- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো থেকে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের দৃশ্য সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর স্থাপন করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। লাগেজের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীরা মনিটরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের কার্যক্রম দেখতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং সংগ্রহের বেল্টে পৌঁছানোর দৃশ্য মনিটরে সরাসরি দেখানো হবে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা লাগেজ পরিবহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন। লাগেজের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কমানোও এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। উদ্যোগটির পেছনে রয়েছে লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কাটা ও মালামাল চুরির অভিযোগ প্রতিরোধের সুপারিশ। দ্য ডেলটা লেন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি প্রদর্শনের সুপারিশ করেছিল। বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের মধ্যে এই ব্যবস্থাও ছিল। বেবিচক আশা করছে, সরাসরি কার্যক্রম দেখানোর ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়বে এবং যাত্রীদের আস্থা জোরদার হবে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাতে দেশে পৌঁছে স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২৭ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। বৃত্তি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেয়, কোনোটির অর্থায়ন সীমিত মেয়াদের। আবার আবেদনের সময়সীমা নির্ভর করে কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবেদনকারীর দেশের ওপর। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার কয়েকটি সময়সীমায় সংশোধনও প্রয়োজন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএলের বৃত্তিতে আবেদন করতে ডিসেম্বর কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত সময় আছে ধরে অপেক্ষা করলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ইটিএইচ জুরিখের এক্সেলেন্স স্কলারশিপ অ্যান্ড অপরচুনিটি প্রোগ্রামে ২০২৭ সালের শরৎকালীন মাস্টার্সের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ২০২৬ সালের ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের এই আবেদনপর্ব অনুসরণ করতে হবে। ফলে তালিকায় উল্লেখ করা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়সীমাটি যথাযথ নয়। ইপিএফএল মাস্টার এক্সেলেন্স ফেলোশিপের ২০২৭ সালের নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। বৃত্তির বিবেচনায় আসতে মাস্টার্সের প্রথম আবেদনপর্বে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা, ফি পরিশোধ ও আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে। পরে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন বিবেচিত হলেও এই ফেলোশিপের যোগ্যতা থাকবে না। বৃত্তিটিতে প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দেওয়া হয়, সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত। এটিকে সব খরচ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট হেনেসি স্কলার্সের ২০২৭ সালের আবেদন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকাশিত সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর। এই বৃত্তির পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামেও আলাদা আবেদন করতে হয়। অর্থাৎ বৃত্তিতে আবেদন করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পন্ন হয় না। ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ কোর্সে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের জন্য অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হয়। তবে এটি সব কোর্সের অভিন্ন সময়সীমা নয়। প্রতিটি মাস্টার্সের নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তির নির্দেশনা রয়েছে। জার্মানির ডাডকে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তি হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে, যার একটি হলো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের ইপস বৃত্তি। ইপসের আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কোর্স অনুযায়ী আলাদা। তাই ডাডের জন্য আগস্ট থেকে নভেম্বর কিংবা ইপসের জন্য আগস্ট থেকে মার্চকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সময়সীমা ধরা যাবে না। ফ্রান্সের আইফেল এক্সেলেন্স বৃত্তিতে শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস ফ্রান্সে আবেদন করেন না। ফরাসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আবেদন জমা দেয়। ২০২৭ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন জমার শেষ সময় ৬ জানুয়ারি। তবে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সময়সীমা এর আগেই হতে পারে। আইফেলের অর্থায়ন নিয়েও স্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। ক্যাম্পাস ফ্রান্স জানিয়েছে, বৃত্তি থেকে সরাসরি টিউশন ফি দেওয়া হয় না। তবে নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ডিগ্রিতে ফরাসি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য নিয়মে টিউশন ফি থেকে ছাড় পেতে পারেন। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সব কোর্সের খরচ একইভাবে মওকুফ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নেদারল্যান্ডসের এনএল স্কলারশিপকে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি বলা স্পষ্টতই ভুল। সরকারি উচ্চশিক্ষা তথ্যসেবা স্টাডি ইন এনএল জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনকারী বৃত্তি নয়। আবেদনের শেষ সময়ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যুক্তরাজ্যের গ্রেট স্কলারশিপও সব খরচ বহন করে না। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে এক বছরের নির্দিষ্ট পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্সের টিউশন ফিতে ১০ হাজার পাউন্ড সহায়তা দেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা। হাঙ্গেরির স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গারিকাম টিউশন ফি, ভাতা ও আবাসনসংক্রান্ত সহায়তা দিলেও আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই সুবিধা জীবনযাপনের সব খরচ মেটায় না। শিক্ষার্থীকে নিজের অর্থ থেকেও ব্যয় করতে হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির বাইরে থাকলে আবাসন সহায়তা দিয়ে পুরো ভাড়া মেটানো নাও যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডের গভর্নমেন্ট অব আয়ারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্কলারশিপের প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, এক বছরের জন্য ১০ হাজার ইউরো ভাতা ও ওই বছরের পূর্ণ ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডির পুরো সময়ের অর্থায়ন নয়। ফলে ডিগ্রির মেয়াদ বেশি হলে পরবর্তী সময়ের অর্থের ব্যবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যারেন্ডন বৃত্তিতে সাধারণত আলাদা আবেদন লাগে না। সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স বা ডিফিল কোর্সের ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারির অর্থায়নসংক্রান্ত সময়সীমার মধ্যে ভর্তি আবেদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে ধরে না নিয়ে নিজের কোর্সের নির্দিষ্ট তারিখ দেখা প্রয়োজন। কমনওয়েলথ মাস্টার্স ও পিএইচডি বৃত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের আবেদনপদ্ধতির পাশাপাশি মনোনয়নকারী সংস্থার প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হয়। কমনওয়েলথ শেয়ার্ড বৃত্তিতে আবার অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রার্থী বাছাই করে। তিনটি কর্মসূচিকে একই আবেদনপদ্ধতি বা সময়সীমার মধ্যে ফেলা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও সব পর্যায়ের জন্য অভিন্ন পূর্ণ বৃত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুল জানিয়েছে, অধিকাংশ মাস্টার্স শিক্ষার্থী সেখান থেকে আর্থিক সহায়তা পান না এবং নিজ দায়িত্বে টিউশন ফি দেন। পিএইচডির অর্থায়ন কাঠামো আলাদা। ফলে ‘ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ’ নাম দেখেই মাস্টার্সে পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত ধরে নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের যোগ্যতা। আন্তর্জাতিক বৃত্তি মানেই সব দেশের নাগরিক আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। যেমন বেলজিয়ামের ভিএলআইআর ইউওএসের আইসিপি কানেক্ট বৃত্তিতে নির্ধারিত দেশের নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত রয়েছে। তাই অর্থায়ন ও সময়সীমা দেখার আগেই নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বৃত্তির প্রস্তুতিতে তাই নামের তালিকার চেয়ে প্রয়োজন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের তথ্য। কোন ডিগ্রির জন্য সুযোগ, বাংলাদেশিরা যোগ্য কি না, অর্থায়ন কত বছরের, টিউশন ও জীবনযাপনের কতটুকু খরচ মিটবে এবং ভর্তি ও বৃত্তির জন্য পৃথক আবেদন লাগবে কি না, এসব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আনুমানিক মাসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির ধারণা দিতে পারে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার বিকল্প হতে পারে না।
সরকারি তিতুমীর কলেজের যে গণিত বিভাগে শিক্ষার্থী ছিলেন, বিসিএসের মাধ্যমে সেখানেই শিক্ষক হয়ে ফিরেছিলেন মো. আল আমীন মিয়া। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে গণিত ও পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রোগ্রামে পিএইচডি করছেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ অর্থায়নে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। গবেষণার বিষয় স্বচালিত রোবটের নিরাপদ ও কার্যকর চলাচলের পথ নির্ধারণ। ময়মনসিংহের ভালুকার ধলিয়া বহুলী উচ্চবিদ্যালয়ে আল আমীনের শিক্ষাজীবনের শুরু। এরপর পড়েছেন রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক শেষে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও পছন্দের বিষয় পাননি। গণিত পড়ার আগ্রহ থেকেই বেছে নেন ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ। আল আমীনের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই গণিতের কঠিন সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগত। দীর্ঘ চেষ্টার পর সমাধান খুঁজে পাওয়ার আনন্দ তাঁকে বিষয়টির প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। তাই উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতির চেয়ে নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ছাত্রজীবনে তাঁর লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হওয়া। বিসিএসের প্রস্তুতিতে রুমমেটের উৎসাহও ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় প্রকাশিত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প পড়তেন। অন্যদের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখতে সাহস জোগাত। ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন আল আমীন। সুযোগ পান নিজের পড়াশোনা করা তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগে শিক্ষকতার। কলেজের প্রকাশিত একটি অনাপত্তিপত্রের শিরোনামেও তাঁকে গণিত বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী হিসেবে চেনা বিভাগে শিক্ষক হয়ে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ। যাঁদের কাছে একসময় পড়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সেই শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণের নানা দিক শেখার সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষকতার সময় আল আমীন উপলব্ধি করেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও জরুরি। তাঁর ক্লাসে গণিত বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীরাও আসতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজের অভিজ্ঞতা বলতেন আল আমীন। বোঝানোর চেষ্টা করতেন, একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ না পাওয়াই ভবিষ্যতের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। নিজের বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং লক্ষ্য অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিতেন। শিক্ষকতা করতে করতেই গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ে তাঁর। বিশেষ করে গণিতের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, গাণিতিক অপটিমাইজেশন ও কম্পিউটেশনাল সায়েন্সের সম্পর্ক তাঁকে আকৃষ্ট করে। এসব বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। আল আমীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালি। বর্তমানে সেখানকার ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণায় গাণিতিক অপটিমাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করে স্বচালিত মোবাইল রোবটের চলাচলের পথ নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে রোবট যেন নিরাপদে ও দক্ষতার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। আল আমীনের মতে, গবেষণায় কোনো পদ্ধতি প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না দিলেই থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা, বিকল্প পদ্ধতি পরীক্ষা করা এবং ফলের ভিত্তিতে মডেল উন্নত করা গবেষণার নিয়মিত অংশ। এই প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও ধারাবাহিকভাবে কাজ করার অভ্যাস প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অর্থায়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং অভিজ্ঞ গবেষকদের দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ নতুন ধারণা পরীক্ষা করতে সহায়তা করে। বাংলাদেশে গণিত শিক্ষাকে গবেষণার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আল আমীন। এ জন্য স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সঙ্গে যৌথ কাজ বাড়ানো এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে গণিতের প্রয়োগ শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি। পিএইচডি শেষে গবেষণা চালিয়ে যেতে চান আল আমীন। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একসময় অন্যের সাফল্যের গল্প পড়ে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। এখন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে চান। সূত্র: পাবলিকিয়ান
জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লেন্সবুর্গ শহরে দোকানের জানালায় ইহুদিদের প্রবেশ নিষিদ্ধের নোটিশ টাঙানোর দায়ে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে শর্তসাপেক্ষে সাজা কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রবেশনের শর্ত হিসেবে তাঁকে লাডেলুন্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্মৃতিসৌধে এক হাজার ২০০ ইউরো দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফ্লেন্সবুর্গের স্থানীয় আদালত ১ জুন ২০২৬ এই রায় দেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম এনডিআর এবং আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেক আকটুয়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ওই দিন ব্যবসায়ী তাঁর দোকানের জানালায় প্রায় চার ঘণ্টা নোটিশটি দৃশ্যমান অবস্থায় রাখেন। পুলিশ আসার পর সেটি জানালা থেকে সরিয়ে নেন তিনি। আদালত তাঁকে বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই নোটিশ জার্মানিতে বসবাসরত ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিয়েছে এবং তাঁদের মানবিক মর্যাদায় আঘাত করেছে। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা পায় না বলেও আদালত জানান। বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী স্বীকার করেন, নোটিশটি তিনিই টাঙিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পড়ে শোনানো বিবৃতিতে তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেন এবং জানান, ইহুদি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। ভবিষ্যতে একই ধরনের কাজ করবেন না বলেও জানান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর পরিচিত ইহুদিদের সবাই ওই যুদ্ধের বিরোধিতা করেন না। পরে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত ছিল। আদালতে একজন তদন্তকারী জানান, ইসরায়েল বিষয়ে জার্মান সরকারের নীতিকে ওই ব্যবসায়ী দ্বিচারিতা হিসেবে দেখতেন। আদালত ঘটনাটিকে হঠাৎ আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নোটিশটি কম্পিউটারে তৈরি করে প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এর ভাষা সচেতনভাবে নাৎসি আমলে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ সাত মাসের স্থগিত কারাদণ্ড চেয়েছিল। আদালত ছয় মাসের সাজা দেন। ফলে রায়টিকে সরাসরি ছয় মাস কারাগারে পাঠানোর আদেশ বলা সঠিক নয়। কারাদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত রেখে প্রবেশনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার বোগোটা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাগামী ডেলটা এয়ার লাইনসের একটি ফ্লাইটে আসন বদল নিয়ে বিরোধের পর সান্তিয়াগো দাজা নামের এক যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, বিকল্প আসনটি কম আরামদায়ক হওয়ায় নিজের নির্ধারিত আসনে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়। অন্যদিকে ডেলটা জানিয়েছে, ক্রুদের নির্দেশনা না মানায় তাঁকে নামানো হয়েছিল। তবে কোন নির্দেশনা অমান্য করেছিলেন, তা স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি। ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর, বোগোটার এল দোরাদো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডেলটার ৯৮৩ নম্বর ফ্লাইট ছাড়ার আগে। দাজার আটলান্টা হয়ে অরল্যান্ডো যাওয়ার কথা ছিল। প্রায় এক মাস পর তাঁর ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দাজার ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারী যাতে তাঁর স্বামীর পাশে বসতে পারেন, সে জন্য একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তাঁকে আসন বদলের অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি রাজি হন। পরে বিকল্প আসনটি দেখে তাঁর মনে হয়, সেখানে জায়গা কম এবং সেটি তুলনামূলক অস্বস্তিকর। তখন তিনি নিজের নির্ধারিত আসনেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ক্রুদের সঙ্গে কথোপকথনের একাংশ ক্যামেরাযুক্ত মেটা স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করেন দাজা। কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে একজন ক্রুকে স্প্যানিশ ও ইংরেজিতে তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলতে শোনা যায়। পরে তাঁকে জানানো হয়, ক্যাপ্টেন তাঁকে উড়োজাহাজ থেকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে আশপাশের যাত্রীদের মধ্যেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। অন্যদিকে পাশের আসনের এক নারী তাঁর পক্ষে কথা বলেন। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে পুরো ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ নেই। ডেলটার বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রুদের নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই যাত্রীকে নামিয়ে পরবর্তী একটি ফ্লাইটে তাঁর ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। সংস্থাটি প্রকাশ্যে আসন বদল করতে অস্বীকৃতি কিংবা ভিডিও ধারণের কোনটি এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ ছিল, তা ব্যাখ্যা করেনি। দাজা জানিয়েছেন, পরে ডেলটা তাঁকে ১৫০ ডলারের ট্রাভেল ক্রেডিটের প্রস্তাব দেয়। তিনি তা গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাঁর দাবি, অর্থের চেয়ে কেন তাঁকে ফ্লাইট থেকে নামানো হয়েছিল, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তিনি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা জানিয়েছেন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাহেদ উর রহমান জানান, তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে লালনকে স্মরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান। স্কুলভিত্তিক কোনো কর্মসূচি রয়েছে কি না এবং শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই আগ্রহের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক, সেটিই চান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান বিশ্বে লালনের দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করে জাহেদ বলেন, নানা ধরনের পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। বর্ণ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া এসব বিভেদের বিপরীতে লালনের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লালন জাত, ধর্ম ও লিঙ্গসহ বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। মানুষের পরিচয়ের চেয়ে মানুষ হিসেবে তার মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বে অশান্তি ও বিভেদের যেসব কারণ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় লালনের দর্শন ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি কুষ্টিয়াকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশের প্রত্যাশা তুলে ধরেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা শেষে সাধুদের পরিবেশনায় লালনসংগীত পরিবেশিত হয়। সূত্র: নাগরিক টিভি
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, নার্স ও দক্ষ কারিগরি পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ছয় মাসের কোর্স করলেই এসব কাজে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৮০ ডলার আয় নিশ্চিত, এমন ধারণা সঠিক নয়। পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের বিএলএস প্রকাশিত মে ২০২৫ সালের জাতীয় মধ্যম বেতন ধরে নিচে ১০টি পেশার তুলনা তুলে ধরা হলো। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেতনের ১০ পেশার র্যাঙ্কিং নয়। উচ্চশিক্ষানির্ভর ও কারিগরি কয়েকটি পরিচিত পেশার আয় ও প্রবেশের যোগ্যতা বোঝানোই এই তুলনার উদ্দেশ্য। মধ্যম বেতন বলতে এমন অঙ্ক বোঝায়, যার চেয়ে অর্ধেক কর্মী বেশি এবং অর্ধেক কম আয় করেন। এটি নতুন কর্মীর শুরুর বেতন নয়। এখানে ঘণ্টাপ্রতি তুলনামূলক অঙ্ক বের করতে বার্ষিক মধ্যম বেতনকে বছরে ২ হাজার ৮০ কর্মঘণ্টা দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। ফলে অঙ্কগুলো আনুমানিক সমতুল্য হার, প্রত্যেকের বাস্তব ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি নয়। ফার্মাসিস্ট ফার্মাসিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এই পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্মেসি শিক্ষা ও লাইসেন্স লাগে। বিদেশে ফার্মেসি পড়লেই সরাসরি মার্কিন লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বোর্ডস অব ফার্মেসির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি স্নাতকদের লাইসেন্স পরীক্ষার আবেদন করার আগে এফপিজিইসি সার্টিফিকেশনের শর্ত পূরণ করতে হয়। সফটওয়্যার ডেভেলপার সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৫ দশমিক ৩৮ ডলার। এই বেতন সফটওয়্যার ডেভেলপারদের নির্দিষ্ট শ্রেণির তথ্য। সফটওয়্যার টেস্টার বা কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অ্যানালিস্টদের বেতন আলাদা। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে এই মধ্যম বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার নির্মাণ প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত কনস্ট্রাকশন ম্যানেজারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৫৫ দশমিক ২৮ ডলার। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বড় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রির পাশাপাশি নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেয়। ডেন্টাল হাইজিনিস্ট ডেন্টাল হাইজিনিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৮ হাজার ১০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৭ দশমিক ১৬ ডলার। তাঁরা মুখ ও দাঁতের রোগের লক্ষণ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক সেবা দেন। সাধারণত ডেন্টাল হাইজিনে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। কোন কাজ কতটুকু তত্ত্বাবধানে করা যাবে, তা রাজ্য ও কর্মস্থলভেদে আলাদা। রেজিস্টার্ড নার্স রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএনদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৬ দশমিক ৯০ ডলার। হাসপাতাল, আবাসিক পরিচর্যাকেন্দ্র ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বেতন ভিন্ন হয়। নার্সিং শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া এই পদে কাজ করা যায় না। জাতীয় মধ্যম বেতনের অঙ্ককে শুরুর বেতন বা ওভারটাইমসহ আয় হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটর অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটরদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৮৩ হাজার ৬৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪০ দশমিক ২৩ ডলার। সাধারণত অ্যাকাউন্টিং বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এই পেশাকে বুককিপিংয়ের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। বুককিপিং, অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং ক্লার্কদের পৃথক শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫০ হাজার ৬৭০ ডলার, ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩৬ ডলার। প্লাম্বার, পাইপফিটার ও স্টিমফিটার এই তিন ধরনের কাজের সম্মিলিত শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ৮০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৬৭ ডলার। ফলে এই অঙ্ক শুধু আবাসিক প্লাম্বারদের বেতন হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক হবে না। কাজ ও লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা বদলায়। কিছু রাজ্যে প্লাম্বিং কনট্রাক্টরের লাইসেন্স পেতে মাস্টার প্লাম্বারের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রিশিয়ান ইলেকট্রিশিয়ানদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ১৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৩৮ ডলার। বিএলএস অনুযায়ী, অধিকাংশ ইলেকট্রিশিয়ান চার থেকে পাঁচ বছরের অ্যাপ্রেন্টিসশিপের মাধ্যমে কাজ শেখেন। শিক্ষানবিশদের বেতন পুরোপুরি প্রশিক্ষিত কর্মীদের চেয়ে কম থাকে এবং দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে তা বাড়ে। এইচভিএসি টেকনিশিয়ান হিটিং, এয়ার কন্ডিশনিং ও রেফ্রিজারেশন যন্ত্র স্থাপন ও মেরামতের কর্মীদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬১ হাজার ১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৯ দশমিক ৩৩ ডলার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রম সাধারণত ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি হতে পারে। তবে শিক্ষাক্রম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় মধ্যম বেতন পাওয়া নিশ্চিত নয়। ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর ট্রেইলার চালক এই শ্রেণির চালকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৮ দশমিক ১৯ ডলার। এটিকে সব ট্রাকচালকের নির্ধারিত ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি হিসেবে ধরা যাবে না। একইভাবে অল্প কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে মাসে ছয় থেকে নয় হাজার ডলার আয় নিশ্চিত বলা জাতীয় মধ্যম বেতনের তথ্য দিয়ে সমর্থন করা যায় না। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, বেশি আয়ের পেশায় প্রবেশের পথও এক রকম নয়। কোনো পেশায় উচ্চশিক্ষা দরকার, কোনো পেশায় দীর্ঘ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, আবার কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি কোর্স দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করা যায়। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বেতনের পাশাপাশি আগের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা, প্রশিক্ষণের মোট খরচ, লাইসেন্সের শর্ত এবং স্থানীয় চাকরির সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি। জাতীয় মধ্যম বেতন ব্যক্তিগত চাকরির অফার নয়। রাজ্য, অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বভেদে প্রকৃত বেতন বদলাবে।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সল পার্লমুটারের সঙ্গে একই গবেষণাপত্রের সহলেখক হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল জামান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যয়নরত এই গবেষক লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি প্রকল্পের একটি গবেষণাপত্রে যুক্ত আছেন। ‘দ্য লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি: আর্কিটেকচার অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিজ’ শিরোনামের গবেষণাপত্রটি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাপত্রের প্রকাশিত প্রথম পৃষ্ঠায় অনলাইনে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ অক্টোবর ২০২৬। এতে পার্লমুটার ও আবদুল্লাহ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকের নাম রয়েছে। লেখক তালিকায় আবদুল্লাহর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের নাম দেওয়া হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে আবদুল্লাহ জানান, তিন বছর আগেও নোবেলজয়ী কোনো পদার্থবিজ্ঞানীর সঙ্গে গবেষণাপত্রের সহলেখক হওয়ার কথা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো। যে স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে তিনি কাজ করেছেন, সেটির গবেষণাপত্রে পার্লমুটারের পাশাপাশি নিজের নাম দেখে তিনি আনন্দিত। এই কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নিজের গবেষণা উপদেষ্টা অধ্যাপক ইয়ান জে. এম. ক্রসফিল্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, ক্রসফিল্ড তাঁদের এই কাজের উপযুক্ত মনে করেছিলেন বলেই প্রকল্পটিতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর সহকর্মী জেসন পেরোও গবেষণাপত্রটির সহলেখক। লাজুলি স্পেস অবজারভেটরি নিয়ে গবেষণাপত্রটিতে প্রস্তাবিত মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগারের প্রাথমিক নকশা ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। এটি তিন মিটার অ্যাপারচারের একটি টেলিস্কোপভিত্তিক প্রকল্প, যা দৃশ্যমান আলো থেকে নিকট অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য পরিকল্পিত। এর গবেষণার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত পরিবর্তনশীল মহাজাগতিক ঘটনা, নক্ষত্র ও গ্রহ এবং মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন। সৌরজগতের বাইরের গ্রহের ছবি ধারণ ও সেসব গ্রহের বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের সক্ষমতাও প্রকল্পটির পরিকল্পনায় রয়েছে। গবেষণাপত্রটি মূলত পর্যবেক্ষণাগারের নকশা ও সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে লেখা। আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত একাডেমিক পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে অধ্যাপক ক্রসফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এক্সোল্যাবে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে গবেষণা করছেন। এর আগে তিনি ঢাকার নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সল পার্লমুটার দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে, এমন আবিষ্কারের জন্য ২০১১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। একই আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে ব্রায়ান পি. স্মিট ও অ্যাডাম জি. রিসও ওই বছর পুরস্কৃত হন। এই অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত জীবনের স্মরণীয় অর্জন হিসেবে দেখছেন আবদুল্লাহ। পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যতে নাতি-নাতনীদের কাছে গল্পটি তিনি বাড়িয়ে বলবেন। এমন একটি গবেষকদলের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, পণ্য ও নগদ অর্থ মিলিয়ে সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে এসব দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবা দেওয়া হতো। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফরমেটিক, থ্রি জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি ডি ইনফরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধ রেখেও তাঁরা পণ্য ও নগদ অর্থ রক্ষা করতে পারেননি। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। জরুরি সহায়তার জন্য বারবার ফোন করেও পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি বলে দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর দোকানে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্য ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে লুটপাট চালানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এই ক্ষতির পর ব্যবসা আবার শুরু করার সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, তাঁর ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। দুটি দোকান মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন। আজিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দোকানের রিয়া মানি ট্রান্সফার কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠানেই লুটপাট হয়েছে এবং সহায়তা চেয়ে পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনের মতো মূল্যবান পণ্য এবং মানি ট্রান্সফারের নগদ অর্থ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির অঙ্ক বড় হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাঁদের উদ্বেগ, বন্ধ দোকানও নিরাপদ রাখা না গেলে বিনিয়োগ ও জীবিকা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে। সূত্র: কালের কণ্ঠ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। ১৬ অক্টোবর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দেয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। সেখানে তাঁকে শপথ করে অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জেনেশুনে ওই ঘোষণা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক, প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনা করে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের ক্রিমিনাল সেকশন মামলাটি পরিচালনা করছে। বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চৌধুরীকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
শরীরের চেহারা আমূল বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার হাতকে নখরের মতো রূপ দিতে আরও আঙুল অপসারণের কথা জানিয়েছেন। ‘দিয়াবাও’ নামে পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর দুই হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল আর নেই। ফলে প্রতিটি হাতে এখন শুধু বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা রয়েছে। শরীরের এই পরিবর্তনকে তিনি ‘দ্য ক্লজ’ বা ‘নখর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রাদ্দোর শরীর পরিবর্তনের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার আঙুলের অংশ অপসারণ করে হাতের আকৃতি বদলানোর উদ্যোগ নেন। সেই প্রকল্পের নাম দেন ‘লাস গারাস’, যার অর্থ নখর। সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য নিজের অনুপ্রেরণা ও শরীর পরিবর্তনের শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর প্রাইয়া গ্রান্দের বাসিন্দা প্রাদ্দো দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা ধরনের পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে উল্কি। দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন এবং কানের অংশ অপসারণসহ আরও নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। মাথায় শিংয়ের মতো ত্বকের নিচে স্থাপন করা বিশেষ ইমপ্ল্যান্টের সংখ্যার জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর মাথায় এ ধরনের ৩৩টি ইমপ্ল্যান্ট থাকার রেকর্ড যাচাই করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাদ্দোর অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। কেউ তাঁর নতুন রূপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আঙুল ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারও মতে, নিজের শরীর নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে; অন্যরা এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও তাঁর শরীর পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। প্রাদ্দোর এই ঘটনা শরীর পরিবর্তনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এমন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। হাতের আঙুল দৈনন্দিন কাজ, সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও বিভিন্ন জিনিস ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাদ্দোর সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর দৈনন্দিন কাজে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সূত্র: ইউপিএসওসিএল, নিড টু নো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
রাশিয়ায় বড় পরিবার গড়ে তোলা ও সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক মাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম-অধ্যুষিত দাগেস্তান অঞ্চলের ১২ সন্তানের জননী বুরলিয়াত মেজিদোভা। ২০২৬ সালের ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে মস্কোর ক্রেমলিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘মাদার হিরোইন’ বা ‘বীরমাতা’ পদক দেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দপ্তর ও সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় পরিবারগুলোর সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দাগেস্তানের দেরবেন্ট শহরের বাসিন্দা বুরলিয়াত মেজিদোভা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাত ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে বড় করছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়টির বয়স ১৭ বছর, আর ছোটটির জন্ম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া ‘বীরমাতা’ সম্মাননা দেশটিতে বহু সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের জন্য অন্যতম উচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাশিয়ায় ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে লালন-পালন করা নারীরা এই পদকের জন্য বিবেচিত হন। অনুষ্ঠানে শুধু দাগেস্তানের এই পরিবারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে সম্মানিত করা হয়। ‘বীরমাতা’ পদকের পাশাপাশি সাত বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী পরিবারগুলোকে ‘প্যারেন্টাল গ্লোরি’ বা ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক দেওয়া হয়। ক্রেমলিনের অনুষ্ঠানে মস্কো, পস্কভ, রোস্তভ, তিউমেন, নোভোসিবিরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চল এবং দাগেস্তান ও উত্তর ওসেটিয়ার পরিবারগুলো অংশ নেয়। রাশিয়ায় ‘বীরমাতা’ উপাধি ২০২২ সালে পুনরায় চালু করা হয়। এর আওতায় ১০ বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের বিশেষ পদক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। এ সম্মাননা পেতে হলে বাবা-মা বা দত্তক অভিভাবকদের অন্তত সাত সন্তানকে লালন-পালন করতে হয় এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে হয়। দাগেস্তানের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবার রয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বড় পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে মায়েদের অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। রুশ সরকারও জন্মহার বাড়ানো এবং পরিবারকেন্দ্রিক নীতি এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে উৎসাহিত করে আসছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার পাশাপাশি এসব পরিবারের জন্য সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্র: দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে স্থায়ী প্রতিনিধি দপ্তর, ভেদোমস্তি।
বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া। যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
উচ্চগতির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন একটি টর্পেডোর পানির নিচে পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জ্যাম-২.০’ নামের এই অস্ত্র শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং সেদিকে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত গতি, পাল্লা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে। তাদের ভাষ্য, টর্পেডোটির চালনা ব্যবস্থা ও রকেটচালিত প্রপালশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তির ওপর ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানোর পর সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একে নৌবাহিনীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পরীক্ষার স্থান, অস্ত্রটির কার্যকর পাল্লা কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্যাম-২.০ এমন এক ধরনের টর্পেডো হতে পারে, যা পানির নিচে চলার সময় নিজের সামনের অংশে বায়ুর বুদ্বুদ তৈরি করে পানির বাধা কমায়। এ প্রযুক্তিকে ‘সুপারক্যাভিটেশন’ বলা হয়। এর ফলে প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলা সম্ভব হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্রটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়েছে, সে বিষয়েও পিয়ংইয়ং কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার ইতিহাস রয়েছে বলে মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে সফটওয়্যারের উন্নতি সম্ভব হলেও পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা ও নির্ভুলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে দেশটির দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সক্ষমতা হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনে সক্রিয় হয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিন বছর পর পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ফেরার এই ঘটনাকে দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বৈরী নীতি প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন টর্পেডো পরীক্ষার দাবি এমন এক সময় সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সহায়তা পেতে পারেন। কর্মসূচি দুটি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে। টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচিতে যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। দুই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যতা অর্জন করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির অর্থ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন। তবে দুটি কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে হলে আবেদনকারীকে উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। সিআরএ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এলাকার ভেতরে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের মধ্যে বাড়ি হলেই সহায়তা পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট সিআরএ এলাকার সীমানার মধ্যে পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ কর্মসূচিতেও পরিবারের আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য। পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০ দশমিক ০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আয় হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। আয় ৮০ দশমিক ০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং ১২০ দশমিক ০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে আয়সীমার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। এই সহায়তাকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মসূচিগুলোর আওতায় সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখে বসবাস করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন বা বসবাসসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সহায়তার অর্থ ও কর্মসূচির তহবিলের প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অথবা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
চীনে পড়াশোনায় আগ্রহ হারানো ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবনের বাস্তবতা বোঝাতে খাবার বিক্রির কাজে যুক্ত করেছিলেন তার মা। উদ্দেশ্য ছিল, কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জনের অভিজ্ঞতা থেকে ছেলে পড়াশোনার গুরুত্ব বুঝতে পারবে। কিন্তু ঘটল উল্টোটা। মাত্র ১০ দিনে ১০ হাজার ইউয়ান, অর্থাৎ তৎকালীন হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের বিক্রি করার পর কিশোরটি পড়াশোনা ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। শেন নামের ওই কিশোর চীনের পূর্বাঞ্চলের একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রন্ধনশিল্প বিষয়ে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে। এ নিয়ে মা ডেংয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সে জানায়, পড়াশোনা তার কাছে অর্থহীন মনে হচ্ছে এবং সে আর স্কুলে যেতে চায় না। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে রাস্তার পাশে ভাজা মুরগি বিক্রি করছিলেন ডেং। ছেলেকে কাজের বাস্তবতা বোঝাতে তিনি তাকে খাবার বিক্রির অভিজ্ঞতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে ডেং বলেন, ছেলে পড়াশোনার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইছিল না। তাই তিনি চেয়েছিলেন, সে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুক এবং বুঝতে পারুক অর্থ উপার্জন সহজ নয়। মায়ের সহায়তায় শেন একটি বৈদ্যুতিক সাইকেল পরিবর্তন করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান তৈরি করে। এরপর দ্রুতই কাজে নেমে পড়ে সে। মায়ের ধারণা ছিল, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে ছেলে হয়তো পড়াশোনায় ফিরে আসার কথা ভাববে। শেনের প্রতিদিনের কর্মসূচি ছিল বেশ পরিশ্রমের। সকাল ৯টা থেকেই খাবার তৈরির প্রস্তুতি শুরু করত সে। বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিক্রির জায়গায় পৌঁছে রাতভর খাবার বিক্রি করত। অনেক দিন রাত ৩টার দিকে বাড়ি ফিরত সে। এই পরিশ্রমের মধ্যেই মাত্র ১০ দিনে তার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা সে সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলারের সমান। ডেং ছেলের এই সাফল্যের পেছনে তার পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এই অঙ্কটি বিক্রির পরিমাণ, নিট মুনাফা নয়। এত দ্রুত সাফল্য পাওয়ার পর শেনের লক্ষ্য এখন ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত অর্থ জমিয়ে একটি বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান কেনা। ডেং বলেন, ছেলে অত্যন্ত পরিশ্রমী। কাজের প্রতি তার এতটা আগ্রহ তৈরি হবে, তা তিনি আগে ভাবেননি। তবে ছেলের এই সাফল্যই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে তোলে। ডেং বারবার তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেং জানান, ১৭ বছর বয়সী একজন কিশোরের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থাকে। অভিভাবক হিসেবে তাঁরা কেবল তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। তাঁর কাছে ছেলের সুস্থতা ও সুখী জীবন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে যেন নিজের পছন্দের জীবন গড়তে পারে, সেই সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে তাকে বেআইনি কোনো কাজে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে পথনির্দেশনা দেওয়াও নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন ডেং। ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, জীবনে সফল হওয়ার একমাত্র পথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়; পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলে কোনো দক্ষতা অর্জন করে জীবিকা গড়াও একটি বিকল্প হতে পারে। অন্যরা ডেংয়ের ছেলের মতামতকে সম্মান করার প্রশংসা করেন। চীনে পড়াশোনায় ভালো ফলের জন্য সন্তানদের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগকারী অভিভাবকদের বোঝাতে ‘টাইগার মাদার’ ও ‘উলফ ফাদার’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ডেংয়ের অবস্থানও আলোচনায় আসে। তবে অল্প সময়ে ব্যবসায় ভালো বিক্রি হওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে পড়াশোনা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন পরস্পরের বিকল্প না হয়ে একে অন্যের পরিপূরকও হতে পারে। শেনের ঘটনা একদিকে কিশোরটির ব্যবসায়িক আগ্রহ তুলে ধরেছে, অন্যদিকে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের ভূমিকা সম্পর্কেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য স্টার।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামীণ সড়কের পাশে পরিত্যক্ত দুটি স্যুটকেস থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৪ সালের জুনে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান পার্শ্ববর্তী মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। নিখোঁজ এক নারীর সন্ধান, অনলাইন পরিচয়ের সূত্র এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফল শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা স্টিভেন জেলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই নারীকে হত্যার দায়ে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি নিয়ে এবিসি নিউজের ‘২০/২০’ অনুষ্ঠানে নতুন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উইসকনসিনের ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে স্যুটকেস দুটি পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। একটি স্যুটকেস খুলে তাঁরা দড়ি দিয়ে বাঁধা এক নারীর পচনধরা মরদেহ দেখতে পান। দ্বিতীয় স্যুটকেসে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর আরেক নারীর মরদেহ ছিল। তীব্র পচনের কারণে ঘটনাস্থলেই পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের সামনে তখন তিনটি বড় প্রশ্ন ছিল, নিহত নারীরা কারা, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এবং এর জন্য কে দায়ী। পরে তদন্তের সূত্র ধরে মিনেসোটায় নিখোঁজ এক নারীর ঘটনার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। মিনেসোটার ফার্মিংটন পুলিশ তখন ৩৭ বছর বয়সী লরা সিমনসনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি নিজের মায়ের বাড়ির সামনে একটি গাড়ি রেখে নিখোঁজ হন। গাড়ির ভেতরে তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ, ওষুধ এবং গাড়ি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে মায়ের জন্য লেখা একটি নোট পাওয়া যায়। ওই বছরের শুরুতে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন। তবে শৈশবের বন্ধু ক্রিস্টিন স্কাউটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের ছয় সন্তানকে ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না লরা। এ কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়াকে ঘিরে পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে এবং পুলিশ রাজ্যজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করে। তদন্তে একটি হোটেলের কর্মীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই কর্মী পুলিশকে জানান, লরা কয়েক সপ্তাহ আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে এসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল বলে জানান তিনি। হোটেলের নিবন্ধনপত্রে লরার স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও তাঁদের প্রবেশের সময়কার নজরদারি ভিডিও সংরক্ষিত ছিল না। তবে হোটেল ছাড়ার সময়ের ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে একা চলে যেতে দেখা যায়। পরে লরার এক বন্ধু পুলিশকে জানান, তিনি অনলাইনে একটি বিশেষ ধরনের প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কভিত্তিক ডেটিং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘মিস্টারহ্যান্ডকাফস’ নামের একটি পরিচয় ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অনুসন্ধান চালিয়ে বন্ধুটি ওই পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তির নাম জানতে পারেন, তিনি স্টিভেন জেলিচ। জেলিচের পরিচয় সামনে আসার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি মিলওয়াকি এলাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০১ সালে ওয়েস্ট অ্যালিস পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। এর আগে নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানি করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যদিও তিনি কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে লরার বিষয়ে খোঁজ নেয়, কিন্তু তখন নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে এফবিআই ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য পুলিশ তদন্তে যোগ দেয়। ২০১৪ সালের মার্চে জেলিচের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং তিনি স্বেচ্ছায় ডিএনএ নমুনা দেন। তবে লরার সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের জুনে উইসকনসিনে স্যুটকেস দুটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে। একটি মরদেহের গোড়ালিতে হৃদয় আকৃতির নকশা এবং তাঁর প্রয়াত মেয়ে অ্যালিসার নাম লেখা একটি বিশেষ উল্কি দেখে তদন্তকারীরা লরা সিমনসনের পরিচয় শনাক্ত করেন। অন্য মরদেহের সঙ্গে বাঁধা দড়ি থেকে পাওয়া ডিএনএর নমুনা জেলিচের নমুনার সঙ্গে মিলে যায়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দুই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। দ্বিতীয় নারী ছিলেন ওরেগনের কটেজ গ্রোভের ১৯ বছর বয়সী জেনি গেমেজ। তদন্তকারীদের কাছে জেলিচ দাবি করেন, অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গেমেজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাস সীমিত করার এক যৌন আচরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। একইভাবে লরার মৃত্যুকেও দুর্ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি। জেলিচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেমেজের মরদেহ তিনি এক বছরেরও বেশি সময় নিজের ফ্রিজে রেখেছিলেন। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে লরার মৃত্যুর পর দুই নারীর মরদেহ গাড়ির ট্রাঙ্কে সরিয়ে নেন। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে গাড়ির কাছ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসার কথা এক সহকর্মী উল্লেখ করেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি মরদেহ দুটি স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের জানান। দুই নারীকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গোপন করার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৬ সালে গেমেজের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যার দায় এবং মরদেহ গোপনের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জেলিচ। এ ঘটনায় তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কারামুক্তির পর ১০ বছরের তত্ত্বাবধানের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে লরার মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায় স্বীকার করলে তাঁকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ালওর্থ কাউন্টিতে মরদেহ গোপনের আরও দুটি অভিযোগে অতিরিক্ত ১০ বছরের সাজাও পান তিনি। আদালতের রায়ে মামলার আইনি নিষ্পত্তি হলেও দুই নারীর পরিবার এখনো তাঁদের হারানোর শোক বহন করছে। জেনি গেমেজের পালক বোন আমান্ডা দুরন বলেন, কাছের কাউকে হারালে জীবন আর আগের মতো থাকে না, সব সময় মনে হয় কোনো একটি অংশ অনুপস্থিত। অন্যদিকে লরার বোন নিকি কার্লসন জানিয়েছেন, প্রতিদিনই তিনি বোনের কথা ভাবেন এবং তাঁকে মিস করেন। তদন্তে অনলাইন পরিচয়, হোটেলের নথি, উল্কির মতো শারীরিক চিহ্ন এবং ডিএনএ প্রমাণ একত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ঘটনাটি দেখিয়েছে, একটি নিখোঁজের তদন্ত ও আরেকটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদন করা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (এনভিসি) থেকে কেস খোলার চিঠি পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই চিঠি পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদন বা সাক্ষাৎকারের তারিখ নিশ্চিত হওয়া নয়। সম্প্রতি একজন পাঠকের পাঠানো ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের এমন একটি চিঠিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) থেকে অনুমোদিত অভিবাসন পিটিশন পাওয়ার পর এনভিসি আবেদনকারীর নামে একটি কেস তৈরি করেছে। এরপর আবেদনকারীকে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস কোনো অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন করলে নির্দিষ্ট ধরনের আবেদন এনভিসিতে পাঠানো হয়। সেখানে কেস তৈরি হওয়ার পর আবেদনকারীকে কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি দিয়ে অনলাইনে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে হয়। এরপর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ, অভিবাসী ভিসার আবেদনপত্র পূরণ এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ধাপ আসে। পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসন, চাকরি বা পেশাগত যোগ্যতা এবং নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মতো বিভিন্ন বৈধ পথে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি শ্রেণির যোগ্যতা, নথিপত্র ও অপেক্ষার সময় আলাদা। তাই কোনো আবেদনকারীর হাতে এনভিসির চিঠি থাকলেই তিনি কোন শ্রেণিতে আবেদন করেছেন বা তাঁর ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনকারীর প্রথম কাজ হলো কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (সিইএসি) প্রবেশ করে কেসের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা। সেখানে ফি পরিশোধ, ডিএস-২৬০ আবেদনপত্র পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার অবস্থা দেখা যায়। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে এনভিসি সংশোধন বা অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে। সাধারণত সরকারি নির্দেশনায় আলাদাভাবে বলা না থাকলে মূল কাগজপত্র ডাকযোগে এনভিসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনীয় ফি, আবেদনপত্র ও নথি জমা দেওয়ার পর এনভিসি সেগুলো পর্যালোচনা করে। সব প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণযোগ্য হলে আবেদনকারীকে জানানো হয় যে তাঁর কেস নথিপত্রের দিক থেকে সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া আর সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়া এক বিষয় নয়। ভিসার ধরন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর সাক্ষাৎকার নির্ধারণ নির্ভর করে। পাঠকের পাঠানো চিঠিটির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৩। ফলে শুধু এই নোটিশ দেখে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবেদনকারীকে অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং এনভিসির কোনো বার্তা, নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা কিংবা সাক্ষাৎকারের নোটিশ এসেছে কি না, তা দেখতে হবে। দীর্ঘদিন কোনো অগ্রগতি না থাকলে এবং অনলাইন তথ্য থেকে উত্তর না পাওয়া গেলে এনভিসির নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কেস সম্পর্কে জানতে চাওয়া যেতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি নিরাপদে রাখা জরুরি। এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যায়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠির ছবি প্রকাশ করার সময় বারকোড, কেস নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য আড়াল করা উচিত। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি এক নয়। তাই কেস খোলার চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, কেসের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে।
শীতের ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ। তবে বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁদের বড় একটি অংশ। ওয়ালেটহাবের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মূল্যস্ফীতির কারণে এ শীতে তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। জরিপে অংশ নেওয়া এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ জানিয়েছেন, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের খরচ তাঁদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করে। ছুটির মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি, বিমানভাড়া ও হোটেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণের বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে মাসিক মূল্যবৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এ সময় জ্বালানির দাম এক মাসে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাবগুলোর একটি। এর প্রভাব পড়ছে গাড়িতে ভ্রমণের খরচ থেকে শুরু করে বিমানভাড়া ও অন্যান্য পর্যটনসেবার ব্যয়েও। বিমানভাড়ার ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানভাড়া ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হোটেলের দাম মাসিক হিসাবে ২ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে শীতের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া কিংবা অন্য শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচ একসঙ্গে সামলাতে হয়, তাঁদের বাজেটের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের জন্য ঋণ নেওয়াও সার্থক হতে পারে। তবে ভ্রমণের খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার পরিণতি সবার জন্য এক রকম নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৩০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময়ও তাঁদের গত শীতের ভ্রমণসংক্রান্ত ঋণ বাকি থাকবে। চলতি বছর ভ্রমণে কতটা ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, গত বছরের মতোই খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, ৩৩ শতাংশ মনে করছেন, এবার তাঁদের ব্যয় আরও বাড়বে। বাড়তি খরচ সামাল দিতে বিভিন্ন আর্থিক কৌশলের কথাও জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। প্রায় ৩৪ শতাংশ বলেছেন, সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তাঁরা নতুন ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, ৫৭ শতাংশ ছুটির ভ্রমণের ব্যয় কমাতে ক্রেডিট কার্ডে জমা হওয়া পুরস্কার বা সুবিধা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বুকিংয়ের পুরো দায়িত্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ছেড়ে দিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জরিপে মাত্র ৩৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বুকিং করাতে রাজি। ওয়ালেটহাবের জরিপের ফলাফল বলছে, শীতের ছুটিতে ভ্রমণের আগ্রহ থাকলেও খরচ নিয়ে উদ্বেগ অনেকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, ভ্রমণের আগে যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচের হিসাব করা এবং বিভিন্ন বিকল্পের দাম তুলনা করা বাজেট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মতামত পুরো মার্কিন জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার প্রতিফলন কি না, তা মূল্যায়নের জন্য জরিপের নমুনা ও পদ্ধতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: ওয়ালেটহাব, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
চিলির পেশাদার নারী বডিবিল্ডার মারিয়ানে ফন গিয়েরকে ৪০ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত ১৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় ফিটনেস প্রতিযোগিতা ফেলিপে ফিরেরো ক্ল্যাসিক। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিস্টার অলিম্পিয়া প্রতিযোগিতার নারী ফিজিক বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় ১৩তম স্থান অর্জন করেন এই অ্যাথলেট। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য নেই। মারিয়ানের মৃত্যুর খবর জানিয়ে ফেলিপে ফিরেরো ক্ল্যাসিকের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং মিস্টার অলিম্পিয়ার মঞ্চে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার জন্য তাঁকে স্মরণ করা হবে। নারী ফিজিক বিভাগে তাঁর অর্জন এবং এই খেলায় অন্যদের অনুপ্রাণিত করার বিষয়টিও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। আয়োজকেরা তাঁর পরিবার, স্বজন, বন্ধু এবং শোকাহত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, মারিয়ানের পরিশ্রম, দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার ও অর্জন ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে। সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডট এইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মিস্টার অলিম্পিয়ায় নারী ফিজিক বিভাগে ১৩তম হওয়ার আগে ২০২৪ সালেও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন মারিয়ানে। সেবার তিনি ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে অ্যারিজোনায় অনুষ্ঠিত রাইজিং ফিনিক্স প্রো প্রতিযোগিতায় নারী ফিজিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ক্লারিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের কাছ থেকে বিরল পূর্ণ নম্বরের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মারিয়ানে। সেই জয়ের সুবাদেই মিস্টার অলিম্পিয়ার সর্বশেষ আসরে সরাসরি অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবার ছিল মারিয়ানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ক্লারিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তিনি ১১ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ১০ বছরের জীবনসঙ্গী হুয়ান কোফ্রে গার্সিয়াকে রেখে গেছেন। মৃত্যুর তিন দিন আগে জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেখানে মারিয়ানে লিখেছিলেন, প্রতিটি প্রতিযোগিতার পেছনে এমন অনেক পরিশ্রম থাকে, যা ছবিতে দেখা যায় না। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক সমর্থন, মনস্তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা, আর্থিক বিনিয়োগ, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং খেলাকে ঘিরে সাজানো জীবনযাপন। সেই বার্তায় জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মারিয়ানে বলেন, কঠিন সময়েও তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। নিজের আবেগ ও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার কারণে পুরো যাত্রা আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পেশাদার বডিবিল্ডিংয়ে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, কঠোর অনুশীলন ও ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়টিও উঠে আসে। তবে মারিয়ানের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার, প্রতিযোগিতার আয়োজক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ক্লারিন ও নিউজ ডটকম ডট এইউ।