সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
এক্সো ইমেজিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মেশিন ছাড়াই ফোনে আল্ট্রাসনোগ্রাম নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ হক, লক্ষ্য গ্রামেও চিকিৎসাসেবা

স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।   ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না।   এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন।   এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে।   এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি।   এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়।   বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।   এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি।   ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে।   সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবারের সদস্যরা ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জীবন তুলে ধরছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘অভিশপ্ত পরিবার’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, ইন্দোনেশিয়ার ‘টিকটিকি পরিবার’ এখন টিকটক তারকা

মুখের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও সামাজিক অবহেলার শিকার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবার। পরিবারের চার ভাইবোনের মুখমণ্ডলে জন্মগত পার্থক্য থাকায় স্থানীয়ভাবে তাদের নিয়ে নানা কুসংস্কার ছড়িয়েছিল। এমনকি পরিবারটিকে অভিশপ্ত বলেও মন্তব্য করতেন কেউ কেউ। তবে এই ধারণার পেছনে অলৌকিক কোনো কারণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম নামের একটি বিরল জিনগত অবস্থা।   ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কেদুংকাং গ্রামের এই পরিবারের জীবন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ভাইবোনের মধ্যে চারজনের মুখের গড়ন আলাদা। তাঁদের বাবা নিজেও একই জিনগত অবস্থার সঙ্গে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের চেহারা নিয়ে মানুষের বিদ্রূপ ও কুসংস্কার তাঁদের সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের আড়ালে না রেখে দৈনন্দিন জীবন, কাজকর্ম ও হাস্যরসের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু করেন।   ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম মূলত মুখমণ্ডলের হাড় ও অন্যান্য টিস্যুর বিকাশকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মেডলাইনপ্লাসের মতে, এ অবস্থায় গালের হাড় অপরিণত থাকতে পারে, চোয়াল ও থুতনি তুলনামূলক ছোট হতে পারে এবং কান বা চোখের আশপাশের গঠনে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। লক্ষণের তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবর্তন সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সাধারণত এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, যদিও কারও কারও শ্রবণশক্তি, শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্য শারীরিক বিষয়ে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।   সিনড্রোমটি জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় ছড়াতে পারে। মানুরুং পরিবারের বাবারও একই অবস্থা থাকার বিষয়টি সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসাগত ইতিহাস বা নির্দিষ্ট জিনগত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থার তীব্রতা কিংবা সংশ্লিষ্ট জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অবশ্য পরিষ্কার, মুখের গড়নে পার্থক্য থাকা কোনো অভিশাপের প্রমাণ নয়; এটি জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জিনগত অবস্থার অংশ হতে পারে।   পরিবারটির সদস্য সূর্য জানান, কাজ খোঁজার সময় তাঁর চেহারা অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত। যোগ্যতা বা কথা বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হতো তাঁকে। বারবার প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলেছিল। চেহারার কারণে কাউকে বিচার করা কিংবা সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা যে একজন মানুষের কাজের সুযোগ ও আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরে।   পরিস্থিতি বদলাতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন আড়াল না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। টিকটক ও ইউটিউবে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ, পারিবারিক মুহূর্ত এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ পেতে থাকে। ইউপিএসওসিএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের অনলাইন চ্যানেলগুলোতে এখন বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একসময় যে চেহারার কারণে তাঁরা বিদ্রূপের শিকার হতেন, সেটিই এখন তাঁদের পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে তাঁরা জীবিকা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের বাবা তাঁদের চেহারার পার্থক্য মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, তাঁদের মুখের গড়ন অন্যদের মতো না হলেও তাঁরা নিজেদের গ্রহণ করেন এবং নিজেদের মতো করেই জীবন কাটান। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং মানুষের বাহ্যিক চেহারা নিয়ে তৈরি ধারণা ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে।   ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন তাঁদের উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। কারও শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে শ্রবণসহায়ক যন্ত্র বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। মুখমণ্ডলের হাড়ের গঠনজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বিবেচনা করেন। তবে এই অবস্থার সঙ্গে বসবাস করা মানেই বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অযোগ্যতা নয়। পরিবারটির গল্পও দেখায়, যথাযথ সুযোগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।   মানুরুং পরিবারের অভিজ্ঞতা তাই কেবল একটি বিরল জিনগত অবস্থার পরিচয় নয়। এটি কুসংস্কার, বাহ্যিক চেহারা নিয়ে বিদ্রূপ এবং সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলার গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য যেখানে তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দেয়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ তাঁদের পরিচিতি ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করেছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মেডলাইনপ্লাস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২৩:১৪
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২২:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আইলি ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে সহকর্মীর চায়ে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীর চায়ে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে চীনা বংশোদ্ভূত এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইলি ওয়াং নামের ৩২ বছর বয়সী ওই গবেষককে গত ৬ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সহকর্মীর গবেষণা ও পেটেন্ট নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওয়াইয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের লারামি ক্যাম্পাসে অণুজীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর গবেষণা করছিলেন ওয়াং ও তাঁর সহপাঠী। আদালতের নথিতে ওই সহপাঠীকে ‘কে.টি.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার সঙ্গে রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পেটেন্টের বিষয় যুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র আলাদা হলেও একই কার্যালয় ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতেন তাঁরা।   ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কে.টি. অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক গোমেলস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়। নিজের ডেস্কে থাকা ছোট কফি মেশিনে চা তৈরি করে পান করার সময় তিনি অস্বাভাবিক স্বাদও অনুভব করতেন। মেশিনটি পরিষ্কার করলে সেই স্বাদ চলে যেত, যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়।   পরে কে.টি.-এর স্ত্রী ও অন্যরা কফি মেশিনের পানিতে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন। তাঁদের সংগ্রহ করা নমুনায় অ্যাক্রিলামাইড নামের একটি রাসায়নিক শনাক্ত হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। অ্যাক্রিলামাইড বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওয়াং অনলাইন বিপণনমাধ্যম ইবে থেকে এই রাসায়নিক দুবার কিনেছিলেন। তবে রাসায়নিকটি কেনা এবং সেটি সহকর্মীর চায়ে মেশানোর অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।   তদন্তের অংশ হিসেবে কে.টি. ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তাঁদের যৌথ কার্যালয়ে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পুলিশি হলফনামা অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বরের ভিডিওতে ওয়াংকে সহকর্মীর ডেস্ক ঘাঁটতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ১ অক্টোবরের আরেকটি ভিডিওতে তাঁকে ডেস্কের নোটবুক নিয়ে নাড়াচাড়া করতে, সেগুলোর ছবি তুলতে এবং নিজের কাপ থেকে তরল নিয়ে সহকর্মীর মগ ধুতে দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। এসব দৃশ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নেয়।   তদন্তকারীদের ধারণা, সহকর্মীর গবেষণার নথি নিয়ে ওয়াংয়ের আগ্রহের বিষয়টিও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কে.টি.-এর গবেষণায় ক্যানসার, স্নায়বিক রোগ ও জিনগত রোগের চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ছিল এবং সেই গবেষণার কয়েকটি পেটেন্টের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। ওয়াং চীনে থাকাকালে একই ধরনের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে গবেষণার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এবং রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।   ওয়াশিংটন ও অন্যান্য মার্কিন সরকারি মহল বহু বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ তুলে আসছে। তবে ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় চীন সরকারের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তাই একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে কোনো দেশের সামগ্রিক আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   ওয়াংকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে একাধিক ল্যাপটপ, বহনযোগ্য ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ যন্ত্র এবং বিভিন্ন নথিপত্র ছিল বলে প্রসিকিউটরদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী তদন্তকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অ্যাক্রিলামাইড কেনার পর ওয়াং ইবেকে তাঁর অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। আদালতের নথিতে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। এপি ইমেইল ও লিংকডইনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পায়নি।   মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওয়াং লস অ্যাঞ্জেলেসে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক হামলা ও আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ওয়াইয়োমিংয়ের অ্যালবানি কাউন্টির সার্কিট কোর্টের বিচারক রবার্ট স্যানফোর্ড প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর তাঁর জামিনের অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫ লাখ ডলার নগদ নির্ধারণ করেছেন। তাঁকে কবে ওয়াইয়োমিংয়ে নেওয়া হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোমেলস্কি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে দুই শিক্ষার্থীই গবেষণা করতেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং অন্য শিক্ষার্থী এ ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। কে.টি. পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিক্ষার্থী ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা এবং বাঁ হাতে অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গে ভুগছিলেন বলে অধ্যাপক জানিয়েছেন।   ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও যৌথ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গবেষণার গোপনীয়তা এবং সহকর্মীদের মধ্যে বিরোধ সামলানোর বিষয়গুলো সামনে এনেছে। তবে মামলার অভিযোগ ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২২:২১
নিউইয়র্কের কুইন্সে ১৪ বছর বয়সী মালাকি অ্যাডামস হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নিতে ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সন্দেহভাজন

নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রকওয়েজ এলাকায় মালাকি অ্যাডামস নামের ওই কিশোরকে গুলি করা হয়। এরপর তার স্কুটার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় হামলাকারী বলে তদন্তকারীদের ধারণা।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিচ চ্যানেল ড্রাইভের কাছে বিচ ৫১ স্ট্রিটসংলগ্ন ওশান বে অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় মালাকির মুখোমুখি হয় সন্দেহভাজন। ঘটনাস্থলটি কুইন্সের রকওয়েজ এলাকায় অবস্থিত। পুলিশের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুটারটি ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মালাকি বাধা দেয়। এ সময় তাকে গুলি করা হয়। পরে তার বুক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে স্কুটারটি নিয়ে চলে যায় হামলাকারী বলে অভিযোগ উঠেছে।   ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক নারী গুলির শব্দ শুনেছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ওশান বে অ্যাপার্টমেন্টসের ওই বাসিন্দা বলেন, তিনি দুটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। পরে বাস্কেটবল কোর্টের পাশের হাঁটার পথে কিশোরটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি আবাসিক ভবনের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছিল। এ ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।   গুলিবিদ্ধ মালাকিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কহেন চিলড্রেনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সন্দেহভাজনের একটি ছবি প্রকাশ করে এবং তাকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চায়। কয়েক দিন তদন্ত চালানোর পর মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মালাকির মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত কিশোরের খালা অ্যাশলি অ্যাডামস বলেন, মালাকি অন্য শিশু-কিশোরদের মতোই প্রাণবন্ত ছিল। পরিবারের সবাই তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং পরিস্থিতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন। অল্প বয়সে পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর এই ঘটনায় স্বজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।   ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কে কিশোরদের নিরাপত্তা এবং ছিনতাইয়ের সময় সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সামনে এনেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। পুলিশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সামনে আসবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২১:৫৭
পোষা প্রাণী রাখার সুবিধাসহ আটটি সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের কুইন্সে মাসে মাত্র ৮৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন করা যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত

নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট পেতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ‘৬৫ প্লেস অ্যাপার্টমেন্টস’ নামের নতুন আবাসন প্রকল্পে মাসে ৮৬৯ ডলার থেকে ভাড়ায় থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে। পোষা প্রাণী রাখার সুবিধাসহ ভবনটিতে লিফট, নিজস্ব ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার, আধুনিক রান্নাঘর এবং ব্যক্তিগত প্যাটিও বা ব্যালকনির মতো সুবিধাও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন আবেদনব্যবস্থা ‘হাউজিং কানেক্ট’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে মোট আটটি অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর।   উডসাইডের ৪২-৭৮, ৬৫ প্লেস ঠিকানায় অবস্থিত ভবনটিতে এক ও দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, আটটি আবাসনের মধ্যে পাঁচটি এক শয়নকক্ষের এবং তিনটি দুই শয়নকক্ষের। পরিবারের বার্ষিক আয়, সদস্যসংখ্যা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদনকারীরা বিভিন্ন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বিবেচিত হবেন। এই প্রকল্পের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের সর্বনিম্ন সীমা ৩৮ হাজার ৪৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ সীমা ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার। তবে সব আয়সীমা সব ধরনের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য নয়।   এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া মাসে ৮৬৯ ডলার থেকে শুরু। এই ভাড়ার তিনটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ৩৮ হাজার ৪৩৫ থেকে ৬১ হাজার ৮০ ডলারের মধ্যে। একই ধরনের আরও দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৯৯ ডলার, যেখানে পরিবারের বার্ষিক আয়সীমা ৫৬ হাজার ৬০৬ থেকে ৯১ হাজার ৬২০ ডলার। আয়সীমার মধ্যে থাকলেও আবেদনকারীকে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে তিনটি ভিন্ন ভাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৬১১ ডলার এবং এর জন্য পরিবারের বার্ষিক আয়সীমা ৬৮ হাজার ৮১২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার। অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২ হাজার ৮৮২ ডলার, যেখানে আয়সীমা ১ লাখ ১২ হাজার ৩৮৯ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার। শেষ অ্যাপার্টমেন্টটির মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ডলার এবং এর জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৫ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আয়ের সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।   আবাসন প্রকল্পটির অন্যতম আকর্ষণ হলো পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি। নিউইয়র্কের ভাড়াবাসায় পোষা প্রাণী রাখার সুযোগ সব ভবনে সমান নয়, তাই এ সুবিধা অনেক আবেদনকারীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে নিজস্ব ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার, ডিশওয়াশার এবং আধুনিক রান্নাঘরের সরঞ্জাম থাকার কথা জানিয়েছে প্রকল্পের তালিকা। পাশাপাশি রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্মার্ট প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লিফট। কিছু অ্যাপার্টমেন্টে ব্যক্তিগত প্যাটিও বা ব্যালকনিও রয়েছে।   ভবনটি নয়তলা উঁচু এবং এর নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। প্রকল্পটির মোট আয়তন প্রায় ২৩ হাজার ৮৬১ বর্গফুট। ভবনটির আশপাশে হাঁটা, দৌড়ানো ও সাইকেল চালানোর পথ রয়েছে অথবা কাছাকাছি এমন পথ ব্যবহারের সুযোগ আছে বলে আবাসন তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। উডসাইড এলাকার অবস্থানের কারণে বাসিন্দারা নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার সুবিধাও নিতে পারবেন। তবে যাতায়াতের সুবিধা ও সময় নির্ভর করবে নির্দিষ্ট গন্তব্য এবং ব্যবহৃত পরিবহনের ওপর।,   আবেদন করতে আগ্রহীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় এবং সদস্যসংখ্যা প্রকল্পের নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পরিবারের সব সদস্যের আয় একত্রে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সম্পদের সীমাও প্রযোজ্য হতে পারে। সরকারি তালিকায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা নির্ধারণের সময় আয়ের নির্দেশিকা পরিবর্তিত হতে পারে এবং সেকশন ৮সহ নির্দিষ্ট ভাড়াসহায়তা পাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয়ের শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ শর্তাবলি দেখে নেওয়া জরুরি।   আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। যাঁরা ডাকযোগে কাগজের আবেদনপত্র চান, তাঁরা নিজেদের ঠিকানা লেখা ও ডাকটিকিটযুক্ত খাম পাঠাতে পারবেন এই ঠিকানায়: 42-78 65 Place Apartments, C/O Reside Affordable, 349 Keap Street, Brooklyn, NY 11211। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পরিবারের তথ্য ও আয়ের হিসাব সঠিকভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রতিটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি ডাকযোগে আরেকটি আবেদন পাঠালে একাধিক আবেদন হিসেবে গণ্য হয়ে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থায় আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি বা জামানত লাগে না। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকা উচিত। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়; নির্বাচনের পরও আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হবে।   আবেদনের শেষ সময় সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬। আগ্রহীদের সময়সীমার আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ভাড়া, আয়ের সীমা, সম্পদের শর্ত এবং অন্যান্য যোগ্যতার সর্বশেষ তথ্য নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট তালিকায় পাওয়া যাবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট, সিক্রেট এনওয়াইসি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২১:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্ব নিয়ে নতুন জরিপে নাগরিকদের মতামত উঠে এসেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দেশের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোয় ট্রাম্পের বেশি মনোযোগ, মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অনৈতিক বা বেআইনিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও মনে করেন অনেক মার্কিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-নরক) নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য নাগরিকদের মতামত তুলে ধরে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।    ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্প হয় বেআইনিভাবে লাভবান হয়েছেন, নয়তো এমন কিছু করেছেন যা অনৈতিক হলেও আইনত অপরাধ নয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বেআইনি কিছু করেছেন। আর ১৮ শতাংশের ধারণা, তাঁর আচরণ অনৈতিক, তবে বেআইনি নয়। বিপরীতে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।    ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের। এতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই মূল্যায়ন করেছেন ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে তিনি ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ। আর নিজের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা।   জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলভেদে মতের পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অন্তত কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে সমালোচনামূলক মনোভাব তুলনামূলক কম। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ গুরুত্ব দিয়েছেন।   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ধারণার ক্ষেত্রেও দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বেআইনি কিছু করেছেন। স্বতন্ত্র উত্তরদাতাদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ মনে করেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি, অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ফলে জরিপের ফলাফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগই নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মতামতের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়েছে।   ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প তাঁর নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সময় ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্যবসায়িক আয় এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে বেআইনি সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়; জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।   এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় থাকা এক চীনা ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বছরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন আবাসন খাতে বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।   প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা আয় নিজে থেকেই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রযোজ্য আইন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।   হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা সরকারি দায়িত্বের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এবং অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, দুটিই এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ধারণা জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরলেও, তা দিয়ে কোনো অভিযোগের আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।   এপি-নরকের জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। নরক সেন্টারের সম্ভাবনাভিত্তিক আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে উত্তরদাতাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে অনলাইন ও টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সামগ্রিক নমুনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও, জরিপের পরিসংখ্যানকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২১:২৪
কারাগারে ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষার সুযোগ কিছু বন্দির ব্যক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা অনেক বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দেশটির সব কারাগারের ধর্মীয় পরিচয়ের হালনাগাদ তথ্য একত্র করা হয় না। ফলে এ পর্যন্ত কতজন বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিংবা প্রতি বছর কতজন এই ধর্ম গ্রহণ করছেন, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া কঠিন।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতি বছর বহু বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে ইসলাম গ্রহণের কারণ, কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ এবং বন্দিদের জীবনে বিশ্বাসের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে টায়বা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রামি নসুরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দিদের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।   বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান প্রচলিত রয়েছে। কিছু পুরোনো হিসাব ও অনলাইন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে কয়েক লাখ মুসলিম বন্দির কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বন্দির ইসলাম গ্রহণের অনুমানও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সংখ্যার ভিত্তিতে দেশব্যাপী যাচাই করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিংবা প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক বন্দি এ ধর্ম গ্রহণ করেন, এমন তথ্যকে নিশ্চিত জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলিম বন্দির অনুপাত সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত মুসলিম অ্যাডভোকেটসের এক প্রতিবেদনে ৩৫টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট বিচারব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব স্থানে কারাবন্দিদের প্রায় ৯ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সব অঙ্গরাজ্যের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে এই হারকে যুক্তরাষ্ট্রের সব কারাগারের নির্ভুল জাতীয় গড় হিসেবে ধরা যায় না।   কারাগারে ইসলাম গ্রহণের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন গবেষক, ধর্মীয় শিক্ষক ও কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। কারাগারের জীবন সাধারণত কঠোর নিয়ম, সীমিত স্বাধীনতা এবং পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাটে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক স্থিরতা, জীবনের অর্থ এবং নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। তবে প্রত্যেক বন্দির অভিজ্ঞতা এক নয়, আর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।   ইসলামের নিয়মিত ইবাদত ও জীবনাচরণ অনেক বন্দির কাছে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনের একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানে রোজা রাখা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে কেউ কেউ দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলেন। একই বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গড়ে উঠতে পারে। কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে এমন একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিছু বন্দির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।   ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবর্তনের সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের অতীত, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান অনেকে। তাঁদের কেউ কেউ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আত্মসংযম, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা গ্রহণের কথা জানান। তবে শুধু ধর্ম গ্রহণ করলেই কারও আচরণ বদলে যাবে বা পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কমবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিবেচনা করা প্রয়োজন।   এই ক্ষেত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান টায়বা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য কারাগারে থাকা এবং মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ইসলামি শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বন্দিদের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে এবং চিঠিপত্র ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর পাঠ্যক্রমে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।   টায়বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কারাগারের ভেতর থেকেই শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। কারাগারে বই, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বন্দি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। এ ধরনের বাধা কমাতে সংস্থাটি দূরশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। সংস্থাটির মতে, বন্দিদের শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং মুক্তির পর সমাজে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলাম গ্রহণের পর কিছু বন্দি নিজেদের আচরণ ও জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে মুহাম্মদ আমিন অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ কারাবাসের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরে ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ণ সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি টায়বা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলেও, সেটিকে সব বন্দির ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।   কারাগারে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিদের ধর্ম পালনের অধিকার থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন কারাগারে ধর্মীয় খাবার, প্রার্থনার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে প্রকাশিত গবেষণায়ও বিভিন্ন কারাগারে সুযোগ-সুবিধার অসমতার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারাবন্দিদের ধর্মীয় অধিকার এবং শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচয়, সামাজিক বন্ধন ও পুনর্বাসনের মতো কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু বন্দি ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান, আবার কেউ কেউ শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিজীবনের প্রস্তুতি নেন। তবে ইসলাম গ্রহণকারী বন্দির মোট সংখ্যা এবং বার্ষিক ধর্মান্তরের হার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের অভাব রয়েছে। তাই প্রচলিত বড় সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে না ধরে, যাচাই করা গবেষণা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, মুসলিম অ্যাডভোকেটস, টায়বা ফাউন্ডেশন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২০:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গাড়ি ব্যবহার, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর জীবনের ব্যয়সহ আমেরিকান ড্রিম পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণ করতে একজন মানুষের জীবনে মোট ব্যয় হতে পারে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানের লালন-পালন ও উচ্চশিক্ষা, অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর খরচ হিসাব করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জীবনযাপনের এসব ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না মানুষের বেতন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন পূরণ ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রকাশনা ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের খরচ দ্রুত বাড়ছে।      আমেরিকান ড্রিম বলতে সাধারণত এমন একটি জীবনকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা অর্জন করবেন, নিজের বাড়ির মালিক হবেন, সন্তানদের ভালো শিক্ষা দিতে পারবেন এবং অবসরে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাবেন। ধারণাটি শুধু সম্পদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তিস্বাধীনতা, সমান সুযোগ এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও এর সঙ্গে জড়িত। তবে জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয়ের সঙ্গে তার ব্যবধান এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামসের লেখার মধ্য দিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। তিনি এমন একটি দেশের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রায় এক শতাব্দী পরও ধারণাটি মার্কিন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই জীবন অর্জনের সামর্থ্য নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপ সংস্থা গ্যালাপের ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৬৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার চার শতাংশীয় পয়েন্ট কম। একই জরিপে ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষের এই স্বপ্ন অর্জনের সুযোগ রয়েছে।      ইনভেস্টোপিডিয়ার হিসাবে, আমেরিকান ড্রিমের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাড়ির মালিক হওয়া, দুটি নতুন গাড়ি ব্যবহার এবং অবসর জীবনের অর্থ জোগাড় করা। এই তিন খাতেই মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ চলে যায়। বাড়ি কেনার পাশাপাশি বন্ধকের সুদ, সম্পত্তির কর, বিমা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত। সন্তানদের লালন-পালন ও কলেজের শিক্ষাব্যয়ও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নিজের বাড়ির মালিক হতে একজনের জীবনে আনুমানিক ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশ্লেষণে একটি একক পরিবারের বাড়ির গড় দাম ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ধরা হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি গৃহঋণের সুদসহ মূল অর্থ পরিশোধে প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার খরচ হতে পারে। এর সঙ্গে সম্পত্তির কর, বাড়ির বিমা এবং তিন দশকের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যোগ হয়ে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ ৭৬ হাজার ডলার। হিসাবটিতে গৃহঋণের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরা হয়েছে। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও প্রায় একই রকম বেশি। এ খাতে আজীবন খরচের হিসাব ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন এবং জ্বালানি খরচ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাবের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা শুধু কেনার সময়ের ব্যয় নয়, বরং কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা একটি বড় আর্থিক দায়। অবসর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও ১২ লাখ ডলারের বেশি। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে, এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসর-পরবর্তী ২০ বছরের স্বচ্ছন্দ জীবন চালানোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। অবসরকালীন সঞ্চয়, নিয়মিত আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে না পারলে অবসরের পর জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খাতে ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শিশুদের পরিচর্যা বা ডে-কেয়ারের খরচ বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক ব্যয় প্রতি শিশুর জন্য ১৩ হাজার ডলারের বেশি। এর সঙ্গে চার বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ব্যয় যোগ হয়ে পরিবারের মোট খরচ আরও বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আজীবন গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। ২০২৫ সালের তুলনায় এই খরচ প্রায় ৯০০ ডলার কমেছে, যা আটটি খাতের মধ্যে একমাত্র ব্যয়হ্রাসের উদাহরণ। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব অর্থ থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই হিসাবের অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের চিকিৎসায় সমান খরচ হবে। ব্যক্তির স্বাস্থ্য, বিমা সুবিধা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। প্রতিবছর একবার ছুটি কাটানোর জন্য পুরো জীবনে আনুমানিক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত বছরে একটি ভ্রমণের হিসাব ধরে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পোষার জন্য খাবার, পশুচিকিৎসা এবং বিমাসহ আজীবন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এর মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান ও অভ্যর্থনার পাশাপাশি বাগদানের আংটির খরচও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মজীবী মানুষের আয় দিয়ে এই জীবনযাপনের ব্যয় মেটানো কতটা সম্ভব, তারও একটি হিসাব দিয়েছে ইনভেস্টোপিডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম আয়ের ভিত্তিতে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার উপার্জন করতে পারেন। অবসরের পর গড়ে ২০ বছরের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা যোগ করলে তাঁর মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তারপরও আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। তবে এই হিসাবকে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট ব্যয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, বসবাসের এলাকা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মজীবনের দৈর্ঘ্য এবং অবসরকালীন সুবিধার ওপর প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে। একইভাবে, প্রত্যেক পরিবারের দুটি নতুন গাড়ি, পোষা প্রাণী বা প্রতিবছর ভ্রমণের প্রয়োজনও নেই। ফলে ৫৩ লাখ ডলারের বেশি ব্যয়ের হিসাবটি মূলত একটি প্রচলিত মধ্যবিত্ত জীবনধারার বিভিন্ন পর্যায়কে একত্র করে তৈরি করা অনুমান। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যকার ব্যবধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে শুধু ব্যক্তিগত পরিশ্রম যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। গ্যালাপের জরিপে আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টাকে অধিকাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও, সবার জন্য সমান সুযোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তুলনামূলক কমসংখ্যক উত্তরদাতা। অর্থাৎ, স্বপ্নটির গুরুত্ব এখনো অটুট থাকলেও সেটি অর্জনের বাস্তব সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সূত্র: ইনভেস্টোপিডিয়া, গ্যালাপ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২০:৪২
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আইন পাসের অপেক্ষায়

আগামী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্ক থেকে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন। ১৬৮ বছর ধরে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী বাহনটি নিয়ে কয়েক দশক ধরে নগর নেতৃত্বে মতবিরোধ ছিল।   গত জুন মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। তার পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বাহনটি নিষিদ্ধ করতে আগামী ২২ অক্টোবর 'রোমাঞ্চস ল' (Romanch's Law) নামের একটি নতুন আইন পাস হতে যাচ্ছে।   মঙ্গলবার রাতে মেয়র মামদানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, "নিউইয়র্ক সিটিতে ঘোড়ার গাড়ির যুগ শেষ হতে চলেছে। তবে আমাদের প্রশাসন এটা নিশ্চিত করবে যেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মী ও মালিকরা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন এবং ঘোড়াগুলোও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।" সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, ক্রমবর্ধমান ব্যস্ত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি এখন জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, মামদানী প্রশাসনকে এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে ঘোড়ার গাড়ির চালকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের ব্যবস্থা করা যায় এবং ঘোড়াগুলোর জন্য উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। বিলের পৃষ্ঠপোষক ও সিটি কাউন্সিল সদস্য ক্রিস্টোফার মার্টে এই সিদ্ধান্তকে উভয় পক্ষের জন্যই একটি 'উইন-উইন' পরিস্থিতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।   তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঘোড়ার গাড়ির মালিক ও চালকদের সংগঠন 'ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০'। সংগঠনের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা হ্যানসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বিল পাস হলে চালক ও মালিকদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে এবং অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়বেন। তিনি একে অসাংবিধানিক দাবি করে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।   ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি জন স্যামুয়েলসন প্রস্তাবিত আইনে কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় একে "লজ্জাজনক রাজনৈতিক সুবিধাবাদ" বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, এই আইনের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও প্রাণিকল্যাণ সংগঠন 'নাইক্লাস' (NYCLASS) এবং সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৯:৪১
সৌদিকে সহায়তায় এরদোয়ানকে পাশে চান ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল রিয়াদ
সৌদিকে সহায়তায় এরদোয়ানকে পাশে চান ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল রিয়াদ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অনুরোধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হুথিদের আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।   এই পরিস্থিতিতে তিনি হয়তো এরদোয়ানকে সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন। ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হয়তো এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন। এর আগে মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে।   এ ছাড়া হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই তেহরানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম করা। কিন্তু যুবরাজ সালমান আশঙ্কা করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য সহায়তা গ্রহণ করলে সৌদি আরবের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও জনঅসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতের কথা বিবেচনা করেই ইসরায়েলি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে রিয়াদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৯:১৯
ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান
ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান

ভ্যাটিকান মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, পোপ চতুর্দশ লিও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ বা 'লোয়ার লোব' অপসারণের জন্য একটি সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা এই রোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। ভ্যাটিকানের প্রকাশিত একটি মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের আগে করা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই তাঁর ক্যানসারের সন্দেহ করা হয়েছিল এবং অস্ত্রোপচার চলাকালীন তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়।   অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে রোমের জেমেলি হাসপাতালে পৌঁছালে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী পোপকে উষ্ণ স্বাগত জানান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচারের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই নির্ধারণ করা হবে যে তাঁর আক্রান্ত কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকারক কি না এবং ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না।   জেমেলি হাসপাতালের প্রধান থোরাসিক সার্জন ডা. স্টেফানো মার্গারিটোরার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের চ্যাপেলে রোমের ভিকার কার্ডিনাল বালদাসারে রেইনার নেতৃত্বে চিকিৎসা কর্মীরা পোপ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।   ১৭ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭১ বছর বয়সী পোপ তাঁর এই গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যাটির বিষয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। গত রবিবার দুপুরের প্রার্থনার সময় তিনি নিজেই তাঁর ফুসফুসে একটি ছোট 'নোডিউল' বা মাংসপিণ্ড ধরা পড়ার কথা জানান এবং সেটি অপসারণের ঘোষণা দেন। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোডিউলটি ক্যানসারযুক্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তা অপসারণ করা গেলে পোপের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।   সাধারণ অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে করা এই অস্ত্রোপচারের পর পোপকে অন্তত এক সপ্তাহ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই কারণে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ। যেহেতু পোপদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জেমেলি হাসপাতালের বিশেষ কক্ষটিতে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলছে, তাই পোপ লিও আপাতত এর কাছাকাছি অন্য একটি কক্ষে অবস্থান করবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৯:৪
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ডেপুটি পুলিশ চিফ অ্যান ম্যানিক্স (৬৫) এবং তার ২৪ বছর বয়সী মেয়ে কেটি ম্যানিক্সকে গুলি করে হত্যা করেছেন অ্যানের স্বামী এবং সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট কেভিন ম্যানিক্স (৬৮)। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। গত রোববার রাতে মেরিন কাউন্টির একটি অভিজাত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনা হয়েছে।   অ্যান ম্যানিক্সের ভাতিজা ব্রেন্ডান ম্যানিক্স ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে তার খালা ও কাজিনকে স্মরণ করেন। তিনি তার খালা অ্যান ম্যানিক্সকে স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (SFPD) একজন 'পথপ্রদর্শক' হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি বিভাগের অন্যান্য নারীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন।   ব্রেন্ডান তার কাজিন কেটিকে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নার্স হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি সর্বদা প্রিয়জনদের উৎসাহ দিতেন। একইসঙ্গে তিনি তার খালু কেভিন ম্যানিক্সের এই 'অর্থহীন সহিংস কাজের' তীব্র সমালোচনা করেন, যা তাদের পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে।   স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (SFPD) এবং মেরিন কাউন্টি শেরিফ অফিস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৫টার পর জরুরি কলে খবর পেয়ে তারা স্ট্রবেরি সার্কেল এলাকার একটি বাড়িতে পৌঁছায় এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কমিউনিটির জন্য কোনো হুমকি নেই বলে জানানো হয়েছে।   অ্যান ম্যানিক্স ২০১৮ সালে ফিল্ড অপারেশনস ব্যুরোর ডেপুটি চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালে স্পেশাল অপারেশনস ব্যুরোর দায়িত্ব পান। তিনি এসএফপিডি-র সোয়াট (SWAT) টিমে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন। অপরদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যান এবং কেভিনের মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না এবং সম্প্রতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও চলছিল। তবে পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক রূপ নিতে পারে, তা কেউ ধারণাও করতে পারেননি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৮:১৮
ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ
ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ

অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং নিষেধাজ্ঞার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক 'ব্যাংক অব আমেরিকা'কে ১২০ কোটি বা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ বিভাগ। ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানার ঘটনা।   মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, এত বড় একটি ব্যাংক যখন অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত গড়ায় এবং তা সমগ্র মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থায়নের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যত বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।   ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ঝুঁকিগুলো—বিশেষ করে চীনা মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের অবৈধ অর্থায়নের তথ্য জানাতে এবং তা প্রশমনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ব্যাংকটিকে এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই অর্থের মধ্যে ৭৫ কোটি ডলার পাবে ইউএস অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সি (ওসিসি), যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ইতিহাসে আরোপিত সর্বোচ্চ জরিমানার রেকর্ড।   এছাড়া ইরান, রাশিয়া, মাদক চোরাচালান ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের দায়ে ট্রেজারি বিভাগের 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল'-এর সঙ্গে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের একটি মীমাংসাতেও পৌঁছেছে ব্যাংক অব আমেরিকা। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, সরকার যেন অর্থপাচার শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারে সেজন্য প্রণীত ১৯৭০ সালের 'ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট' ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি ব্যাংক অব আমেরিকা স্বীকার করেছে।   এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এটি সঠিকভাবে পালনে দায়বদ্ধ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পর আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় তারা ইতোমধ্যে প্রযুক্তির পেছনে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং হাজার হাজার নিবেদিত কর্মী নিয়োগ দিয়েছে।   উল্লেখ্য, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানা। এর আগে ভার্চুয়াল মুদ্রা শিল্পে মানি লন্ডারিং রোধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার এবং পরের বছর কানাডাভিত্তিক টিডি ব্যাংককে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।   ওই ঘটনার কয়েক মাস পর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে বিন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও চ্যাংপেং ঝাওকে চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৭:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডজনেরও বেশি গহনা চুরির অভিযোগে রোমানিয়ার এক অবৈধ অভিবাসী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিনব কায়দায় চুরির কারণে এই জুটিকে কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জুটি 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'-এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে।   গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির অভিযোগে নাসাউ কাউন্টি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে এই দম্পতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হেফাজতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।   এই জুটির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ও ট্রাম্প-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের মতো নেতাদের 'স্যাংচুয়ারি' বা অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় আশ্রয় নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন।   তাদের দাবি, হোকুলের মতো রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করলে এই অপরাধীরা এতদিনে আইনি ফাঁকফোকর গলে আবারও রাস্তায় ফিরে আসত এবং সাধারণ আমেরিকানদের সর্বস্বান্ত করত। একইসঙ্গে ওই পোস্টে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশের আইন সমুন্নত রাখা এবং আমেরিকাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও আইসিইর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৭:২৩
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে।   মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।   কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়।   আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৬:৫৩
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব

বামপন্থী এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে আকস্মিক অভিযান এবং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির ওপর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে এই বিলটি সামনে আনা হলো।   ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজের উত্থাপিত 'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' নামের এই বিলটিতে ডিএইচএস বিলুপ্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অভিবাসন আটক কেন্দ্র বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে রামিরেজ জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ডিএইচএসকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ৫ বছরের সন্তানের সামনে এক বাবাকে গুলি করা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওপর পরিচালিত অভিযান তারই উদাহরণ। তিনি ডিএইচএস ভেঙে দেওয়া, আইসিই বাতিল এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার চর্চা বন্ধের এখনই উপযুক্ত সময় বলে দাবি করেন।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিএইচএস গঠন করা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কিছুদিন ধরেই আইসিই বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।   এর মধ্যেই গত সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত এই কংগ্রেসওম্যানের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের দীর্ঘস্থায়ী একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এই তল্লাশি চালানো হয়। ইলহান ওমরের দাবি, তিনি বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।   'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' পাস হলে ডিএইচএস-এর বদলে 'ডিপার্টমেন্ট অফ কমিউনিটি সেফটি' নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করা হবে, যা জননিরাপত্তা ও সহিংসতা রোধে কাজ করবে। ডিএইচএস-এর বর্তমান দায়িত্বগুলো বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে; যেমন—বিচার বিভাগ অভিবাসন প্রয়োগের দায়িত্ব নেবে এবং ট্রেজারি বিভাগ কাস্টমসের দায়িত্ব পালন করবে। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অধিবেশন মুলতবি থাকায় এই বিলটি সহসাই আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৬:৩৯
ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা
ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা

শিল্পী জেফ্রি রিড সম্প্রতি ম্যানহাটনের টম্পকিন্স স্কয়ার পার্কের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটনের বিশালাকার দুটি প্রতিকৃতি স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। একটি সাদাকালো কুকুর ট্রাম্পের বিশাল প্রতিকৃতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থেমে যায় এবং পা তুলে সরাসরি মার্কিন এই রাজনীতিকের মুখের ওপর প্রস্রাব করতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ফটোগ্রাফার জন ইজ এই হাস্যকর দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেন।   ছবিটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই চারদিকে গুঞ্জন ওঠে যে, এটি হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো রাজনৈতিক স্টান্ট বা পূর্বনির্ধারিত ঘটনা। তবে ফটোগ্রাফার জন ইজ নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত।   সে সময় কুকুরের মালিক নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার পোষা প্রাণীটি ঠিক কী করছে সে সম্পর্কে শুরুতে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যখন তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কুকুরের গলার চেইন ধরে টান দিয়ে নিজের পথে হাঁটা চালিয়ে যান।   এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত আয়োজন, প্রশিক্ষিত প্রাণী বা রাজনৈতিক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল কেবলই একটি কুকুর, একটি স্ট্রিট আর্ট এবং একেবারে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকা একজন ফটোগ্রাফারের দারুণ এক কাকতালীয় সমন্বয়ের ফল।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৬:১৭
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে গভীর রাতে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ বা প্রার্থনারত অবস্থায় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় সামিয়া মালিক নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মে মাসে অ্যাডিলেডের নর্থ ইস্ট রোডে ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে তিনি রাস্তার মাঝখানে সম্পূর্ণ একা হাঁটু গেড়ে সিজদারত ছিলেন।   সে সময় অন্যান্য গাড়ির চালকরা দূর থেকে তাকে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০ বছর বয়সী চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড তার গাড়ি দিয়ে সামিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান।   সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের শুনানিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর ওই ঘাতক চালক গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও মিডিয়ার খবর দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।   তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, এমন মর্মান্তিক একটি প্রাণহানির পরও আদালত অভিযুক্ত চালককে মাত্র এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়ে দায় সেরেছে।   ঘাতকের এমন লঘু শাস্তিতে মানবাধিকার কর্মী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যাকে তারা কোনো প্রকৃত সাজা নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।   আদালতে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিহত সামিয়ার বোন কুদসিয়া মালিক জানান, এই শূন্যতা ও বুকফাটা কষ্ট তাদের পরিবার কখনোই ভুলতে পারবে না। মর্মান্তিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ছাত্রসমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৫:৪৪
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু

যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে নতুন একটি বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ‘উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্ট’-এ প্রদান করা ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের এই অনুদানের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন আফগান নারী অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পাবেন।   আফগান শিক্ষাবিদ এবং অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাবানা বাসিজ-রাসিখ এই অনুদান দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্ব বিকাশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ তৈরি করবে।   এই বৃত্তির আওতায় প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের আফগান বংশোদ্ভূত নারীরা আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা অক্সফোর্ডের স্নাতকোত্তর কোর্সের সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ বা উপবৃত্তি এবং অক্সফোর্ডে আসার আগের আনুষঙ্গিক ভ্রমণ ব্যয়ও এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   মাত্র ১৮ বছর বয়সে 'স্কুল অব লিডারশিপ, আফগানিস্তান' (SOLA) প্রতিষ্ঠা করা শাবানা বাসিজ-রাসিখ নারী শিক্ষার অন্যতম বড় প্রবক্তা। তিনি নিজেও উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্টের বৃত্তির মাধ্যমে ২০১৯-২০ সালে অক্সফোর্ড থেকে পাবলিক পলিসিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।   নতুন এই অনুদান সম্পর্কে শাবানা বলেন, তারা কারও করুণা চান না, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিজে হাতে গড়ে তোলার জন্য শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগটুকু চান। তাঁর মতে, অক্সফোর্ডে এক বছর একজন আফগান নারীর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হবে, আর এরপর বছরের পর বছর ধরে অন্য নারীরাও একইভাবে এই সুযোগ পেতে থাকবেন।   তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে এমন একটি উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা মেধাবী ছাত্রীদের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৫:২২