরের হাড় ও ফিমার (ঊরুর হাড়) ভাঙা ছিল। এছাড়া তার মুখমণ্ডল ও শরীরে কালশিটে দাগ ছিল এবং তাকে তীব্রভাবে ঝাঁকানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে।   শিশুটির মায়ের ভাষ্যমতে, নোয়াহ প্রতিদিন অন্তত দুবার মেয়েকে এভাবে ধরে ঝাঁকাতেন। পুলিশকে তিনি জানান, নোয়াহ তাকে বলতেন—বাচ্চাদের 'শক্ত' বা মজবুত করার জন্যই এমনটা করা দরকার এবং শিশুদের সাথে একটু 'কঠোর' আচরণ করাটা খুবই স্বাভাবিক।   পুলিশের জেরার মুখে নোয়াহ নিজেও স্বীকার করেন যে, বাচ্চাটি যখন কাঁদত এবং তিনি বিরক্ত হতেন, তখন একাধিকবার তিনি তাকে এভাবে ঝাঁকিয়েছেন। একটি পুতুল ব্যবহার করে তিনি পুলিশকে দেখান কীভাবে তিনি মেয়েকে পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে দোলাতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক এ কারণেই শিশুটির পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের ক্ষতগুলো শুকানোর বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে দীর্ঘ সময় ধরেই তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। নোয়াহ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি অন্তত ১০ থেকে ২০ বার নিজের সন্তানের ওপর এমন অমানবিক আচরণ করেছেন।   বর্তমানে তাকে কোল কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও শিশুর জীবন বিপন্ন করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী বুধবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ২৩:১৪
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন
লং আইল্যান্ডে নিজের ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছরের বাবার মৃত্যু, মৃত্যুর আগে ৯১১-এ শেষ ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়িতে ছেলের ছুরিকাঘাতে ৬৯ বছর বয়সি এডওয়ার্ড ব্রাউন নামের এক প্রবীণ বাবা নিহত হয়েছেন। লেবার ডে-এর প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সি ছেলে সেজ এরিয়াস-ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও সাফক কাউন্টি প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লং আইল্যান্ডের ম্যাস্টিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন সেজ এরিয়াস-ব্রাউন।   এরপর তিনি তার বাবা এডওয়ার্ড ব্রাউনের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী হামলাকারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ, বাবার চিৎকার এবং হামলাকারীকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেন।   গুরুতর আহত অবস্থায়ও এডওয়ার্ড ব্রাউন নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ফোনের কাছে পৌঁছে ৯১১-এ কল করে হামলার বিবরণ দেন এবং পুলিশের সহায়তা চান। তবে সাহায্য পৌঁছানোর আগেই তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুলিশ আসার সামান্য দূর থেকেই অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এরিয়াস-ব্রাউনের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ডাকাতির মামলাও বিচারাধীন ছিল। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী ক্যাথরিন ফার্নান্দেজ উপস্থিত ছিলেন। এই নৃশংস হত্যা মামলায় দ্বিতীয় ডিগ্রি খুনের অভিযোগ আনা হলেও অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   আদালত তাকে জামিনঅযোগ্য ঘোষণা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী শুক্রবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৮:২৯
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক
ফ্লোরিডায় প্রেমিকাকে খুন করে হোটেলে আশ্রয়, পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার ঘাতক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর একটি হোটেলে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গোলাগুলিতে জড়িয়েছেন এক ব্যক্তি। টড ওয়েগরিখ (৫৩) নামের ওই ব্যক্তিকে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকার 'দ্য বেন হোটেল' থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (পিবিএসও)।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার টড ওয়েগরিখ তার প্রেমিকাকে হত্যার পর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং টেক্সট মেসেজ করে খুনের বিষয়টি জানান। তবে তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। ওই মেসেজ ও ফোন পেয়ে অন্তত চারজন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করেন।   খবর পেয়ে শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা লক্সাহ্যাচি এলাকার ট্যাঙ্গেলড অরচার্ড ট্রেসের ১৪০০ ব্লকের ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তারা মূল দরজার ঠিক ভেতরেই একাধিক গুলির আঘাতসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। বাড়িটির আশপাশেও গোলাগুলির আলামত পাওয়া যায়।   তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে যে, ঘাতক টড ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দ্য বেন হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাকে ফোনে আত্মসমর্পণ করার জন্য দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। পরে সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্যরা হোটেলের সপ্তম তলায় অবস্থিত তার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং অবশেষে তাকে অক্ষত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলির ঘটনায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা ওই সন্দেহভাজন আহত হননি। গ্রেপ্তারের পর টড ওয়েগরিখ পুলিশের কাছে নিজের প্রেমিকাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে পাম বিচ কাউন্টির কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৫:৪১
সিয়াটলের বেলটাউনে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা
বেলটাউনে একদিনে তিন গুলির ঘটনা, কিশোরসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:৪১
ভোরের গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী, পেছনে পুলিশের গাড়ি
পরিচিত দুই ব্যক্তিকে গুলি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ২৭ বছরের যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের সান অ্যান্টোনিওতে ভোরে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে গেছে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রোববার সকাল ৭টার ঠিক আগে নর্থওয়েস্ট সাইডের লুপ ৪১০-এর কাছে চেরি রিজ ড্রাইভ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৪ ও ৬১ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২৭ বছর বয়সী এবং তিনি আহত দুই ব্যক্তিকে চিনতেন। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও আহত দুইজনের নাম প্রকাশ করেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:৫১
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।   ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়।   প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন।   প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন।   তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল।   সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন।   মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন।   প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।   এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন।   ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত।   প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।   এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:৩৯
স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নিউইয়র্কে প্রাক্তন ছাত্রীকে স্টকিংয়ের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলজীবনেই যৌ ন সম্পর্কের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন এক ছাত্রীকে ক্রমাগত অনুসরণ বা স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের এক হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বে শোর হাইস্কুলের শিল্পকলার এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ১৮ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রীর পিছু নিয়েছিলেন।   সাফোক কাউন্টি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী তরুণী যখন ওই স্কুলে ১৭ বছর বয়সী সিনিয়র ছাত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের যৌন সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে ওই তরুণী সাফোক কমিউনিটি কলেজে পড়ছেন এবং গত এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার সেখানে গিয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন।   পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেলডেনে যাওয়ার পথে ওই তরুণী বুঝতে পারেন যে কেনেডি তার পিছু নিয়েছেন। এর আগে তরুণী তাকে দূরে থাকার কথা বললেও তিনি বারবার কথা বলার চেষ্টা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ কমিশনার কেভিন ক্যাটালিনা জানান, শিক্ষক বারবার তাকে অনুসরণ করায় তরুণী অত্যন্ত অস্বস্তিবোধ করেন এবং বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন।   এছাড়া অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর বাড়ির আশেপাশেও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে 'ফোর্থ-ডিগ্রি স্টকিং'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কেনেডির আইনজীবী কেভিন সেম্যান এই অভিযোগ ও যৌন সম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেনেডি জনসমক্ষে ছিলেন এবং পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।   এদিকে, বে শোর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর করা দেওয়ানি মামলার জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই কেনেডিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং স্কুল চত্বরে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে মামলাকারী শিক্ষার্থী এবং বর্তমান ভুক্তভোগী একই ব্যক্তি কি না, তা স্পষ্ট নয়।   এড্রিয়ানা সিনকে নামের ওই স্কুলের আরেক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষকের এমন আচরণের খবরে তিনি খুব একটা অবাক হননি, কারণ আগে একটি ফিল্ড ট্রিপে এই শিক্ষকের আচরণ তাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। শুক্রবার আদালত থেকে কেনেডি জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেও বিচারক তাকে ওই তরুণীর কাছ থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:১
প্রবীণদের লক্ষ্য করে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ, মুজামিল আহমেদ নামে একজন গ্রেপ্তার
ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের ফাঁদে ফেলত, এরপর যেভাবে হাতিয়ে নিত সোনা ও লাখ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কৌশল নিয়ে টেক্সাসের ট্যারান্ট কাউন্টির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতারকরা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ফেডারেল এজেন্টের পরিচয়ে প্রবীণদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখাত।   এরপর নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে সোনার বার, বিটকয়েন বা নগদ অর্থে রূপান্তর করতে বলা হতো।   প্রতারণার পরের ধাপ ছিল আরও কৌশলী। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, তাদের অর্থ নিরাপদ রাখতে একজন ফেডারেল এজেন্ট এসে সোনা বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করবেন। পরে চক্রের কুরিয়াররা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেই সোনা বা টাকা নিয়ে যেত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।   কর্তৃপক্ষের মতে, চক্রটির একটি অংশ বিদেশি কল সেন্টার থেকে প্রবীণদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ফোনে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হতো, এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে ভুক্তভোগীরা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চয় প্রতারকদের হাতে তুলে দিতেন।   চুরি করা সোনা ও অর্থ এরপর চক্রটির অন্য সদস্যদের কাছে চলে যেত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সোনা বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন গয়নায় রূপান্তর করা হতো। এতে সোনার আসল উৎস আড়াল করা সহজ হতো। পরে এসব গয়না বা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   অন্যদিকে, চুরি করা অর্থ এবং সোনার মূল্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ পাচার ব্যবস্থায় নিউ জার্সিতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে চুরি করা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   মুজামিল আহমেদকে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসে ফিরিয়ে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে আহমেদই এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার ব্যক্তি নন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি ইনডাইটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ১৮টি ইনডাইটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর ১২ জন আসামি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার শিকাগো ও নিউয়ার্ক থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   পুরো তদন্তে ২০০-এর বেশি প্রবীণ ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সোনাও জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   একজন ভুক্তভোগী এই প্রতারণায় প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক প্রবীণ এই প্রতারণার শিকার হলেও লজ্জা, ভয় বা বিভ্রান্তির কারণে এখনো বিষয়টি পুলিশকে জানাননি।   কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্ট ফোন করে সোনা, নগদ অর্থ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে সেটিকে বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে।   সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ফোনে কাউকে সোনা বা নগদ অর্থ কিনে দেওয়ার নির্দেশ দেয় না। সন্দেহ হলে ফোনে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত।   মুজামিল আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৮:২২
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট
ক্যালিফোর্নিয়ায় দয়া দেখিয়ে ঘরে আশ্রয়, সেই বৃদ্ধাকেই বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সর্বস্ব লুট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেস্টলাইনে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মানবিকতার খাতিরে এক অপরিচিত যুবককে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে চরম পরিণতির শিকার হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী থেরেস গার্সিয়া নামের এক বৃদ্ধা।   ২৬ বছর বয়সী ওই যুবক ঘুমন্ত অবস্থায় গার্সিয়াকে অ্যালুমিনিয়ামের বেসবল ব্যাট দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় মস্তিষ্কে আঘাতের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, হামলার পর বৃদ্ধার সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যাওয়া ওই যুবক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।   ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়ে অ্যাবি গার্সিয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসিএলএ-কে জানান, তার মা প্রায়ই বাড়ির বারান্দায় বসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করতেন। একদিন ওই যুবক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গার্সিয়ার সঙ্গে কথা বলে এবং জানায়, ক্যাম্পিং করার সময় তার সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।   দয়ালু গার্সিয়া তার দুর্দশার কথা শুনে তাকে নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর যুবকটি ধীরে ধীরে বাড়িটির ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গার্সিয়া তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবক।   ঘটনার রাতে গার্সিয়া ঘুমিয়ে পড়লে ওই যুবক তাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। অ্যাবি গার্সিয়া জানান, তার মা ব্যথায় জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং একটু জ্ঞান ফিরলেই যুবকটি আবারও তাকে পেটাতে শুরু করে, যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যান। হামলার পর ওই পাষণ্ড যুবক বৃদ্ধার বাড়ির চাবি, মোবাইল ফোন এবং ই-বাইক চুরি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই হামলাকারীকে ধরতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:৭
নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।   আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন।    এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।    ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান।    এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:১৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল।   সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়।   তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত।   বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৫:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে একটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরিক জেমস নামের ওই ব্যক্তি ব্রুক হাই স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন ন্যক্কারজনক কাণ্ডে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।     ব্রুক কাউন্টির শেরিফ রিচার্ড বিটি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, স্কুলের মেয়েদের শারীরিক শিক্ষা (পিই) লকার রুম এবং ড্যান্স টিমের সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে এই গোপন ক্যামেরাগুলো পাওয়া যায়।   এরপরই প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ইলেকট্রনিক যোগাযোগে আড়িপাতা এবং অননুমোদিত স্থানে বেআইনিভাবে প্রবেশের দুটিসহ মোট তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পরই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল এরিক জেমসকে নর্দান রিজিওনাল জেলে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তার জামিন বন্ড এক লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী
পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে।  ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।  সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান।  প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।  ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল।  পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:১৭
এপস্টিন তদন্তে কংগ্রেসের সমন এড়িয়ে আদালতে লিওন ব্ল্যাক
এপস্টিন তদন্তে হাজির না হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন ধনকুবের লিওন ব্ল্যাক

মার্কিন ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাককে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। বরং কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির জারি করা সমনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন ব্ল্যাক।   মামলায় ব্ল্যাক দাবি করেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জারি করা সমনগুলো অবৈধ। তার মতে, এসব সমনের সঙ্গে কমিটির আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। কংগ্রেসের সমনের মধ্যে ছিল এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু গোপনীয়তা চুক্তি জমা দেওয়া এবং শপথের অধীনে ক্যামেরার সামনে জবানবন্দি দেওয়া। ব্ল্যাকের দাবি, এসব চুক্তি প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর ব্যক্তিগত তথ্য সামনে চলে আসতে পারে, যারা নিজেদের তথ্য গোপন রাখার অধিকার চেয়েছিলেন।   ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। তখন এপস্টিনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন ব্ল্যাক। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তাকে কয়েকটি গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কমিটি তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরার সামনে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবার সেই নির্দেশ মানার বদলে আদালতে গিয়ে সমনগুলোই চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।   গোপনীয়তা চুক্তি বলতে এমন একটি আইনি চুক্তিকে বোঝায়, যেখানে দুই পক্ষ সম্মত হয় যে তাদের মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য, ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। সাধারণত কোনো সম্পর্ক, চাকরি, ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিরোধের মীমাংসার সময় এ ধরনের চুক্তি করা হয়। লিওন ব্ল্যাকের ক্ষেত্রে কংগ্রেস জানতে চাইছে, এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো গোপনীয়তা চুক্তি তিনি করেছিলেন কি না এবং সেগুলোতে কী ধরনের তথ্য গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল।   ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বৃহস্পতিবার বলেন, বিষয়টি এখন আর এপস্টিনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার অভিযোগ, তদন্তের আড়ালে ব্ল্যাককে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, গোপনীয়তা চুক্তিগুলো প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য সামনে আসতে পারে, যাদের এপস্টিনের সঙ্গে কোনো পরিচিত বা প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই। এ কারণেই কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব দিতে আদালতে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   ব্ল্যাকের আদালতে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ব্ল্যাক দুটি কংগ্রেশনাল সমন অমান্য করছেন। তার ভাষায়, এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের সম্পর্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে তার অনীহা—দুটিই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ব্ল্যাককে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।   কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারও ব্ল্যাকের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণের সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্ল্যাক মামলা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কোমারের মতে, এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তে ব্ল্যাকের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।   এদিকে এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ব্ল্যাকের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্ল্যাক জানিয়েছেন, তিনি এপস্টিনকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের সেই সম্পর্কের সময়ে এপস্টিনকে তিনি মোট ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন বলেও কংগ্রেসের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ব্ল্যাকের দাবি, অর্থগুলো বৈধ কাজের জন্যই দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগ ওঠার আগে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।   মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতেও লিওন ব্ল্যাকের নাম রয়েছে। এসব নথির মধ্যে ছবি, ভিডিও এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে, যেখানে এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম এসব নথিতে থাকা বা কোনো ছবিতে দেখা যাওয়াকে নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ব্ল্যাকও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   ব্ল্যাককে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় অংশ সাবেক রুশ মডেল গুজেল গ্যানিয়েভাকে নিয়ে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্যানিয়েভার সঙ্গে ব্ল্যাকের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর গ্যানিয়েভা ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন এবং একটি মামলা করেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ২০১৫ সালে তার নীরবতা নিশ্চিত করতে ব্ল্যাক একটি গোপনীয়তা চুক্তি করেছিলেন।   গ্যানিয়েভার করা মামলাটি পরে আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের সিদ্ধান্তে তার স্বাক্ষর করা গোপনীয়তা চুক্তি এবং চুক্তির পরবর্তী সময়ে তিনি যে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্ল্যাকের আইনজীবী গ্যানিয়েভার অভিযোগকে ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ব্ল্যাক নিজে আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গ্যানিয়েভার কাছ থেকে উল্টো চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন।   এপস্টিনের প্রকাশিত নথিতে গ্যানিয়েভাকে ঘিরে ব্ল্যাক ও এপস্টিনের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। একটি ই-মেইলে এপস্টিন তার সহকারীকে গ্যানিয়েভার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টিও এখন কংগ্রেসের তদন্তের নজরে রয়েছে। ফলে ব্ল্যাকের গোপনীয়তা চুক্তি প্রকাশে আপত্তি এবং কংগ্রেসে হাজির না হয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত—দুটিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   এর আগে ২০২১ সালে ব্ল্যাক তার সহপ্রতিষ্ঠিত অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জনসম্মুখের আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারি তার স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো সম্পর্কই তাকে কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি করেছে। আর তদন্ত কমিটির সমন এড়িয়ে আদালতে করা নতুন মামলার পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৫৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নির্জন রাস্তা থেকে ওই কিশোরীর নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেস পেরেজ তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন।   মন্টেরে কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, পেরেজ ওই কিশোরী এবং মৃত নবজাতক উভয়েরই জন্মদাতা বাবা। তদন্তকারীরা নিহত ওই নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘অ্যাঞ্জেলিতো’।   গত ১ আগস্ট মস ল্যান্ডিংয়ের কাছের একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি যুক্ত ছিল এবং শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   তবে তার জড়িত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখনই পেরেজ তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অজাচার এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   মন্টেরে কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো জানান, পলাতক ওই কিশোরী চরম বিপদের মধ্যে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, "সে মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশু। যদিও সে এই হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, কিন্তু দিনশেষে সে নিজেও একজন ভুক্তভোগী।"   পুলিশ দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি শুনতে চায় এবং পাষণ্ড বাবাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ পেরেজ ও তার স্ত্রী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগার নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি শনাক্ত করে, যা এই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে ওর্তেগাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযানে ২,১৯৭ জন গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযানে ২,১৯৭ জন গ্রেপ্তার, তালিকায় খু নি-ধ র্ষকসহ বহু অপরাধী

গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘অপারেশন রোটেন অ্যাপল’ বা পচা আপেল অভিযানের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, ধর্ষক এবং মাদক চোরাকারবারি রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী বা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এমন আরও বড় পরিসরের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ২ হাজার ১৯৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুলিন সাংবাদিকদের জানান, নিউইয়র্কের মেয়র এবং গভর্নর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইসিই-এর সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধরনের বিশাল অভিযানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।   তিনি মেয়র মামদানীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও চাহিদার বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফেডারেল সরকারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনে আরও বেশি এজেন্ট মোতায়েন করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুলিন।   গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত। এছাড়া শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কলম্বিয়ার আন্দ্রেয়াস বারনাল চিকুইতো, জার্মানিতে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিক পালবিন্দর সিং এবং ভেনেজুয়েলার কার্লোস মেন্ডেজ-অ্যাকোস্টাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   মেয়র মামদানী গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইসিই-এর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে গভর্নর হোকুলও রাজ্য পুলিশকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে আইন পাস করেছেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এসব চরমপন্থী নীতির কারণে ১৩ হাজারের বেশি অপরাধী অভিবাসী নিউইয়র্কের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারী এসব 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দাতা রাজ্য ও শহরগুলোতে ফেডারেল তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:৫২
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই নারী ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চার শিশুকে একটি চলন্ত ট্রাকের স্লিপার কেবিনে বন্দি রেখে ভয়ংকর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার গত মঙ্গলবার কিসিমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গা শিউরে ওঠা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন।   তিনি জানান, আটলান্টা ও মিয়ামির পথে ছুটে চলা বিশাল এই সেমি-ট্রাকটি ওই চার নিষ্পাপ শিশুর জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি "চলন্ত অন্ধকূপে" পরিণত হয়েছিল। স্কুলে যাওয়া বা ট্রাকের বাইরে বের হওয়ার কোনো অনুমতিই তাদের ছিল না।   অভিযুক্ত দুই নারী হলেন আটলান্টার ৫১ বছর বয়সী কেইশা মনিক এপস এবং জ্যাকসনভিলের ৩৭ বছর বয়সী টামরা মার্শন স্টুয়ার্ট। নির্যাতন শুরু হওয়ার সময় ওই দুই ছেলে ও দুই মেয়ে শিশুটির বয়স ছিল মাত্র পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে।   প্রসিকিউটররা জানান, স্টুয়ার্ট মেয়ে শিশু দুটির ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন চালাতেন। ছেলে দুটি এর প্রতিবাদ করলে বা এপসকে জানালে তাদের ওপরও নেমে আসত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন।   দিনের পর দিন তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না, এমনকি গোসল করার সুযোগ থেকেও তারা ছিল বঞ্চিত। প্রাপ্তবয়স্করা ট্রাক স্টেশনে থেমে নিজেদের পরিচ্ছন্নতার কাজ সারলেও শিশুদের ওই অন্ধকূপেই আটকে রাখা হতো।   বছরের পর বছর একটি আবদ্ধ কেবিনে বন্দি থাকার কারণে শিশুদের হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে এবং তারা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতায় ভুগছে।   ন্যূনতম চিকিৎসা সেবার অভাবে গরম নুডলসে পুড়ে যাওয়া এক শিশুর শরীরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   অভিযুক্ত স্টুয়ার্ট ও এপসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও কর্তব্যে অবহেলার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিশুদের ক্ষতি করতে চাওয়া কাউকেই ফ্লোরিডায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:৪০
৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট
টাইমস স্কয়ারে নিজ কর্মস্থলের কাছেই ছু/রিকাঘাতে প্রাণ গেল ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের

নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারে বসবাসকারী পিয়াচেন্তি ম্যানহাটনে ব্যাংক অব আমেরিকার অফিসে কাজ করতেন। হামলার স্থানটি তার কর্মস্থল ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে ছিল।   ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এই হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে পিয়াচেন্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন।   গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিও আহত হন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাই এলোমেলো ও উসকানিবিহীন বলে মনে হচ্ছে। পিয়াচেন্তিকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবসা নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাত বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার শক্তিশালী শিক্ষাগত পটভূমি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।   ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে।   হামলার পর সিসনেরোসকে কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে দুই পুলিশ অফিসার গুলি চালালে সিসনেরোস গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনা পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ফোর্স ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত চলছে।   ব্যস্ত কর্মদিবসে নিজের কর্মস্থলের মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে এমন আকস্মিক হামলায় পিয়াচেন্তির মৃত্যু ব্যাংক অব আমেরিকার সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:৫৬
নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের পর ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত

নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলার পর ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী আরেক নারীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেলে ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ৪১ থেকে ৪৩ স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।    নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ৪৯ বছর বয়সী কুইন্সের বাসিন্দা পামেলা সিসনেরোস। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে তিনি সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।    দুই আহত ব্যক্তিকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৩২ বছর বয়সী নারী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী পুরুষের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ছুরিকাঘাতের পর সিসনেরোস উত্তর দিকে গিয়ে টাইমস স্কয়ারের কাছে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একটি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাকে ছুরি ফেলে দিতে বারবার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টেজারও ব্যবহার করে। তবে এতে তিনি থামেননি এবং ছুরি হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে দুই পুলিশ সদস্য গুলি চালান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    গুলিতে গুরুতর আহত সিসনেরোসকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা বলে মনে হচ্ছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আগে কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার পর তদন্তের জন্য টাইমস স্কয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউর কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।    টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা এবং ওয়ান টাইমস স্কয়ারের পাশেই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে ব্যস্ত এই এলাকায় এমন সহিংস ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২১:২৮
৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু
ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ংকর তথ্য: ৫ দিনে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু

ফ্লোরিডায় মাত্র পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ১৬৩ জন নিখোঁজ শিশুকে খুঁজে বের করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৭ থেকে ২১ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন স্টেটওয়াইড শিল্ড’ নামের এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ২ মাস থেকে ১৭ বছর। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট বা এফডিএলই বলছে, অনেক শিশু নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংস্পর্শে ছিল।    এফডিএলইর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ফ্লোরিডার প্রথম রাজ্য নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় শিশু উদ্ধারের অভিযান। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী নিখোঁজ শিশুদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।    অভিযানে ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে টাম্পা বে অঞ্চলে ৪৬ জন, মায়ামিতে ৪১ জন, জ্যাকসনভিলে ৩২ জন, অরল্যান্ডোতে ২১ জন, ফোর্ট মায়ার্সে ১২ জন, পেনসাকোলায় ৮ জন এবং তালাহাসি অঞ্চলে ৩ জন রয়েছে। এর বাইরে আরও শিশু যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্য, একটি ইউএস টেরিটরি এবং ১২টি দেশে শনাক্ত ও উদ্ধার হয়েছে।    তবে এই ১৬৩ শিশুকে একই জায়গা থেকে বা একই ধরনের কোনো অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। এফডিএলই জানিয়েছে, অভিযানটি রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন নিখোঁজ শিশুর পৃথক কেস অনুসরণ করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে তাদের খুঁজে বের করে।    উদ্ধারের পর যেসব শিশুর তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল, তাদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্ধারিত রিকভারি হাবে নিয়ে যায়। সেখানে সোশ্যাল সার্ভিসেস, শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল প্রোভাইডার, ভিকটিম অ্যাডভোকেটসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এবং ডিপার্টমেন্ট অব জুভেনাইল জাস্টিস শিশুদের কাস্টডি হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেক শিশুই বিভিন্ন মাত্রার নির্যাতন, অবহেলা, শোষণ কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে ছিল। তবে ১৬৩ শিশুর সবাই অপহরণের শিকার ছিল, এমন তথ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের সব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    অভিযান থেকে তিনটি ফেলোনি মামলা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন বিভাগ এবং মায়ামি-ডেড স্টেট অ্যাটর্নির অফিস এসব মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এফডিএলই জানিয়েছে, শিশুদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল।    ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ার বলেছেন, অনেক শিশুই এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা দুর্বল শিশুদের লক্ষ্য করে। এ ধরনের শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    পাঁচ দিনের অভিযানে ১৬৩ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ফ্লোরিডায় নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা এবং নিখোঁজ শিশুদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৫:৫৯
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের
এআই-নির্মিত 'শিশু যৌ/ন ছবি' রাখার মামলা বাক্‌স্বাধীনতার ভিত্তিতে খারিজ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আপিল আদালত। আদালত বলেছে, প্রায় ২৫ বছর আগের মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কারণে এ ধরনের উপাদান ব্যক্তিগতভাবে রাখাকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তাদের নেই।   সপ্তম সার্কিট আপিল আদালত স্টিভেন অ্যান্ডেরেগ নামে এক ব্যক্তির মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উইসকনসিনের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিভাইসে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক শত শত এআই-নির্মিত ছবি পাওয়া যায়।   অ্যান্ডেরেগের বিরুদ্ধে এআই-নির্মিত যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান তৈরি ও বিতরণ, ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুর কাছে তা পাঠানো এবং এসব উপাদান নিজের কাছে রাখার অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেডারেল জেলা আদালত শুধু ব্যক্তিগতভাবে উপাদান রাখার অভিযোগটি বাতিল করে। এরপর বিচার বিভাগ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।   আপিল আদালতও ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি, ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশন’ মামলার রায় অনুযায়ী, বাস্তব কোনো শিশুকে ব্যবহার না করে তৈরি কাল্পনিক শিশুদের যৌন ছবি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম সংশোধনীর সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি সেই পুরোনো আইনি সীমারেখাকে জটিল করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছেন আপিল আদালতের দুই বিচারক। বিচারক জন লি লিখেছেন, ২৫ বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়ে রায় দিয়েছিল, তখন আজকের মতো বাস্তবসম্মত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তি কল্পনাও করা কঠিন ছিল।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আদালতের সামনে নতুন কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের অধীনে থাকার কারণে আপিল আদালত নিজেরাই সেই আইনি সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করতে পারেন না।   বিচারক লি ও বিচারক জোশুয়া কোলার আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি এখন বাস্তব শিশুকে নিয়ে তৈরি যৌন নিপীড়নের উপাদান থেকে প্রায় আলাদা করা যায় না। এমনকি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কিছু বড় তথ্যভান্ডারে বাস্তব শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান থাকার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছেন।   তবে বিচারকরা স্পষ্ট করেছেন, এই নির্দিষ্ট মামলায় সরকার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করেনি এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যও মামলার নথিতে নেই।   অন্যদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এআই-নির্মিত উপাদানের বিস্তার তদন্তকারীদের জন্য বাস্তব ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   দুই দশকের বেশি আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্লারেন্স থমাসও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বাস্তব শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ উপাদান এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি উপাদানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।   ফলে নতুন এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে পুরোনো আইন ও সাংবিধানিক নজিরের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৭:১৮
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০