- প্রচ্ছদ
- অর্থনীতি
অর্থনীতি
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে। একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে। এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০টি রাজ্যের যোগ্য গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ওবামাকেয়ার রিফান্ডস’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ সেপ্টেম্বর করেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ‘ইউজার ফি’-এর একটি অতিরিক্ত অংশ গ্রাহকদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ফি শেষ পর্যন্ত বেশি প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। এই রিফান্ডের আওতায় মূলত সেইসব মানুষ রয়েছেন, যারা ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের কভারেজের জন্য প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি এবং নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার পুরো খরচ বহন করেছেন। প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তি ৫০০ ডলার করে পাওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের তালিকা অনুযায়ী, আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ের বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। ট্রেজারি বিভাগ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকেই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যোগ্য ব্যক্তিরা কাগজের চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পেতে পারেন। চেকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠিও পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজ্যভেদে প্রাপকের সংখ্যাও ভিন্ন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ এই অর্থ পাওয়ার কথা, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ জন পাবেন, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই রিফান্ড এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সহায়তার যোগ্য অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়াম বেড়েছে। তবে ৫০০ ডলারের এই রিফান্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে আগের প্রশাসনের অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এবং কর্মসূচিটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন কি না এবং তাদের চেক বা সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়। অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন। কারা পাবেন ১,০০০ ডলার? সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি। বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না। নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়। টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা। অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে? ১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে। ২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়। ৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। ৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও গতি পাচ্ছে উৎপাদন খাত। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সম্প্রসারণের অবস্থানেই ছিল। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই আগস্টে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে এই সূচক ছিল ৫৫ দশমিক ৬, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে রয়েছে বড় একটি সমস্যা। কারখানাগুলো বাড়লেও তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক উপাদান, শ্রমিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন উপকরণের সরবরাহ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। সরবরাহকারীদের পণ্য পৌঁছানোর গতিও টানা নবম মাসে ধীর হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ এগোলেও সেই উৎপাদন ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। শুধু কারখানা বানালেই হবে না যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার আলোচনা বা ‘রিশোরিং’ এখন মূলত নতুন কারখানা নির্মাণ ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে হচ্ছে। কিন্তু একটি বড় কারখানা কখনোই একা চলে না। এর পেছনে থাকে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। কেউ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করে, কেউ মেশিনের অংশ বানায়, কেউ বিশেষ ধরনের টুল তৈরি করে, আবার কেউ কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করে। তাই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত করাই যথেষ্ট নয়। সেই কারখানাগুলো চালু হওয়ার পর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার মতো দেশীয় সক্ষমতাও থাকতে হবে। ছোট প্রতিষ্ঠানই বড় ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ছোট মেশিন শপ ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই দক্ষ কর্মী, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক উৎপাদনের চাহিদা পূরণে তাদের অনেকেই যন্ত্রপাতি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিক করার প্রয়োজন অনুভব করছে। সমস্যাটি সবসময় দক্ষতার অভাব নয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় একটি ছোট প্রতিষ্ঠান তার সক্ষমতা বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারে না। আধুনিক উৎপাদনে শুধু ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে অর্ডারের অবস্থা জানানো যথেষ্ট নয়। ক্রেতাদের জানতে হয় একটি অর্ডারের কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে, কোথায় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না। এই তথ্য দ্রুত দিতে না পারলে ভালো মানের পণ্য তৈরি করেও কোনো সরবরাহকারী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দুর্বল অংশ হয়ে উঠতে পারে। মান নিয়ন্ত্রণও বড় বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বাড়বে। তখন শুধু একটি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলেই হবে না; একই মানের পণ্য বারবার, নির্ভুলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করতে হবে। মেশিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেক সময় এক ইঞ্চির হাজার ভাগের এক ভাগের মতো অতি ক্ষুদ্র মাপের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎপাদনের সময় আধুনিক পরিমাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো অংশে ত্রুটি তৈরি হচ্ছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। এ ধরনের আধুনিকায়ন হয়তো বিলিয়ন ডলারের নতুন কারখানার মতো আলোচনায় আসে না। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এর গুরুত্ব অনেক। শুধু নতুন মেশিন কিনলেই সমাধান নয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হলেও শুধু দামি মেশিন কিনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একটি ছোট মেশিন শপে যদি প্রতিটি যন্ত্রাংশ তৈরিতে বারবার মেশিন সেটআপ করতে হয়, অতিরিক্ত হাতে কাজ করতে হয় বা দীর্ঘ সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। আধুনিক মাল্টি-অপারেশন মেশিন একই যন্ত্রে একাধিক কাজ করার সুযোগ দিতে পারে। এতে পণ্য এক মেশিন থেকে অন্য মেশিনে নেওয়ার প্রয়োজন কমে, সময় বাঁচে এবং বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা সহজ হয়। লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি কেনা নয়। লক্ষ্য হলো এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীরা মান, সরবরাহের সময় এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা করতে পারে। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, তা পরিচালনা করার মতো দক্ষ মানুষ না থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো কঠিন। আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মেশিন প্রোগ্রাম করা, পরিচালনা করা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেশিন অপারেটর ও কারিগরদের কাছ থেকে হাতে-কলমে কাজ শিখে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা দক্ষতা অর্জন করেছে। কিন্তু অভিজ্ঞ কর্মীরা অবসরে গেলে তাদের বহু বছরের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের এমন একটি শিল্পে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সফটওয়্যার, অটোমেশন, পরিমাপ প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার জ্ঞানও প্রয়োজন। তাই ভবিষ্যতের উৎপাদন খাতে দক্ষ কারিগরি কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি—দুটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারও ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএও এই ঘাটতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও বিশেষায়িত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতামত চেয়েছে। একই সঙ্গে ছোট সরবরাহকারীদের বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বড় শিল্প ক্রেতা ও ছোট সরবরাহকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে এসবিএ সরবরাহকারী ম্যাচমেকিং কর্মসূচিও আয়োজন করেছে। ছোট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য এসবিএ ৫ কোটি ডলারের অনুদান কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। রিশোরিংয়ের অর্থ শুধু কারখানা ফিরিয়ে আনা নয় যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রকৃত সাফল্য শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি হলো বা কত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হলো—তা দিয়ে মাপা যাবে না। এর সঙ্গে দেখতে হবে, ওই কারখানাগুলোকে সরবরাহ করার মতো ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মেশিন, দক্ষ কর্মী, অর্থায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আছে কি না। ম্যাককিনসির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য সরবরাহের ঘনত্ব, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ভূরাজনৈতিক দূরত্বসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু বড় কারখানা নয়, স্থিতিশীল দেশীয় সরবরাহ নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ। আসল পরীক্ষা হবে কারখানার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র যত ইচ্ছা বড় বড় কারখানা নির্মাণের ঘোষণা দিতে পারে। কিন্তু সেসব কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, দক্ষ কর্মী তৈরি করতে না পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে না পারে, তাহলে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। কারখানা উদ্বোধনের বড় আয়োজনের চেয়ে তাই তার পেছনে থাকা হাজারো ছোট ব্যবসার সক্ষমতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। একটি উৎপাদন অর্থনীতির শক্তি শুধু কতগুলো কারখানা তৈরি করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং সেই কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য—তার ওপরও নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের পরবর্তী ধাপে তাই বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি মেশিন শপ, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং দক্ষ কর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়। ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি। ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে। কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে। আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯১৩ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখেন অনেক ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ওই বছর সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থা। এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থা, সিনেট নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। মতামতধর্মী এই নিবন্ধের লেখকের মতে, ১৯১৩ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত সরকারের ধারণা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে এই ব্যাখ্যাটি লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি। ১৯১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬তম সংশোধনী অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ভাগ না করেই আয় থেকে ফেডারেল কর আদায়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়। ন্যাশনাল আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীটি ১৯০৯ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ১৯১৩ সালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাজ্যের অনুমোদন পায়। এরপর ৮ এপ্রিল ১৯১৩ অনুমোদিত হয় ১৭তম সংশোধনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন না; রাজ্য আইনসভাগুলো সিনেটর নির্বাচন করত। ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বদলে যায় এবং জনগণ সরাসরি সিনেটর নির্বাচনের অধিকার পায়। লেখকের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল সরকারের ওপর রাজ্য আইনসভাগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কমে যায়। তবে ১৭তম সংশোধনীর পেছনে অন্য কারণও ছিল। ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, বিভিন্ন রাজ্যে সিনেটর নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করেছিল। ১৯১৩ সালের তৃতীয় বড় পরিবর্তন আসে ২৩ ডিসেম্বর। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পেছনে ১৯০৭ সালের আর্থিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ওই সংকটের পর আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা থেকে নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ জোরালো হয়। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুদের হার, অর্থ ও ঋণের প্রবাহসহ অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। নিবন্ধের লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থনীতি ও সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কতটা এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত, যেগুলো সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আসে না। একই সঙ্গে তিনি আয়কর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের আকার নিয়েও নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। লেখকের মতে, ১৯১৩ সালের পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং রাজ্যগুলোর ভূমিকার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক মতামতের নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী বর্তমানে সংবিধানের অংশ এবং এগুলো পরিবর্তন করতে আবারও সংবিধান সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের ম দ, কিছু দুগ্ধপণ্য এবং মোটরসাইকেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষে ধাজ্ঞা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ সেপ্টেম্বর এসব আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, অটোমোবাইল ও ম দজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পরই ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপ নেয়। নতুন ব্যবস্থায় বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম, টেকিলা, ব্র্যান্ডি ও অন্যান্য ম দজাত পানীয়ের বেশির ভাগই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে হুই প্রোটিনসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং মোলাসেসের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ৮০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনযুক্ত কিছু মোটরসাইকেল ও মোপেডও তালিকায় রয়েছে। কানাডার ম দ শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ম দ রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞায় বিশেষ করে ছোট উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও খাতগুলো বাস্তব চাপের মুখে পড়বে। তবে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় নিষে ধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এদিকে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা এখনো স্থবির। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর তাড়া নেই। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ সহজে কাটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পদক্ষেপের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক ও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
গাড়ির দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জ্বালানি সাশ্রয় নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে গাড়ি নির্মাতাদের ওপর জ্বালানি সাশ্রয়ের যে চাপ রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়িতে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নির্গমন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নতুন মানদণ্ডের মাধ্যমে গাড়ি তৈরির খরচ কমবে এবং এর প্রভাব নতুন গাড়ির দামের ওপরও পড়বে। তাঁর দাবি, আগের নিয়মগুলো গাড়ি নির্মাতাদের ওপর বাড়তি খরচ চাপিয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির দিকে তাদের বেশি উৎসাহিত করেছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি সাশ্রয়ের মান প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালন করা হবে। বর্তমান নিয়মে এই মান ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। রয়টার্সের হিসাবে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একটি গড় নতুন গাড়ির দাম প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। পরিবহন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনও প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অর্থাৎ গাড়ির দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে গাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও স্বাধীনভাবে গাড়ি তৈরি করতে পারবেন। মার্কিন পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোটি মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়মকে পুনর্বিন্যাস করে নির্মাতাদের জন্য তা সহজ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ। রয়টার্সকে তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে জ্বালানির পেছনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি-কেন্দ্রিক নীতির বিপরীতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মার্কিন পরিবহন বিভাগের নথিতে বিষয়টি মূলত ‘করপোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি’ বা CAFE মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের মানুষের ভোগব্যয় শক্তিশালী থাকলেও সেই ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে। জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আগের তুলনায় অনেক বেশি আমেরিকান এখন বিনিয়োগ হিসাব থেকে অর্থ তুলে চেকিং অ্যাকাউন্টে আনছেন, যেখান থেকে দৈনন্দিন খরচ মেটানো সম্ভব। প্রবণতাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে উচ্চ আয়ের ও বয়স্ক আমেরিকানদের মধ্যে। গবেষণাটি জেপিমরগ্যান চেজের ২ কোটির বেশি গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখা ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে ৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিনিয়োগ হিসাব থেকে নিট অর্থ চেকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। ২০১৯ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৪ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আরও বড়। সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে চেকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ আনতেন। ২০২৬ সালে সেই হার বেড়ে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ উচ্চ আয়ের প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজন সাম্প্রতিক তিন মাসের হিসাবে এ ধরনের অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তবে এটিকে শুধু অর্থকষ্টের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। জেপিমরগ্যানের গবেষণা বলছে, গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবারের বিনিয়োগ সম্পদ বেড়েছে। ফলে আয় থেকে সব খরচ না মিটিয়ে বিনিয়োগে জমে থাকা সম্পদের একটি অংশ ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিনিয়োগ থেকে আসা অর্থের ওপর ভোগব্যয়ের নির্ভরতাও বাড়ছে। ২০১৫ সালে মোট ব্যয়ের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ আসছিল বিনিয়োগ হিসাব থেকে। ২০১৯ সালে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রতি মাসেই এই হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বড় বৈষম্যও সামনে এসেছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ আমেরিকান দেশের মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশ মানুষের অংশ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বয়সের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোগব্যয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ করেছেন। জেপিমরগ্যানের গবেষণাও বলছে, উচ্চ আয় ও অবসর বয়সের মানুষের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ ব্যয়ে ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে শেয়ারবাজারের বড় উত্থানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শুধু সরাসরি ও পরোক্ষভাবে থাকা করপোরেট শেয়ারের মূল্যই ওই প্রান্তিকে প্রায় ১০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তবে এখানেই অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। জেপিমরগ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেয়ারবাজার পতনের সময় বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার প্রবণতাও কমেছিল। অর্থাৎ মানুষের ভোগব্যয়ের একটি বড় অংশ যদি ক্রমেই বিনিয়োগ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে শেয়ারবাজারের বড় পতন সরাসরি ভোক্তা ব্যয়েও চাপ তৈরি করতে পারে। গবেষণাটি তাই শুধু ধনী আমেরিকানদের খরচের গল্প নয়। এটি দেখাচ্ছে, শেয়ারবাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব অর্থনীতির সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও গভীর হচ্ছে। বাজার বাড়লে বিনিয়োগের সম্পদ থেকে ব্যয়ের সুযোগ বাড়ছে, আর বড় ধরনের বাজার পতন হলে সেই ব্যয়ও দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাসের মান তুলনামূলক ভালো—এ প্রশ্নের নতুন একটি গবেষণায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিনেসোটা। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দ্বিদলীয় স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব সূচকের গড় অবস্থানের হিসাবে মিনেসোটা প্রথম হয়েছে। গবেষণায় শিক্ষা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনসন্তুষ্টি, পরিবেশ, নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্পর্ক, বৈষম্য ও নাগরিক স্বাধীনতাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। মিনেসোটা বিশেষভাবে ভালো করেছে নাগরিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের হিসাবে নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রের সূচকে রাজ্যটির অবস্থান দ্বিতীয়, শিক্ষায় চতুর্থ এবং সামাজিক পুঁজিতে চতুর্থ। ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও মিনেসোটা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও মিনেসোটার বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মিনেসোটাবাসী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত। এ ধরনের নাগরিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততাই রাজ্যটির সামগ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সূচক থেকে দেখা যায়। তবে গবেষণাটি মিনেসোটাকে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা রাজ্য হিসেবে দেখায়নি। পরিবেশ ও নাগরিক স্বাধীনতার কিছু সূচকে রাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। তরুণদের বিষণ্নতার হারও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রথম হলেও মিনেসোটারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে, সিএনবিসির ২০২৬ সালের ‘আমেরিকাস টপ স্টেটস ফর বিজনেস’ প্রতিবেদনে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি, কর্মশক্তি ও মূলধন পাওয়ার সুযোগের মতো ক্ষেত্রে রাজ্যটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের উপশ্রেণিতে টেক্সাস ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৯তম হয়েছে। সিএনবিসির জীবনযাত্রার মানের মূল্যায়নে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, অপরাধ, কর্মীদের সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে টেক্সাসের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্তিশালী হলেও জীবনযাত্রার মানের সূচকে তার অবস্থান তুলনামূলক নিচে এসেছে। দুটি গবেষণার পদ্ধতি অবশ্য এক নয়। টিউলেনের স্টেট অব দ্য স্টেটস প্রতিবেদনটি মূলত মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক অগ্রগতির ৩১টি সূচকের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। আর সিএনবিসির প্রতিবেদনটি ব্যবসার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণ করতে ১০টি বিভাগ ও ১৩৮টি সূচক ব্যবহার করেছে। তাই দুটি তালিকার ফলাফলকে একই ধরনের র্যাংকিং হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল ও নিউ ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলো ৩১টি সূচকের গড় ফলাফলে তুলনামূলক ভালো করেছে। বিপরীতে দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো গড়ে নিচের দিকে ছিল। একই সঙ্গে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, প্রায় সব রাজ্যই একাধিক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে—বিশেষ করে জীবনসন্তুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, আয়বৈষম্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মতো বিষয়গুলোতে। সব মিলিয়ে, নতুন এই গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে—কোনো অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, অর্থনীতি বা ব্যবসায়িক পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক সূচক বিবেচনা করা প্রয়োজন। মিনেসোটা জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের গড় ফলাফলে শীর্ষে থাকলেও, সেখানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। একইভাবে টেক্সাস ব্যবসায়িক দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে পিছিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তুলতে ফি দিয়েছেন, এমন অনেক গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের মামলার সমঝোতা থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি জমা দিতে হবে। সমঝোতাটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা অন্য নেটওয়ার্কে লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের খরচ কম হলেও গ্রাহকদের কম ফি নিতে পারতেন না। ফলে গ্রাহকদের বেশি ফি দিতে হয়েছে বলে মামলাকারীদের দাবি। ভিসা ও মাস্টারকার্ড কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। আদালত অনুমোদিত সমঝোতার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর অধীন অঞ্চলে স্বাধীন এটিএম থেকে কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে যাঁরা ফি দিয়েছেন, তাঁরা যোগ্য হতে পারেন। শর্ত হলো, তাঁদের ব্যাংক ওই ফি পুরোপুরি ফেরত দেয়নি। এখানে স্বাধীন এটিএম বলতে ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়, এমন এটিএম বোঝানো হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ অগ্রিম নেওয়া কিংবা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই দাবির আওতায় পড়ে না। দাবি জমার সময় প্রমাণপত্র দিতে না হলেও পরে দাবির পক্ষে নথি চাইতে পারেন সমঝোতার প্রশাসক। মোট তহবিলের পুরো অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে ভাগ হবে না। আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, কর ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যোগ্য দাবিদারদের অর্থ দেওয়া হবে। একজন কত টাকা পাবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সমঝোতাটির চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই দাবি জমা দিলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়; দাবির যোগ্যতা যাচাই এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার। মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়। শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল। মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে। উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বেতন বাড়া সব পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনে না। আয় একটি নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে কোনো পরিবার স্ন্যাপের খাদ্য সহায়তা হারাতে পারে। নতুন আয় যদি হারানো সহায়তার চেয়ে কম হয়, তাহলে আগের তুলনায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি ‘বেনিফিটস ক্লিফ’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপ স্বল্প আয়ের পরিবারকে খাবার কেনার জন্য সহায়তা দেয়। কত সহায়তা পাওয়া যাবে, তা পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং নিয়মে অনুমোদিত কিছু খরচের ওপর নির্ভর করে। ফলে একই পরিমাণ বেতন বাড়লেও সব পরিবারের সহায়তায় একই পরিবর্তন আসে না। সাধারণভাবে আয় বাড়ার সঙ্গে স্ন্যাপ সহায়তার পরিমাণ কমতে পারে। তবে কোনো পরিবার যোগ্যতার সীমা পেরিয়ে গেলে সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে বর্ধিত বেতন দিয়ে হারানো খাদ্য সহায়তার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে পরিবারটি আর্থিক চাপে পড়ে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে এই সংকটের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁরা নতুন চাকরি, বাড়তি কর্মঘণ্টা বা বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে স্ন্যাপ পাচ্ছেন। স্ন্যাপের যোগ্যতা ও সহায়তার হিসাব রাজ্য এবং পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই আয় পরিবর্তনের পর কত সহায়তা থাকবে, তা নিজ রাজ্যের স্ন্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়াই নির্ভরযোগ্য উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় অতিরিক্ত ফি দেওয়া কিছু গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে সেটেলমেন্টটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নেটওয়ার্কের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম খরচে লেনদেন সম্ভব হলেও গ্রাহকদের জন্য কম এটিএম সারচার্জ নির্ধারণ করতে পারতেন না। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অ্যাক্সেস ফি নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ভিসা ও মাস্টারকার্ড অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ভিসা দেবে ৮৮.৭৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং মাস্টারকার্ড দেবে ৭৮.৭২৫ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সেটেলমেন্ট ফান্ডের পরিমাণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার। তবে আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়সহ অন্যান্য অনুমোদিত খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কারা টাকা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন? সেটেলমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর কোনো অঞ্চলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়—এমন স্বাধীন এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে গিয়ে সারচার্জ বা অ্যাক্সেস ফি দিয়ে থাকলে আপনি সাধারণ শ্রেণির সদস্য হতে পারেন। সেই ফি আপনার ব্যাংক পুরোপুরি ফেরত দিয়ে থাকলে আপনি যোগ্য নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে লেনদেনটি ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত এটিএম বা পিন-ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ তোলার হতে হবে। ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ অ্যাডভান্স বা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানের কিছু বাসিন্দা আলাদা স্টেটওয়াইড ক্লাসের আওতায়ও পড়তে পারেন। কত টাকা পাওয়া যাবে? প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে আইনজীবীদের ফি, মামলা ও প্রশাসনিক খরচসহ অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাই ব্যক্তিপ্রতি অর্থের পরিমাণ দাবির সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সেটেলমেন্ট আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর এবং কোনো আপিল না থাকলে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। অর্থ ইমেইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট হিসেবে পাঠানো হবে। পেপ্যাল বা ভার্চুয়াল ডেবিট কার্ডের মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং কাগজের চেকও চাওয়া যাবে। কীভাবে আবেদন করবেন? টাকা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে ক্লেইম জমা দিতে হবে। এই মুহূর্তে ক্লেইমের সঙ্গে কোনো নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরে দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসক ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্য কোনো প্রমাণ চাইতে পারেন। তাই পুরোনো এটিএম লেনদেনের তথ্য বা ব্যাংক রেকর্ড থাকলে তা সংরক্ষণ করা ভালো। ক্লেইম জমা দেওয়ার জন্য সেটেলমেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা যায়। ডাকযোগে পাঠাতে হলে ঠিকানা হলো: নন-ব্যাংক এটিএম সারচার্জ ফি সেটেলমেন্ট, সি/ও এ.বি. ডেটা লিমিটেড, পি.ও. বক্স ১৭৩০৫৩, মিলওয়াকি, উইসকনসিন ৫৩২১৭।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের চাপ এখনো কাটেনি। উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে আগস্টে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে। একই সময়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকটও রয়ে গেছে বলে সাম্প্রতিক আবাসন বাজারের তথ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আরও বড় পতন হয়েছে নির্মাণ শেষ হওয়া বাড়ির সংখ্যায়—এক বছরের ব্যবধানে তা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তবে সব ধরনের নির্মাণে একই চিত্র দেখা যায়নি। একক পরিবারের বাড়ির নির্মাণ শুরু জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে একাধিক পরিবারের জন্য নির্মিত ভবনের কাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমের উচ্চ ব্যয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন আবাসন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের দাম ৪২ শতাংশ এবং নির্মাণশ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য মর্টগেজ সুদও বড় চাপ হয়ে আছে। ফ্রেডি ম্যাকের ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদ ৭ দশমিক ০৩ শতাংশে উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ভাড়ার বাজার কিছুটা ঠান্ডা হলেও সাশ্রয়ী বাসার সংকট কাটেনি। হার্ভার্ডের জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণ কার্যক্রম দুর্বল হচ্ছে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক—উভয়ের আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। আর মার্চের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের চাওয়া ভাড়া এক বছরের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও বহু পরিবারের জন্য বাসা এখনো নাগালের বাইরে। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঘাটতির বিষয়টিও এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় ঘাটতির হিসাবে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ হাউজিং ইউনিট কম ছিল। এটি ২০২৬ সালের বর্তমান ঘাটতির হিসাব নয়; তবে প্রতিষ্ঠানটির ওই গবেষণা দেখায়, কয়েক বছর ধরে নতুন বাড়ি যুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি বড় রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক চিত্রে একদিকে কিছু রেন্টাল মার্কেটে ভাড়া স্থিতিশীল বা কমছে, অন্যদিকে উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং নতুন বাড়ি সম্পন্ন হওয়ার ধীরগতি আবাসন বাজারের ওপর চাপ ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট এখন শুধু কত বাড়ি আছে সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের নাগালের মধ্যে কত বাসা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সূত্র: ফ্রেডি ম্যাক, হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজ, রিয়েলটর ডটকম
সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তহবিলের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে। ফলে কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটির এই তহবিল মূলত কর্মীদের বেতন থেকে আদায় করা পে-রোল ট্যাক্সের অর্থের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সুবিধা দেওয়ার ব্যয় এবং সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তবে এই রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ায় ২০৩২ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেলে বর্তমান আইনে সরকার শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত অর্থের ভিত্তিতে সুবিধা পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তন না এলে নির্ধারিত হারে পুরো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ২০৩২ সালে ঠিক কত শতাংশ সুবিধা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করেছেন, তহবিলের ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা না নিলে সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। তাদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার মাসিক সুবিধা পাওয়া কেউ ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন। তবে এ ধরনের হিসাবকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে আইন পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। নতুন রাজস্ব সংগ্রহ, কর কাঠামো পরিবর্তন, সুবিধার নিয়মে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমাধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সমস্যা মোকাবিলায় ক্যাসিডি, ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রমিজ অ্যাক্ট (PROMISE Act) নামে একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাবও এনেছেন। এর লক্ষ্য সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তহবিলকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখার জন্য সমাধান তৈরির একটি প্রক্রিয়া শুরু করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড জনগণের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রস্তাব তৈরি করবে, যাতে অন্তত ৫০ বছর ট্রাস্ট ফান্ডকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা যায়। পরে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠিয়ে পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে, কেউ সুবিধার কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলছেন। অবসরের বয়স পরিবর্তন এবং উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায়ের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তাই ২০৩২ সাল ঘিরে এখন যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কংগ্রেস আগামী বছরগুলোতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পরিমাণ কী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের সুদের হার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নের্ডওয়ালেটের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের মাসিক ঋণের কিস্তি আগের তুলনায় বাড়তে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুর সময়ের পর এই প্রথম ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭ শতাংশের ওপরে উঠল। মর্টগেজ রেট বাড়ার কারণে বাড়ি কেনার সামগ্রিক খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে চান, তাদের মাসিক পেমেন্টে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। মর্টগেজ রেটের সঙ্গে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি নোটের সুদের হারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১০ বছরের ট্রেজারি নোটের ইয়েল্ড গত দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। গত কয়েক মাসে মর্টগেজের সুদের হার এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে হিসাব করছেন। বাড়তি ঋণ খরচ এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ হাউজিং মার্কেটের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাড়ি কেনার আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার এর আগে ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছিলেন, মর্টগেজ রেট বাড়লেও বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, ক্রেতারা পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জিলোরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাড়ি বিক্রি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। একই সময়ে বাজারে বাড়ির সরবরাহ বা ইনভেন্টরি বাড়ছে। জিলোরের হিসাবে, এক বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি ১০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছে, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি। বাড়ির সরবরাহ বাড়ার ফলে ক্রেতাদের সামনে তুলনামূলক বেশি বিকল্প তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু বিক্রেতাকে দাম কমানোর দিকে যেতে হতে পারে। এতে ক্রেতাদের দরদাম করার সুযোগও বাড়তে পারে বলে জিলোরের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ টনি জিওর্দানো বলেছেন, সুদের হার বাড়লেও কিছু ক্রেতা বাড়ি কেনার দিকে এগোচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা কেউ কেউ এখন আর অপেক্ষা না করে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও মাসিক পেমেন্ট বহনের সামর্থ্য বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনই বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত নন, তাদের জন্য ভাড়া বাসায় থেকে সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জিলোর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যদিও বছরের শেষ দিকে বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, জিলোর, ফক্স নিউজ, ফক্স বিজনেস
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের বিমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। চারটি বেসরকারি বিমা কোম্পানির বাড়ির বিমার হার কমানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পলিসি নবায়নের সময় ৬২ হাজারের বেশি বাড়ির মালিক কম হারে বিমার সুবিধা পেতে পারেন। ফ্লোরিডার বিমা কমিশনার মাইক ইয়াওরস্কি ওয়ান অ্যালায়েন্স নর্থ আমেরিকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সেফ হারবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ইউনিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং ভির্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির হার কমানোর আবেদন অনুমোদন করেছেন। এসব পরিবর্তন পলিসি নবায়নের সময় কার্যকর হবে। এর মধ্যে ওয়ান অ্যালায়েন্স নর্থ আমেরিকা ১০ দশমিক ৪ শতাংশ হার কমানোর আবেদন করেছিল, যা ১৭ হাজার ১৪৮টি পলিসিকে প্রভাবিত করবে। সেফ হারবারের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমানোর অনুমোদন হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ১০ হাজার ৫০১টি পলিসি। ইউনিকের ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমানোর ফলে ৮ হাজার ২৬৬টি পলিসি এবং ভির্ডের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমানোর ফলে ২৬ হাজার ৭৫১টি পলিসি প্রভাবিত হবে। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে প্রতিটি পলিসিধারকের বিলের নতুন হার দেখা যাবে, তা এখনো জানানো হয়নি। একইভাবে বছরের শেষ নাগাদ আরও কোনো বেসরকারি বিমা কোম্পানি তাদের হার কমানোর আবেদন করবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় গত কয়েক বছর ধরে বাড়ির বিমার হার নিয়ে বড় ধরনের চাপ ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮টি বিমা কোম্পানি হার কমানোর আবেদন করেছে। একই সময়ে ৫৩টি কোম্পানি কোনো হার না বাড়ানোর আবেদন করেছে। বর্তমানে রাজ্যের পর্যালোচনায় থাকা হার কমানোর আবেদনগুলোর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত। বাড়ির বিমার জন্য গত ৩০ দিনের গড় প্রস্তাবিত হার দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৪ দশমিক ৮ শতাংশে। এক বছর আগে এই হার ছিল মাইনাস ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং পাঁচ বছর আগে ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে কিছু এলাকায় আরও বড় ধরনের ছাড়ের খবর পাওয়া গেছে। কিন ইন্স্যুরেন্স ব্রোয়ার্ড, মিয়ামি-ডেড এবং পাম বিচ কাউন্টিতে বাড়ির বিমার কভারেজে গড়ে ২০ শতাংশের বেশি হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ি ও বাড়ির বিমা একসঙ্গে নিলে অতিরিক্ত ছাড় এবং প্রবীণ গ্রাহকদের জন্যও সাশ্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্লোরিডায় বাড়ির বিমার হারে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমতি ছিল, যা দেশটির মধ্যে সর্বনিম্ন হার পরিবর্তন। একই সময়ে জাতীয়ভাবে হিসাব করা গড় হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। ফ্লোরিডার বিমা বাজারে সাম্প্রতিক এই হার কমানোর প্রবণতা তাই বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে কিছুটা আর্থিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না। হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা। ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে কিছু অঙ্গরাজ্যে এই ফেরত না নেওয়া অর্থের পরিমাণ অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে। কর প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিগমা ট্যাক্স প্রোর করা বিশ্লেষণে ২০১৮ থেকে ২০২২ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আইআরএস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে কত ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি, তা হিসাব করা হয়েছে। ২০২২ সালকে বিশ্লেষণের শেষ বছর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই বছরের কর ফেরত পাওয়ার দাবির তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আইআরএসে ফেরত না নেওয়া অর্থের তথ্য পাওয়া যায়। আলাস্কায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৮ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে আনুমানিক ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৭২১ ডলার। পাঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার অনুপাতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণে আলাস্কা শীর্ষে ছিল। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক ৫৫৪ জনের সম্ভাব্য কর ফেরত পাওনা ছিল। আলাস্কার পর ছিল ওয়াশিংটন, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই ও নেভাদা। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল উইসকনসিনে। ২০২২ সালে সেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৪৮৭ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে এই পরিমাণ ছিল প্রতি এক লাখ বাসিন্দায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ ডলার। অঙ্গরাজ্যটিতে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৬৫৮ ডলার। উইসকনসিনের পর ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটা। প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৭ ও ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৭ ডলার। পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অবস্থানে বড় পরিবর্তনও দেখা গেছে। ২০১৮ সালে ৪০তম অবস্থানে থাকা মন্টানা ২০২২ সালে ২৩তম স্থানে উঠে আসে। অ্যারিজোনা ২৬তম থেকে ১১তম এবং মিসিসিপি ৪১তম থেকে ৩০তম অবস্থানে উঠে আসে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় কলোরাডোতে। ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটি ২০২২ সালে ৩৫তম স্থানে নেমে যায়। বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ান গার্ডনার বলেন, করব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব কিংবা আইআরএসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অডিট বা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে তাদের পাওনা কর ফেরত দাবি করেন না। তবে তার মতে, কয়েকশ ডলারের মধ্যম পরিমাণের এই সম্ভাব্য ফেরত অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হতে পারে।
মার্কিনদের জন্য ৫ হাজার ডলারের এককালীন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, এমনটাই দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, এই বিপুল অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সেটিও তিনি ‘ঠিক কীভাবে’ জানেন বলে জানিয়েছেন। রোববার আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারের শ্যানন বিমানবন্দর ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় তাকে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আমেরিকানদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হচ্ছে।” অর্থাৎ বিষয়টি কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এত বিপুল অর্থের জোগান আসবে কোথা থেকে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর ছিল আরও কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি বলেন, “আমরা কীভাবে এর অর্থ পরিশোধ করব, তা আমি ঠিক জানি।” এরপর অবশ্য অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন তিনি। ট্রাম্প আরও জোর দিয়ে বলেন, ৫ হাজার ডলারের এই অর্থপ্রদান ‘১০০ শতাংশ’ হবে। এর আগে তার ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ এবং সামরিক সদস্যদের জন্য ১ হাজার ৭৭৬ ডলার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ৫ হাজার ডলারের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম নয়। ডেমোক্র্যাটরা বলছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এমন অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের আগে তিনি এই অর্থ দিতে চান না। কারণ ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশ ‘ছিন্নভিন্ন’ হয়ে যাবে এবং তারা এই অর্থ দিতে পারবে না। বিপরীতে নিজের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এখন দেশের জন্যও অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অর্থের জোগান। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রয়োজন হতে পারে। এর পাশাপাশি ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিও প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে জনসন বলেন, এই অর্থ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘সৃজনশীল ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছে। তবে বাস্তবায়নের আগে এর বিস্তারিত পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা আসবে কোথা থেকে এবং কীভাবে দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।