বিশ্ব রাজনীতি

এবার যুদ্ধ শুরু হলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না, হুঁশিয়ারি ইরানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসিন রেজাই এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এবার কোনো কারণে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তাতে কোনো ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’র সুযোগ থাকবে না।

 

রেজাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আলোচনার পথ বেছে নেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু যদি আমেরিকা সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান এমন এক যুদ্ধে জড়াবে যেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো থামাথামি নেই।” তেহরান থেকে আসা এই কঠোর বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

 

এই উত্তজনা মূলত শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার পর থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করলেও, ওয়াশিংটন এখন ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিকেও আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্ত করতে চাইছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মিসাইল ইস্যু নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না।

 

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ‘এক্ষিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমাদের সাথে একটি সম্মানজনক চুক্তি হতে হবে, অন্যথায় ইরানের জন্য খুব কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের একটি বিশাল নৌবহর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর সেখানে পাঠাব।”

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের গোপন বৈঠক যদি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের এই ‘টফ অ্যাকশন’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। একদিকে মার্কিন রণতরীর মহড়া, অন্যদিকে ইরানের ‘যুদ্ধবিরতিহীন’ যুদ্ধের হুমকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির জয় হয় নাকি বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে পারস্য উপসাগর।

জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বিমানবাহী রণতরী কিছুই না; মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন।   মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে।   ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে।   ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য।   আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।   প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
এবার যুদ্ধ শুরু হলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না, হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিতে যাচ্ছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসিন রেজাই এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এবার কোনো কারণে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তাতে কোনো ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’র সুযোগ থাকবে না।   রেজাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আলোচনার পথ বেছে নেওয়া সবার জন্যই মঙ্গলজনক। কিন্তু যদি আমেরিকা সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান এমন এক যুদ্ধে জড়াবে যেখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো থামাথামি নেই।” তেহরান থেকে আসা এই কঠোর বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।   এই উত্তজনা মূলত শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনার পর থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করলেও, ওয়াশিংটন এখন ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিকেও আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্ত করতে চাইছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মিসাইল ইস্যু নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অচলাবস্থা নিরসনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ‘এক্ষিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমাদের সাথে একটি সম্মানজনক চুক্তি হতে হবে, অন্যথায় ইরানের জন্য খুব কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের একটি বিশাল নৌবহর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর সেখানে পাঠাব।”   বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের গোপন বৈঠক যদি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্পের এই ‘টফ অ্যাকশন’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। একদিকে মার্কিন রণতরীর মহড়া, অন্যদিকে ইরানের ‘যুদ্ধবিরতিহীন’ যুদ্ধের হুমকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কূটনীতির জয় হয় নাকি বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে পারস্য উপসাগর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ল, মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ল, মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

লাখ লাখ উটকে কেন পাসপোর্ট দিচ্ছে সৌদি আরব?

লাখ লাখ উটকে কেন পাসপোর্ট দিচ্ছে সৌদি আরব?

মার্কিন হামলার হুমকির মুখে ৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

মার্কিন হামলার হুমকির মুখে ৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ল, নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি দুই পক্ষের
গাজায় যুদ্ধবিরতি নড়বড়ে, নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি দুই পক্ষের

গাজা যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কায়রোতে কয়েক দিন ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যাওয়ায় ইসরাইল ও হামাস—উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এর ফলে গাজার ভেতরে ও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।   আলোচনার মূল বিষয় ছিল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ও বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা। তবে ইসরাইল গাজায় হামাসের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।   ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে স্থল অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় একাধিক বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য ইসরাইলই দায়ী। সংগঠনটি বলেছে, তারা যে কোনো নতুন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডে পাল্টা রকেট হামলার সক্ষমতা এখনও রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট সতর্কতা জোরদার করেছে ইসরাইল।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার নতুন করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই দূরত্বে যে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির সময়কাল ও গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে মতপার্থক্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল কার্যত অচল, খাবার ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার বড় অংশ এখন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে সহায়তা প্রবেশ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে পড়া শুধু গাজা নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।   সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধ আবারও একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে সামনে আরও রক্তক্ষয়ী অধ্যায় অপেক্ষা করছে—এমন আশঙ্কাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান উদ্বেগ

জাবির আল মামুন ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়: রাশিয়ার বড় স্থল আক্রমণ, পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে কিয়েভ

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়: রাশিয়ার বড় স্থল আক্রমণ, পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে কিয়েভ

সিঙ্গাপুরে চুরির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক আটক, কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা

সিঙ্গাপুরে চুরির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক আটক, কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানা

তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা

ইরানের সিদ্ধান্তে তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা

বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ‘ ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের অস্বস্তি!
বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তানের ‘ ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের অস্বস্তি!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক -  ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। যেগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।   শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কিনা এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কিনা। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।   জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।   পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন। এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কিনা।   জবাবে তিনি বলেন, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।   তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কিনা। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?   জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।   সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।   এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

জাবির আল মামুন ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ বললেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কায় ৩০ ভারতীয় জেলে আটক, বড় জরিমানা ও শাস্তি

শ্রীলঙ্কায় ৩০ ভারতীয় জেলে আটক, বড় জরিমানা ও শাস্তি

মিনেসোটায় আইসিইর ধরপাকড় : অভিবাসী পরিবারের জন্য নতুন সংকট?

ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে প্রতিবাদের ঢেউ

0 Comments