ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের প্রস্তাব ভোটে যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের জন্য বড় ধরনের কর ছাড়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন আইনপ্রণেতারা। নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নিজস্ব বসতবাড়ির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ ভোটে জনগণের মতামতের জন্য তোলা হবে।
মঙ্গলবার গভর্নরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে ফ্লোরিডা সিনেট প্রস্তাবটি পাস করে। এতে বলা হয়েছে, যেসব বাড়িতে মালিক নিজে বসবাস করেন, সেসব বাড়ির ওপর নির্ধারিত কিছু সম্পত্তি কর কমানো হবে। তবে শিক্ষা খাতের কর এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।
ফ্লোরিডা সিনেটের সভাপতি বেন অ্যালব্রিটন বলেন, নিজের একটি বাড়ি থাকা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকান স্বপ্নের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে।
প্রস্তাবটির সমর্থক সিনেটর ব্রায়ান আভিলা বলেন, নিজের জমি ও বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস করা দেশটির মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সড়ক ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার অর্থায়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে নির্বাচনে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ভোটাররা অনুমোদন দিলে ধাপে ধাপে এই কর ছাড় চালু করা হবে।
এদিকে, নতুন পরিকল্পনায় একজন বাড়ির মালিক কত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন, তা জানাতে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে বাসিন্দারা নিজেদের সম্ভাব্য কর ছাড়ের হিসাব দেখতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডায় বাড়ির দাম ও সম্পত্তি কর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর কমানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন ভারতীয় প্রকৌশলী প্রিয়াঙ্কা জৈন। মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা, পারিশ্রমিক নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০ ঘণ্টার কাজ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা জৈন প্রযুক্তি খাতে নিজের চাকরির পাশাপাশি মেহেদির ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মেহেদি দেওয়ার কাজটি তার পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি করা একটি শখের ব্যবসা। প্রযুক্তি খাতের চাকরিই তার প্রধান আয়ের উৎস হলেও মেহেদির কাজের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে। প্রিয়াঙ্কার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বকশিশও পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিয়ে বা কনের মেহেদির বুকিংয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং সেখান থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়। একটি কনের মেহেদির অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেশি হলেও সেখানে জীবনযাপনের খরচও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই মেহেদির কাজ থেকে পাওয়া অর্থকে তিনি নিজের প্রধান আয়ের সঙ্গে তুলনা না করে আলাদা একটি শখের ব্যবসা হিসেবে দেখেন। প্রিয়াঙ্কার কাছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে পাওয়া সম্মান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পীদের অনেক বেশি মূল্যায়ন ও সম্মান করা হয়। অন্যদিকে ভারতে মেহেদি শিল্পীর কাজকে অনেক সময় ভালো পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এই বিষয়টিকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। মেহেদি দেওয়ার কাজকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার বক্তব্যের মূল কথা হলো, কোনো কাজই ছোট বা বড় নয়, কাজ মানেই কাজ। পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবে কাজ করাকে তিনি তাই ভিন্ন কোনো ছোট পেশা হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের আগ্রহকে কাজে পরিণত করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কার এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ তার নেওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদির পারিশ্রমিকের তুলনা করেছেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী তার কাজের ধরন ও যুক্তরাষ্ট্রে এর মূল্যায়ন নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। একজন মন্তব্যকারী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আরেকজন বলেছেন, ভারতে অনেক মানুষ পুরো কনের মেহেদির জন্য ১ হাজার টাকা দিতেও আপত্তি করেন। অন্য একজন ভারতীয় সমাজে শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, শুধু মেহেদি আঁকার জন্য এত বেশি পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি অনেকে সহজভাবে দেখেন না। আরেক নারী মন্তব্য করেছেন, তিনিও মেহেদি দিয়ে থাকেন। তার অভিজ্ঞতায় ভারতে এই কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মান, আয় ও মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কার অভিজ্ঞতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদি শিল্পীদের পারিশ্রমিক, পেশাগত সম্মান এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পূর্ণকালীন চাকরিই প্রধান পেশা ও আয়ের উৎস। এর পাশাপাশি মেহেদি দেওয়ার কাজকে তিনি শখের ব্যবসা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার পারিশ্রমিক, বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময়ের বুকিং এবং বকশিশ মিলিয়ে এই কাজ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে আবার ট্রাম্প প্রশাসন
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর
ভালো রেজাল্ট করলেই ১০০ ডলার, শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানির অভিনব উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যক্তিরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে টার্মিনালে গিয়ে স্বজন ও পরিচিতদের স্বাগত জানাতে বা বিদায় দিতে পারবেন। ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা এলাকা পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ার পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এই সুবিধার নাম দেওয়া হয়েছে গেটসাইড পাস। এর মাধ্যমে যারা বিমানে ভ্রমণ করছেন না, তারাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন। সেখানে তারা স্বজনদের বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে টার্মিনালের ভেতরের খাবার ও কেনাকাটার সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে গেটসাইড পাস পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর আগে থেকেই পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রি-চেক অনুমোদন থাকতে হবে অথবা পরিচিত ভ্রমণকারী নম্বর থাকতে হবে। এরপর বিমানবন্দরে যাওয়ার অন্তত তিন দিন আগে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গেটসাইড পাসের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে টিকিটধারী যাত্রীদের মতোই ওই ব্যক্তিকেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ টিকিট না থাকলেও টার্মিনালের নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশের আগে তাকে নির্ধারিত নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই সরাসরি টার্মিনালে প্রবেশ করা যাবে না, নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মও মেনে চলতে হবে। তবে প্রতিদিন সব আবেদনকারীকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলো প্রতিদিনের গেটসাইড পাসের সংখ্যা সীমিত করতে পারে। ব্যস্ত সময়েও এই সুবিধার প্রাপ্যতা সীমিত হতে পারে। প্রয়োজন হলে কোনো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে গেটসাইড পাস দেওয়া বন্ধও করতে পারে বলে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে বিমানবন্দর, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন ওয়েন কাউন্টি বিমানবন্দর এবং কানসাসের উইচিটা ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতীয় বিমানবন্দর। এ ছাড়া ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নেভাদার হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরকানসাসের বিল অ্যান্ড হিলারি ক্লিনটন জাতীয় বিমানবন্দর এবং ওকলাহোমার উইল রজার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও গেটসাইড পাসের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তালিকার অন্য তিনটি বিমানবন্দর হলো নেব্রাস্কার এপলি এয়ারফিল্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দরে অনুমোদিত দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করে টার্মিনালের ভেতরে যেতে পারবেন। ২০০১ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বজনরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে গেট পর্যন্ত যেতে পারতেন। ফলে পরিবারের সদস্য বা পরিচিতরা বিমানে ওঠার আগে যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের বিদায় জানাতে পারতেন। ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং টিকিট ছাড়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এলাকার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কর্মসূচির আওতায় সেই পুরোনো ব্যবস্থার সীমিত একটি সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশ করলেও দর্শনার্থীদের জন্য বিমানবন্দরের আচরণবিধি একইভাবে প্রযোজ্য থাকবে। পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের ফেডারেল ও স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রদর্শিত নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার গেটসাইড পাস বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজনে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দেওয়ানি বা ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখিও হতে পারেন ওই ব্যক্তি। ফলে টিকিট ছাড়া টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও এটি নিরাপত্তা বিধিনিষেধের বাইরে কোনো প্রবেশাধিকার নয়। বর্তমানে পরীক্ষামূলক এই সুবিধা নির্দিষ্ট ১৩টি বিমানবন্দরে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আবেদনকারীদের আগে অনুমোদন নিতে হবে এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় যাত্রীদের মতোই নিরাপত্তা তল্লাশি সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিমানবন্দরের দৈনিক সীমা ও সাময়িক বিধিনিষেধও প্রযোজ্য হবে। সূত্র: ডব্লিউএফএলএ
‘কম সুদের ঋণ, তবু বেশি কিস্তি!’ কেন দ্রুত ঋণ শোধ করছেন মার্কিন বাড়ির মালিকরা
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন
ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে রেকর্ড ৩৩ শতাংশে, চাপে রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন এক গ্যালাপ জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার এই হার ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জরিপে এই হার ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করতেন সরকারি দুর্নীতি ব্যাপক। ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য। তাদের ৯০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে, ৮৩ শতাংশ রিপাবলিকান একই মত দিয়েছেন। গত দুই বছরে রিপাবলিকানদের মতামতে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ৮৭ শতাংশ রিপাবলিকান সরকারের দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেছিলেন। গ্যালাপ বলছে, দুই দলের মানুষের এই ধারণার পেছনে ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসে কোন দল ক্ষমতায় আছে, তার সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে তাদের ধারণার সম্পর্ক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিপরীতে, রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির রয়েছে। শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ বেড়েছে। জরিপে ৭১ শতাংশ বলেছেন, ব্যবসায় দুর্নীতিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। গত বছরের তুলনায় এই হার ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে ব্যবধান এবার বেশ বড়। সরকারের ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ—অর্থাৎ ১৮ শতাংশীয় পয়েন্টের পার্থক্য। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে এটাই এই দুই সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। গ্যালাপের তথ্য বলছে, অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায়ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ধারণা এখন বেশ নেতিবাচক। রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও দুই দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশই মনে করছেন, দেশটির সরকারের দুর্নীতি একটি ব্যাপক সমস্যা।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরি না পেয়ে চাপে ভারতীয় তরুণের আত্মহত্যা
স্টারবাকস, নেসলে ও ব্রেয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের পরিবেশন করেছে ল্যাবে তৈরি মাংস