আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১২, ২০২৬ ০:১০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই দেশটিতে ইচ্ছেমতো থাকা যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে স্পষ্ট করেছে ইউএস এম্বেসী অফ ঢাকা। সাম্প্রতিক এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ নয়, বরং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়, অনেকেই মনে করেন ভিজিটর ভিসার মেয়াদ যতদিন থাকে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বৈধ। তবে বাস্তবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ভ্রমণকারীর থাকার অনুমোদিত সময় নির্ধারণ করে দেন, যা ভিসার মেয়াদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

 

দূতাবাস আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নির্ধারিত সময় উল্লেখ থাকে ফর্ম আই-৯৪।এই ফর্মে থাকা এডমিট ইউনিট ফর্ম অনুযায়ী একজন ভ্রমণকারী কতদিন দেশে থাকতে পারবেন, তা নির্ধারিত হয়।

 

ভ্রমণকারীদের সতর্ক করে দূতাবাস বলেছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে ভবিষ্যতে ভিসা পেতে জটিলতা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

 

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অনলাইনে আই-৯৪ ফর্ম যাচাই করে নিজের অনুমোদিত থাকার সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই এই তথ্য জানা সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণকারীদের জন্য এই নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
পারিবারিক বাড়ি কেনায় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ দিয়ে মার্কিন আইন পাস। ছবি: সংগৃহীত
পারিবারিক বসতবাড়ি কিনতে বড় বিনিয়োগকারীদের লাগাম টানতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক বসতবাড়ি কেনায় বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ির মালিক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আর অতিরিক্ত বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে আবাসনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।   নতুন বিধানটি ২১ শতক রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এর অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এক নির্বাহী আদেশে ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মালিকানায় ৩৫০ বা তার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে ইতিমধ্যে তাদের মালিকানায় থাকা বাড়ি বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা নেই।   সম্পত্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোটালিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পারিবারিক বসতবাড়ির মাত্র ০.৬৬ শতাংশ বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আইনের প্রভাব সীমিতই থাকবে। উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল সাইলার বলেন, এই আইন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুযোগ বাড়াতে পারে, তবে উচ্চ সুদের হার, আবাসনের ঘাটতি, নির্মাণ ব্যয় এবং জোনিং-সংক্রান্ত জটিলতার মতো বড় সমস্যাগুলোর সমাধান এটি করতে পারবে না।   মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ ভাড়াবাড়ির মালিকই ছোট আকারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী। নতুন আইন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে আটলান্টাসহ সান বেল্ট অঞ্চলের কয়েকটি শহরে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় তারা অতীতে নগদ অর্থে বাড়ি কিনে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান নতুন বাড়ি কেনার বদলে বিদ্যমান সম্পত্তি বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে। রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিয়েলটর ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় বড় বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।   ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাজেয়াপ্ত বাড়ি কম দামে কিনে ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কম সুদের সুযোগে তারা আবারও ব্যাপক হারে বাড়ি কিনতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, এতে সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় আবাসনের দাম ও ভাড়া বেড়ে যায়। তবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা ভাড়াটেদের জন্য বিকল্প আবাসনের সুযোগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১১:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড অননুমোদিত অভিবাসনের প্রভাবে বাড়ল ফ্ল্যাট ভাড়া ও বাড়ির দাম; ডালাস ফেডের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনের কারণে বাড়ছে বাড়িভাড়া ও ফ্ল্যাটের দাম

দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ নিষ্পত্তিতে ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক রায়ের প্রতি আবারও সমর্থন জানাল ১৪ দেশ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবিকে অবৈধ বলল যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪ দেশ

ডাটা সেন্টারের কারণে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রামীণ টেক্সাস আইনসভার পদক্ষেপের দাবি। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে মুখোমুখি দুই রিপাবলিকান নেতা

শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস এলাকার একটি গলির আবর্জনার পাত্র থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
শিকাগোয় আবর্জনার পাত্র থেকে নারীর গলিত লাশ উদ্ধার, এলাকায় রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস কমিউনিটি এলাকার একটি গলি থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ওয়েস্ট ৫৪ নম্বর স্ট্রিটের ৭০০ ব্লকের পেছনে এবং এমেরাল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতর থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারকৃত লাশটিতে ইতিমধ্যে পচন ধরেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই নারীর পরিচয় কিংবা কীভাবে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি।   এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ওয়েন্টওয়ার্থ এলাকার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:৭
ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ায় লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের জ্বালানি খরচ এক দফায় ৩০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চরম সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা

শিকাগোর ওয়েস্ট সাইডে খোলা জায়গায় থাকা ১৪ বছরের কিশোরের ওপর গুলি; এলাকা জুড়ে আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোর সাউথ অস্টিনে ১৪ বছরের এক কিশোরকে একাধিক গুলি, তদন্তে পুলিশ

৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদোর মৃত্যুর জেরে উত্তাল হিউস্টন; ইউনিয়ন কার্যালয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতকে স্মরণ। ছবি: সংগৃহীত

"আজ আমেরিকান হয়ে কষ্ট হচ্ছে", আইসিইর গুলিতে নিহত অভিবাসীকে ঘিরে হিউস্টনে শোকের ঢল

ত্বকের ক্যান্সারের আক্রান্ত মেয়ের ছবি সংগৃহীত
ব্রণ ভেবে ছয় বছর অবহেলা, শেষে ধরা পড়ল ত্বকের ক্যানসার; মুখের ছোট দাগ থেকেই মিলল ভয়াবহ সত্য

মুখে ছোট একটি ফুসকুড়ি দেখে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি যুক্তরাজ্যের কেন্টের গ্রেভসেন্ড এলাকার বাসিন্দা জ্যাকি ব্লোর। ছয় বছর ধরে সেটিকে সাধারণ একটি ত্বকের সমস্যা ভেবেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সেটি আসলে ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন ‘বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি)’।   নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যাকি জানান, দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রথম মুখে ছোট সাদা দানার মতো একটি দাগ দেখতে পান। তিনি ধারণা করেছিলেন এটি ‘মিলিয়া’—কেরাটিন জমে ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর নয় এমন ছোট সিস্ট।   তবে সময়ের সঙ্গে দাগটি না সেরে বরং মাঝেমধ্যে রক্তপাত শুরু করে এবং উপরে খোসা পড়তে থাকে। কখনোই পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।   প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসক জানান, এটি বেসাল সেল কার্সিনোমা হতে পারে। পরে দাগটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে বায়োপসি করা হলে সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়।   জ্যাকি বলেন, স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খুব অল্প সময়েই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তার মুখে চারটি সেলাই লেগেছিল এবং এখন ক্ষতটি ভালোভাবে সেরে গেছে। কেবল ছোট একটি দাগ রয়ে গেছে।   নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সতর্ক করতে প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, নতুন কোনো দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে, বিশেষ করে সেটি যদি রক্তপাত করে বা দীর্ঘদিনেও না সারে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা না করালে ক্যানসারটি ত্বকের গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তখন আরও জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, বেসাল সেল কার্সিনোমা হলো ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার। সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি বা ট্যানিং বেডের কারণে ত্বকের বেসাল কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ক্যানসার তৈরি হতে পারে। বিশ্বজুড়ে নন-মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের প্রায় ৮০ শতাংশই এই ধরনের।   বেসাল সেল কার্সিনোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তোর মতো চকচকে ছোট দানা, এমন ক্ষত যা দীর্ঘদিনেও সারে না, লালচে খসখসে দাগ অথবা মোমের মতো শক্ত দাগ। এগুলো সাধারণত শরীরের সেই অংশে দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো পড়ে।   সাধারণভাবে এই ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে চিকিৎসা না করালে এটি আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিছু বিরল ধরনের বেসাল সেল কার্সিনোমা তুলনামূলক দ্রুতও ছড়াতে পারে। দ্রুত আকার বৃদ্ধি, অস্পষ্ট সীমানা, দীর্ঘদিন রক্তপাত বা ঘা না শুকানো এবং ক্ষতস্থান দাগের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৯:৫
মার্কিন নার্স ম্যাকেঞ্জি মিখালস্কি ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছবি:সংগৃহীত

মার্কিন নার্স হত্যার নেপথ্যে আইরিশ খুনির বিকৃত গোপন জীবন, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

মনস্তাত্ত্বিক এআই সংবলিত ছবি সংগৃহীত

এআইয়ের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, প্রস্তুতির অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছবি সংগৃহীত

‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন তার মূল্য দিচ্ছে’—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

0 Comments