যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।
কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন।
জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ।
বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে।
বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।
জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম।
পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে।
তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প।
কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে।
অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের নরউড পার্ক এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিকাগো পুলিশ বিভাগ (সিপিডি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ শিকাগো এবং শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরউড পার্ক এলাকার নর্থ নেপার অ্যাভিনিউয়ের ৬২০০ ব্লকে ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই সময় ১৩ বছর বয়সী কিশোরীটি নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে ছিল। এ সময় একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তার কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কিশোরীকে বলেন, সে চাইলে 'অতিরিক্ত কিছু অর্থ উপার্জন' করতে পারে। এরপর তিনি দাবি করেন, কীভাবে তা সম্ভব, সেটি তিনি নিজের মোবাইল ফোনে দেখাতে পারবেন। পরে কিশোরীকে তার সঙ্গে যাওয়ারও প্রস্তাব দেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিশোরী কোনো কথায় সাড়া না দিয়ে দ্রুত বাড়ির ভেতরে চলে যায়। এতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। শিকাগো পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য শিশু প্রলুব্ধ করার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তার মাথায় লম্বা ড্রেডলকস ধরনের চুল ছিল। ঘটনার সময় তিনি একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীর পরিচয়ে সেখানে এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করছেন এবং ওই সময় এলাকায় থাকা সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনগণের সহযোগিতাও চেয়েছে পুলিশ। শিকাগো পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে এরিয়া-৫ গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করতে অথবা পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন টিপস পোর্টালের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। ঘটনার পর অভিভাবকদের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা, অর্থ বা উপহারের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়া এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশের নাগরিক (দ্বৈত নাগরিক) হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশ ত্যাগের সময় অবশ্যই বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। বয়স বা অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি ভ্রমণকারীদের জন্য জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই নিয়ম প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোনো শিশু যদি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের নাগরিক হয়, তাহলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া দ্বৈত নাগরিক মার্কিন নাগরিকরা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইএসটিএ) বা ESTA-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) নিয়মিতভাবে এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে থাকে। মার্কিন সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেন এবং দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা যেন যাত্রার আগে তাদের মার্কিন পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করেন। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা শিগগির শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ভ্রমণের আগেই তা নবায়ন করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও মনে করিয়ে দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে প্রবেশের তারিখ থেকে অন্তত ছয় মাসের বৈধতা থাকার শর্ত আরোপ করে। তাই বিদেশ সফরের আগে গন্তব্য দেশের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত নিয়মও যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশি-আমেরিকানসহ সেইসব দ্বৈত নাগরিকের জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব ধারণ করেন। সঠিক ভ্রমণ নথি ব্যবহার না করলে বিমানবন্দর বা সীমান্তে ভ্রমণ জটিলতা, বিলম্ব কিংবা বোর্ডিং-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের হাডসন নদীতে গত বছর পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে স্পেনের এক পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ মোট ছয়জন নিহতের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষে বেশ কয়েকটি বুনোহাঁসের (গিজ) দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও প্রাপ্ত প্রমাণাদি থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নদীতে আছড়ে পড়ার আগে হেলিকপ্টারটি উড়ন্ত অবস্থায় বেশ কয়েকটি পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেনের সিমেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা ৪৯ বছর বয়সি অগাস্টিন এসকোবার, তার ৩৯ বছর বয়সি স্ত্রী মার্সে ক্যাম্পরুবি মন্টাল এবং তাদের তিন সন্তান—৪ বছরের ভিক্টর, ৮ বছরের মার্সেডিজ ও ১০ বছরের অগাস্টিন। এছাড়া নিহত ৩৬ বছর বয়সি পাইলট শনকিস জনসন ছিলেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য, যিনি ২০২৩ সালে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) মতে, কম উচ্চতায় ওড়ার কারণে হেলিকপ্টারগুলো এমনিতেই পাখির আঘাতের চরম ঝুঁকিতে থাকে। হেলিকপ্টারে এমন আঘাতের ঘটনা সাধারণত বিরল হলেও তা অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। দুর্ঘটনার দিন বিকেলে একটি ডাউনটাউন হ্যালিপোর্ট থেকে উড্ডয়নের পর ম্যানহাটন স্কাইলাইন ধরে উত্তর দিকে উড়েছিল হেলিকপ্টারটি। এরপর স্ট্যাচু অব লিবার্টির দিকে যাওয়ার পথে উড্ডয়নের মাত্র ১৮ মিনিটের মাথায় এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে আছড়ে পড়ার আগে ঘুরতে থাকা হেলিকপ্টারটির মূল রোটর ও লেজ ভেঙে যেতে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী নৌযানগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পানি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তদন্তকারীদের পরীক্ষার জন্য দুমড়েমুচড়ে যাওয়া 'বেল ২০৬এল-৪' মডেলের ওই হেলিকপ্টারটি নদী থেকে টেনে তোলা হয়। এই দুর্ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর ওপর দিয়ে পরিচালিত ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং নিউ জার্সির গভর্নর অপ্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার ফ্লাইটে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানান। পাখির আঘাত কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ২০০৯ সালে হাডসন নদীতে ঘটা 'মিরাকল অন দ্য হাডসন' ঘটনার মাধ্যমেই প্রথম বিশ্ববাসীর নজরে আসে, যেখানে পাখির আঘাতে বিকল হওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান অসামান্য দক্ষতায় নদীতে অবতরণ করিয়ে ১৫৫ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন পাইলট সুলেনবার্গার। এদিকে, গত বছরের এই দুর্ঘটনার পর 'নিউইয়র্ক হেলিকপ্টার ট্যুরস' তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এমনকি তদন্ত চলাকালীন ফ্লাইট স্থগিত রাখতে রাজি হওয়া অপারেশন ডিরেক্টরকে কোম্পানিটি তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করায়, এফএএ জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের সব ফ্লাইটের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।