ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজছে দেশজুড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আসন ঢাকা-৮ এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই আসনে ভোটারদের সম্ভাব্য পছন্দ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার দৌড়ে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাসকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিয়েছেন জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মোট ৫২১ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের ৪৮.৪ শতাংশ (২৫২ জন) ভোটার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৩২.১ শতাংশ (১৬৭ জন) ভোটারের সমর্থন। অর্থাৎ জনপ্রিয়তায় তরুণ এই প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, নির্বাচনি এলাকার ৯.৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা ঠিক কাকে ভোট দেবেন। এছাড়া ৫.৮ শতাংশ উত্তরদাতা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক নন। বাকি ৩.৫ শতাংশ ভোটার অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং ০.৬ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই জরিপের ফলাফল ঢাকা-৮ আসনের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সমর্থন এবং এনসিপি-জামায়াত জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের প্রকৃত ব্যালটে এই জরিপের প্রতিফলন কতটুকু ঘটে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ—এমন মত প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্র কেবল জ্ঞানার্জনের পরিসর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার মঞ্চে রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতার পর শিক্ষার লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিক নীতির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিক্ষানীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যক্রম পুনর্লিখন, ইতিহাসের নতুন ব্যাখ্যা কিংবা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষাগারে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য গুরুত্ব পেলে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হয়। শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন, তবে শ্রেণিকক্ষও মুক্তচিন্তার জায়গা হয়ে উঠতে পারে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব থাকলেও, দলীয় রাজনীতির প্রভাব বাড়লে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। কোন গবেষণা ‘সংবেদনশীল’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’—এ ধরনের অলিখিত সীমারেখা গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, কারণ রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতে হয়। তবে সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। এজন্য পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বদলীয় ঐকমত্যভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ হতে পারে। কারণ শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল ভিত্তি। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের পেছনেও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তাই শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নিশীথ সিংহ রায় কলকাতা (ভারত)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির বিশাল এক ভোটব্যাংক কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গবেষণা সংস্থা ‘সোচ্চার’ (সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ)। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। প্রায় সমান তালে পিছু পিছু রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যাদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন ৩৭ শতাংশ ভোটার। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ এবং ভয়েজ ফর রিফর্মের সম্পাদক ও বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর। সংস্থাটি জানায়, রাজধানীর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা— ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত যারা গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের বর্তমান মনোভাব বুঝতেই এই গবেষণা। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের এক সময়ের কট্টর ভোটারদের মধ্যে ১০.৮ শতাংশ এখনো ঠিক করতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ৬.১ শতাংশ ভোটার তাদের মনোভাব প্রকাশ করতে রাজি হননি এবং ৫.৪ শতাংশ ভোটার কোনো ভোটই না দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ড. শিব্বির আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই জরিপের ফলাফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একটি দলের সমর্থকদের বড় অংশের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপের তথ্য যদি নির্বাচনের দিন বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ঢাকা তথা পুরো বাংলাদেশের নির্বাচনি ফলাফলে এক অভাবনীয় মেরুকরণ দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জোটের ভোটের ব্যবধান কমাতে বা বাড়াতে এই ‘ভাসমান’ আওয়ামী ভোট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।