- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেক পরিবারের কাছেই আনন্দের। সঙ্গে একটি তোয়ালে, সানগ্লাস আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিলেই চলে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উইল রিজো ও তাঁর স্ত্রী ইয়েনির কাছে ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া মানে গাড়িভর্তি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসামগ্রী গুছিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ, তাঁদের ছোট্ট ছেলে ইজাইয়া জন্ম থেকেই লড়ছে এক দুর্লভ ও জটিল স্নায়বিক রোগের সঙ্গে। ইজাইয়া আক্রান্ত ‘ডব্লিউওআরইই’ (WOREE) সিনড্রোমে। ডব্লিউডব্লিউওএক্স (WWOX) জিনের ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিরল রোগ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ইজাইয়ার ক্ষেত্রে এর কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র খিঁচুনি, শারীরিক বিকাশের জটিলতা এবং নানা ধরনের চিকিৎসাগত চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনের জীবন সামলাতে তাকে নির্ভর করতে হয় বিশেষ যত্ন ও চিকিৎসাসহায়তার ওপর। ইজাইয়ার চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার প্রয়োজন। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় রয়েছে বিশেষ রেসপিরেটরি সাপোর্ট। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় সাকশন ডিভাইস, খাওয়ানোর সরঞ্জাম এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর। ফলে বাড়ির বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে তার বাবা-মাকে নিশ্চিত করতে হয়, প্রয়োজনীয় সবকিছু সঙ্গে রয়েছে কি না। সাধারণ একটি ভ্রমণও তাঁদের জন্য হয়ে ওঠে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাড়তি দায়িত্বের সমন্বয়। তবে ছেলের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তার পুরো জীবন নির্ধারণ করতে দিতে চান না উইল ও ইয়েনি। তাঁদের বিশ্বাস, চিকিৎসা ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন থাকলেও ইজাইয়ার আনন্দ উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। অন্য শিশুদের মতো তারও প্রকৃতি দেখা, নতুন জায়গায় যাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় স্মৃতি তৈরি করার সুযোগ থাকা উচিত। এই ভাবনা থেকেই তাঁরা শুরু করেছেন ‘ফাউন্ড নোমডস’ (Found Nomads) নামের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তাঁরা ইজাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করছেন। কখনো সমুদ্রসৈকতে, কখনো সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জাতীয় উদ্যানে—ছেলেকে নিয়ে নতুন নতুন জায়গা দেখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অবশ্য এসব ভ্রমণ সহজ নয়। ইজাইয়ার শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রার প্রস্তুতি নিতে হয়, সঙ্গে রাখতে হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং তার পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। প্রতিটি ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে ছেলের প্রয়োজনের সমন্বয় করতে হয়। তারপরও থেমে থাকতে চান না এই বাবা-মা। তাঁরা দেখাতে চান, বিশেষ চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন শিশুর পরিবারও নানা বাধা পেরিয়ে ভ্রমণ করতে পারে এবং একসঙ্গে সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারে। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু নিজেদের পরিবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্য পরিবারগুলোর জন্যও উৎসাহের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ইজাইয়াকে নিয়ে উইল ও ইয়েনির এই যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর স্বপ্ন পূরণে অনেক সময় বাড়তি প্রস্তুতি ও পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নতুন জায়গা দেখা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং স্মৃতি তৈরি করার চেষ্টা থেমে থাকতে হয় না।
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়ান নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ৭০ শতাংশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। একই সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৩৯ শতাংশ। ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার কম থাকার চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ৪ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদনের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সরকারি হিসাবে চীনা আবেদনকারীদের অনুমোদনের হার ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ, ভারতের ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৮০ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে নয় মাসের এই হিসাব এবং সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা সাম্প্রতিক তিন মাসের প্রত্যাখ্যানের হার আলাদা সময়সীমার তথ্য। আগের বছরের সরকারি তথ্যের তুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের বাইরে থেকে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে অনুমোদনের হার ছিল ৬২ শতাংশ এবং প্রত্যাখ্যানের হার ৩৮ শতাংশ। ওই বছরের হিসাবে ৬৭৮টি আবেদন অনুমোদিত ও ৪১৪টি প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু দেশের বাইরে অবস্থানরত আবেদনকারীদের, তাই ভিন্ন পরিধির হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় সতর্কতা প্রয়োজন। আবেদনের তথ্য ও নথির যথার্থতার ওপর জোর দিয়েছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া কিংবা প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন করা হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। কোনো প্রতিনিধি আবেদন জমা দিলেও তথ্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায় আবেদনকারীরও। তবে প্রত্যাখ্যাত সব আবেদনেই জালিয়াতি ছিল, এমন সিদ্ধান্ত এই পরিসংখ্যান থেকে টানা যায় না। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে যেসব স্টুডেন্ট ও অস্থায়ী ভিসা আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন, সেগুলোতে আবেদনের সময়ই সনদ জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু সনদের জন্য আবেদন করার রসিদ গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় সনদ না থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এবং সাধারণত অনুপস্থিত সনদ চেয়ে আবেদনকারীর সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ করা হবে না।
কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি। এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় অনেক শ্রমিক এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষিশ্রমিকের সংকট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং কৃষিকে লাভজনক করে তোলা জরুরি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে কৃষির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও সেখানকার কৃষকরা সব সময় ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় উৎপাদিত আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন তাঁরা। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। আবার উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, ফসল সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। আলুর পাশাপাশি টমেটো, অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন না হওয়াকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, উৎপাদিত ফল ও সবজি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে কৃষকের ক্ষতি কমবে এবং বাজারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হবে। কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিমাত্রায় সার প্রয়োগ মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশার প্রতি আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দেশের কৃষি উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক নতুন যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোটার নিবন্ধনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন নাগরিকেরা। তাই ভোটারদের দ্রুত নিজেদের নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি নাগরিকদের সুবিধার্থে বেশ সহজ ও বহুমুখী করা হয়েছে। আগ্রহীরা চাইলে অনলাইনে, সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের ভোটার নিবন্ধন পোর্টাল বা ডিএমভি (DMV) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি 'এনওয়াই.গভ' (NY.Gov) আইডির প্রয়োজন হবে। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি দিয়ে, অন্যথায় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। যারা সরাসরি নিবন্ধন করতে চান, তারা নিজ কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশনস অফিস, অনুমোদিত সরকারি সংস্থার নিবন্ধন কেন্দ্র বা ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের (DMV) মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে ডাকযোগে আবেদনের ক্ষেত্রে ফর্মটি পূরণ করে, স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন অফিসে পাঠাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাকযোগে পাঠানো আবেদনও অবশ্যই ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং নির্বাচনের দিন তার বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ৩০ দিন বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা আগাম নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নিউইয়র্কের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নন-ড্রাইভার আইডি নম্বর, অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) শেষ চারটি সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে। বাংলাভাষী প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইটে বাংলা ভাষায় ভোটার নিবন্ধন ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রিন্ট করে সহজেই পূরণ করে জমা দেওয়া সম্ভব। স্প্যানিশ, চীনা ও উর্দুর পাশাপাশি এটি অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সুবিধা। নিবন্ধনের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নিউইয়র্কে সাধারণত কোনো দলের প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নির্দিষ্ট দলের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ দিন ১৯ অক্টোবর। ভোটার নিবন্ধন ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইট (elections.ny.gov/register-vote) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (vote.gov) পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগ্য নাগরিকদের নিজেদের তথ্য যাচাই করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে। ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন নীতির নামে পরিচালিত গণ-নির্বাসন ও ধরপাকড়ের শিকার হওয়া মানুষদের তথ্য সংরক্ষণে একটি নতুন অনলাইন প্রজেক্ট চালু হয়েছে। 'ডিজঅ্যাপিয়ার্ড ইন আমেরিকা' নামের এই ওয়েবসাইটটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিতর্কিত অভিযানে আটক, নির্বাসিত বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় ৫০০ জনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে.বি. প্রিজকারের প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট 'ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশন'-এর উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। শিকাগোতে পরিচালিত আইসিই-এর বহুল সমালোচিত 'অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ'-সহ দেশজুড়ে চলা নানা অভিযানের শিকার অভিবাসী এবং মার্কিন নাগরিকদের গল্প স্থান পেয়েছে এই আর্কাইভে। হোয়াইট হাউস যখন গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সাফাই গাইছে, তখন সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ধরনের বড় মাপের অভিযানে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়াই অসংখ্য নিরীহ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। ডেমোক্রেসি পাওয়ার প্রজেক্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিয়েত্রিজ লোপেজ নিউজউইক-কে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। গভর্নর জে.বি. প্রিজকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন সম্প্রদায়ের ওপর একটি "নজিরবিহীন সামরিক ধাঁচের হামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতার বাইরে রাখার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, ইলিনয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। ওয়েবসাইটটিতে বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত লরেঞ্জা সালগাদো আরাউজো এবং জোহান সেবাস্তিয়ান ডুরান গুয়েরেরো এবং মিনিয়াপলিসে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক রেনি নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ক্যানসার আক্রান্ত এক কিশোরী ওফেলিয়ার তার বাবার গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার মর্মান্তিক কাহিনিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৬ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নির্বাসিত করা হয়েছে, ৪ লাখ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে এই মানুষগুলো শুধুই কিছু সংখ্যা, কিন্তু এই ডাটাবেস তাদের হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলোকে চিরস্থায়ী করবে। ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে আগামীতে আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সম্মিলিত উদ্যোগ কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করবে।
অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যু দ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। পাকিস্তানও রয়েছে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সূচকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সশস্ত্র সং ঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ২৩ দশমিক ৫। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্কোর ১৮ দশমিক ১। সূচকের হিসাবে স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর। ২০০০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৫। দীর্ঘ সময়ে অগ্রগতি হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের স্কোর ২৮ দশমিক ৬ এবং পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫। ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১। এসব স্কোর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ক্ষুধার গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে পাকিস্তানে শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা বা স্টান্টিংয়ের হার কমছে। আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর এই হার কিছুটা বেড়েছে। দুই দেশেই ২০০০ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যসংকটের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় ভূমিকা রাখছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মৌসুমে আফগানিস্তানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত ও বেশি তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায়, ইরানসহ, প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। এ সংখ্যা বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিশ্বজুড়েও ক্ষুধা পরিস্থিতি আবার খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬-এর চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের পর থেকে ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার মাত্রা অন্তত নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে ৫৭টি দেশ পিছিয়ে পড়ার পথে রয়েছে। সূচকের চারটি প্রধান নির্দেশকের মধ্যে তিনটির অবনতি হয়েছে। এগুলো হলো অপুষ্টির হার, শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টি। শুধু শিশুমৃ ত্যুর হার সামান্য কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধের পর বর্তমানে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সং ঘাতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা যুক্ত হয়ে খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরে চাপ তৈরি করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যু দ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌপরিবহনে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও সার উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধও গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যে। এদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে ২০১৬-২০১৭ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি সংকুচিত হচ্ছে এবং জরুরি খাদ্য বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। প্রতিবেদনটির প্রণেতারা সরকারগুলোর প্রতি মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট প্রতিরোধ, আগাম ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিচালিত কন্টেইনার জাহাজ 'জিএফএস প্রাইড' ডুবে যাওয়ার পর ওই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবরের দিকে অজানা প্রজেক্টাইল বা মাইনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সাগরে তলিয়ে যায়। সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজে থাকা ২১ জন ক্রুকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই ঘটনার পর দাবি করেছে, জাহাজটি একটি "অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক" রুট ব্যবহার করার কারণে নৌ-মাইনের আঘাতে ডুবে গেছে। মূলত তেল প্রবাহ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান হামলার অংশ হিসেবেই এই ঘটনাকে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ট্যাঙ্কারের পাশাপাশি এ ধরনের কন্টেইনারবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে জাহাজডুবির পর সাগরে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুবাই থেকে আরব বাজারগুলোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিলাসবহুল পণ্যবাহী এই জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এর কন্টেইনারগুলো ও ভেতরের পণ্য সাগরে ভাসতে থাকে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয়রা ছোট ছোট নৌকায় করে সাগরে ভাসমান আইফোন ও দামি পারফিউম লুট বা সংগ্রহ করছে। এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন ধ্বংসাত্মক হামলা আন্তর্জাতিক শিপিং রুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে সন্দেহভাজন বোকো হারাম যোদ্ধারা। মঙ্গলবার রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১০ সেনা নি হ ত এবং আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও একজন বনরক্ষীও নি হ ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সামরিক সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বর্নো রাজ্যের গুজামালা স্থানীয় সরকার এলাকায় সেনাঘাঁটিটিতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সেনাদের প্রতিরোধ ভেঙে ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয় এবং কাছের মাইরারি গ্রামের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুটি সামরিক সূত্র। নিরাপত্তাজনিত কারণে সূত্রগুলো নিজেদের নাম প্রকাশ করেনি। তারা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক এবং একজন বনরক্ষীও নি হ ত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি মানুষ। তবে আহতদের মধ্যে কতজন সেনা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ গনি মন্তব্যের জন্য করা ফোনকল ও পাঠানো বার্তার জবাব দেননি। ফলে হামলার বিষয়ে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সেনাঘাঁটিতে হামলার আগে কাছের একটি হ্রদসংলগ্ন গ্রাম তুমবুন বারেবারিতে মাছ ধরার ৪০টির বেশি নৌকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয় জেলে জিবরিন হাসান জানান, হামলায় তাঁর নৌকাটিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরেক জেলে বাবাগানা মুহাম্মদ জানান, সেনাঘাঁটি ও জেলেদের এলাকায় হামলাগুলো একই সময়ে চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, হামলাকারীদের তৎপরতা একযোগে চললেও জেলেদের ওপর সরাসরি শারীরিক হামলা হয়নি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও বেড়েছে। বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা এই বিদ্রোহ দমনে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও বর্নো রাজ্যে একটি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছিল আইএসডব্লিউএপি যোদ্ধারা। ওই ঘটনায় নাইজেরিয়ার সেনারা হামলা প্রতিহত করে ২৫ জনের বেশি যোদ্ধাকে নি হ ত করার দাবি জানিয়েছিল। তবে সে ঘটনায় সেনাবাহিনীর নিজেদের কতজন সদস্য হতাহত হয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সামরিক স্থাপনায় হামলা, যানবাহন ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সর্বশেষ হামলায় সেনাঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ কতক্ষণ হামলাকারীদের হাতে ছিল এবং কী পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলার বিষয়ে সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নরসিংদীর রায়পুরায় বাড়িতে নেশার টাকার জন্য ভাঙচুরের অভিযোগের পরদিন সকালে তারেক মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের র ক্তাক্ত ম রদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চণ্ডিকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাঁর ম রদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা আলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারেক মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি আগে মালয়েশিয়ায় থাকতেন। সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগে দেশটির পুলিশ তাঁকে আটক করার পর দেশে ফেরত পাঠায় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। প্রায় আড়াই বছর আগে দেশে ফেরার পরও তিনি মাদক সেবন অব্যাহত রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কেনার টাকার জন্য তারেক প্রায়ই মা-বাবার কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং মা-বাবার ওপর চড়াও হতেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অশান্তির মধ্যে ছিল বলেও তাঁদের দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার রাতে নেশার টাকার জন্য তারেক বাড়িতে ভাঙচুর করেন। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাঁর বাবা আলিউর রহমান তারেকের হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। সেখানে ধারালো দা দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তারেকের মৃ ত্যু হয় বলে জানান তাঁরা। চণ্ডিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর রশিদ জানান, তারেকের আচরণ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর ধারণা, ছেলের সঙ্গে বিরোধের জেরেই বাবা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত প্রয়োজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ম রদেহ উদ্ধার করে। রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, তারেকের মাথা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দাও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ম রদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে তারেকের বাবা আলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বাইরে ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং কীভাবে তারেকের মৃ ত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে বিরল এক জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছে ছয় বছরের শিশু লিও ইয়ংডাল। তার এই আবিষ্কার ঘিরে বিস্মিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, অঙ্গরাজ্যটিতে এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। অর্থাৎ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর নতুন করে এমন একটি নমুনার খোঁজ মিলল। চলতি বছরের গ্রীষ্মে নেব্রাস্কার শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়ায় জীবাশ্মটি খুঁজে পায় লিও। ছোটবেলা থেকেই পাথর সংগ্রহের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রকৃতিতে ঘুরতে গিয়ে সে পাথর কুড়িয়ে বালতিতে জমা করত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পাথর, রত্ন ও জীবাশ্ম চেনার আগ্রহও তৈরি হয় তার মধ্যে। জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিও বলে, ‘আমি একটা জীবাশ্ম পেয়েছি!’ তার কাছে এটি ছিল দারুণ এক আবিষ্কার। এর আগেও সে বেশ কয়েকটি জীবাশ্ম পেয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ছিল ব্র্যাকিওপড এবং বিভিন্ন ধরনের খোলসের জীবাশ্ম। তবে এবারের নমুনাটি ছিল একেবারেই আলাদা। লিও যে জায়গা থেকে জীবাশ্মটি খুঁজে পেয়েছিল, সেটি দেখিয়ে সে জানায়, ওই এলাকার কাছাকাছিই নমুনাটি পেয়েছে। প্রথমে তার মনে হয়েছিল, বস্তুটি যেন উল্টো করে রাখা সাপের খোলস। কিন্তু পার্কের শিক্ষাবিদ কেলি একুয়ে নমুনাটি দেখার পর বুঝতে পারেন, এটি পরিচিত জীবাশ্মগুলোর মতো নয়। একুয়ে জানান, পার্কের ওই এলাকায় সাধারণত ছয় ধরনের জীবাশ্ম দেখা যায়। কিন্তু লিওর খুঁজে পাওয়া বস্তুটি সেগুলোর কোনোটির সঙ্গে মেলেনি। প্রথম দেখায় তাঁর কাছে সেটিকে মাছের মতো মনে হয়েছিল। তবে ওই এলাকার জীবাশ্মস্তরে মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম সাধারণত পাওয়া যায় না। এ কারণেই নমুনাটি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। পরে স্থানীয় ভূতত্ত্ববিদেরা জীবাশ্মটি পরীক্ষা করে শনাক্ত করেন। তাঁদের মতে, এটি কনুলারিয়িড নামের এক ধরনের প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম। প্রাণীটি জেলিফিশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি বছর আগে নেব্রাস্কার যে অংশে বর্তমানে স্থলভূমি রয়েছে, তার কিছু এলাকা পানির নিচে ছিল। সেই সময়ের সামুদ্রিক পরিবেশে কনুলারিয়িডের মতো প্রাণী বাস করত। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে তাদের দেহের চিহ্ন পাথরে সংরক্ষিত থাকায় এখন সেগুলো জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়। এ ধরনের জীবাশ্ম বিরল হওয়ার একটি কারণ হলো, প্রাণীগুলোর দেহ ছিল নরম। নরম দেহের প্রাণীর অবশেষ সাধারণত সহজে জীবাশ্মে পরিণত হয় না। উপযুক্ত পরিবেশ ও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে তাদের দেহের চিহ্ন দীর্ঘকাল ধরে পাথরে সংরক্ষিত থাকা কঠিন। তাই লিওর খুঁজে পাওয়া নমুনাটি শুধু অস্বাভাবিক নয়, নেব্রাস্কার প্রাকৃতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। পার্কের শিক্ষাবিদ একুয়ে বলেন, নেব্রাস্কার ইতিহাসের জন্য এ ধরনের জীবাশ্ম খুঁজে পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের জীবাশ্মের সর্বশেষ নথিভুক্ত সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নমুনা আবিষ্কারের ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শাম পার্ক স্টেট রিক্রিয়েশন এরিয়াটি নেব্রাস্কার ওমাহা শহর থেকে প্রায় ২৮ মাইল দূরে অবস্থিত। লিওর আবিষ্কৃত জীবাশ্মটি বর্তমানে পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এটি শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে তারা পৃথিবীর অতীত, প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণী এবং জীবাশ্ম কীভাবে তৈরি হয়, সে সম্পর্কে জানতে পারে। লিওর নিজেরও জীবাশ্ম নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সে অতীতে পৃথিবীতে বসবাস করা প্রাণীদের সম্পর্কে আরও জানতে চায়। তার কথায়, জীবাশ্ম দারুণ আকর্ষণীয়। তবে অতীতে কী কী প্রাণী ছিল এবং সেগুলোর নাম কী, তা এখনো পুরোপুরি জানা হয়নি তার। তাই নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার আশা নিয়ে সে আবারও প্রকৃতিতে অনুসন্ধান চালাতে চায়। জীবাশ্ম খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি পরামর্শও দিয়েছে লিও। তার মতে, যেসব পাথরে অনেক খাঁজ ও ছোট ছোট গর্ত রয়েছে, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার ধারণা, এমন পাথরের মধ্যে আরও বেশি জীবাশ্ম পাওয়া যেতে পারে। ছয় বছরের একটি শিশুর কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া এই আবিষ্কার এখন পার্কের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ। যে বস্তুটিকে প্রথমে সাপের খোলসের মতো মনে হয়েছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটিই হয়ে উঠেছে নেব্রাস্কার বিরল প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এমন নমুনা খুঁজে পাওয়ার ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির মধ্যে ছোট্ট একটি অনুসন্ধানও অতীতের অজানা ইতিহাস সামনে আনতে পারে।
অভাবের কারণে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৩০ বছর বয়সী ছামছুল ইসলাম। ইরানে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকায় বাম পাশের কিডনি বিক্রি করেছেন বলে দাবি তাঁর। কিন্তু এতেও আর্থিক সংকট কাটেনি। এরই মধ্যে ট্রান্সফরমার চুরির একটি মামলায় গ্রে প্তার হয়েছেন তিনি। কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের মাত্রাই বাজার থেকে ছামছুলকে গ্রে প্তার করে পুলিশ। পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে জয়পুরহাট আদালতে পাঠানো হয়। ছামছুল উপজেলার শাইলগুন গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রে প্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ছামছুলের কিডনি বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাইয়ের পথে ইরানে যান তিনি। সেখানে একটি হাসপাতালে নিজের বাম পাশের কিডনি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেন বলে দাবি করেছেন। ছামছুল জানান, চট্টগ্রামে কাজ করার সময় মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁকে ইরানে নেওয়া হয়। ছামছুলের দাবি, ইরানের একটি হাসপাতালে তাঁর কিডনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পরে সেটি এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছামছুলকে গ্রে প্তারের সময় তাঁর পকেটে ইরানের এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বাম পাশেও অস্ত্রোপচারের দাগ দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়। কিডনি বিক্রির পরও কেন তাঁর আর্থিক সংকট কাটেনি, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভাবের কারণেই তিনি নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পাঁচ লাখ টাকা পাওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় তাঁর জীবনযাত্রায় সংকট থেকেই যায়। এদিকে, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রে প্তারের বিষয়টি আলাদা করে তদন্তের আওতায় রয়েছে। কিডনি বিক্রির ঘটনার সঙ্গে ট্রান্সফরমার চুরির মামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ছামছুলের বিরুদ্ধে চুরির মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিতও প্রকাশ করা হয়নি। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুলকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। পরে তাঁর কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানা যায়। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উপজেলায় কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত সক্রিয় দালালদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছামছুলের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর বিদেশযাত্রা, পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা এবং কিডনি অপসারণের প্রক্রিয়ায় একাধিক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন। এসব কার্যক্রমের পেছনে কোনো দালালচক্র কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে নিয়ে গিয়ে মানবদেহের অঙ্গ কেনাবেচার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আর্থিক সংকটের কারণে কিডনি বিক্রির দাবি, অন্যদিকে ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রে প্তার—ছামছুলকে ঘিরে দুটি বিষয় এখন আলোচনায়। পুলিশ জানিয়েছে, কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু না করায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা ও আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর দেওয়া এই আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অন্যতম একটি পথ আবারও চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধনপর্ব প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে এবং অন্তত ৩০ দিন আবেদন গ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত আবেদনকারীদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণও চালিয়ে যেতে হবে। তবে মোট ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে অথবা ২০২৭ অর্থবছর শেষ হলে—যেটি আগে ঘটবে, সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া সীমিত হবে। আদালতের নির্দেশের আগে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন শুরুর কোনো নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণত প্রতিবছর এই কর্মসূচির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এবার নতুন নিবন্ধনপর্ব চালু না হওয়ায় আগ্রহী আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পুরো কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক প্রথমে নির্দেশ দেন, ১৫ অক্টোবর মধ্যরাতের মধ্যে নিবন্ধনপর্বের ঘোষণা দিতে হবে। ঘোষণায় আবেদন শুরুর ও শেষের তারিখ, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ওয়েবসাইট এবং অংশগ্রহণের শর্ত উল্লেখ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রচলিত সরকারি যোগাযোগমাধ্যম এবং ফেডারেল রেজিস্টারের মাধ্যমেও তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পরবর্তী সময়ে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ও মামলাকারী পক্ষ যৌথভাবে আবেদন করে। মামলাকারী প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী কার্টিস মরিসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন চালুর সময়সূচি এবং নির্বাচিতদের জানানোর সময়সীমা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে আদালত সম্মতি দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিক আদেশে উল্লেখ করা সময়সূচির পরিবর্তন হয়েছে। আবেদনকারীদের তাই নিবন্ধন শুরুর চূড়ান্ত তারিখ জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গ্রিন কার্ড লটারি চালু না করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা এমন একটি কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু না করে সরকার কার্যত সেটি স্থগিত রেখেছে। এতে সম্ভাব্য আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি ডিভি আবেদনকারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমসংক্রান্ত আইনের আওতায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তাদের যুক্তি ছিল, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার অজুহাতে লটারি পুরোপুরি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কংগ্রেসের অনুমোদিত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, সরকারের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, নিবন্ধন চালুর স্বাভাবিক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে আবেদন গ্রহণ শুরু করা ফেডারেল বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে আদালতের নির্দেশেও তা চালু করা আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিচারক ওহতা সরকারের এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর পর্যবেক্ষণে, নিবন্ধন না খোলার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচিটি কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা আইনবহির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত আপাতত কর্মসূচিটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের আদেশ; চূড়ান্ত রায় নয়। ডিভি লটারিতে কীভাবে সুযোগ পাওয়া যায় ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি চালু করে। এর উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই কেউ সরাসরি গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, যোগ্যতা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। সব শর্ত পূরণ করে ভিসা অনুমোদন পেলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, কোন দেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ কোনো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। এবারের বিলম্বের কারণে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির সময়সূচি স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সংকুচিত হতে পারে। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর পথ তৈরি হলেও আবেদন গ্রহণ, নির্বাচিতদের জানানো এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হাতে সময় তুলনামূলক কম থাকবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে বরাদ্দ শেষ হওয়া অথবা ২০২৭ অর্থবছরের সমাপ্তি—এই দুই সীমার মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া চালাতে হবে। অর্থবছরটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে নির্বাচিত সবাই যে ভিসা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিবন্ধন শুরুর সরকারি ঘোষণা, আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা এবং যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করা। আদালতের আদেশ লটারি চালুর সুযোগ তৈরি করেছে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন এই নির্দেশনা কর্মী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থার পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক রয়েছেন, তাদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নিয়মটি বিবেচনায় নিতে হবে। ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম যাত্রীদের পাশাপাশি বিমান সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও বিমান সংস্থাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ বিধিনিষেধের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ক্ষেত্রে ৩১টি দেশের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে ২৯টি দেশের তালিকার উল্লেখ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। এদিকে, বিধিনিষেধ জারির আগের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করা হয়। ঘটনায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরদিন জারি করা নির্দেশনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই দুটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারা নির্দেশনাটি পেয়েছেন এবং তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করছেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংস্থাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি। ইসরায়েলের এই নির্দেশনা কার্যকর থাকলে বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের ওপর।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইটের সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোট ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪২টি সরাসরি সৌদিগামী এবং ৬১টি ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। বেবিচকের আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। তখন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩৯৩। নতুন হিসাবে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টিতে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৭৭৯। অর্থাৎ, আগের হিসাবের তুলনায় আরও তিনটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং অতিরিক্ত ৩৮৬ জন যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ার। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটও বিঘ্নের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে। সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভোগান্তির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৪ জনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অনেকে আহতও হন। এরপর থেকেই ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের অনেকে বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে যাত্রার সময়সূচি পরিবর্তন, বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর কারণে তাঁদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সংস্থাটি প্রথমে রিয়াদগামী এবং পরে দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করে। অন্যদিকে, বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। সৌদিগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট একটি বিমান সংস্থার যাত্রী নয়, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি। ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হলে বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বাড়তি দুর্ভোগের আশঙ্কা থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ভোটাররা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের বড় একটি অংশ এবার ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে। তরুণদের এই অংশগ্রহণ বাস্তবে কতটা বাড়ে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তরুণদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ভোটারদের তুলনায় তরুণদের ভোট দেওয়ার হার ঐতিহাসিকভাবে কম। তবে এবার জেনারেশন জি বা জেন জির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই প্রজন্মের ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আলবার্তো মেদিনা মনে করেন, তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষায়, অনেক তরুণ নিজেদের জীবন, সমবয়সীদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের বসবাসের সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। এই প্রত্যাশাই তাঁদের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী করে তুলছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যালায়েন্স ফর ইয়ুথ পাওয়ার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ও ইউগভের প্রকাশিত এক জরিপে তরুণদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিচালিত ওই জরিপে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৮০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা সম্ভবত ভোট দেবেন অথবা নিশ্চিতভাবেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপের এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তাঁদের প্রকৃত উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা আর বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাই নির্বাচনের দিন কতজন তরুণ ভোট দিতে যান, তার ওপর তাঁদের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়। তবে তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু দলীয় পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশাও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। মেদিনা বলেন, জেন জি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজন্মগুলোর একটি। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এ ছাড়া তাঁদের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন নিজেদের এলজিবিটিকিউ পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান। এই বৈচিত্র্যের কারণে ব্যক্তিগত পরিচয়, নাগরিক অধিকার এবং বন্ধু, পরিবার ও নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁদের অনেকের কাছে এসব বিষয় কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; বরং দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়ুথ পাওয়ার পিএসি ও ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, এই চার অঙ্গরাজ্যে তরুণ ভোটারদের ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে তরুণদের দলীয় পছন্দ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও তা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না। নির্বাচনের আগে তাঁদের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার এবং অন্যান্য বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তরুণ ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শীর্ষস্থানীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এসব বিষয়কে তাঁদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি রাজনীতিতে দুর্নীতি ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেদিনার মতে, তরুণরা নিজেদের জীবন ও সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পায় এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অর্জনের পথে কী বাধা রয়েছে, সেই প্রশ্নও তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। এসব বাধা অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে তাঁদের ভোটের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে তরুণদের এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বাচনী শক্তিতে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে তাঁদের বাস্তব অংশগ্রহণের ওপর। জরিপে প্রকাশ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা ভোট দিতে গেলে এবারের নির্বাচনে জেন জির ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ইমিগ্রেশন নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই তদন্তে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক ডজনের বেশি গ্র্যান্ড জুরি সমন দেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের জন্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ পরিধি এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানিয়েছে, ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মামলা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানের একটি অংশে তিনি কীভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন এবং তাঁর প্রয়াত বাবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি তদন্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়েছেন। সংস্থাটি আইসিইর অংশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ওমর শিশু থাকাকালে তাঁর বাবা পূরণ করেছিলেন, এমন ইমিগ্রেশন নথিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ওমর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভয়ভীতি দেখানোর প্রচেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগের লক্ষ্য করেছেন। ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশি হয়েছে। মিনেসোটার প্রতিনিধি ওমর ওই নির্বাচনে পুনর্নির্বাচন চাইছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তদন্তে প্রকাশ্যে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনার ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তদন্ত বা ফোন জব্দ হওয়া অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
নার্সিং স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার দিনই স্টেজ থ্রি ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা কেটলিন ড্যানিয়েলের। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। চিকিৎসার জন্য প্রায় এক বছর জীবনের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হলেও পড়াশোনার স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি। এখন ২৬ বছর বয়সী কেটলিন একজন রেজিস্টার্ড নার্স, বাগদান সম্পন্ন হয়েছে এবং কন্যাসন্তানের জন্মের অপেক্ষায় রয়েছেন। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিলগোর শহরের এই বাসিন্দা জানান, নিজের রোগ শনাক্ত হওয়ার আগে কম বয়সীদের মধ্যেও ক্যান্সার হতে পারে, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর সচেতনতা কম ছিল। নার্সিং স্কুলে ভর্তি হওয়ার আনন্দের মধ্যেই রোগ শনাক্তের খবর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটলিন ২০২৫ সালে চিকিৎসা শেষ করেন। কেমোথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শরীরে রোগের আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। এরপর পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে নার্সিং স্কুল থেকে স্নাতক হন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন কেটলিন। চলতি বছরের মার্চে তাঁর বাগদান হয়। মে মাসে জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর কন্যাসন্তানের সম্ভাব্য জন্মতারিখ আগামী ১৫ জানুয়ারি। গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। এখন কেটলিনের লক্ষ্য ক্যান্সার রোগীদের সেবায় কাজ করা। ভবিষ্যতে টেক্সাস অনকোলজিতে অনকোলজি নার্স হতে চান তিনি। রোগী হিসেবে চিকিৎসার সময় যে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই অন্য রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান কেটলিন।
আক্কেলদাঁত তোলার পর মুখ ও গলায় ফোলা দ্রুত বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক। ৩১ বছর বয়সী এই নারী প্রথমে ফোলাকে স্বাভাবিক ভেবেছিলেন। কিন্তু গিলতে, মুখ খুলতে ও কথা বলতে কষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি রুমে যান। সেখানে সংক্রমণ ও তীব্র প্রদাহের চিকিৎসা দেওয়া হয় তাঁকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর আংশিক বের হওয়া একটি আক্কেলদাঁত তুলিয়েছিলেন সারা। পরদিন মুখের এক পাশ প্রচণ্ড ফুলে যায়। ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে যেতেও বলা হয়। পরে ফোলা গাল ও চোয়াল ছাড়িয়ে ঘাড় ও গলায় ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অবস্থা দেখে অনেকে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা ও সিটি স্ক্যান করা হয়। শিরায় ওষুধ ও তরল দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হলে তিনি বাড়ি ফেরেন। দুই সন্তানের মা সারা জানান, এখন দৈনন্দিন কাজে ফিরলেও কিছুটা ব্যথা ও ফোলা রয়েছে। আক্কেলদাঁত তোলার পর কিছু ব্যথা ও ফোলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি সাধারণত একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও সংক্রমণসহ কিছু জটিলতা হতে পারে। ব্যথা ও ফোলা তীব্র হলে বা বাড়তে থাকলে এবং ব্যথার ওষুধে উপকার না হলে জরুরি ডেন্টাল পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যথার সঙ্গে মুখে বাজে স্বাদ, জ্বর বা অসুস্থ লাগাও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণ। আর মুখ বা গলার ফোলায় শ্বাসনালি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কিংবা গিলতে সমস্যা হলে বিষয়টি জরুরি চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে বলে এনএইচএস ইংল্যান্ডের নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।