- প্রচ্ছদ
- রাজনীতি
রাজনীতি
মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি। তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ। দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘স্পষ্ট বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভ অঞ্চলে টানা অষ্টম দিনের মতো রুশ হামলার সময় ব্রোভারি এলাকার কাছে কোকা-কোলার উৎপাদনকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারখানাটিতে কর্মরত কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ভালোভাবেই জানে যে কোকা-কোলা একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কোকা-কোলার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন হামলা চালানোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বার্তা হিসেবেই দেখা উচিত। জেলেনস্কি আরও বলেন, “কোকা-কোলা এখন তাদের কাছে এমন এক শত্রু হয়ে গেছে যে তারা শাহীদ ড্রোন দিয়ে সেটিতেও হামলা চালাচ্ছে।” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে কারখানা এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। কারখানার ওপর ও আশপাশের মাঠের দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতেও দেখা গেছে। ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোকা-কোলার পণ্য দেশটির বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। একই দিনে ইউক্রেনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ডিনিপ্রো শহরে নোভা পোশতার একটি ডিপো ও শাখায় ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। নোভা পোশতা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া আবারও বেসামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের একজন সহকর্মীর প্রাণ গেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্টেরলিতামাকে একটি সামরিক-শিল্প স্থাপনায় হামলা হয়েছে। স্থানীয় রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, স্টেরলিতামাক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই কারখানায় বিমান জ্বালানিসহ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় শহর সোচিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সামুদ্রিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ‘নেফ্রিত’ নামের একটি জাহাজে নৌ-ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের কাছে একটি মার্কিন কোম্পানির কারখানায় হামলার ঘটনা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উত্তেজনার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে শপথ নিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই বিশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা আয়েশা পরবর্তীতে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিবারে। কংগ্রেসে তার প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এরা আমাদেরই মানুষ। আমরা যদি বিভাজনের বদলে সাধারণ উদ্দেশ্য এবং রাজনীতির বদলে মানুষকে বেছে নিই, তবে আমেরিকার স্বপ্নকে আবারও সত্যি করে তুলতে পারব। কারণ এই স্বপ্ন কেবল রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং উন্নত আগামীর প্রত্যাশা করা প্রতিটি আমেরিকানের।” ইস্ট বে ডিস্ট্রিক্টের এই বিশেষ নির্বাচনে বার্ট (BART) বোর্ড ডিরেক্টর মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে কংগ্রেসের টিকিট নিশ্চিত করেন আয়েশা ওয়াহাব। তবে তাদের এই রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মেয়াদের জন্য আবারও ব্যালট যুদ্ধে মুখোমুখি হবেন এই দুই প্রার্থী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে। যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান। এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে। তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ব্যাক-টু-স্কুল’ গাইড প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। গাইডের সঙ্গে যুক্ত একটি ৯/১১ বিষয়ক পাঠ্যক্রমে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া এবং আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনের লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পাঠ্য হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে। ২৮ আগস্ট নিউইয়র্ক পোস্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাইডে যুক্ত বিতর্কিত ৯/১১ বিষয়ক উপকরণটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএআইআর লিংক সরানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি নিউইয়র্ক পোস্টকে আগের একটি নথিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একটি নোটের দিকে নির্দেশ করেছে। অন্যদিকে সিএআইআর তাদের ২৪ আগস্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য একটি ‘ব্যাক-টু-স্কুল রিসোর্স গাইড’ প্রকাশ করেছে। এতে স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার, হয়রানি ও বৈষম্য, ৯/১১ ও গাজা নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা এবং নামাজ, পোশাক ও খাবারসংক্রান্ত ধর্মীয় সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তথ্য ও ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘মুসলিম স্টাডিজ কারিকুলাম’ মূলত একটি পুরোনো শিক্ষাসামগ্রী, যা সিএআইআর-এনজে ও ‘টিচিং হোয়াইল মুসলিম’ যৌথভাবে তৈরি করেছিল। ২০২২ সালে সিএআইআর-এনজে জানিয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য ও হয়রানি কমানো এবং ঘটনাটির পরবর্তী প্রভাব বোঝাতে এই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমটির একটি অনলাইন কপিতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেখানে হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে একই সঙ্গে হামলার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে ৯/১১ হামলার জন্য আল-কায়েদার ভূমিকা উল্লেখ করা হলেও, সমালোচকদের অভিযোগ, সেখানে হামলাকারীদের সরাসরি ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা না করে ঘটনাটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি পাঠ্যক্রম স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। বিতর্ক আরও বাড়ে ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ করা পাঠ্যের তালিকায় রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর। এটি ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালের একটি চিঠি, যেখানে তিনি ৯/১১ হামলার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। পাঠ্যক্রমের অনলাইন সংস্করণে দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত ওই লেখার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের দিকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করা হয়েছিল। পাঠ্যক্রমে ওসামা বিন লাদেনকে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল এবং ওই সময় বিন লাদেনও সেখানে ছিলেন। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা তার পরবর্তী ভূমিকা ও ৯/১১ হামলার সঙ্গে তার সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না। পাঠ্যক্রমের সুপারিশের তালিকায় ‘ভি ফর ভেনডেটা’ চলচ্চিত্রের নামও রয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের ওপর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন বই, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। তবে সিএআইআরের বক্তব্যে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ৯/১১ নিয়ে স্কুলে আলোচনা হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় হয়রানি ও বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ে। তাদের ২০২৬ সালের ব্যাক-টু-স্কুল প্রচারণায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও অধিকার লঙ্ঘনের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এক বছরে সর্বোচ্চ। সিএআইআরের জাতীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক কোরি সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্ম পালনের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা সম্পর্কে জানানো জরুরি। সংগঠনটি বিশেষ করে ৯/১১ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবার এবং ইহুদি কমিউনিটির কিছু নেতা পাঠ্যক্রমটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ৯/১১ হামলায় মাকে হারানো নিকোলাস হারোস জুনিয়র বলেন, ইসরায়েলের ৯/১১ হামলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি পাঠ্যসামগ্রীটির ব্যাখ্যাকে ‘প্রচারমূলক’ বলে সমালোচনা করেন। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্সের সভাপতি মোশে স্পার্নও সিএআইআরের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পাঠ্যক্রমে ৯/১১ হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং বিন লাদেনের লেখা শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষামূলক অন্তর্ভুক্তির বদলে ক্ষতিকর প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন। ৯/১১ হামলার পেছনে আল-কায়েদার ভূমিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রায় ৩ হাজার মানুষ এতে নিহত হন। তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত প্রতিক্রিয়া, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সিএআইআরের পাঠ্যক্রমে মূলত সেই পরবর্তী প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির ২০২২ সালের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শেখানো দরকার, যাতে ঘটনাটির পাশাপাশি মুসলিমদের ওপর পরবর্তী বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বোঝা যায়। এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ৯/১১-এর মতো একটি সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ইতিহাস, সন্ত্রাসবাদের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের ওপর পরবর্তী প্রভাব একসঙ্গে শেখানো হবে। একটি পক্ষ মনে করছে, শুধু হামলার ঘটনা বললে পরবর্তী বৈষম্যের ইতিহাস বাদ পড়ে যায়। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামলার দায় ও সন্ত্রাসীদের ভূমিকা অস্পষ্ট করা হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সিএআইআরের ২০২৬-২৭ সালের গাইড নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু একটি লিংক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম পরিচয়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, সিএআইআর-নিউ জার্সি ও টিচিং হোয়াইল মুসলিম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্প জনসম্মুখ থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রাখছেন। বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা, ইরানের হুমকি এবং রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে অনেকটা ‘নির্জন’ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারন বর্তমানে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) পড়াশোনা করছেন। দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি মা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য পোস্টকে জানিয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না। আরেকটি সূত্র তাকে ‘বেশ নির্জন প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করেছে। ইরানের হুমকি ও ১ কোটি ডলারের পুরস্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কট্টরপন্থীরা সম্প্রতি ‘Where to kill Barron Trump’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে ব্যারনের চলাফেরার তথ্য দেখানোর দাবি করা হয় এবং তার মাথার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ব্যারনের মা মেলানিয়া ট্রাম্পও ইরানের কট্টরপন্থীদের হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবার ওপর একাধিক হত্যাচেষ্টা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলিতে তিনি আহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তাঁর গলফ কোর্সে এক বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে হামলার ঘটনাও ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডও প্রভাব ফেলেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ব্যারনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। বাবাকে ওই হত্যাকাণ্ডের খবর দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘তুমি যখন বাইরে যাও, তখন এমনটাই ঘটে।’ লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের বইয়ে প্রথম এই ঘটনার কথা উঠে আসে এবং পরে নিউইয়র্ক পোস্ট তা নিশ্চিত করে। নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই জীবন ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করার জন্য ফার্স্ট লেডির দপ্তর সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক হুমকির কথা উল্লেখ করে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যারনের চলাফেরা সবসময় নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে থাকে। তিনি কোনো জায়গায় পৌঁছানোর পর দ্রুত ব্যক্তিগত পরিসরে চলে যান এবং সাধারণত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করেন না। রাজনীতির বদলে ব্যবসায় আগ্রহ ট্রাম্প পরিবারের অন্য সন্তানদের তুলনায় ব্যারন অনেক বেশি আড়ালে থাকেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প পারিবারিক ব্যবসায় সক্রিয়। ইভাঙ্কা ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হন। অন্যদিকে, ব্যারন ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে তিনি একটি হারবাল এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনীতির পরিবর্তে ভবিষ্যতে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার দিকেই ব্যারনের আগ্রহ বেশি বলে মনে হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি। তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়। আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আগ্রহ বেড়েছে। ৩৫ বছর বয়সী হার্প প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের পাশে প্রায় নিয়মিত উপস্থিতি, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরিতে ভূমিকা এবং প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকারের কারণে তিনি এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম আলোচিত সহযোগী। এই বিতর্কের মধ্যেই কমেডিয়ান রোজি ও’ডনেল ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি কৌতুক করেন, যেখানে তিনি নাটালি হার্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেন। ‘জিমি কিমেল লাইভ’-এর অতিথি সঞ্চালক হিসেবে অনুষ্ঠানে ও’ডনেল ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে বলেন, এবার তাঁর বিশ্রামে যাওয়ার সময় এবং নাটালি তাঁকে ঘুম পাড়িয়ে দেবেন—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে স্টুডিও দর্শকদের মধ্যে হাসি ও বিস্ময়ের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ও’ডনেলের মন্তব্যটি এমন সময়ে আসে, যখন হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই আলোচনা চলছে। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও সাম্প্রতিক এক প্রচারণা সমাবেশে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করার প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পর ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং হার্পের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ইঙ্গিতকে অনুচিত বলে সমালোচনা করেন। হার্পের প্রভাবের একটি বড় কারণ হলো প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কাজে তাঁর ভূমিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনেক সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য হার্পকে বলে দেন এবং তিনি তা লিখে প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর সঙ্গে একটি বহনযোগ্য মুদ্রণযন্ত্র থাকার কারণে তিনি ‘মানব মুদ্রণযন্ত্র’ হিসেবে পরিচিতি পান। ট্রাম্পের পছন্দের সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য দ্রুত কাগজে ছাপিয়ে দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ ছিল। হার্পের প্রতি ট্রাম্পের আস্থার বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা বইয়ের বরাত দিয়ে সিবিএস জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছিলেন, অন্যরা একসময় চলে গেলেও হার্প তাঁকে ছেড়ে যাবেন না। এমন মন্তব্য তাঁর প্রতি প্রেসিডেন্টের বিশেষ আস্থার ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। হার্পের আনুগত্যের আরেকটি আলোচিত উদাহরণ হলো ২০২৩ সালের একটি ঘটনা। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের একটি আদালত-সংক্রান্ত সফরের সময় গাড়িতে জায়গা না থাকায় হার্প ট্রাম্পের সঙ্গে যাওয়ার জন্য জোর দেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি গাড়ির পেছনের অংশে উঠে তাঁর বহরের সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি তাঁর অতিরিক্ত নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রশ্নও উঠেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার পর হার্পের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তিনি প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করেন এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও তাঁর সঙ্গে থাকেন। এদিকে বিদেশি নেতারাও কখনো কখনো ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হার্পের কাছে বার্তা পাঠান বলে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হার্পের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প ও হার্পের মধ্যে ব্যক্তিগত বা প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও আলোচনা মূলত তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্ক, হার্পের প্রভাব এবং প্রেসিডেন্টের কাছে তাঁর বিশেষ প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। ফলে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যকে রাজনৈতিক ও কৌতুকধর্মী ব্যঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে, প্রমাণিত কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য হিসেবে নয়। হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে নাটালি হার্পকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক একদিকে যেমন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কর্মপদ্ধতি ও ঘনিষ্ঠ বৃত্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা এটিকে একজন বিশ্বস্ত সহযোগীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বাতিল করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি নিম্ন আদালত। গত ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ডকেট অনুযায়ী, আবেদনটি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয়েছে এবং ই. জিন ক্যারলের পক্ষের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৩১ আগস্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায়ও বাতিল করেনি। মামলাটির সূত্রপাত ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ থেকে। সাবেক এল ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ক্যারল মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেছেন। ২০১৯ সালে ক্যারল তার স্মৃতিকথায় অভিযোগটি প্রকাশ্যে আনার পর তখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন। ওই বক্তব্যের জেরেই ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নিউইয়র্কভিত্তিক দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত রায় বহাল রাখে। আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তির বিষয়ে বলেছিল, মামলার যথাযথ পর্যায়ে সেই প্রতিরক্ষা না তোলায় তিনি তা ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অফিসিয়াল বক্তব্যের জন্য ক্ষতিপূরণের দায় আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। তারা চাইছেন সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এই সাংবিধানিক প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করুক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণে ২০১৯ সালে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বক্তব্য না ধরে প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার দাবি করছেন তারা। এই মামলায় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া কিছু সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ফৌজদারি মামলা থেকে ইমিউনিটি পেতে পারেন। তবে ই. জিন ক্যারলের মামলা ফৌজদারি নয় - এটি দেওয়ানি মামলা। ফলে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। এদিকে ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ৫০ লাখ ডলারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা এসেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৭ আগস্ট প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। ফলে ২০২৩ সালের ওই জুরি রায় এখন চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ওই পৃথক মামলায় জুরি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছেন। তবে জুরি নিউইয়র্ক আইনের অধীনে ক্যারলের ধর্ষণের নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি মূলত ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না। দুটি মামলার মধ্যে তাই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৫০ লাখ ডলারের মামলাটি ২০২২ সালের বক্তব্য এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মামলাটি মূলত ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। আর এই পার্থক্যকেই প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তিতে সামনে আনছেন তার আইনজীবীরা। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনবেই, এমন সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। আদালত প্রথমে ঠিক করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পূর্ণ শুনানি করবে কি না। বর্তমান ডকেট অনুযায়ী, ক্যারলের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট। ফলে ই. জিন ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি মামলা শেষ হয়ে গেলেও সবচেয়ে বড় অঙ্কের মামলাটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্নটি তারা শুনানির জন্য গ্রহণ করে কি না, সেটিই হবে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন। সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন। এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি। এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে রক্তদান, জায়নামাজ ও খাবার বিতরণের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শাকিল মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের সিটি বাসে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে প্রায় এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা। মূলত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে মশাল হাতে শপথ গ্রহণ ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার এই ঘোষণাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অ্যাক্সিওস-জেনারেশন ল্যাব’-এর এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের পছন্দে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজকে (এওসি) পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারিস। গত ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৭৫ জন মার্কিন তরুণের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের সমর্থন পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন কমলা হ্যারিস, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশেল ওবামার (১৪ দশমিক ৯ শতাংশ) সমর্থনের প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও এই তিনজনের কেউই এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে লড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে স্বতন্ত্র তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন মিশেল ওবামা এবং ৯ দশমিক ২ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওকাসিও-করতেজ। অন্যদিকে তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সার্বিক মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষের চিত্রও ফুটে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের ৬৬ শতাংশই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ৯৬ শতাংশ তরুণ বাড়িভাড়া, মুদিপণ্য ও ইউটিলিটি বিলসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। এমনকি নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—কোনো দলের প্রতিই ভরসা পাচ্ছেন না সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ তরুণ। জেনারেশন ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সাইরাস বেশলস তরুণদের এমন মনোভাবকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অর্থনৈতিক এই অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মাঝেও তরুণ ডেমোক্র্যাটদের এমন জোরালো সমর্থন ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস লড়াইয়ে কমলা হ্যারিসকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে। আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।" গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মিউনিসিপ্যাল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও পেশায় আইনজীবী আসমা আলী মিসিসিপির ডেল্টা অঞ্চলের বেনোয়েট শহরের বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। চারশোরও কম বাসিন্দার এই ছোট শহরটিতে মিউনিসিপ্যাল বিচারকরা মূলত ছোটখাটো অপরাধ, শহরের আইন লঙ্ঘন এবং ট্রাফিক টিকিটের মতো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে থাকেন। তবে আসমা আলীর এই ঐতিহাসিক নিয়োগ উদযাপনের বদলে তাকে এবং তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঘটেছে। এই নিয়োগের পর থেকেই মিসিসিপির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। স্টেট সিনেটর মাইকেল ম্যাকলেনডন প্রকাশ্যেই আসমা আলীকে বেঞ্চ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেন যে তিনি 'মোহাম্মদের ওপর নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখেন' এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় মিসিসিপিকে কোনোভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে পরিণত হতে দেবেন না। পাশাপাশি, মিসিসিপির কৃষিমন্ত্রী ও গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি গিপসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব আর ক্রমাগত হুমকির মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিচারক আসমা আলী। সমালোচনার জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন ও পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই প্রয়োগ করবেন। কোনো ধর্মীয় আইন প্রয়োগের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কেন তাকে একজন বিচারক হিসেবে অযোগ্য ভাবা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষের এই ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিচারব্যবস্থায় যোগদানের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
রোববার ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের ডমিনিকান ডে প্যারেডে মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলটের মধ্যকার শীতল রাজনৈতিক সম্পর্ক যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এসেছে। উৎসবমুখর এই আয়োজনে উভয়েই অংশগ্রহণ করলেও, পুরো সময়জুড়ে একে অপরের থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন এই দুই শীর্ষ নেতা। এমনকি প্যারেডের নিরাপত্তা নিয়ে গত শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও মুখ খুলতে অস্বীকৃতি জানান মেয়র মামদানি। ম্যানহাটনে প্যারেড চলাকালীন নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে মামদানি এড়িয়ে গিয়ে কেবল বলেন, "আমরা সবাই এখন প্যারেড নিয়েই মনোযোগ দিচ্ছি।" রোববারের এই উৎসবে মঞ্চে এসপাইলটকে দেখেছেন কি না—এমন নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবেও মেয়র বেশ কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, "মঞ্চে এবং এখানে উপস্থিত সবাইকে দেখতে পাওয়াটা সত্যিই খুব আনন্দের।" অন্যদিকে, প্যারেডে মেয়রের সাথে পুনরায় দেখা হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসম্যান এসপাইলট কোনো মন্তব্য না করে কেবল মাথা নেড়ে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেন। প্যারেড চলাকালে এসপাইলটকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সাথে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। অন্যদিকে, মেয়র মামদানি তার নিজস্ব কর্মী ও অনুসারীদের নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে প্যারেডে অংশ নেন। মূলত, নিউইয়র্ক-১৩ (NY-13) আসনের প্রাইমারি নির্বাচনে এসপাইলটের বিরুদ্ধে কট্টর বামপন্থী প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারকে মেয়র মামদানি প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হার্লেম, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রঙ্কসের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।