আমেরিকা

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৩:১৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে নিজের তিন শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মা লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচারকার্যের জন্য চূড়ান্ত জুরি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য জুরিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক সংবেদনশীল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন শতাধিক সম্ভাব্য জুরির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

 

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে এবং নিহতদের ময়নাতদন্তের ছবি দেখার সম্ভাবনার কথা জেনে অনেক জুরিই কান্নায় ভেঙে পড়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার ১২ জন নারী ও ৬ জন পুরুষের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত জুরি প্যানেল গঠন করা হয়। জুরিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাদের বা পরিবারের কারও পোস্টপার্টাম বিষণ্ণতা (সন্তান জন্মদানের পর বিষণ্ণতা), উদ্বেগ বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যার ইতিহাস আছে কি না এবং তারা আসামিপক্ষের মানসিক অসুস্থতার দাবিকে কতটা নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করতে পারবেন।

 

মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স—উভয় পক্ষের জন্যই জুরিদের মানসিকতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। লিন্ডসের আইনজীবী কেভিন রেডিংটন জানান, জুরিরা সাক্ষীদের সাথে পূর্বপরিচিতি থাকা সত্ত্বেও বা মামলার ভয়াবহ বিবরণ শুনেও কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন, তা যাচাই করাই ছিল এই দীর্ঘ প্রশ্নমালার মূল উদ্দেশ্য। আবেগঘন এই শুনানিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেক জুরি কেঁদে ফেলায় আদালতের ভেতরে টিস্যু বক্স পর্যন্ত রাখতে হয়েছিল। আগামী সোমবার থেকে এই মামলার উদ্বোধনী যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা প্রায় দুই মাস ধরে চলতে পারে এবং এতে ২০০ জনের মতো সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিজের বাড়ির বেজমেন্টে ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে তিন সন্তান—কোরা (৫), ডসন (৩) এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। লিন্ডসের প্রাক্তন স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি, যিনি সম্প্রতি আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তিনি এই মামলার একজন মূল সাক্ষী। গত সপ্তাহে তিনি আদালতে আবেদন করেন যেন ঘটনার দিন তার করা ৯১১ কল রেকর্ড এবং সন্তানদের ময়নাতদন্তের ছবি বা পোশাক জনসমক্ষে প্রদর্শন করা না হয়।

 

শুক্রবার বিচারক উইলিয়াম সুলিভান তার এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। মামলার চূড়ান্ত রায় নির্ভর করছে জুরিরা লিন্ডসেকে পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত রোগী হিসেবে বিবেচনা করেন, নাকি প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী তাকে একজন সুপরিকল্পিত খুনি হিসেবে চিহ্নিত করেন, তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে  গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।   এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।   যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়।   পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।   কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে।   বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে।   সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে।   আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়।   শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়।   শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:৩৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

লস অ্যাঞ্জেলেসে বার্ষিক ৩০০ কোটি ডলার খরচের পরও বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা

কারাগারে সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষ, নির্জন কারাবাসে শন ‘ডিডি’ কম্বস

কারাগারে সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষ, নির্জন কারাবাসে শন ‘ডিডি’ কম্বস

Donald Trump listens as Mehmet Oz speaks

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা, গুরুত্বপূর্ণ চার লড়াইয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

বাড়ি আছে, কিন্তু মানুষের জন্য নয় আবাসন সংকটে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে
বাড়ি আছে, কিন্তু মানুষের জন্য নয় আবাসন সংকটে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের মধ্যে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আবাসিক বাড়ির মালিকানা ও ভাড়ার ব্যবসা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য “তারা যত খুশি সম্পত্তি কিনতে পারে, কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি ভাড়ায় দিতে পারবে না” এ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে আলোচিত একটি প্রস্তাবে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ি দীর্ঘমেয়াদে ভাড়ার জন্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, এতে বাজারে আরও বেশি বাড়ি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী সাধারণ পরিবারগুলো উপকৃত হবে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার বাড়ি কিনে ভাড়ার ব্যবসা গড়ে তুলেছে। এতে অনেক এলাকায় বাড়ির দাম বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, এ ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ নতুন আবাসন নির্মাণে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়াটিয়ারাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ সুদের হার, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবাসন সংকট বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় করপোরেট মালিকানার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:১৮
ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন, উদ্বেগ জানাল জাতিসংঘ

টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

টেক্সাসে ট্রেনের কনটেইনারে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু, মানবপাচারের অভিযোগে ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জন অভিযুক্ত

অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান
অবসরে গিয়ে যে দুই ভুলের জন্য আফসোস করছেন অর্ধেকের বেশি আমেরিকান

কর্মজীবন শেষ হওয়ার পর আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান এখন দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি আফসোস করছেন। একটি হলো অবসরের জন্য আরও আগে সঞ্চয় শুরু না করা, অন্যটি কর্মজীবনে পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে না পারা।   টিয়া ইনস্টিটিউট (TIAA Institute) এর এর নতুন গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। ১,৫৯১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত জরিপের ফল অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের ৫৩ শতাংশ বলেছেন, তারা আরও আগে থেকে অবসর সঞ্চয় শুরু না করায় আফসোস করেন। আর ৫২ শতাংশের আফসোস, তারা অবসরের জন্য যথেষ্ট অর্থ জমাতে পারেননি।   গবেষণাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অন্যান্য খরচ অবসর পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। যারা এখনও কর্মজীবনে আছেন, তাদের মধ্যেও ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। টিয়া ইনস্টিটিউট বলছে, অবসরের আগে অপ্রত্যাশিত ব্যয় বা আর্থিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত অর্থ হাতে রাখা কর্মজীবীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ।   অবসর পরিকল্পনায় কেন আগে সঞ্চয় শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও টিয়া ইনস্টিটিউট এর আরেকটি ২০২৬ সালের গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, অবসরের ৩৫ বছর আগে থেকে আয়ের ১০ শতাংশ হারে ধারাবাহিকভাবে সঞ্চয় করার পরিবর্তে কেউ যদি ১০ বছর দেরিতে শুরু করেন, একই অবসর আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার সঞ্চয়ের হার প্রায় দ্বিগুণ করে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশে নিতে হতে পারে।   এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও কম্পাউন্ডিংয়ের। কর্মজীবনের শুরুতে জমা করা অর্থ দীর্ঘ সময় বিনিয়োগে থাকার সুযোগ পায়। ফলে মূল সঞ্চয়ের পাশাপাশি সেই অর্থ থেকে অর্জিত মুনাফাও পরবর্তী সময়ে আরও আয় তৈরির সুযোগ পায়। দেরিতে শুরু করলে এই দীর্ঘ সময়ের সুবিধাটিই কমে যায়।   অবসরের জন্য আমেরিকানদের প্রত্যাশিত সঞ্চয় এবং বাস্তবে তারা যতটা জমাতে পারবেন বলে মনে করছেন, তার মধ্যেও বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।   স্ক্রোডার্স এর U.S. Retirement Survey অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের 401(k), 403(b) বা 457-এর মতো অবসর পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া আমেরিকানরা মনে করেন, স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর কাটাতে গড়ে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় প্রয়োজন। অথচ ৫১ শতাংশের ধারণা, অবসরের সময় তাদের সঞ্চয় পাঁচ লাখ ডলারেরও কম থাকবে। ২৪ শতাংশ মনে করছেন, তাদের হাতে আড়াই লাখ ডলারেরও কম থাকবে।   বর্তমান ব্যয়ের চাপও অবসর সঞ্চয়ে প্রভাব ফেলছে। স্ক্রোডার্স এর জরিপে কর্মক্ষেত্রের অবসর পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, অন্যান্য খরচের কারণে তারা বেতনের ১০ শতাংশ অবসরের জন্য সঞ্চয় করতে পারছেন না। ৩৩ শতাংশের ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ তাদের অবসর সঞ্চয়ের চেয়েও বেশি। আবার ২৭ শতাংশ ইতোমধ্যে কর্মক্ষেত্রের অবসর তহবিল থেকে অর্থ ধার করেছেন।   যারা ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন, তাদের আর্থিক অভিজ্ঞতাও উদ্বেগের চিত্র দেখাচ্ছে। স্ক্রোডার্স এর ২০২৬ সালের পৃথক জরিপে ৪৯ শতাংশ অবসরপ্রাপ্ত জানিয়েছেন, অবসরে তাদের খরচ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হচ্ছে। ৫৮ শতাংশ জানেন না তাদের সঞ্চিত অর্থ কত দিন চলবে এবং ৬৪ শতাংশ বলেছেন, অবসরে যাওয়ার আগে আরও বেশি পরিকল্পনা করা উচিত ছিল।   স্বাস্থ্যসেবার খরচও বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্তরা গড়ে তাদের মাসিক আয়ের ১৬ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা, ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম, প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ে খরচ করছেন। ৫৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভেবেছিলেন মেডিকেয়ার তাদের চিকিৎসা ব্যয়ের আরও বড় অংশ বহন করবে।   তবে অবসরের জন্য সবার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, এমন কোনো একক হিসাব নেই। একজন মানুষের প্রয়োজনীয় সঞ্চয় তার বয়স, আয়, জীবনযাত্রার ধরন, ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা, পেনশন এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর নির্ভর করে। ফলে স্ক্রোডার্স এর জরিপে উঠে আসা ১২ লাখ ডলারকে সবার জন্য প্রয়োজনীয় অবসর তহবিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের গড় প্রত্যাশা।   নতুন গবেষণাগুলো থেকে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট। অবসরে পৌঁছানোর পর যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি আফসোস করছেন অনেক আমেরিকান, সেগুলো নেওয়ার সময় ছিল কর্মজীবনেই। তাদের অভিজ্ঞতা এখন যারা চাকরি করছেন, বিশেষ করে যাদের সামনে এখনও দীর্ঘ কর্মজীবন রয়েছে, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৩:২৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৮৪ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, দেশ না ছাড়লে প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার

বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

বুকে অস্ত্রোপচার করা কিশোরের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হাসপাতালের সাবেক নার্স আটক

0 Comments