ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি। দেশে একযোগে প্রায় ৪২,০০০ কেন্দ্রে ভোটাররা অংশ নেবেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯।
নির্বাচনের দিন আমাদের জন্য বিশেষ—জাতীয় দায়িত্ব পালন করার আনন্দ, উত্তেজনা, কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু অনিশ্চয়তাও তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, গরম বা আর্দ্র আবহাওয়া এবং খাওয়ার অভাবের কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া স্বাভাবিক।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে বা পানি না খাওয়া
অতিরিক্ত গরমে ডিহাইড্রেশন
লো বা হাই ব্লাড প্রেসার
ডায়াবেটিসজনিত সুগার কমে যাওয়া
হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্ট
ভিড় ও মানসিক চাপ
মাথা ঘোরা বা ঝাপসা অনুভূত হওয়া
হঠাৎ দুর্বল লাগা
বমি বমি ভাব
বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট
অতিরিক্ত ঘাম
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
দ্রুত বসানো বা শুইয়ে দেওয়া
দাঁড় করাবেন না; মাটিতে বা বেঞ্চে শুইয়ে দিন
সম্ভব হলে পা সামান্য উঁচু করে রাখুন
ভিড় সরানো
অসুস্থ ব্যক্তির চারপাশ থেকে মানুষ সরিয়ে নিন
খোলা জায়গায় নেয়ার চেষ্টা করুন
কাপড় ঢিলা করা
গলার বোতাম, ওড়না, বেল্ট ঢিলা করে দিন
শ্বাস নিতে সুবিধা হয়
পানি বা স্যালাইন দেওয়া
সচেতন থাকলে অল্প অল্প পানি দিন
ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে সুগার কমে গেলে কিছু মিষ্টি দেওয়া যেতে পারে
লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা
বুকব্যথা, একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া—স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে
এমন হলে ফুরসত না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিন
জরুরি সেবা ডাকা
গুরুতর অবস্থায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা স্বাস্থ্যকর্মীকে জানানো জরুরি
ভোটকেন্দ্রে সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকে; তাদের সাহায্য নিন
খালি পেটে ভোট দিতে যাবেন না
পর্যাপ্ত পানি পান করে বের হোন
ডায়াবেটিস বা প্রেসারের রোগীরা নিয়মিত ওষুধ নিন
রোদ এড়াতে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
সম্ভব হলে কম ভিড়ের সময়ে ভোট দিতে যান
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
নির্বাচনী মাঠে ভোট কেনাবেচার যেকোনো অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার রাতে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ভোট কেনাবেচা কেবল অনৈতিক নয়, বরং আইনত একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ইসি বদ্ধপরিকর।
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ দিন। এদিন দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গণভোট’ এবং ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নির্ভয়ে এবং দায়িত্বশীলতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত একটি জাতির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রতিফলন। এটি আমাদের সার্বভৌম ইচ্ছার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।” প্রফেসর ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের একটি বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবারই প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া অনেক পূর্ণবয়স্ক নাগরিকও দীর্ঘ বিরতির পর প্রকৃত অর্থে নিজের রায় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিটি ভোটারের জন্য একটি উৎসবমুখর, শঙ্কামুক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কর্তব্য পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করা যাবে না।” একই সাথে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার এবং সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো কেমন হবে তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। গণতন্ত্রের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনন্দিত এই নেতা।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং বিমানবন্দরের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এমন ঘটনা ‘সাজানো’ সম্ভব নয়—এ দাবি অযৌক্তিক। তাঁর অভিযোগ, দলকে বিতর্কিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এহসানুল মাহবুব আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নেতার নির্বাচনি এলাকায় বুথ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে এবং সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। প্রশাসনের একটি অংশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দর ত্যাগের সময় তাঁর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাঁকে থামায়। পরে তল্লাশিতে তাঁর বহন করা ব্যাগে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই ব্যাগে ৫০ লাখ টাকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অর্থ সবার উপস্থিতিতে গণনা করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে সৈয়দপুর থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেনা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। আটক বেলাল উদ্দিন প্রধান ঠাকুরগাঁও শহরের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।