মতামত

নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ
তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দেখা দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ—উভয়েই যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানকার ভোটার নন তারা। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ব্যালট পেপারে নিজের নামের পাশে বা নিজের প্রতীকে সিল মারার কোনো আইনি সুযোগ থাকছে না তাদের জন্য।

 

ববি হাজ্জাজের ভোট ঢাকা-১৭ আসনে
ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ববি হাজ্জাজ এই এলাকার ভোটার না হওয়ায় তিনি এখানে ভোট দিতে পারবেন না। তাঁর নাম রয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার তালিকায়। ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ নম্বর কেন্দ্রে তাঁর ভোট দিতে হবে, যেখানে তাঁর ভোটার ক্রমিক নম্বর ৬৭৮২।

 

ঢাকা-৯ আসনে লড়া তাসনিম জারার ভোট ঢাকা-১১-তে
এদিকে ঢাকা-৯ (মুগদা, সবুজবাগ ও খিলগাঁও) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন তরুণ চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। প্রচারণার ময়দানে তিনি নিজেকে এলাকার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দিলেও দাপ্তরিক নথিতে দেখা যাচ্ছে তিনি আসলে ঢাকা-১১ আসনের নিবন্ধিত ভোটার। ইসির ওয়েবসাইট ও ভোটার স্লিপ অ্যাপস অনুযায়ী, তাঁর ভোটকেন্দ্র খিলগাঁও বি-জোন পূর্ব এলাকার প্রাইম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (কেন্দ্র নম্বর ৮০)। বর্তমানে পরীবাগের বাসিন্দা হলেও আইন অনুযায়ী তাকে ঢাকা-১১ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।

 

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
নিজেদের আসনে ভোটার না হওয়ায় এই দুই প্রার্থীর এমন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, প্রার্থী যে আসনের প্রতিনিধি হতে চান, সেখানকার ভোটার হলে স্থানীয়দের সাথে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। তবে দেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন যেকোনো আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, যদিও তাকে ভোট দিতে হয় নিজ এলাকাতেই।

 

১২ ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে এই দুই আলোচিত প্রার্থীর ভাগ্য কী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমানবাহী রণতরী কিছুই না; মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে।   ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে।   ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।   আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।   প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা

Advertisement

মতামত

View more
ছবি: সংগৃহীত, সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া।
তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি যে আহ্বান সাবেক সেনাপ্রধানের

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ঐতিহাসিক গণভোটকে সামনে রেখে দেশের তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি এক শক্তিশালী ও দিকনির্দেশনামূলক আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তরুণ কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাদের হাতে থাকা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং এটি আইন, ন্যায় এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী।   সাবেক সেনাপ্রধান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদের দুঃসময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে দেওয়া হয়নি। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পক্ষাবলম্বন। এই দায়িত্ব সাহসিকতার সাথে পালন করলে সশস্ত্র বাহিনী আবারও জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।”   সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি চারটি বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন: প্রথমত, রাজনৈতিক চাপে যদি পুলিশ বা জনপ্রশাসন কোথাও দুর্বলতা দেখায়, তবে সেনা কর্মকর্তাদের অকুতোভয় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।   দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা স্থানীয় প্রভাব উপেক্ষা করে কেবল প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।   তৃতীয়ত, ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান কিংবা ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে নাগরিকরা বুঝতে পারে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।   চতুর্থত, বলপ্রয়োগের চেয়ে দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোকেই প্রকৃত দক্ষতার পরিচয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।   আগামীকালকের এই দ্বিমুখী ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মাঝে সাবেক সেনাপ্রধানের এই বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ ভোটারদের মনে স্বস্তি ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ

নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না তাসনিম জারা ও ববি হাজ্জাজ

নিশীথ সিংহ রায়। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার অঙ্গনে রাজনীতির করাল ছায়া

জামায়াত জোটের পক্ষে ৪৮.৪% ভোট, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩২.১%

জামায়াত জোটের পক্ষে ৪৮.৪% ভোট, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩২.১%

রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা
রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি গভীরভাবে প্রোথিত ধারণা তৈরি হয়েছে—শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় আসে, শিক্ষা ব্যবস্থার দিশাও ঠিক হয় তাদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী। এর ফলে শিক্ষা কোনো সুদূরপ্রসারী জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে না; বরং তা এক ধরনের দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত নীতি ভালো না মন্দ—এই প্রশ্ন মুখ্য নয়, মুখ্য হয়ে ওঠে সেই নীতি বর্তমান শাসকের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।   অথচ শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, কিংবা কোনো একক সরকারের কৃতিত্বও নয়। শিক্ষা হলো একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বারবার এই সত্য ভুলে যাই—বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ, শিক্ষা সম্পর্কে একটি সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও আমাদের সমাজে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে না দেখে আমরা তাকে ভোগ্যপণ্যের কাতারে বসিয়ে দিয়েছি। ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে প্রবণতাগুলি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষা আজ আর কেবল জ্ঞানার্জন ও মননচর্চার ক্ষেত্র নয়, ক্রমশ তা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মঞ্চে রূপ নিচ্ছে।   স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই পাঠ্যক্রম, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদর্শগত পরিবর্তন শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। সরকার বদলালেই পাঠ্যক্রম বদলানো, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নতুন করে রচনা করা কিংবা পূর্বতন সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র করে তুলেছে। বিশেষত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে প্রকট। কোন বিষয় পড়ানো হবে আর কোনটি বাদ যাবে—এই সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই একাডেমিক আলোচনার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থের নিরিখে নেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়।   শিক্ষার মেরুদণ্ড যদি হয় শিক্ষক, তবে সেই শিক্ষক সমাজও আজ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দলীয় আনুগত্য যদি যোগ্যতা ও মেধাকে ছাপিয়ে যায়, তবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। শিক্ষক যখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না, তখন শ্রেণিকক্ষ আর মুক্ত চিন্তার পরিসর হয়ে উঠতে পারে না। এতে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অথচ শিক্ষার গুরুত্ব এমন হওয়া উচিত ছিল যে সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় তার স্থান থাকবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়েই রাজনৈতিক আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।   আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসি। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ সমাজের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখছে কিনা, সে প্রশ্ন খুব কমই তুলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকে অনেক সময় গণতান্ত্রিক অধিকার বলে যুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কি আদৌ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হওয়া উচিত? শিক্ষক আসেন শিক্ষা দিতে, শিক্ষার্থী আসে শিক্ষা গ্রহণ করতে—সেই পরিসর কীভাবে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্যই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু যখন তা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সম্প্রসারিত রূপ নেয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর—যার ফল আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় সূক্ষ্ম অথচ গভীরভাবে কাজ করে। কোন গবেষণা গ্রহণযোগ্য, কোন বিষয় সংবেদনশীল—এই অলিখিত নিয়ম গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। প্রশ্ন করার সাহস ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত, তবে তা কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়—তা হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বার্থে গঠনমূলক ও স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ।   এ কথা সত্য যে শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতেই হয়। কিন্তু সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। শিক্ষা যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়, তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকেই।   আজ প্রয়োজন একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা—যেখানে রাজনীতি থাকবে নীতি নির্ধারণে, কিন্তু শিক্ষার অন্তঃসারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না। পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব নয়। সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষানীতি প্রণয়নই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ।   শিক্ষা হলো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। সেখানে যদি রাজনৈতিক স্বার্থের ভারী যন্ত্র প্রবেশ করে, তবে সেই ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আজ চারদিকে যে অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন চোখে পড়ছে, তার শিকড় অনেকাংশেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতায় নিহিত। তাই এখনই সময়—শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার। দেরি হলে তার মাশুল দিতে হবে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।   লেখক: নিশীথ সিংহ রায়

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আ.লীগকে বাদ দিলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি

ছবি: সংগৃহীত

আ.লীগের ভোটারদের ৩৭.৯% বিএনপিকে ৩৭% জামায়াতকে ভোট দিতে চান

জুলকারনাইন সায়েরকে প্রকাশ্যে তিন প্রশ্ন মেহের আফরোজ শাওনের

জুলকারনাইন সায়েরকে প্রকাশ্যে তিন প্রশ্ন মেহের আফরোজ শাওনের

আধুনিক বাংলাদেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচনে জাতির প্রতি অঙ্গীকার
আধুনিক বাংলাদেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচনে জাতির প্রতি অঙ্গীকার

প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানুষের মৌলিক চাহিদার ধারণা বদলেছে, তেমনি বদলেছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; বরং নাগরিকদের ন্যূনতম দারিদ্র্য নিশ্চিত করা—যা বিশেষভাবে বেকারত্ব কার্যকরভাবে হ্রাস করার মাধ্যমে অর্জন সম্ভব।   ১. দারিদ্র্য ও বেকারত্ব সরাসরি নাগরিকের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করাই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্য। এই মৌলিক চাহিদাগুলো হলো— (১) বিশুদ্ধ বাতাসের নিশ্চয়তা (২) স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা (৩) সুষম ও পর্যাপ্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা (৪) রুচিসম্মত ও পরিমিত পোশাকের নিশ্চয়তা (৫) সাশ্রয়ী সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা (৬) নিরাপদ বাসস্থানের নিশ্চয়তা (৭) ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার নিশ্চয়তা (৮) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির নিশ্চয়তা (৯) মাদকমুক্ত জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা করা   এই মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের মূলনীতি হলো— “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সমন্বয়।” রাষ্ট্রকে প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে নীতিগত সংস্কার ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় অগ্রাগামী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রবন্ধে একটি সামগ্রিক ধারণার পাশাপাশি কিছু বাস্তব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হলো—কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংস্কার করা যেতে পারে।   ২. ফ্রিল্যান্সারদের কাঠামোগত উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বছরে প্রায় ১.৩–১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। এই আয়ের বড় অংশই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্জিত। তবে উন্নত বহির্বিশ্বে এখনও বহু পেশাগত খাত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের যুবসমাজ বৈদেশিক বাজারে পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারেনি—যার পেছনে রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘাটতি। ভবিষ্যতে এই খাত রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে।   ২.১ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন (ক) কম মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: (১ক) বিশেষ বিদ্যুৎ ট্যারিফ (২ক) লোডশেডিং-মুক্ত সংযোগ (৩ক) সৌরশক্তি ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (খ) নির্দিষ্ট কম দামে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট: (১খ) বিশেষ ফ্রিল্যান্সার ইন্টারনেট প্যাকেজ (হ্রাসকৃত, কর-মুক্ত/কর-ছাড়যুক্ত) (২খ) সহজ ব্যাংকিং ও বৈদেশিক আয়ের কাগজপত্র (৩খ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি এবং বেসরকারি (JV) সহায়তা   ২.২ নতুন সম্ভাবনাময় খাতসমূহ * শিক্ষা * স্বাস্থ্যসেবা * হিসাবরক্ষণ * ডিজিটাল মার্কেটিং * কারিগরি ও প্রকৌশল সেবা * অনুবাদ * কাস্টমার সাপোর্ট * ডেটা অ্যানালিটিক্স/ডেটা এন্ট্রি ও ব্যাক-অফিস সার্ভিস * গ্রাফিক্স/ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও ভিডিও এডিটিং * ই-কমার্স অপারেশনস * সাইবার সিকিউরিটি বেসিক সার্ভিস ও QA টেস্টিং এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়ন্ত্রকের নয়; বরং হবে সহায়ক (Facilitator)। ৩. Trainer of Trainers (ToT): স্থানীয় প্রশিক্ষণ থেকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রতিটি জেলা সদরে Trainer of Trainers (ToT) কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। কার্যপদ্ধতি: * আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ * কোর কারিকুলাম, মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন * দক্ষ কর্মী তৈরি— ওয়েল্ডার, ইলেকট্রিশিয়ান, কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী, IT কর্মী, কনস্ট্রাকশন টেকনিশিয়ান, প্রজেক্ট অফিসার সার্টিফিকেশন ও মাননিয়ন্ত্রণ এই কর্মসূচির মূল শর্ত হওয়া উচিত। লক্ষ্য: * রেমিট্যান্স বৃদ্ধি * দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান * দারিদ্র্য হ্রাস * মানবসম্পদ রপ্তানি ৪. পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতা আজকের কর্মসংস্থান হচ্ছে— রিমোট নির্ভর, স্কিলভিত্তিক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর, গ্লোবাল বাজারভিত্তিক এবং AI নির্ভর। ডিগ্রির চেয়ে এখন স্কিল + সার্টিফিকেশন + আউটপুট গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ভূমিপুত্র (Son of the Soil) নীতি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানে দেশের সন্তানদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। Local first, Global ready নীতিতে আধুনিক সংস্করণ প্রয়োজন। ৬. সমন্বিত ভূমিপুত্র মডেল জাতীয় পর্যায়ে: * চাকরিতে কোটা * বিদেশি নিয়োগ সীমিত * Knowledge Transfer * Skill Database   স্থানীয় পর্যায়ে: * স্থানীয় রেজিস্ট্রি * স্থানীয় নিয়োগ * প্রশিক্ষণ কেন্দ্র * উদ্যোক্তা সহায়তা ৭. গ্রামীণ SME শিল্পায়ন গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি উপকরণ, পোশাক, হালকা শিল্প—স্থানীয় উৎপাদন। উপকারিতা: কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ। ৮. বিকেন্দ্রীকরণ ও কর সংস্কার গ্রামে কর ছাড়, শহরে নিয়ন্ত্রণমূলক করনীতি। ফলাফল: ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন। ৯. উপসংহার ফ্রিল্যান্সিং সহায়তা, ToT কর্মসূচি, ভূমিপুত্র নীতি, গ্রামীণ শিল্পায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ—এই পাঁচ স্তম্ভ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাস, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। এটি একটি জাতীয় উন্নয়ন দর্শন—যেখানে দেশের সন্তানই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি।   লেখক: প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইমেইল: usaaisf@gmail.com ফোন: (303) 718-3144 (WhatsApp)

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0

0 Comments