- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোর ওপর সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কম্পিউটার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, হাসপাতালগুলো প্রযুক্তির ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে হঠাৎ কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত নিউজউইকের এআই হেলথ সামিটে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন জেফারসন হেলথের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিজিটাল ও তথ্য কর্মকর্তা লুইস টাভেরাস। তিনি জানান, সাইবার অপরাধীদের হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণে হাসপাতালের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হচ্ছে। টাভেরাসের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি দল মাসে একবার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংশোধনী ইনস্টল করত। কিন্তু এখন সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং প্রতিদিনই নতুন উপায়ে হাসপাতালের প্রযুক্তিব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। সাইবার হামলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি উদাহরণ দেখা গেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় র্যানসমওয়্যার হামলার কারণে ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টারের প্রায় তিন ডজন ক্লিনিক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। হাসপাতালটির ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত কিছু চিকিৎসা কার্যক্রম বাতিল করা হয় এবং কর্মীদের হাতে-কলমে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। সাইবার হামলার প্রভাব শুধু চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকান ইকোনমিক জার্নাল: ইকোনমিক পলিসিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাইবার হামলা শুরুর সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ বেশি ছিল। তবে গবেষণায় পাওয়া এই পার্থক্যকে সব হাসপাতাল বা প্রতিটি সাইবার হামলার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। জেফারসন হেলথের কর্মকর্তা টাভেরাস জানান, এতদিন হাসপাতালগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ছাড়াই জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা এবং হাসপাতালের ন্যূনতম কোন সেবা ও ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখাই এর উদ্দেশ্য। কয়েক সপ্তাহ আগে জেফারসন হেলথে প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন টাভেরাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের অনেকেই কম্পিউটার ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তা বুঝতে পারছিলেন না। এই অভিজ্ঞতার পর হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার মতো প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। টাভেরাস প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চিকিৎসাকর্মীদের প্রস্তুত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুধু সাইবার হামলা প্রতিরোধ করাই যথেষ্ট নয়। কোনো কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যর্থ হলে হাসপাতাল যেন দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ছয় থেকে আট সপ্তাহ বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সম্মেলনে প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আরেকটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মেট্রোহেলথ সিস্টেমের প্রধান ক্লিনিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, ইনোভেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কর্মকর্তা ডা. নাবিল চেহাদে। তিনি জানান, সম্মেলনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটে। তবে মেট্রোহেলথের ওই ঘটনা সাইবার হামলার কারণে ঘটেনি। ডেটা সেন্টারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যার কারণে দিনের মাঝামাঝি সময়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। ডা. চেহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু চিকিৎসক তাঁদের নিয়মিত ব্যবহৃত প্রযুক্তিব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা বুঝতে না পেরে কর্মস্থল ছেড়ে যেতে শুরু করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা হাসপাতালের প্রযুক্তিনির্ভরতার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। এর আগে ২০২৪ সালে চেঞ্জ হেলথকেয়ারের ওপর বড় ধরনের র্যানসমওয়্যার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী এএলপিএইচভি ব্ল্যাকক্যাটের ওই হামলায় চিকিৎসার বিলসংক্রান্ত দাবি, প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে পড়েছিল। প্রায় এক হাজার হাসপাতালের ওপর পরিচালিত সংস্থাটির জরিপে ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান রোগীদের চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার কথা জানায়। একই জরিপে ৯৪ শতাংশ হাসপাতাল আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য দেয়। এ ছাড়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল জানায়, হামলার কারণে তাদের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি অংশ প্রভাবিত হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। সাইবার হামলা কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই প্রস্তুতির ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মাণ ও সংস্কারকাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ ডলারের বেশি নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এক ঠিকাদারকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেরেমি জেরড জেনো নামের ওই ব্যক্তি ট্যারান্ট কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়। ফক্স ৪ ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, জেনো গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক নিয়ে নগদ অর্থ তুলে নিতেন। পরে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বদলে নানা অজুহাত দেখাতেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামও ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালে টেরি স্টিভেনসন নামের এক গ্রাহক বেনব্রুক পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। স্টিভেনসনের ভাষ্য, একটি ভবনের সংস্কারকাজের জন্য তিনি জেনোকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। কাজ সামান্য এগোনোর পরই জেনো যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বারবার নির্মাণসামগ্রী আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি। অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্লিংটনের লি রবিনসন আলভারাডোয় নির্মাণকাজের জন্য ৩৫ হাজার ডলার হারানোর কথা জানিয়েছেন। ডালাসের একটি প্রতিষ্ঠানের সেলভিন রোসা বলেছেন, হুড কাউন্টিতে একটি বাড়ির ভিত্তি নির্মাণ করেও তিনি পাওনা পাননি। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, হুড কাউন্টিতে একই ধরনের অপরাধের মামলায় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় এবং ট্যারান্ট কাউন্টির মামলায় জামিনে থেকেও জেনো একই কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফক্স ৪ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের অর্থ ফেরত পাননি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৭ সালের ফান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে আবেদন গ্রহণ চলছে। অর্থনীতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন, এমন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ কাজের সুযোগ পাবেন। বেতনসহ এই কর্মসূচিতে আবেদনের শেষ সময় ৫ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীর সামষ্টিক অর্থনীতি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি শেষ হতে এক থেকে দুই বছর বাকি থাকতে হবে। ইন্টার্নশিপ চলাকালে তাঁকে শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং কর্মসূচি শেষে পড়াশোনায় ফিরতে হবে। ২০২৭ সালের জুনে ইন্টার্নশিপ শুরুর সময় বয়স হতে হবে ৩২ বছরের কম। পাশাপাশি ইংরেজিতে লেখা ও বলায় দক্ষতা এবং শক্তিশালী বিশ্লেষণী, পরিমাণগত ও কম্পিউটার দক্ষতা প্রয়োজন। আগে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন না। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হবেন। আইএমএফের কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, ইন্টার্নরা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নিজস্ব গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেন। এতে বাস্তব অর্থনৈতিক নীতিসংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা, গবেষণার দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ থাকে। অনেক ইন্টার্ন সংস্থার কর্মীদের সামনে গবেষণার ফল উপস্থাপন করেন। কারও কাজ অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশিতও হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত ইন্টার্নরা বেতনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া এবং সীমিত চিকিৎসাবিমার সুবিধা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতির জন্য যাঁদের ভিসা প্রয়োজন, তাঁদের আবেদন সহায়তায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেবে আইএমএফ। তবে থাকার ব্যবস্থা ইন্টার্নদের নিজেদের করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জীবনবৃত্তান্ত, আবেদন করার আগ্রহ ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্টেটমেন্ট অব ইন্টারেস্ট বা কভার লেটার এবং বর্তমান শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ জমা দিতে হবে। এ জন্য সাম্প্রতিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন ও সাম্প্রতিক ফলাফলের তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র দেওয়া যাবে। অনলাইন আবেদনের কারিগরি প্রশ্নমালাও পূরণ করতে হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আইএমএফের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পোর্টালে ‘২০২৭ ফান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম, ইকোনমিস্টস’ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অসম্পূর্ণ আবেদন বিবেচনা করা হবে না। পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগ দল যোগাযোগ করবে। সূত্র: প্রথম আলো
জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য সঠিক তথ্যের সমর্থনে প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। তবে সব সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রযোজ্য নয়। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারী এসএসসি বা সমমান পাস হলে তাঁর শিক্ষাগত সনদ অগ্রাধিকার পায়। অন্য ক্ষেত্রে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক দলিল প্রয়োজন হতে পারে। নিজের বাংলা বা ইংরেজি নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পাস ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সনদ জমা দিতে হবে। এসএসসি পাস না হলে এবং সরকারি বা নির্দিষ্ট স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে চাকরির সার্ভিস বুক বা এমপিও প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গ্রহণযোগ্য নথি সংশোধনের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বয়সের ভুল সংশোধনের আবেদনেও সঠিক জন্মতারিখের সমর্থনে নথি প্রয়োজন। নামের বানান সংশোধন এবং সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের চাহিদায় পার্থক্য রয়েছে। নামের আমূল পরিবর্তনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিচয়সংক্রান্ত দলিলের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি চাওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্ম পরিবর্তনের কারণে নাম বদলানোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন। পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর শিক্ষাগত সনদ এবং প্রাসঙ্গিক পারিবারিক পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় এসএসসি বা এইচএসসি সনদে পিতা ও মাতার নাম থাকলে তা এবং পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাসা, হোল্ডিং, গ্রাম, রাস্তা বা ডাকঘরের তথ্য সংশোধনে সঠিক ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাড়ির দলিল, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল, বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র কিংবা ভাড়ার রশিদ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ঠিকানার ভুল সংশোধন এবং ভোটার এলাকা স্থানান্তর আলাদা প্রক্রিয়া। ভোটার এলাকা বদলাতে স্থানান্তরের নির্ধারিত ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য জমা দিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অনলাইন সেবায় নিবন্ধন করে আবেদন করা যায়। আবেদনে যে তথ্য পরিবর্তন চাওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণপত্রের মিল থাকা প্রয়োজন। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত দলিল, সাক্ষাৎকার বা তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে আকাশে লাফ দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রোডস্টার গাড়ি উন্মোচন করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি রাখা পাঁচটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া, উল্টো অবস্থায় চলা এবং আকাশে ঘূর্ণির মতো বিশেষ কৌশল দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়িটি ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সড়কে এটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্থাপনায় নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। স্থানটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অনুষ্ঠানে টেসলার গাড়িপ্রেমী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা প্রায় নয় বছর আগে গাড়িটি পাওয়ার আশায় আড়াই লাখ ডলার অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের বরাতে বলা হয়েছে, নতুন রোডস্টার প্রদর্শনীর সময় বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক কৌশল দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উল্টো অবস্থায় গাড়ি চালানো, পাশাপাশি রাখা পাঁচটি টেসলা গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া এবং আকাশে থাকা অবস্থায় নিজের অক্ষ বরাবর সম্পূর্ণ ঘুরে যাওয়া। এসব কৌশল দেখাতে স্পেসএক্সের তৈরি থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। টেসলার দাবি, বিশেষ থ্রাস্টার চালু থাকলে নতুন রোডস্টার স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নেবে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত সক্ষমতা। সাধারণ সড়কে বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন রোডস্টারের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর থ্রাস্টার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় ভিন্ন ধরনের কৌশল দেখাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে টেসলা। তবে প্রদর্শনীতে আকাশে ওঠা বা বিশেষ কৌশল দেখানোর অর্থ এই নয় যে, গাড়িটি প্রচলিত উড়োজাহাজের মতো নিয়মিত আকাশপথে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক জানান, নতুন রোডস্টার এমন একটি গাড়ি হবে, যা সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিনতে পারবেন। সাধারণ সড়কে চলাচলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, সব এলাকায় গাড়িটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন সড়ক বা এলাকায় গাড়িটি চালানো যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। গাড়িশিল্পের বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন গাড়ি চালানো এবং সাধারণ সড়কে ব্যবহারের আইনি অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। টেসলার নতুন রোডস্টার প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বের মুখে রয়েছে। প্রায় নয় বছর আগে কিছু ক্রেতা গাড়িটি পাওয়ার জন্য আড়াই লাখ ডলার করে অগ্রিম অর্থ জমা দিয়েছিলেন। তবে এতদিনেও গাড়িটির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়নি। নতুন ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালকে সম্ভাব্য বাজারে আনার সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। অবশ্য ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনা জানানো হলেও নতুন রোডস্টারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করেনি টেসলা। গাড়িটির ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে রোডস্টারের পূর্বঘোষিত একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নতুন থ্রাস্টারযুক্ত সংস্করণটির একবার চার্জে চলার দূরত্ব সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী এবং ২০২৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা। তবে গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, চূড়ান্ত মূল্য, সরবরাহের সময় এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে বলে মাস্কের অভিযোগের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে রিলায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাকে তারা ভয় পায় না। তবে স্টারলিংকসহ সব প্রতিষ্ঠানকে ভারতের আইন ও নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ভারত দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত। তবে এই সুযোগ আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সরকারের নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া দেশীয় ও বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রিলায়েন্স আরও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জিওর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও এখনো সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শুধু স্টারলিংক নয়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানায়, প্রতিযোগিতাকে তারা গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালে ভারতের টেলিকম বাজারে প্রবেশের সময় জিওর কোনো গ্রাহক ছিল না। পরবর্তী ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ কোটির বেশি হয়েছে। রিলায়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, জিও ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতেও স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। এদিকে রিলায়েন্সের এই বিবৃতির আগে ইলন মাস্ক ভারতের টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আম্বানির ব্যবসায়িক স্বার্থের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী যুক্তি তুলে ধরছেন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে বলা হচ্ছে, জিওর কম দামের ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে স্টারলিংক প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। অন্যদিকে স্টারলিংককে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই দুই অবস্থানকে পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাস্ক আরও দাবি করেন, ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকেরা বেশি বিকল্প পাবেন। এতে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে পারে, তবে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের টেলিকম বাজারে আম্বানির প্রভাব এত বেশি যে স্টারলিংকের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ভারত সরকার মাস্কের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে স্টারলিংকসহ সব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, স্টারলিংক এখনো ভারতে বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতের ভেতরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপন করতে হবে। একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংক এখনো এসব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে সম্মত হয়নি। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করে স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপনের শর্ত পূরণ করলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই। ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর পরিকল্পনায় রয়েছে রিলায়েন্স জিও, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংক। ভারতী এন্টারপ্রাইজেসের চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তাল জানিয়েছেন, তাঁদের স্যাটেলাইট উদ্যোগ ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব স্টারলিংকের আগেই অনুমোদন পেতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি আগে আবেদন করেছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশ নিয়ে মাস্ক ও রিলায়েন্সের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হলেও রিলায়েন্স আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কবে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারবে, তা নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের ওপর। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আকাশে প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এতে ১৫টি বাড়িতে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর। পরদিন বুধবার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী, এক পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রিয়াদের দিকে ছোড়া হুতিদের দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর টুকরা আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা পেলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। আজেল নিউজের প্রতিবেদনে সংস্থাটির নির্দেশনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর শান্ত থেকে নিকটবর্তী ভবনের ভেতরে অথবা জানালা থেকে দূরে কোনো অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করতে হবে। বিপদ কেটে যাওয়ার আগে আশ্রয়স্থল ছেড়ে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনায় খোলা জায়গা ও কাচ থেকে দূরে থাকতে এবং বারান্দা বা ছাদে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বাইরে থাকলে কাছের ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। ঘটনা দেখতে ভিড় করা কিংবা ছবি তোলার জন্য বাইরে অবস্থান করতেও নিষেধ করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ সব বাসিন্দার জন্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
মোটরসাইকেলের পেছনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শর্ত মেনে এই প্লেট স্থাপন করতে হবে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যমুনা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বিআরটিএ। সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদার করতে মোটরসাইকেলের সামনের দিকেও নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে আরএফআইডিযুক্ত রেট্রো রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে মালিকদের নিজ উদ্যোগে সামনের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট তৈরি ও সংযোজন করতে হবে। সামনের নম্বরপ্লেটটি স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যায় নিবন্ধন নম্বর লিখতে হবে। প্লেটে কোনো ধরনের নকশা বা বাড়তি শোভাবর্ধন করা যাবে না। স্কুটারের ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। এতে ব্যবহৃত অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য সাধারণ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার। বিআরটিএ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত অনুসরণ করে সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যে নির্মাণশ্রমিকের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নির্মাণকাজে যুক্ত অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ কাজ ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাচ্ছেন। এতে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে শ্রমিকের দল ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিকাদারেরা। দেশটির অন্যতম ব্যস্ত আবাসন বাজার হিসেবে পরিচিত হিউস্টনে এই সংকট বাড়ির নির্মাণকাজের সময় ও ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ২। শহরের উত্তরাঞ্চলে সূর্য ওঠার আগেই নতুন বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নেমে পড়েন নির্মাণকর্মীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া এবং একই কর্মীদল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্মাতারা। বৃহত্তর হিউস্টন অঞ্চলের কয়েকজন ঠিকাদার কেপিআরসি ২-কে জানিয়েছেন, গত এক বছরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের তৎপরতার কারণে তাঁদের একাধিক কর্মী হারাতে হয়েছে। কেউ কর্মস্থলে আসা বন্ধ করেছেন, আবার কেউ টেক্সাস ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে কাজ খুঁজছেন। ফলে চলমান প্রকল্পের কাজের গতি ধরে রাখা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির (এনএএইচবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নির্মাণশ্রমিকদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি অভিবাসী। আবাসন চাহিদা মেটাতে এই কর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো। তবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ও কর্মস্থলে তল্লাশির আশঙ্কা শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমনকি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা কিছু শ্রমিকও কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সমিতিটি। এর ফলে নির্মাণ খাতে আগে থেকেই থাকা কর্মীসংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বৃহত্তর হিউস্টন গৃহনির্মাতা সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাইমি বার্ট্রান্ড বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণের বাজারের আকার বিবেচনায় হিউস্টন এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি, যেখানে ডালাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে শ্রমিকসংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বার্ট্রান্ডের মতে, নির্মাতারা তাঁদের কর্মীদলের নিরাপত্তা ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে চিন্তিত। কারণ, শ্রমিকের অভাবে নির্মাণকাজ ব্যাহত হলে নতুন বাড়ির সরবরাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতির কারণে একটি বাড়ি নির্মাণে গড়ে প্রায় দুই মাস বেশি সময় লাগতে পারে। একই সংকটের কারণে বছরে প্রায় ১৯ হাজার বাড়ি কম নির্মিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাতা ও ক্রেতাদের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১ হাজার কোটি ডলার বলে সমিতিটি জানিয়েছে। শ্রমিকের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণকাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি শ্রম ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব নতুন বাড়ির দাম এবং বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের ওপরও পড়তে পারে। শ্রমিকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মী, বাগান ও বাইরের জায়গা পরিচর্যার শ্রমিক এবং ছাদ নির্মাণকর্মীদের মধ্যে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, কাঠামো তৈরির শ্রমিকের সংকটের কথা জানিয়েছেন ৫৭ শতাংশ নির্মাতা, যা আগের জরিপের তুলনায় ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বাগান পরিচর্যার শ্রমিকের ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশ, আর ছাদ নির্মাণকর্মীদের ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট খাতের নিয়োগদাতাদের মতে, এসব কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। শ্রমিকসংকটের কারণ হিসেবে শুধু অভিবাসন অভিযানকেই দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। নির্মাণ খাতে কর্মীর চাহিদা, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে শ্রমিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং শ্রম ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তবে জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ শ্রমিকসংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। কর্মস্থলে তল্লাশি হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে ঠিকাদারদের জন্য নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ একটি কর্মীদল থেকে কয়েকজন শ্রমিক হারালেও পুরো প্রকল্পের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে। হিউস্টনের নির্মাণশিল্পে এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনসংকট নিয়ে চলমান উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাড়ি তৈরির গতি কমে গেলে সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শ্রমিকসংকটের কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়লে তার চাপ শেষ পর্যন্ত বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তবে হিউস্টনে ঠিক কতটি প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে বা সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযানের কারণে মোট কতজন শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। সূত্র: কেপিআরসি ২, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতি (এনএএইচবি)।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে দেওয়া করছাড়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে বাড়তি শর্ত যুক্ত হবে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের একটি অংশসহ বর্তমানে করছাড় পাওয়া কিছু পরিবারের সুবিধা কমতে পারে বা তারা এই সুবিধার অযোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে দেওয়া করছাড় কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানো। ‘প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত এই সুবিধা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন, যা সাধারণভাবে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, তার আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করে। করছাড়ের অর্থ সরাসরি বিমার মাসিক খরচ কমাতে ব্যবহার করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস’ নামে পরিচিত কর ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, দেশটির জাতীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য কিছু অ-নাগরিক করছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশের নিচে থাকলেও, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইড সুবিধা না পেলে তারা প্রিমিয়াম করছাড়ের যোগ্য হতে পারতেন। নতুন প্রস্তাবে এই বিশেষ সুযোগ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কম আয়ের এমন কিছু পরিবার স্বাস্থ্যবিমার জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পেতে পারে। তবে পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত বিধিমালার অংশ, তাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে। একই পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান না করলে কিংবা করছাড় পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অভিবাসনগত যোগ্যতা পূরণ না করলে, তাঁর জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়ামের অংশটি পরিবারের করছাড়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ্য হলেও, অযোগ্য সদস্যের বিমা খরচের অংশের জন্য করছাড় দাবি করা যাবে না। এতে একই বিমা পরিকল্পনার আওতায় থাকা পরিবারের করছাড়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নিয়মটির লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকি যেন কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমার খরচে ব্যবহৃত হয়। ২০২৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে নিবন্ধনের সময় যোগ্যতা যাচাই আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর বসবাসের তথ্য, স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর যোগ্যতা, নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী মেডিকেইড বা অন্য কোনো যোগ্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পড়েন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য, অননুমোদিত নিবন্ধন এবং অযোগ্য ব্যক্তির নামে ভর্তুকি দেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। করছাড়ের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে আগাম করছাড় হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিমাণে সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বছরের শুরুতে যতটা করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, আয় বা অন্যান্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বছরের শেষে প্রকৃত যোগ্যতা কম হলে অতিরিক্ত পাওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হতে পারে। এতে করদাতাদের জন্য বছরের শেষে কর হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। করছাড়ের যোগ্যতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল আইনে যারা যোগ্য নন, তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, প্রস্তাবিত যাচাইব্যবস্থা অনুপযুক্ত দাবি কমাতে এবং যোগ্য করদাতাদের সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য প্রশাসনের অবস্থান; প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও তার প্রয়োগের ওপর। স্বাস্থ্যবিমায় অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যার আওতায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের নাম ছিল। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব বাতিলের ফলে আগাম প্রিমিয়াম করছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের অস্তিত্ব বা নিবন্ধন যাচাই করা যায়নি, আবার এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা বাস্তব হলেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা বাজারের পরিকল্পনায় নিবন্ধিত। বিভাগটি ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কর্মসূচিতে নজিরবিহীন হারে নিবন্ধন বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি বা জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশাসন যাচাইব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক নিবন্ধনের সংখ্যা এবং নিশ্চিত জালিয়াতির সংখ্যা এক নয়, তাই এ ধরনের তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি। প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের কাছে লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি জনশুনানি টেলিফোনের মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়ম নির্ধারণ করবে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের বেনোয়া শহরের পৌর আদালতের বিচারক আসমা আলী তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। মিসিসিপি কলেজ অব ল-এর ‘অর্ডার অব দ্য রোজ’ সম্মাননায় ভূষিত হওয়ার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ স্বীকৃতিকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। আসমা আলী তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির ডিন অ্যান্ডারসন এবং মিসিসিপি কলেজ অব ল-এর সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নিজের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি সব সময় গর্ববোধ করবেন বলেও জানান। এর আগে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট আসমা আলী বেনোয়া শহরের পৌর আদালতের বিচারক হিসেবে শপথ নেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং ইয়েমেনি অভিবাসীদের সন্তান। প্রায় এক দশকের আইনি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই আইনজীবী ২০১৭ সালে মিসিসিপি কলেজ অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি অভিবাসন আইন নিয়ে কাজ করেন এবং রিডল্যান্ডে নিজস্ব আইন পেশা পরিচালনা করেন। তাঁর বিচারক নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে রিডল্যান্ড বা লাম্বারটনে নয়, বরং বেনোয়া শহরের পৌর আদালতে নিয়োগ দেওয়া হয়। আসমা আলী জানিয়েছেন, বিচারক হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের আইন মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর সাম্প্রতিক সম্মাননা পাওয়ার ঘটনাটি বিচারক হিসেবে নিয়োগের পর তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ চোখের ওপর অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে চোখের কোটরের ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁতের সন্ধান পেয়েছেন। চোখের পাতার ওপর ও ভ্রুর মাঝামাঝি জায়গায় দাঁতটির দুটি সাদা অংশ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। দাঁতটি কোনো টিউমারের অংশ ছিল না; বরং মুখের স্বাভাবিক অবস্থানের বাইরে তৈরি হওয়া দাঁত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদুরাই শহরের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালে কিশোরটিকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাঁ চোখের ওপরের পাতায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যথাহীন ফোলা ছিল। পরে চোখের পাতা ও ভ্রুর মাঝের অংশে শক্ত, সাদা রঙের দুটি ছোট উঁচু অংশ দেখা যায়। চিকিৎসকেরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, এটি টেরাটোমা নামের এক ধরনের টিউমার হতে পারে। এ ধরনের টিউমারে চুল, হাড় কিংবা দাঁতের মতো বিভিন্ন ধরনের টিস্যু থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক ধারণা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল। কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক গঠনটির প্রকৃতি স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোখের কোটরের ওপরের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানাইন দাঁত, যার মুকুট ও শিকড় দুটিই তৈরি হয়েছে। দাঁতটির দুটি অংশ ত্বকের বাইরে উঁচু হয়ে থাকায় সেগুলো আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এর মধ্যে টেরাটোমা-সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান নেই। ফলে এটিকে ‘একটোপিক দাঁত’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়, অর্থাৎ মুখের স্বাভাবিক দাঁতের সারির বাইরে অন্য স্থানে তৈরি হওয়া দাঁত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাকের ভেতর, তালু, চোয়াল কিংবা চোখের কোটরের নিচের অংশে অস্বাভাবিকভাবে দাঁত তৈরি হওয়ার ঘটনা আগে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে চোখের কোটরের ওপরের অংশে পূর্ণাঙ্গ দাঁত পাওয়ার ঘটনা আগে প্রকাশিত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এ কারণেই ঘটনাটিকে বিশেষভাবে বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দাঁতটি কী কারণে ওই স্থানে তৈরি হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনটিতে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে বিরল শারীরিক বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিশোরটির এই চিকিৎসা-ঘটনা নিয়ে মেঘনা তানওয়ার, বেদান্ত শর্মা ও উষা কিমের লেখা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চক্ষুবিষয়ক সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’তে। গবেষণাটি অনলাইনে ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং সাময়িকীটির জুন সংখ্যায় স্থান পায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঁতটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়েছে। চোখের কোটরের ওপরের অংশে এ ধরনের দাঁত পাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসা সাহিত্যে প্রথম বলে লেখকেরা উল্লেখ করেছেন। সূত্র: সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’ এবং আমেরিকান একাডেমি অব অফথ্যালমোলজি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ফোন জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় ফোনটি জব্দ করা হয়। একই তদন্তে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছেও তথ্য চেয়ে প্রায় এক ডজন সমন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর, ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এর কয়েক দিন আগে, শুক্রবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে সমন পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। তদন্তটি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় গ্র্যান্ড জুরির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গ্র্যান্ড জুরি সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ পর্যালোচনা করে এবং মামলায় অভিযোগ আনার যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে ওমর নিজে এ পর্যায়ে সমন পাননি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারীরা মূলত ওমর ও তাঁর পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১৯৯০-এর দশকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর জন্মতারিখসহ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চললেও কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ওমরের বোনের সঙ্গেও কথা বলতে চান, তবে তাঁর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো সমনের মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত পরিচালনা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, মিনিয়াপোলিসের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং বিচার বিভাগ। তদন্তের সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ বা জব্দ করা ফোন থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ইলহান ওমর এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তল্লাশিকে তিনি সেই চাপেরই নতুন ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমরের মুখপাত্রের কাছ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো জবাব পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। বিচার বিভাগও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন ওমর। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিতে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতি সব তদন্তে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে না। কংগ্রেস সদস্যের ফোন জব্দ করার ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আইনসভায় বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ওমরকে ‘খুব সতর্কভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরে ওহাইওতে রিপাবলিকানদের একটি সমাবেশেও তিনি ওমরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাও এর আগে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ওমর ও তাঁর সমর্থকেরা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে, তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য এবং প্রগতিশীল নারী আইনপ্রণেতাদের ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য। অভিবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি, ফোন জব্দ এবং পরিবারের সদস্যদের সমন পাঠানোর ঘটনা তাই রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সূত্র: এনবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রঙের রেশমি বা সিল্ক কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তার এই অসাধারণ শৈল্পিক কাজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিখুঁত নিষ্ঠার অপূর্ব এক নিদর্শন হয়ে উঠেছে তার এই সৃষ্টি। এই অসামান্য প্রকল্পটি শেষ করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তার প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ধৈর্য কাজে লাগিয়েছেন। লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। রেশমি কাপড়ের ওপর কোরআন লেখার এই অভিনব ধারণার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের গভীর গবেষণা। কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে আগে চামড়া বা কাগজের ওপর কোরআন লেখা হলেও সম্পূর্ণ কোরআন রেশমি কাপড়ের ওপর লেখার কোনো পূর্বনজির সেভাবে নেই। সিল্ক বা রেশম কাপড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর আভিজাত্য তাকে এই বিশেষ উপাদানটি বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। মেমেদজাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও শৈল্পিক একাগ্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার তৈরি রেশমি কাপড়ের এই কোরআনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী এবং শিল্প সমালোচকরা এই অসাধারণ শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই কাজটি কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থের অনুলিপি নয় বরং এটি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্য, শিল্পীর অসীম ধৈর্য এবং পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্যের প্রতি গভীর উপলব্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন। ইসলামী শিল্পকলায় ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন। যুগে যুগে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন। আজারবাইজানের এই শিল্পীর কাজটি সেই ঐতিহাসিক পরম্পরারই একটি আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ। সোনা ও রুপার কালিতে কালো সিল্কের ওপর ফুটে ওঠা প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এমন একটি মাস্টারপিস তৈরি করার মাধ্যমে তুনজালে মেমেদজাদে ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে নিলেন। সংবাদ সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট এবং প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে পরিবারের ব্যয় আরও বাড়ছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচের তথ্য ও উপাত্তবিষয়ক দল এ পরিস্থিতিতে একটি ইন্টার্যাকটিভ অনলাইন টুল তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মুদি পণ্য, গাড়ির জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিশুদের দিবাযত্নকেন্দ্র বা প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার খরচ এবং পোষা প্রাণীর খাবার, এই পাঁচটি খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয় কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা হিসাব করে দেখতে পারবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব খাতের মূল্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে এটি ব্যক্তিগত কেনাকাটার রসিদভিত্তিক হিসাব নয়, বরং ভোক্তা মূল্যসূচকের ওপর নির্ভরশীল একটি আনুমানিক হিসাব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের গাড়ির জ্বালানির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও দাম বৃদ্ধির চিত্র একরকম নয়। ডব্লিউইএসএইচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কিছু পণ্যের দাম সামগ্রিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে কাঁচা গরুর কিমার মূল্যসূচক ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে সব পণ্যের মূল্য পরিবর্তন বোঝা যায় না। কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে, আবার অন্য কিছু পণ্যের দাম কমতেও পারে। বিএলএসের সরকারি তথ্যেও জ্বালানির দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পেট্রোলের মূল্যসূচক এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে বেড়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে আগস্টে বৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ১২ মাসে জ্বালানি খাতের মূল্যসূচক বেড়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। ঘরে ব্যবহারের জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক সামান্য কমলেও রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যয় বেড়েছে। ডব্লিউইএসএইচের তৈরি অনলাইন টুলটি মূলত ভোক্তা মূল্যসূচকের পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত মাসিক বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট খাতে তাঁদের মাসিক ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে আগের সময়ের তুলনায় সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিবর্তন দেখতে পারেন। তবে প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কেনাকাটার ধরন, বসবাসের এলাকা এবং বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। তাই টুলে পাওয়া হিসাবকে প্রত্যেক পরিবারের প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির চূড়ান্ত পরিমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আগের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে এখন তুলনামূলক কম পণ্য বা সেবা কেনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের তুলনায় খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও শিশুদের দেখাশোনার খরচের অংশ বেশি, তাদের বাজেটে চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে। মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও প্রতিটি পরিবারের ব্যয় একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কোন খাতে কতটা ব্যয় হয়, তার ওপরই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পার্থক্য নির্ভর করে। সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে পাঠদান করতে চাওয়ায় বেলজিয়ামের এক শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। হাদিজা আমাজুদ নামের ওই শিক্ষিকা ২০২২ সাল থেকে প্রদেশটির আসেনেদে এলাকার বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পান। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ করে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম দ্য ব্রাসেলস টাইমস। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ২৭ জুন কর্মীদের আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে ধর্ম বা দর্শনবিষয়ক নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। হাদিজা যখন বিদ্যালয়ে যোগ দেন, তখন তিনি হিজাব পরতেন এবং সে সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না। নতুন নিয়ম চালুর পরও হিজাব পরেই পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাদিজা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, বিষয়টি শুধু তাঁর চাকরি বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য, হিজাব পরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ এবং এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তিনি হিজাব পরতেন এবং তাঁর কাজের মূল্যায়নও নেতিবাচক ছিল না। বরখাস্তের ফলে তিনি শুধু চাকরিই নয়, আয় ও দীর্ঘদিনের পেশাগত নিরাপত্তাও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হাদিজার পাশে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়ামের সরকারি খাতের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন এসিডিওডি (ACOD)। ইউনিয়নটি জানিয়েছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতিকে তারা সমর্থন করে। তবে হাদিজার ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। ইউনিয়নের মতে, নতুন নিয়ম চালুর আগে থেকেই হাদিজা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে কর্মদক্ষতার কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প সমাধান বা পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাদিজার আপিলে সহায়তা করছে এসিডিওডি। ইউনিয়নটির যুক্তি, চাকরিচ্যুতি ছিল অতিরিক্ত কঠোর ও পরিস্থিতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক পরার নিয়ম মানতে না চাওয়ার কারণে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিবর্তে সমঝোতা বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেত। ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, হাদিজা হিজাবের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরপেক্ষ মাথা ঢাকার পোশাক পরার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সমাধান হয়নি। অন্যদিকে, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখতে কর্মীদের আচরণবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রদেশটির শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্ট মুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেই বিধি অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, বিদ্যালয়ে এমন পরিবেশ থাকা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক চাপের মুখে পড়ে না। ফলে বিতর্কটি একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের অধিকার, অন্যদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি করেছে। হাদিজার ঘটনাটি বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরার কারণে স্পষ্টভাবে বরখাস্ত হওয়া ফ্ল্যান্ডার্সের প্রথম শিক্ষিকা হতে পারেন তিনি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং তা প্রয়োগের সীমা নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। হাদিজা ও তাঁর ইউনিয়ন এখন বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিলের পথে এগোচ্ছেন। আপিলের শুনানিতে তাঁর চাকরির পরিস্থিতি, নতুন বিধির প্রয়োগ এবং শাস্তির মাত্রা বিবেচনায় আসতে পারে। সূত্র: দ্য ব্রাসেলস টাইমস, বেলজিয়ান সংবাদ সংস্থা বেলগা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সন্দেহভাজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। বেন্ড পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে জরুরি ফোন পায়। এর প্রায় এক মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একাধিক ৯১১ কল আসে। ফোনকারীরা জানান, এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গুলি চালাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের মুখপাত্র শিলা মিলার জানান, কর্মকর্তারা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সন্দেহভাজন হামলাকারী মাটিতে পড়ে যায়। পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্টজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্দেহভাজন কিশোর বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় তাকে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মুখোমুখি হন। ওই ব্যক্তি কিশোরকে গুলি করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কে গুলি চালিয়ে কিশোরকে হত্যা করেছেন, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলাকারীর পরিচয় ও গুলি চালানোর পেছনে উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ছিল ৫, ৮ ও ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সী শিশুটি এবং ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর বিদ্যালয়টিতে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একে একে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ তল্লাশি করেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনেন। ঘটনার পর শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতে কাছাকাছি একটি গির্জায় নির্দিষ্ট স্থান স্থাপন করা হয়। সেখানে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। বিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। হামলার সময় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ক্যালেব ওয়েইস। তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, তাঁরা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আশপাশের মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার তদন্তে এফবিআই সহায়তা করছে বলে সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। হামলাকারী কীভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিল, তার কাছে কী ধরনের অস্ত্র ছিল এবং হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বেন্ড-লা পাইন স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক এক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা স্তম্ভিত ও গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর ভাষায়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষের যে শোক, তা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ নেই। তিনি জানান, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যত্ন নেওয়া এবং পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের সহায়তা করাই এখন তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলার সব বিদ্যালয়ে পাঠদান, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং খেলাধুলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। বেন্ড শহরটি ওরেগনের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত। সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো হয়। বিদ্যালয়টিতে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। অল্পবয়সী শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউইয়র্কের কুইন্সে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৯১১ নম্বরে ফোন করে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করার মতো বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাউথ রিচমন্ড হিল এলাকার একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে অচেতন ও নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে ১১০ স্ট্রিট ও ৯৫ অ্যাভিনিউয়ের কাছের বাড়িটিতে পৌঁছান। এর আগে শিশুটির মা জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে বাড়িতে হামলার ঘটনা জানান বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফোনে ওই নারী বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে হত্যা করেছি।’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা শিশুটিকে বাড়ির ওপরের তলার একটি কক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে তাকে দ্রুত জামাইকা হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটির নাম প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ নিউইয়র্ক জানায়, স্বজনদের বরাতে শিশুটির নাম ফাবিয়ানা কাবেলো বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে ‘ফাবি’ নামে ডাকতেন। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় ময়নাতদন্ত করবে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, শিশুটির মা ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী একজন নারী। অতীতে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে পুলিশের নথি ছিল এবং এর আগে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাঁর মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। শিশুটির বাবা কুলদীপ সিং নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে জানান, তিনি মেয়ের মায়ের সাবেক প্রেমিক এবং মেয়ের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন না। পেশায় উবারচালক সিং মেয়ের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা বলতেন। দুই সপ্তাহ আগে মেয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন শিশুটি তাঁর সঙ্গে খেলছিল, হাসিখুশি ছিল এবং তাঁকে বারবার চুমু দিয়েছিল। মেয়ের পাঠানো একটি কণ্ঠবার্তাও তিনি সংবাদমাধ্যমকে শোনান, যেখানে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, ‘হাই বাবা, তুমি কেমন আছ।’ সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাবি সম্প্রতি কিন্ডারগার্টেনে যাওয়া শুরু করেছিল। মেয়ের জন্য তিনি নতুন পোশাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছিলেন। তিনি জানান, শিশুটির মা মাঝেমধ্যে মেয়েকে দেখাশোনার জন্য তাঁর সাহায্য চাইতেন। কিন্তু উবার চালানোর ব্যস্ততার কারণে সব সময় মেয়ের কাছে যেতে পারতেন না। গত ৭ অক্টোবর ফোনে তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। ওই দিন শিশুটির মা দুই-তিন দিনের জন্য মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে সিং তখন সময় চেয়েছিলেন। এখন সেই কথোপকথনের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেশীরাও শিশুটিকে হাসিখুশি ও বন্ধুবৎসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৬০ বছর বয়সী প্রতিবেশী লুইস সালোমন পেরেজ জানান, তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ফাবির প্রায়ই খেলাধুলা হতো। তাঁর ভাষায়, মেয়েটি ছিল ভদ্র, সদয় ও প্রাণবন্ত। তবে গত প্রায় ছয় মাসে শিশুটির মায়ের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। আগে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতে বা বাইরে বের হতে দেখা গেলেও পরে তাঁকে খুব কমই বাড়ির বাইরে দেখা যেত। পেরেজের ধারণা ছিল, ওই নারী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি তাঁর বোনের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। পেরেজের পরিবারের সদস্য মেলিসা জানান, গত বছর ফাবি ও তার মা কয়েক মাস তাঁদের বাড়ির একটি ভাড়া করা কক্ষে ছিলেন। পরে তাঁরা কাছাকাছি একটি বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। মেলিসার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি আশপাশের অন্য শিশু ও কুকুরের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করত। তবে তার মা মেয়েকে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দিতে চাইতেন না বলে তাঁর মনে হয়েছিল। যদিও মেলিসা শিশুটির ওপর কোনো নির্যাতন নিজের চোখে দেখেননি বলে জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য তদন্তকারীদের কাছে পারিবারিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, তবে এগুলো নিজেরাই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ নয়। ঘটনার পর বাড়িটির আশপাশে পুলিশি তদন্ত চলতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা কম্বল দিয়ে মোড়ানো অচেতন শিশুটিকে দ্রুত গাড়িতে তোলেন। পরে হাতকড়া পরা এক নারীকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও ধারণ করা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং শিশুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে। এবিসি৭ নিউইয়র্কের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পুলিশ তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি এবং তদন্ত চলছিল। ফলে ৯১১ নম্বরে মায়ের কথিত বক্তব্য এবং পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বর্ণনা প্রকাশিত হলেও শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল এবং চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, এবিসি৭ নিউইয়র্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী এক নবীন শিক্ষার্থীকে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আলাচুয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা। লক্ষ্যে যাদব নামের ওই শিক্ষার্থীকে বুধবার, ১৪ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আলাচুয়া কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যাদব ও ওই নারীর মধ্যে দিনভর বার্তা আদান-প্রদান হয়। একপর্যায়ে যাদব ওই নারীর বাসায় যাওয়ার অনুমতি চান। নারীটি তাঁকে একাধিকবার সেখানে যেতে নিষেধ করেন। তবে কিছুক্ষণ পর যাদব মদ্যপ অবস্থায় তাঁর বাসায় উপস্থিত হন। বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাদবকে মদ্যপ অবস্থায় দেখে তাঁর গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ওই নারী। এ কারণে তাঁকে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। তবে নারীর বর্ণনা অনুযায়ী, বাসায় ঢোকার পর যাদব তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন আচরণ শুরু করেন। নারীটি নিষেধ করা সত্ত্বেও তাঁর পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় নারীটি আহত হন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই নারীর শরীরে এমন কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান, যা তাঁর বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর যাদব বাসা ছেড়ে চলে যান। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তদন্তে যাদবকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় এবং গাড়ির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই নারী স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে যাদবের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি যাদবের আইনগত নাম জানতেন না, শুধু একটি ডাকনাম জানতেন। তাঁর মনে ছিল, যাদব নীল রঙের টেসলা গাড়ি চালান। ঘটনার সময় ওই বাসার কাছে গাড়িটির উপস্থিতি শনাক্ত করতে নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার সূত্র পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে যাদবের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ওই নারীর আবাসিক এলাকার একজন নারীকে চেনেন বলে স্বীকার করলেও তাঁর নাম জানেন না বলে জানান। এরপর তিনি আইনজীবীর সহায়তা চান। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের ছবির সারি থেকে ওই নারী যাদবকে শনাক্ত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২০-কে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ যাদবকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর প্রবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গেইনসভিলে অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডব্লিউসিজেবি (WCJB), স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভি২০-র প্রতিবেদন।