সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

বিএনপির বিরুদ্ধে সংকট সৃষ্টির অভিযোগ জামায়াত সেক্রেটারি পরওয়ারের

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৬, ২০২৬ ০:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই দিল্লির প্রেসক্রিপশনে দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি না করে ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন।

 

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক উপ-নির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পাঁচ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন, বিএনপিও সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ‘৩১ দফা’র সঙ্গেই প্রতারণা করছে। তারা মুখে সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঋণখেলাপিকে গভর্নর বানিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে।

 

সমাবেশে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপ-নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কেও জামায়াতের আরেকটি বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি অভিযান, নির্বাচনী অপরাধে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করা।   বিচার বিভাগের ৫ অক্টোবরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোতে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্বের তথ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই কেউ নিজের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে বা ভোট দিলে সেটি ফেডারেল অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।   তবে শুধু অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমনটি বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি মামলায় আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত হবে অভিযুক্তরা সত্যিই আইন ভেঙেছেন কি না।   এই ঘটনা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব যাচাই ও ভোটের নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটাধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকানোও জরুরি।   অন্যদিকে নির্বাচনী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের সময় যেন প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের হয়রানি বা ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।   বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে শুধু নির্বাচনী অপরাধের মামলা নয়, বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাও রয়েছে। ৫ অক্টোবর বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একক সময়ে করা সবচেয়ে বড় এ ধরনের পদক্ষেপ বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   নির্বাচনের আগে এসব মামলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা সাধারণত নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটার যাচাইকে গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, কঠোর যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নাগরিকত্ব যাচাই—এই তিনটি বিষয়ই আরও বেশি আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২০:১
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!

২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!

সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি

রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত

‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ

তারেক মোদি দীনেশ ত্রিবেদী
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে নিজেকে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বললেও তিনি জানিয়েছেন, সফরের মাস বা তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   ত্রিবেদী জানান, সফরটি নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। দুই সরকারপ্রধানের আলোচনার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।   বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তবে তাঁর আশা, শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য আলোচনায় পানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলেও জানান তিনি। এগুলোকে অবশ্য চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি।   দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, ভালো শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনই মানুষের চাওয়া। এসব স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কাজ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য, খেলাধুলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংগীতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নভেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মোদির আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে নভেম্বরের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এলেও বুধবার ত্রিবেদী স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নভেম্বরকে সফরের চূড়ান্ত সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযথ সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৭:৩৯
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার

রাশেদ খাঁন

১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?

শেখ তানভীর বারী হামিম
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ঘোষিত ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।   সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামিম এই কর্মসূচিতে কেউ যেন অর্থ না দেন, সেই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসনাত ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন তিনি।    এর আগে একই দিন হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’র ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ‘অনাহারী’ অবস্থায় রয়েছে এবং মানুষের দেওয়া ১ টাকাও কাউকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখতে পারে।   হাসনাত জানান, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবক্স’ চালু করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটরে একটি বিশেষ দানবক্স উন্মুক্ত করার কথা জানান তিনি। তিনি জনগণকে দান করার আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘জাতীয় পুনর্বাসন’ কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেন।    অন্যদিকে হামিম তার ফেসবুক পোস্টে কর্মসূচিটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নতুন ধান্দা’ শুরু হয়েছে এবং তিনি অনুসারীদের এতে টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও বন্যার অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অভিযোগের পক্ষে হামিম তার পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   হামিম তার পোস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর হাসনাতদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন। পোশাক, মোবাইল ফোন, সাইকেল ও গাড়ির উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এরপরও কেন তাদের অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হচ্ছে।    এ পর্যায়ে হামিম আরও অভিযোগ করেন, দান সংগ্রহের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্জিত কথিত ‘কালো টাকা সাদা’ করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটিও তার ব্যক্তিগত অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে এর পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা উল্লেখ নেই।   পোস্টের শেষ দিকে হামিম কর্মসূচিতে অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দেন।অন্যদিকে হাসনাতের ঘোষণার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে দান সংগ্রহ এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা। কর্মসূচিটি রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, হাসনাত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন এবং হামিম প্রকাশ্যে সেটির বিরোধিতা করেছেন। তবে হামিমের আর্থিক অনিয়ম, পূর্বের বন্যার অনুদান আত্মসাৎ কিংবা ‘কালো টাকা সাদা’ করার অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো স্বাধীন প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৫৮
রুমিন ফারহানা

‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, ডিএমপি কমিশনার

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার

0 Comments