খুলনা

৪ জনকে গুলি
খুলনায় ঘরে ঢুকে একই পরিবারের ঘুমন্ত ৪ জনকে গুলি

খুলনায় শেষরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘরে ঢুকে এক পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে লবনচরা থানাধীন খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুই নারীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।   আহতরা হলেন— কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছোট ছেলের স্ত্রী ফাহিমা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়েছে।   স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে চরম ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা। কাজী আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল ৩ বছর আগে মাদক মামলায় কারাগারে থাকাকালীন ইমরান নামে এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচিত হয়। সেই সূত্রে ইমরান তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত।  গত ৬ মাস আগে ইমরান পুনরায় কারাবন্দি হলে রাশিদুল ইমরানের স্ত্রী ফাহিমাকে বিয়ে করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জেল থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল ইমরান। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভের জের ধরেই আজ ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় এই নারকীয় হামলা চালানো হয়। লবনচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
নিহত মো. মুরাদ খাঁ
খুলনায় কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতাকে নৃশংস হত্যা

তুচ্ছ ঘটনার জেরে খুলনার দিঘলিয়ায় এক যুবদল নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।  শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মুরাদ খাঁ (৩৫) সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং স্থানীয় মুনসুর খাঁ-এর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদসহ কয়েকজন যুবকের সাথে মুরাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করলে প্রাণভয়ে মুরাদ স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
খুলনার শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, অন্তত ১০ দোকান পুড়ে ছাই
খুলনার শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, অন্তত ১০ দোকান পুড়ে ছাই

খুলনার নিউমার্কেট এলাকার কাছে অবস্থিত বাইতুন নূর শপিং সেন্টার–এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।   সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১১টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটের একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।   ফায়ার সার্ভিস খুলনার উপ-পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগবে।   তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর বেশ কয়েকটি ২০ থেকে ২৫ বছর পুরোনো হওয়ায় বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি থেকেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
খুলনায় গুলিবর্ষণে যুবক আহত, পুলিশ তদন্তে তৎপর

খুলনায় আবারও দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণে এক যুবক আহত হয়েছেন। আহতের নাম আইনুল হোসেন ওরফে আয়নাল (৩২)। ঘটনা ঘটে বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরের লবণচরা থানাধীন হঠাৎ বাজার সংলগ্ন রহমানিয়া প্রথম গলিতে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪-৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল আইনুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুলিটি তার ডান পায়ে লাগলে গুরুতর জখম হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।   আইনুল ঘটনার দিনই লবণচরা থানায় দায়ের করা একটি মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা বা মামলার জের থেকেই এই হামলা হতে পারে। লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।   পুলিশ ইতিমধ্যে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তথ্য সংগ্রহে তৎপর। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরের টুটপাড়া এলাকায় এক যুবক সোহেল ওরফে চেগা সোহেলও প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মী উপস্থিতি, খুলনা বিএনপির তীব্র ক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মাল্যদানকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগর বিএনপি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।   রোববার রাতে নগর বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।   রোববার বিকেলে খুলনা নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো একদল নেতা–কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। এই সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন। উপস্থিতরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ঘটনার পর সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালানো হয়।   খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।   মাল্যদানের সময় কার্যালয়ে উপস্থিত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উদ্যোগে সেখানে প্রবেশ করা হয়। প্রায় ২৫–৩০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনো উল্লেখযোগ্য নেতা ছিলেন না।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। এরপর থেকে জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ভোটের জেরে নাশকতা খুলনায়
গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ভোটের জেরে নাশকতা খুলনায়

খুলনার ডুমুরিয়া-ফুলতলা (খুলনা-৫) আসনের আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ার বাসিন্দা শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে, যা এই অগ্নিকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করছে।   খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো জানান, ওই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এই ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীরা আগে থেকেই সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, শোকর আকুঞ্জির ছেলেরা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় তাদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হামলা।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে গৃহকর্তা শোকর আকুঞ্জি বলেন, "আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। সময়মতো টের না পেলে হয়তো আমরা কেউ আজ জীবিত থাকতাম না।" তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আজ রবিবার বিকেলে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। খানজাহান আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবেল জানান, অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
মিয়া গোলাম পরওয়ার
‘একটি পক্ষ কালো টাকা ব্যবহার করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছে’: গোলাম পরওয়ার

খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে একটি কুচক্রী মহল বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ছড়িয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নজিরবিহীন ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করেন।   মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "চিহ্নিত দাগী সন্ত্রাসী, যারা এতদিন কারাগারে ছিল কিংবা আত্মগোপনে ছিল, তাদের কালো টাকার মাধ্যমে বাইরে আনা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্রধারীদের সঙ্গে নিয়ে এরা ভোটকেন্দ্রে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। সারা দেশে এখন কালো টাকার স্রোত বইছে।"   পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, "স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তিনটি বড় দলই সততা ও আমানতদারির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। যারা বারবার ফেল করে, তাদের আর পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যায় না। জনগণ এবার সেই ফেল করা দলগুলোকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছ ও নৈতিক নেতৃত্ব চায়।"   তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সমালোচনা করে বলেন, "ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংসতায় মেতে উঠেছে। এমনকি মা-বোনদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি এবং প্রবীণ মুরব্বিদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই নোংরা রাজনীতি দমনে ব্যালটই হবে জনগণের প্রধান অস্ত্র।"   সরকারি কর্মচারীদের চলমান পে-স্কেল আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, "তাদের দাবি যৌক্তিক হলেও নির্বাচনের এই ক্রান্তিলগ্নে রাজপথে অস্থিরতা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। এতে তৃতীয় কোনো পক্ষ ফায়দা লুটতে পারে। আমরা অনুরোধ করব, নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমেই যেন এসব দাবি নিষ্পত্তি করা হয়।"   ফুলতলা উপজেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, পরিবর্তনের হাওয়া এখন দক্ষিণাঞ্চলেও প্রবল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইসলামী যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে খুলনা ও ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নিন্দা জানানো হয়।   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক বরকত উল্লাহ লতিফ জানান, মঙ্গলবার খুলনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের সমর্থনে প্রচার কার্যক্রম চলাকালীন দাকোপের লক্ষ্মীখোলা গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই হামলার নেতৃত্ব দেন স্থানীয় জামায়াত নেতা হরমুজ শেখ, ইলিয়াস ও আমানুল্লাহ।   বরকত উল্লাহ আরও বলেন, মহিলা ইউনিটের প্রধান রোজিনা বেগমসহ অন্তত ১১–১২ জন নারীকে ঘরে আটকে রেখে গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।   তিনি পূর্বের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। ২৮ জানুয়ারি ভোলা-৪ আসনে হাতপাখা প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালের ওপর জামায়াত নেতা সোহেল ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। বরকত উল্লাহ বলেন, যদিও তখনো প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল, কিন্তু ইসলামপন্থী সংগঠন জামায়াত তাদের উগ্র কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।   সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি শওকত ওসমান বলেন, জামায়াতের কিছু উগ্র কর্মী সীমা অতিক্রম করেছে। হাতপাখার গণজোয়ারে ভিত হয়ে তারা নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা চরম ধৃষ্টতা। জামায়াত আমিরের উচিত তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সংশোধন করা।   সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ শাহাদাত হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি হাফেজ মো. মুস্তাইজ বিল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেসার উদ্দিন হুজাইফ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0