- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করলেও অনেক পরিবার নিজেদের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মনে করছে না। উচ্চ আয়ের একটি অংশের মানুষ জানিয়েছেন, মাসিক আয় দিয়ে নিয়মিত ব্যয় মেটানোর পর পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ঋণের দায় এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে না পারার মতো সমস্যা তাঁদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ কারও বেতন বা উপার্জন বাড়লে তিনি বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, উন্নত জীবনযাত্রা কিংবা অন্যান্য খাতে বেশি ব্যয় করতে শুরু করতে পারেন। ফলে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ একই হারে বাড়ে না। তবে উচ্চ আয়ের সব পরিবার একই কারণে আর্থিক চাপে পড়ে না। কারও ক্ষেত্রে বাড়ির ঋণ, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচ বড় ভূমিকা রাখে। আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যয় ও আর্থিক পরিকল্পনার ধরন সঞ্চয়ের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। গোল্ডম্যান স্যাকসের ২০২৬ সালের জরিপে এই আর্থিক চাপের আরও কিছু দিক উঠে এসেছে। বছরে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয় করা উত্তরদাতাদের ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার ন্যূনতম নির্ধারিত অর্থ অথবা তার চেয়েও কম পরিশোধ করেন। একই আয়ের শ্রেণিতে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লক্ষ্য পিছিয়ে দিতে হয়েছে। অবসরজীবনের সঞ্চয়সংক্রান্ত পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। তবে জরিপের ফলাফল থেকে উচ্চ আয়ের প্রত্যেক পরিবার জরুরি ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। উত্তরদাতারা মূলত নিজেদের মাসিক আর্থিক অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ সাধারণত মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে বড় আর্থিক দায়, জীবনযাত্রার উচ্চ প্রত্যাশা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ আয়ের শ্রেণির ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা আবার জানিয়েছেন, তাঁদের চাকরি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের একটি স্থিতিশীল পথ তৈরি করছে। ফলে আর্থিক চাপের কথা জানানো মানেই তাঁদের সবাই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছেন, এমন নয়। ২০২৬ সালের জরিপে মোট ৫ হাজার ১০৬ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কর্মরত ব্যক্তি ছিলেন ৩ হাজার ৬১২ জন এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১ হাজার ৪৯৪ জন। ফলাফল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত এই বিশাল হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, দেশের ১৫টি ভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকা থেকে তারা মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হলেও, এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই মূল তেল টার্মিনালের পাশাপাশি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-এর (VK) একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে চালানো এই হামলার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আরও তিক্ততার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন যে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি। উল্টো জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই তথাকথিত আলোচনার ঘোষণার পরও রাশিয়া গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা সত্ত্বেও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এর কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একটি 'ঐতিহাসিক ভুল', যা মস্কোর যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে কেবল আরও উৎসাহিতই করবে।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইশরাক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টির রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। পাশে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। তবে হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াতে এবং একজন তরুণকে লাথি দিতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। ঘটনার পর রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ইশরাকের দাবি, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্য সেটি প্রদর্শন করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। এসব তথ্য তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচির আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। পুলিশ পরে বিষয়টি জানতে পারে। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন। অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন এভাবে অভিযানে অংশ নিলেন, সে প্রশ্নও ওঠে। এই ঘটনার পরদিনই ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে নির্দেশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং তাঁর পদত্যাগের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রথম আলো
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যে চিউইং গাম চিবিয়ে থাকেন, তার অনেকগুলোতেই রয়েছে প্লাস্টিকজাতীয় কৃত্রিম উপাদান। এসব উপাদান চিউইং গামকে দীর্ঘ সময় স্থিতিস্থাপক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ব্যবহারের পর রাস্তায় বা খোলা জায়গায় ফেলে দিলে তা সহজে পচে যায় না। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ২০২৫ সালের একটি বিশ্লেষণে চিউইং গাম থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ টন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য তৈরির দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক ডেভিড জোন্স তাঁর ‘চিউইং গাম ইজ প্লাস্টিক পলিউশন, নট আ লিটার প্রবলেম’ শীর্ষক বিশ্লেষণে চিউইং গামের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ব্যবহৃত চিউইং গাম শুধু রাস্তাঘাট নোংরা করে না, কৃত্রিম পলিমারযুক্ত গাম পরিবেশে প্লাস্টিকদূষণের উৎসও হতে পারে। বাজারে প্রচলিত অনেক চিউইং গামের অন্যতম উপাদান হলো ‘গাম বেস’। এটি চিউইং গামের স্থিতিস্থাপকতা ও চিবানোর উপযোগিতা বজায় রাখে। কিছু গাম বেসে পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি কৃত্রিম রাবার ও পলিমার ব্যবহার করা হয়। প্লাস্টিকের বোতল, গাড়ির টায়ার এবং আঠা তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদানের সঙ্গে এসব পলিমারের রাসায়নিক মিল রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, চিউইং গাম সরাসরি প্লাস্টিকের বোতল বা গাড়ির টায়ারের একই উপাদান দিয়ে তৈরি। চিউইং গামের মোড়কে সাধারণত ‘গাম বেস’ লেখা থাকে। এতে ব্যবহৃত প্রতিটি পলিমারের আলাদা পরিচয় সব সময় প্রকাশ করা হয় না। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে শুধু উপাদানের তালিকা দেখে গাম বেসের সম্পূর্ণ গঠন জানা কঠিন হতে পারে। তবে সব চিউইং গামে কৃত্রিম প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকে না। কিছু পণ্য প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ আঠা বা গাছের রস থেকে তৈরি হয়। তাই বাজারের সব চিউইং গামকে একই ধরনের প্লাস্টিকজাত পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। পরিবেশগত সমস্যার একটি বড় কারণ হলো ব্যবহারের পর চিউইং গাম যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া। কৃত্রিম পলিমারযুক্ত গাম সহজে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যায় না। ফলে ফুটপাত, রাস্তা ও অন্যান্য স্থানে দীর্ঘদিন আটকে থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে পরিবেশে পড়ে থাকা এসব উপাদান ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এভাবে তৈরি হওয়া কণা মাটি ও পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিশ্লেষণে বিশ্বজুড়ে চিউইং গাম থেকে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ টন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য তৈরির কথা বলা হয়েছে। তবে এই পরিমাণ সরাসরি বিশ্বব্যাপী পরিমাপ করে নিশ্চিত করা কোনো পরিসংখ্যান নয়। এটি একটি আনুমানিক হিসাব। চিউইং গামের বর্জ্য পরিষ্কার করাও শহর কর্তৃপক্ষের জন্য ব্যয়বহুল। ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে আটকে থাকা গাম সরাতে বিশেষ পরিষ্কারপদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়। ডেভিড জোন্সের বিশ্লেষণে চিউইং গামের উপাদান সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পণ্যের মোড়কে কৃত্রিম পলিমারের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান দিয়ে তৈরি বিকল্প চিউইং গামের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হলেই কোনো পণ্য পরিবেশে দ্রুত পচে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চিউইং গামে প্লাস্টিকজাত পলিমার থাকার বিষয়টি মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আনে। তবে এসব উপাদান চিবানোর ফলে কতটা ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। শুধু চিউইং গামে কৃত্রিম পলিমার থাকার তথ্য থেকে সেটিকে মানুষের জন্য বিষাক্ত বা সরাসরি রোগ সৃষ্টিকারী বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষকদের উদ্বেগের প্রধান বিষয় হলো চিউইং গামের ব্যবহার শেষে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য এবং পরিবেশে প্লাস্টিকজাত কণা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। এ কারণে ব্যবহৃত চিউইং গাম নির্ধারিত বর্জ্যপাত্রে ফেলা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
টানা ২০ বছরের ঈর্ষণীয় সাফল্য এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিপুল মুনাফা অর্জনের পর নিজের প্রতিষ্ঠিত 'শাহ ক্যাপিটাল' গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খ্যাতনামা ভারতীয়-মার্কিন বিনিয়োগকারী হিমাংশু শাহ। মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি গত দুই দশকে ব্যবস্থাপনা ফি ও অন্যান্য খরচ বাদে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি নিট বিনিয়োগ রিটার্ন তৈরি করেছে। অসাধারণ এই সাফল্যের পরও হিমাংশু শাহ এখন বাইরের বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনার পাঠ চুকিয়ে একটি 'ফ্যামিলি অফিস' খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উদ্ভাবনী সমাজসেবামূলক উদ্যোগে সময় ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে লেখা ১ অক্টোবরের এক বিদায়ী চিঠিতে হিমাংশু শাহ এই সিদ্ধান্তকে তার জীবনের "অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, নিজের পোর্টফোলিওতে থাকা অবমূল্যায়িত কোম্পানিগুলোর প্রতি তার যে আস্থা রয়েছে, আমেরিকার বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর অতিমূল্যায়িত শেয়ারের ক্ষেত্রে তার ঠিক উল্টো সংশয় কাজ করছে। মেগা-ক্যাপ স্টকগুলোর বর্তমান আকাশচুম্বী মূল্যের সমালোচনা করে তিনি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। শাহ জানান, প্যাসিভ ইনডেক্স ইনভেস্টিং এবং মোমেন্টাম-চালিত ট্রেডিংয়ের কারণে মেগা-ক্যাপ কোম্পানিগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তাই বর্তমানে 'লোভী' হওয়ার চেয়ে 'সতর্ক' থাকাই বেশি জরুরি বলে তিনি বিশ্বাস করেন। গত তিন বছর ধরেই বিনিয়োগকারীদের নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছিলেন হিমাংশু শাহ। আর্থিক উপদেষ্টা ব্যবসার সাথে জড়িত আইনি বাধ্যবাধকতা ও কমপ্লায়েন্সের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদায়ী বার্তায় তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবস্থাপনা করা তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনের একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল। বর্তমানে তিনি তার সময়ের অন্তত ১০ শতাংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করতে চান, যা পরবর্তীতে ফ্যামিলি অফিস ফাউন্ডেশনের কাজ বৃদ্ধির সাথে সাথে আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফ্রান্সের লিমোজ শহরের ১৪৩ বছরের পুরোনো পৌরভবন অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে মুখোশধারী ব্যক্তিরা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আগুনে ছাদ ও ভবনের চূড়ার অংশ ধসে পড়েছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হামলাকারীরা পৌরভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ভবনটির বড় অংশ আগুনে নষ্ট হয়েছে। ওত-ভিয়েন বিভাগের প্রেফেক্ট মরিস বারাত এ ঘটনাকে ঐতিহ্যের ওপর বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে বারাত জানান, পশ্চিম অংশ ছাড়া ভবনের ছাদ নিচের তলাগুলোর ওপর ধসে পড়েছে। শনিবার রাতে তাঁর দেওয়া প্রাথমিক হিসাবে, সম্মুখভাগের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ উল্লেখ করে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করার কথাও বলেন। রোববার সকালে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এলসিআইকে বারাত জানান, আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দমকলকর্মীরা তখনো অবশিষ্ট আগুন ও অঙ্গার নেভানোর কাজ করছিলেন। ভবনটির পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছিল। নিও-রেনেসাঁ স্থাপত্যরীতির এই পৌরভবন দুটি বিশ্বযুদ্ধ অতিক্রম করেও টিকে ছিল। রোববার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের কথা উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। ভবনটির সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪০ সালে বেলজিয়ামের নির্বাসিত সরকারের প্রতিনিধিরা এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নাৎসি দখলদারত্বের সময় প্রতিরোধ কার্যক্রমেও পৌরভবনটির ভূমিকা ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবা নিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। সেই সহিংসতার মধ্যেই লিমোজের ঐতিহাসিক পৌরভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সঠিক অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইরানের মতাদর্শগত হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন 'মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী' এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শান্তির এক অকৃত্রিম অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে 'ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগান দিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান একসময় এই হুমকি বাস্তবায়ন করত। তিনি জানান, সামরিক ও আর্থিকভাবে তাদের পদ্ধতিগতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং দ্রুত তারা নিজেদের না শোধরালে যুক্তরাষ্ট্র অচিরেই তাদের কাজ শেষ করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলে যদি নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো নেতা নির্বাচিত হন, তবে এই অসমাপ্ত কাজ আমেরিকাকে একাই করতে হবে, যা করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকে আসা প্রবল বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহু দুর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, সাধারণ কোনো মানুষ এই ধরনের প্রচণ্ড চাপে ভেঙে পড়লেও, নেতানিয়াহু বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছু করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার ঠিক এমন একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদারই প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নেতানিয়াহু তাদের কখনোই হতাশ করবেন না।
আমেরিকায় ইন্স্যুরেন্স ছাড়া চিকিৎসা করালে খরচ কত হবে, তার একক উত্তর নেই। একই চিকিৎসার বিল হাসপাতাল, চিকিৎসক, পরীক্ষা ও রোগীর অবস্থাভেদে বদলে যায়। তবে ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসা, বিলের আর্থিক সহায়তা এবং নির্ধারিত চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য খরচ জানার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এসব সুবিধার শর্ত বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন হাসপাতালে থাকার গড় খরচ প্রায় ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। ভাঙা পায়ের চিকিৎসায় খরচ হতে পারে সাড়ে সাত হাজার ডলার। এগুলো খরচ বোঝানোর উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট রোগীর চূড়ান্ত বিল নয়। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার দেখানো, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সন্তান প্রসব কিংবা অপারেশনের জন্য দেশজুড়ে একই মূল্য প্রযোজ্য নয়। হাসপাতালের প্রকাশিত চার্জ, সেলফ-পে মূল্য এবং আর্থিক সহায়তার পর রোগীর প্রদেয় অর্থও আলাদা হতে পারে। চিকিৎসকের ফি ও হাসপাতালের ফ্যাসিলিটি চার্জের জন্য পৃথক বিল আসতে পারে বলেও জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস। যাঁরা ইন্স্যুরেন্স ছাড়া নিজের খরচে চিকিৎসা নেবেন, এমন রোগীরা নির্ধারিত চিকিৎসার আগে লিখিত সম্ভাব্য খরচ চাইতে পারেন। এটি ‘গুড ফেইথ এস্টিমেট’ নামে পরিচিত। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএস জানিয়েছে, সাধারণভাবে অন্তত তিন কর্মদিবস আগে চিকিৎসার সময় নির্ধারণ করলে অথবা খরচের হিসাব চাইলে এই সুবিধা প্রযোজ্য হয়। কোনো সেবাদাতার চূড়ান্ত বিল গুড ফেইথ এস্টিমেটের চেয়ে অন্তত ৪০০ ডলার বেশি হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানানোর সুযোগ আছে। তবে ইমার্জেন্সি চিকিৎসার সময় আগাম এই এস্টিমেট দেওয়া হয় না। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য এনওয়াইসি কেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। তবে এটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স নয়। ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন বা তার খরচ বহন করতে পারেন না, এমন বাসিন্দাদের নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস ব্যবস্থায় চিকিৎসা পাওয়ার কর্মসূচি এটি। এনওয়াইসি কেয়ারে সদস্যপদ বা মাসিক প্রিমিয়াম নেই। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে সেবার ফি নির্ধারিত হয়, যা শূন্য ডলার থেকেও শুরু হতে পারে। কর্মসূচিটি জানিয়েছে, তারা অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার তথ্য নথিভুক্ত করে না। ভাষাগত সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। অন্যদিকে মেডিকেইড ও এসেনশিয়াল প্ল্যানের মতো স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি থাকলেও সবাই এসব সুবিধা পাবেন, এমন নয়। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও চলতি যোগ্যতার নিয়ম পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ফেডারেল নীতির পরিবর্তনের কারণে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এসেনশিয়াল প্ল্যানের সম্প্রসারিত অংশে থাকা অনেকের মার্কেটপ্লেসের অন্য ইন্স্যুরেন্সে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। ফলে পুরোনো আয়সীমা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। নিউইয়র্কের বাইরেও কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফেডারেল সংস্থা হেলথ রিসোর্সেস অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এইচআরএসএ জানিয়েছে, ইন্স্যুরেন্স থাকুক বা না থাকুক, এসব কেন্দ্রে সেবা নেওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ফি কমানো হয়। তাই সব ক্লিনিকে নির্দিষ্ট ৩০ বা ৮০ ডলারে চিকিৎসা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হাসপাতালের বিল এলে সেটি উপেক্ষা না করে বিলিং বিভাগ বা ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস জানিয়েছে, ইন্স্যুরেন্সের যোগ্য নন, ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করতে পারেন না কিংবা চিকিৎসার বিল দেওয়ার সামর্থ্য নেই, এমন রোগীরা তাদের আর্থিক সহায়তার যোগ্য হতে পারেন। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও কর্মসূচির নিয়মের ওপর। সবার বিল নির্দিষ্ট হারে কমবে বা পুরোপুরি মওকুফ হবে, এমন নয়। প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার সময় গুডআরএক্সের মতো ডিসকাউন্ট সেবার মূল্যও তুলনা করা যায়। তবে এটি ইন্স্যুরেন্স নয় এবং একই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা যায় না। কত সাশ্রয় হবে, তা ওষুধ, ফার্মেসি ও চলতি মূল্যের ওপর নির্ভর করে। জরুরি অবস্থায় খরচের ভয়ে চিকিৎসা বিলম্ব করা উচিত নয়। সিএমএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মেডিকেয়ার অর্থায়ন গ্রহণকারী হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ইন্স্যুরেন্স বা অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলেও জরুরি অবস্থা যাচাইয়ের পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল করার চিকিৎসার অধিকার রয়েছে। নাগরিকত্ব না থাকার কারণেও এই সেবা প্রত্যাখ্যান করা যায় না। তবে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার এই অধিকার মানেই চিকিৎসা বিনা মূল্যে হবে, এমন নয়।
বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স। সদ্য প্রকাশিত এই তালিকায় এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের ব্যাংকগুলো তাদের একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। তালিকার শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিই চীনের এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, প্রথম চারটি স্থানই দখল করে নিয়েছে চীনা ব্যাংকসমূহ। বিপুল অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, অবকাঠামো খাতে বিশাল সরকারি বিনিয়োগ এবং বন্ড ইস্যুর ওপর ভর করে এই ব্যাংকগুলো তাদের সম্পদের আকার ক্রমাগত বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭.৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে টানা ১৩তম বছরের মতো বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকের মুকুট ধরে রেখেছে চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি)। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না (৬.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশন (৬.৫২ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং ব্যাংক অব চায়না (৫.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার)। তালিকার দশম স্থানে থাকা পোস্টাল সেভিংস ব্যাংক অব চায়না মিলিয়ে মোট পাঁচটি চীনা ব্যাংক এই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে ৪.৪৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোং। তবে মোট সম্পদের দিক থেকে পঞ্চম হলেও শেয়ারবাজারের মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের বিচারে জেপি মরগান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাংক হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষ এই তালিকায় ইউরোপীয় ব্যাংকিং খাতেও বড় ধরনের রদবদল লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এইচএসবিসি হোল্ডিংসকে পেছনে ফেলে ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ফ্রান্সের বিএনপি পরিবা, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনা ব্যাংকগুলো যেখানে সম্পদের বিশাল আকারের ওপর ভিত্তি করে দাপট দেখাচ্ছে, সেখানে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ মুনাফা, ক্যাপিটাল মার্কেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার (ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট) মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের শক্তিশালী প্রভাব ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা এবং ফ্রান্সের ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল যথাক্রমে ষষ্ঠ ও নবম স্থান নিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যার এ ঘটনায় অভিনেতা অক্ষত আছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। মহারাষ্ট্র টাইমসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইগারের গাড়িতে গুলি চালানো হয়। এতে গাড়িচালক ও এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। কারা গুলি চালিয়েছে কিংবা এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে কর্মক্ষেত্রে দুর্গন্ধ নিয়ে সহকর্মীর অভিযোগের পর চাকরি হারানো বাসচালক স্টেফানি ব্রায়ানের করা বৈষম্য ও হয়রানির মামলা খারিজ করেছেন কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতার কারণে নয়, গাড়ি চালানোর মান সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দ্য বিগ লেমনে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ দেওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর চাকরি শেষ হয়। পরীক্ষামূলক চাকরির মেয়াদ সফলভাবে শেষ করতে না পারার পর তিনি শারীরিক অক্ষমতাজনিত বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ আনেন। শুনানিতে জানানো হয়, স্টেফানির পালা শেষে দায়িত্ব নিতে এসে বাসের চালকের আসনের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ পান সহকর্মী সামান্থা বিংহাম। তাঁর ধারণা হয়েছিল, স্টেফানির পোশাক নোংরা হয়ে থাকতে পারে। সামান্থা জানান, বাড়ি ফেরার পরও দুর্গন্ধ থাকায় তাঁকে ইউনিফর্ম ধুতে এবং গোসল করতে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেফানি বলেন, সবারই বায়ুত্যাগের প্রয়োজন হয়। পরে সামান্থা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। টিভিথ্রি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি দাবি করেছিলেন, মূত্রথলির সমস্যার কারণে তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল সামান্থার অভিযোগকে কর্মক্ষেত্রের একটি প্রকৃত উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর পদক্ষেপের সঙ্গে স্টেফানির শারীরিক অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরখাস্তের বৈঠকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হলেও ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে জানান, স্টেফানির গাড়ি চালানোর মান নিয়ে উদ্বেগই চাকরি হারানোর মূল কারণ ছিল।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ও জমে থাকা আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন আনিছুর রহমান। টয়লেট পরিষ্কারের পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানের আবর্জনাও সরান তিনি। এ সময় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। আনিছুর রহমান বলেন, নিজের ঘরের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখাও সবার দায়িত্ব। এসব প্রতিষ্ঠান সব সময় বাসযোগ্য ও ব্যবহারোপযোগী রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সেবা নিতে আসা মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে তাঁরা সেবা নিতে যান, সেটিকে নিজের বাড়ির মতো মনে করা প্রয়োজন। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও চান তিনি। আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। কর্মসূচিতে কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন সরদারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে ২০২২ সালে বিনা প্ররোচনায় এক উন্মত্ত হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (FDNY) ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিসের (EMS) ক্যাপ্টেন অ্যালিসন রুসো। ৬১ বছর বয়সী এই অকুতোভয় ক্যাপ্টেন ছিলেন ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় প্রথম সাড়াদানকারীদের (ফার্স্ট রেসপন্ডার) একজন। প্রিয় এই সহকর্মীর প্রতি সম্মান জানাতে এবং তাকে চিরকাল মনে রাখার উদ্দেশ্যে গত শনিবার বিকেলে একটি বিশেষ ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ২০ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ফায়ার স্টেশন ৪৯-এর ঠিক উল্টোদিকে ম্যুরালটি উন্মোচন করা হয়। আবেগঘন এই অনুষ্ঠানে নিহত রুসোর শোকাহত পরিবারের সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিস এবং ইএমএসের ৪০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেনি গুয়েরা এবং ফার্নান্দো গার্সিয়া নামের দুই শিল্পীর নিপুণ তুলিতে ফুটে ওঠা রুসোর এলইডি-আলোকিত ম্যুরালটি উন্মোচনের সময় উপস্থিত সবাই করতালি দিয়ে সম্মান জানান। ম্যুরালের নিচে ব্যানারে লেখা রয়েছে, "নেভার ফরগটেন, ফরেভার আ হিরো" অর্থাৎ 'কখনোই বিস্মৃত হবেন না, চিরকাল একজন বীর'। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের খাবারের বিরতির সময় পিটার জিসোপোলোস নামের এক ব্যক্তির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান রুসো। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ওই হামলাকারীকে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যুরাল উন্মোচন শেষে রুসোর ভাই ক্রেগ ফুওকো সংবাদমাধ্যমের কাছে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের এমন সমর্থন সত্যি অসাধারণ। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও তার বোনকে কেউ কখনো ভুলবে না। ম্যুরালটি যে ভবনে আঁকা হয়েছে, তার মালিক উইলিয়াম জ্যাকারির মন্তব্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানান, ঠিক এই ভবনের সামনেই রুসোকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ঘাতক জিসোপোলোস এই ভবনেরই ওপরতলায় থাকত। ওই বিভীষিকাময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধার প্রতীকে রূপ দিতেই স্থানটিকে একটি স্মৃতিসৌধ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। জ্যাকারির ভাষায়, ম্যুরালটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে এর মুখ ফায়ার স্টেশনের দিকে থাকে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ইএমএস কর্মীরা যখন স্টেশনে ঢুকবেন বা বের হবেন, তখন তারা দেখতে পাবেন রুসো তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছেন।
সংসারের খরচ মেটাতে চাটনি বিক্রি করতেন মা, তৈরি করতেন টিফিন। বাড়িতে চালাতেন শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্রও। আর এসব কাজে মায়ের সহকারী ছিলেন আজকের পরিচিত অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই দিনগুলোর পাশাপাশি নিজের উপার্জন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি। ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘সিংহাম’-এর মতো ছবির এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বেড়ে ওঠা অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে। পরিবারের আয় এমন ছিল না যে আয়কর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত। সংসার চালাতে মাকে একাধিক কাজ করতে হতো। ছোটবেলায় সোনালিও সেসব কাজে হাত লাগাতেন। অভিনয়ে উপার্জন বাড়ার পর করসংক্রান্ত একটি অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। সোনালি জানান, একবার আয়কর বিভাগের নোটিশ পাওয়ার পর তাঁকে জরিমানা দিতে হয়েছিল। সেই জরিমানার চেক লেখার সময় তিনি কেঁদেছিলেন। এত অর্থ উপার্জন করবেন, তা আগে কখনো কল্পনা করেননি। তবে ওই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, উপার্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও করব্যবস্থা সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। এরপর নিজের অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আরও সচেতন হন তিনি। সোনালি জানিয়েছেন, এখন তিনি ভেবেচিন্তে বিনিয়োগ করেন। নিজের ও স্বামী নচিকেতের অর্থও আলাদাভাবে পরিচালনা করেন। দুজনের আয় একসঙ্গে মেশান না। সোনালির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অঙ্ক উল্লেখ করা হলেও তাঁর ৬০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি মূলত পরিবারের আর্থিক সংগ্রাম এবং নিজের উপার্জন সামলাতে শেখার কথাই বলেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী মিম ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাইসা জারারা নামের ওই গণিত শিক্ষিকা আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি বিকৃত ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেছেন। গত ১৯ জুলাই ফেসবুকে করা ওই পোস্টে মেসিকে বড় নাক ও মাথায় ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি (ইয়ারমুলকে) পরিহিত অবস্থায় হাত ঘষতে দেখা যায়, যা ইহুদিদের লোভী ও চক্রান্তকারী হিসেবে তুলে ধরা পুরোনো নাৎসি প্রোপাগান্ডার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘দ্য হ্যাপি মার্চেন্ট’ নামের ঘৃণ্য একটি মিমের আদলে তৈরি ওই ছবির ক্যাপশনে পার্ক স্লোপ কলেজিয়েটের এই শিক্ষিকা লেখেন, "তার মুখের অভিব্যক্তিটি অমূল্য।" উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে একটি ‘শান্তি সফরে’ ইসরায়েল গিয়েছিলেন মেসি। অনলাইন অ্যান্টিসেমিটিজম ওয়াচডগ 'সাইবারওয়েল'-এর তথ্যমতে, বিশ্বকাপ চলাকালেও মেসিকে নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছিল যে, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইহুদিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং তারা মেসির ক্যারিয়ারকে সুবিধা দিতে পর্দার আড়ালে কাজ করছে। শিক্ষিকার এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করে ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স-এর প্রেসিডেন্ট মোশে স্পার্ন জানিয়েছেন, ইহুদিদের লোভী ও চক্রান্তকারী হিসেবে তুলে ধরে জারারা একটি বড় সীমা অতিক্রম করেছেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট কারেন ফেল্ডম্যান একে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, শিশুদের শিক্ষিত করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি যখন প্রকাশ্যে এমন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করেন, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। মেসিকে নিয়ে পোস্টের বাইরেও জারারা নিয়মিত ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ছড়ান, যার মধ্যে রক্তমাখা ইসরায়েলি পতাকার ছবিও রয়েছে। এমনকি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের প্রাণঘাতী হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতেও তিনি ইনস্টাগ্রামে জ্বলন্ত স্তূপের সামনে নারী-পুরুষের নাচের একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করে উল্লাস প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (DOE) পরিচালিত স্কুলগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর আগে ড্যামিয়ান নেভা এবং জর্জ ট্রিমের মতো অন্যান্য শিক্ষকরাও প্রকাশ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ও সন্ত্রাসবাদ সমর্থনকারী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার দায়ে সমালোচিত ও তিরস্কৃত হয়েছেন। শ্রেণিকক্ষে ক্রমাগত এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষমূলক আচরণের কারণে নিউইয়র্ক শহরের হাজার হাজার ইহুদি পরিবার তাদের সন্তানদের সুরক্ষা দিতে পাবলিক স্কুল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। 'টিচ কোয়ালিশন'-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বিগ অ্যাপল এবং এম্পায়ার স্টেটের ইহুদি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে নতুন করে প্রায় ৩,১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার বেতন পাওয়া শিক্ষিকা মাইসা জারারার সাথে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে পুলিশের তল্লাশি এড়াতে হঠাৎ মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে গতি বাড়ান এক ব্যক্তি। এতে পেছনে বসা তাঁর স্ত্রী ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। কিন্তু তাঁকে তুলতে না থেমে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান স্বামী। রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকের ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় নম্বরপ্লেট ছাড়া যানবাহন ও হেলমেট ছাড়া চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল। পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেলচালককে থামার সংকেত দিলে তিনি জরিমানা এড়াতে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। হঠাৎ বাঁক নেওয়ার সময় পেছনের নারী যাত্রী সড়কে পড়ে যান। ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই নারীর কাছে গিয়ে তাঁকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালা রুদ্রপুরের পুলিশ কর্মকর্তা বিভব সাইনির বরাতে জানিয়েছে, নারীটি আঘাত পাননি। তাঁর সঙ্গে কথা বলা ও পরামর্শ দেওয়ার পর তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়।
সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এর দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে তিনি জানান, সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় একটি নজরদারি 'এএইচ-৬আই' (AH-6i) হেলিকপ্টার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার দাবি করে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবরণ দাঁড় করিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি জোট এবং ইয়েমেনভিত্তিক এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকাটি হুতিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নাজরানের কাছে সীমান্ত বরাবর হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বৈরী কার্যক্রম চালানোর সময় তারা একটি সৌদি 'অ্যাপাচি' (Apache) হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। হুতিদের এই দাবির বিষয়ে রবিবার সরাসরি মন্তব্য করেছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র আল-মালিকি। তিনি সারির ওই দাবির প্রতিক্রিয়ায় এক্সে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বেশ কয়েকটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি হুতিদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, "আপনারা এটিকে ভূপাতিত করার দাবি করছেন, তবে এটি খুব শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে"। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেন ও সৌদির মধ্যকার এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনারই আরেকটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টান দেওয়ায় রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার, ১৮ অক্টোবর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত রাকিবের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সী এই আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলা না থাকায় তিনি শিগগির কারামুক্ত হবেন বলে আশা করছেন তাঁর আইনজীবী। রাকিবের আইনজীবীর দাবি, মামলায় প্রথমে জব্দ করা মোটরসাইকেলটির মালিক তাঁর মক্কেল হলেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সেটি ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে ছিল এবং এর সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাকিবকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন রনজিলা পারভিন। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে পরে নতুন দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিবি জানায়, মো. খোকন ও মো. রাজিব মাতুব্বর ওই ছিনতাইয়ে জড়িত ছিলেন বলে তাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এর আগে জব্দ করা মোটরসাইকেলটি ঘটনায় ব্যবহৃত হয়নি বলেও জানায় ডিবি। সূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
আফগানিস্তানের ছোট্ট শিশু মুরতাজা আহমাদির কথা ফুটবল ভক্তদের নিশ্চয়ই মনে আছে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির একটি আসল জার্সি কেনা তার জন্য ছিল শুধুই স্বপ্ন। কিন্তু দারিদ্র্য তার ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারেনি। বড় ভাইয়ের সহায়তায় নীল-সাদা ডোরাকাটা একটি পলিথিনের ব্যাগ কেটে সে বানিয়ে নেয় প্রিয় তারকার জার্সি। এরপর মার্কার কলম দিয়ে তাতে পরম যত্নে লিখে দেয় ‘MESSI’ এবং আইকনিক ১০ নম্বর। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পলিথিনের সেই জার্সি গায়ে মুরতাজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে। ক্ষুদে এই ভক্তের নিখাদ ভালোবাসা নজর এড়ায়নি স্বয়ং লিওনেল মেসিরও। শিশুটির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানিয়ে তিনি নিজের স্বাক্ষর করা দুটি জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে পাঠান। স্বপ্ন পূরণের গল্প এখানেই শেষ হয়নি; ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কাতারের দোহায় প্রিয় তারকার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অভাবনীয় সুযোগও পেয়ে যায় ছোট্ট মুরতাজা। মেসির কোলে চড়ে মাঠে প্রবেশ করার সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। তবে মুদ্রার উল্টোপিঠের মতো এই আকস্মিক খ্যাতির একটি বিষাদময় পরিণতিও ছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর আফগানিস্তানের তৎকালীন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে মুরতাজার পরিবার। অপহরণ ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ স্ত্রীকে ইমিগ্রেশন এজেন্টরা আটক করে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন গুরিন্দর গিল। কিন্তু তদন্তে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি। পরে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ দেহাবশেষ তাঁর স্ত্রী জেসমিন গিলের বলে শনাক্ত হলে হত্যার অভিযোগে গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৪ অক্টোবর গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাঁকে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি মেইন জেলে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনের যোগ্য নন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেসমিনকে সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর নিজ বাসায় দেখা যায়। ৪ অক্টোবর তাঁর এক কাজিন নিখোঁজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরিন্দর দাবি করেন, বাসার চিঠিপত্র দেখতে যাওয়ার সময় ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের, সংক্ষেপে আইসিইর, এজেন্টরা জেসমিনকে আটক করে নিয়ে যান। তদন্তকারীরা আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংস্থাটি জানায়, ওই বাসায় তাদের কোনো অভিযান বা আটকের ঘটনা ঘটেনি। তদন্ত এগোতে থাকলে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে গুরিন্দরের বক্তব্যে আরও কয়েকটি অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। সন্তানের হেফাজত নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এদিকে জেসমিনকে নিখোঁজ হিসেবে জানানোর তিন দিন আগে, ১ অক্টোবর এল ডোরাডো কাউন্টিতে দগ্ধ মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জেসমিনের বলে নিশ্চিত করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেন গোয়েন্দারা। তাঁকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বাসায় তল্লাশি পরোয়ানাও কার্যকর করা হয়। জেসমিনের মৃত্যুর কারণ কিংবা উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি শেরিফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তা প্রমাণিত হওয়ার তথ্য ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই।