জেন–জি থেকে জেনারেশন আলফা: মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ!

মো: ইসমাইল হোসেন

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

জানুয়ারী ২৯, ২০২৬
মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ!

মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ!

মাদক আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন বা গোপন সমস্যা নয়। এটি একটি গভীর সামাজিক ব্যাধি, যা নীরবে অথচ নির্মমভাবে আমাদের সমাজের শিকড়ে আঘাত করছে। একসময় যাকে আমরা দূরের কোনো অন্ধকার জগতের গল্প বলে মনে করতাম, আজ তা আমাদের ঘরেই, আমাদের আশপাশেই ভয়ংকর বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। এমন কোনো সমাজ, পাড়া কিংবা পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর—যেখানে মাদকের ছায়া পড়েনি।

 

নিজেদের আমরা জেনারেশন জেট বলে পরিচয় দিই—প্রযুক্তিতে অগ্রসর, চিন্তায় আধুনিক। কিন্তু এই আধুনিকতার আড়ালে একটি বড় অংশ আজ মাদকের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। আর যদি এখনই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে অচিরেই জেনারেশন আলফাও একই অন্ধ পথে পা বাড়াবে—যা জাতির জন্য অশনিসংকেত।

 

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির শরীর ধ্বংস করে না; এটি ধ্বংস করে স্বপ্ন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ। একটি জাতিকে পঙ্গু করে দিতে এর বেশি আর কিছু লাগে না। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশ ধীরে ধীরে এমন এক অদৃশ্য ধ্বংসের দিকে এগোবে, যার ক্ষত সারাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেগে যাবে।

 

আজকের বাংলাদেশে মাদক আর কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শহরের অলিগলি, বস্তি, ফুটপাত, রেলস্টেশন—সবখানেই এর অবাধ বিচরণ। সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এই সর্বনাশা নেশার শিকার এখন আর শুধু যুবক বা বয়স্করা নয়; শিকার হচ্ছে কোমলমতি পথশিশুরাও।

 

রাজধানীর গুলিস্তান, কমলাপুর, খিলগাঁও, তেজগাঁও, রামপুরা কিংবা নতুনবাজার এলাকায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আট থেকে পনেরো বছর বয়সী শিশুরা ফুটপাতে বসে পলিথিনে ভরা আঠালো তরল নাকে-মুখে ঢুকিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য ভুলে থাকতে চায় ক্ষুধা, যন্ত্রণা ও নির্মম বাস্তবতা। এই নেশার নাম—ড্যান্ডি। 

 

ড্যান্ডি মূলত ডেনড্রাইট অ্যাডহেসিভ—একটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত আঠা। এর মিষ্টি ঘ্রাণ ক্ষণস্থায়ী এক ধরনের সুখানুভূতি সৃষ্টি করলেও এর পরিণতি মারাত্মক। ধীরে ধীরে নষ্ট হয় মস্তিষ্কের কোষ, দেখা দেয় মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও আচরণগত বিপর্যয়। শিশুরা হয়ে ওঠে উদাসীন, আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রণহীন।

 

এই শিশুরা অধিকাংশই জন্ম থেকেই পথে, অথবা পারিবারিক নির্যাতন, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরছাড়া। সারাদিন ভাঙারি কুড়িয়ে একবেলা খাবার জোটে, আর বাকি অর্থ ব্যয় হয় নেশায়। তাদের এই অসহায়তাকে পুঁজি করে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট—যেখানে ভাঙারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মাদক সরবরাহকারীরা জড়িত।

 

উদ্বেগজনকভাবে, একসময় যে মাদক কেবল টোকাই শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোরদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। সহজলভ্যতা, কৌতূহল, মানসিক চাপ, বন্ধুদের কুপ্রভাব—সব মিলিয়ে মাদক আজ একটি প্রজন্মকেই গ্রাস করছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে যুক্ত। অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অথচ এই তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি—দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি। মাদকের ছোবলে পড়ে তারা হারাচ্ছে কর্মক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।

 

সবচেয়ে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—অনেক অভিভাবকই জানেন না, তাঁদের সন্তান ঘরের বাইরে কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে। এই অসচেতনতার সুযোগেই মাদক ঢুকে পড়ছে জীবনে। অথচ মাদক প্রতিরোধের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র পরিবার। সন্তানকে শাসন নয়—বন্ধু হয়ে বোঝাতে হবে। সময় দিতে হবে, কথা শুনতে হবে, পাশে থাকতে হবে।

 

মাদক প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ—সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল ও কলেজে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

 

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। কিন্তু যদি এই কর্ণধারদের হাতেই তুলে দেওয়া হয় মরণনেশা, তবে দেশের ভবিষ্যৎ কীভাবে আলোকিত হবে?

এখনই সময় জাগ্রত হওয়ার। এখনই সময় এই নীরব হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে দৃঢ় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। আজ যদি আমরা দায়িত্ব নিই, তবে আগামীকাল হয়তো একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অন্যথায় ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না—কারণ আমরা জেনেও নীরব থেকেছি।

0 Comments

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি -ফাইল ফটো।
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: সৌদি আরবের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ইরানের

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৫, ২০২৬ 0