ভূরাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধে যেভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে ইরান

প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সুর বাজলেও, যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল বলছে ভিন্ন কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দুর্বল করার যে ছক কষেছিলেন, তা কার্যত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। দৃশ্যত কোনো সামরিক বিজয় ছাড়াই ইরানের দেওয়া ১০ দফা শর্ত মেনে নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প। একসময়ের ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি এখন ফিকে হয়ে গেছে মার্কিন নৌবহরের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য মার্কিন মেরিন সেনাদের কড়া পাহারার হুমকি উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে। কোন জাহাজ চলবে আর কোনটি থামবে, তা নির্ধারিত হচ্ছে ইরানের ইশারায়। এমনকি আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে এখন ডলারের বদলে চাইনিজ ইউয়ানে টোল দিতে হচ্ছে, যা মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্যের মুখে এক বড় চপেটাঘাত। জ্বালানি সরবরাহের এই নিয়ন্ত্রণ ইউরোপে ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রমাণ করে ইরান এখন পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী 'জ্বালানি অস্ত্র' হাতে পেয়েছে। অটুট কমান্ড ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সিআইএ-র একের পর এক গুপ্তহত্যা এবং অনুপ্রবেশের চেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের কমান্ড কাঠামো ভেঙে পড়েনি। ইরাক বা সিরিয়ার মতো সরকার পতনের যে দুঃস্বপ্ন পশ্চিমা বিশ্ব দেখেছিল, তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং ১৩ হাজার বিমান হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আরও দুর্ভেদ্য। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো নিয়মিত ইরানের প্রতিরোধের মুখে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা মোসাদ প্রধানের ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ তত্ত্বকে ভুল প্রমাণিত করেছে। আরব বিশ্বে নতুন সমীকরণ ও আব্রাহাম চুক্তির মৃত্যু এই যুদ্ধ আরব জনগণের মনস্তত্ত্বে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’ এখন এক অলীক কল্পনা বা হ্যালুসিনেশন মাত্র। মিশর, জর্ডান থেকে শুরু করে বাহরাইন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে ইরানকে সমর্থনের কাতারে দাঁড়িয়েছে। সিরিয়ার রাজপথে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মিছিলে ফিলিস্তিনি পতাকার সাথে যে ক্ষোভ দেখা গেছে, তা আরব বসন্তের নতুন কোনো স্ফুলিঙ্গের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতানিয়াহু ইরানকে ধ্বংস করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার বিপরীতে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া-সুন্নি, ধনী-দরিদ্র এবং বিভিন্ন আরব জাতিকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প হয়তো সাময়িক ‘বিজয়’ ঘোষণা করে বিদায় নেবেন, কিন্তু ভূ-রাজনীতির চালকের আসনে ইরান যে স্থায়ীভাবে বসে গেছে, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে অনস্বীকার্য এক সত্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এবার লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি রাশিয়ার

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ-কে লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষক দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে ওই সেতুতে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা একটি সেতু ধ্বংসের ঘটনায় এই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় ব্রিটিশ প্রযুক্তির ভারী ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও ঘটনাটি গত বছরের মার্চে ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।   রুশ বিশ্লেষক ভ্লাদিমির কর্নিলভ অভিযোগ করেন, রুশ ভূখণ্ডে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে স্বীকার করা হচ্ছে, যা ‘উদ্বেগজনক’।   তবে উল্লেখ্য, যে সেতুটি ধ্বংস করা হয়েছিল সেটি আন্তর্জাতিকভাবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত, যদিও তা রাশিয়ার দখলে ছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।   এদিকে রাশিয়ার আরেকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপের জবাবে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলো’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বাস্তব সামরিক পদক্ষেপে রূপ নিলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আহ্বান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনার ঘোষণা আসেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন । ছবি: সংগৃহীত
ব্লুমবার্গ বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের নীতির ছায়ায় বদলাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য: এশিয়ায় বাড়ছে চীনের প্রভাব

বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশ ক্রমশ চীন-নির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে। ব্লুমবার্গ-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।   বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চীনা ঋণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই ধারণা কিছুটা পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   এ অবস্থায় পাকিস্তান-এর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে জ্বালানি সংকটে পড়া দেশটি এবার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে চীন থেকে আমদানি করা সস্তা সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারকে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক পরিবার এখন সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে, যা জ্বালানি সংকটের ধাক্কা কিছুটা কমিয়েছে।   একইভাবে নেপাল-এ সস্তা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। এসব ক্ষেত্রেই চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। তবে এই নির্ভরতা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। চীন তার সরবরাহ শৃঙ্খল বিশেষ করে বিরল খনিজ ও প্রযুক্তি খাতে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য থেকে কৌশলগতভাবে সরে যান বা হরমুজ প্রণালি-সংকট সমাধানে সক্রিয় না হন, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।   ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে একটি বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে তারা কি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভরসা রাখবে, নাকি চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকে আরও ঝুঁকবে?   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইরান চীনের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করতে পারে, যা ভারতের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে টানাপোড়েন: চীন-ইরান সমীকরণে নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   ভারতীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মারসেলাস ইনভেস্টমেন্টসের বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে কৌশলগতভাবে এগিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশ একসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তার মতে, এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা নয়; বরং এটি জ্বালানি ও কৌশলগত আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার অংশ। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ মুখার্জি বলেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।   অন্যদিকে, কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক আবদুল্লাহ বাবুদ মনে করেন, উপসাগরীয় তেলের ওপর চীন-এর নির্ভরতা এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে চীনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   চীন ইতোমধ্যে ইরান থেকে কম দামে তেল আমদানি করছে এবং ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বেইজিং।   এই প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রার চাপ এবং সুদের হার বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের অবদানে কৃতজ্ঞ ইরান

ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান কখনোই ইসলামাবাদের প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেনি। শনিবার (৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন। এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে এবং ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইরানের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। আমরা পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং কখনোই ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাইনি। "আরাগচি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান মূলত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ একটি স্থায়ী এবং চূড়ান্ত অবসান চায়।  আলোচনার ক্ষেত্রে সেই শর্তাবলিই ইরানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টের শেষে তিনি উর্দুতে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইরানি নাগরিকদের পাকিস্তানি পতাকা হাতে উল্লাস করার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ইরানের এই দ্রুত স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। আরাগচির পোস্টের জবাবে তিনি একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি সংবাদমাধ্যমগুলোকে কেবল দাপ্তরিক বিবৃতির ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভিত্তিহীন জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং চীনের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে একটি চতুর্ভুক্তি বৈঠকে ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের মাটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রতিবেদন মূলত শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা হতে পারে, যা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়োপযোগী বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে উপসাগরীয় দেশগুলোকে বাদ দেওয়া চলবে না: সতর্কবার্তা কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) দেশগুলোর অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি।  সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আল থানি বলেন, "যেখানে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ মানচিত্র আঁকা হচ্ছে, সেখানে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই দেশগুলোকে আলোচনার টেবিলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রণালীটি কোনো পক্ষই রাজনৈতিক দর কষাকষি বা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। এটি যেকোনো পরিস্থিতিতে শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে।  আল থানি সতর্ক করে বলেন, "হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা বা একে জিম্মি করার প্রচেষ্টা কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক সরাসরি হুমকি।"

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
‘অ্যান্টিলিসের মুক্তা’ দখল করতে কেন এত মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প?

"জন্ম থেকেই কিউবার নাম শুনে আসছি, এবার কোনো না কোনোভাবে আমরা কিউবা নিয়ে নেব।"— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই একটি বাক্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দান।  গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিউবা দখলের এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন তিনি। সংকটে কিউবা: অন্ধকারে ডুবছে দ্বীপরাষ্ট্র বর্তমানে কিউবা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎহীনতায় কিউবার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল জানিয়েছেন, গত তিন মাসে কোনো জ্বালানি তেল কিউবায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর সেখান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কিউবার পাওয়ার গ্রিডগুলো অচল হয়ে পড়েছে। সুর নরম থেকে চরম: ট্রাম্পের ৮ দিনের পরিবর্তন মাত্র আট দিন আগে গত ৯ই মার্চ ট্রাম্প কিউবার সংকট নিরসনে 'বন্ধুত্বপূর্ণ অধিগ্রহণে'র (Friendly Acquisition) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭ই মার্চ তার সুর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। সত্যি বলতে, ওরা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি রাষ্ট্র।" ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ২০০ বছরের আধিপত্যের লড়াই বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার প্রতি ট্রাম্পের এই মনোভাব কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০২ সালে কিউবা নামমাত্র স্বাধীনতা পেলেও মার্কিন 'প্ল্যাট সংশোধনী'র মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বজায় রাখে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লব এবং চে গেভারার গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে কিউবা আমেরিকার প্রভাবমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও তা চিরস্থায়ী শত্রুতার জন্ম দেয়। ১৯৬১ সালের ব্যর্থ 'বে অফ পিগস' অভিযান থেকে শুরু করে বর্তমানের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—আমেরিকা সবসময়ই কিউবাকে একটি 'কমিউনিস্ট হুমকি' হিসেবে দেখে এসেছে। আদর্শগত যুদ্ধ ও মারকো রুবিও ফ্যাক্টর ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও, যিনি নিজে একজন কিউবান শরণার্থীর সন্তান, কিউবায় সরকার পরিবর্তনের কট্টর সমর্থক। ট্রাম্প এমনকি রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা এখন ট্রাম্পের কাছে একটি 'আদর্শগত যুদ্ধ' বা 'আইডিওলজিক্যাল ব্যাটল' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার পর কিউবা কি তবে আমেরিকার পরবর্তী লক্ষ্য? ট্রাম্পের এই 'অধিগ্রহণ' বার্তার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: বিবিসি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চলমান সংঘাতে ইরান যেসব শীর্ষ নেতাকে হারালো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই প্রভাবশালী নেতা তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।   একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে হামলায় প্রাণ হারান। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও ওই হামলায় নিহত হন, যিনি দেশটির পারমাণবিক ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন।   মার্চ মাসেও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় নিহত হন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি। একই ঘটনায় তার ছেলে ও এক সহযোগীও প্রাণ হারান। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন।   সবশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) হামলায় নিহত হন গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: মুসলিম বিশ্বে কেন একা হয়ে পড়ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরান যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে, তখন পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর নীরবতা এক বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তথাকথিত 'প্যান-ইসলামিক' সংহতির বুলি ছাপিয়ে কেন আরব দেশগুলো তেহরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশই ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না, বরং অনেকে দেশটিকে হুমকি হিসেবেও দেখছে। মুসলিম দেশগুলো তথাকথিত 'প্যান-মুসলিম' বা বৃহত্তর মুসলিম সংহতির কথা বারবার প্রচার করলেও সাম্প্রদায়িক বৈপরীত্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস, নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার মতো বাস্তব পরিস্থিতিরও মুখোমুখি। একইসাথে, একটি অনিশ্চিত পরিণতির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে চরম অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আরব বিশ্বের কাছে নিজেদেরকে ইসলামি সংহতির রক্ষক এবং সকল মুসলিমের জন্য একটি মানবিক বার্তার বাহক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে তেহরান। কিন্তু আজ সেই ইরানই রমজান মাসের মাঝখানে আরব দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, বলছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস। পারমাণবিক শক্তি অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর থেকে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতেও ইরান হামলা চালাচ্ছে। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম বিশ্ব কোনো একক বা অখণ্ড সত্তা নয়। প্রতিটি মুসলিম দেশ (যার বেশিরভাগই আরব) মূলত তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই পরিচালিত হয়। ফলে কেবল সংহতির খাতিরে তারা ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে ইচ্ছুক নয় বলেই মনে হচ্ছে। তাছাড়া, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোরও ইরানের প্রতি মনোভাব বেশ জটিল। ইরান কোনো আরব দেশ নয়, তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলে এবং জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শিয়া। যদিও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি। বর্তমান যুদ্ধের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক খুবই সামান্য, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সুন্নি-শিয়া বিভাজন। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বিবিসিকে বলছেন, "শিয়াদের সঙ্গে সুন্নিদের কোনো সংহতি হতে পারে না, বিশেষ করে যখন শিয়া অধ্যুষিত ইরান সুন্নি রাষ্ট্রগুলোতে হামলা চালায়।" তাছাড়া, ইরান তার সুন্নি প্রতিবেশীদের ওপর এমন একটি সময়ে হামলা চালিয়েছে যখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। এমনকি ওই দেশগুলোকে আরও গুরুতর সংঘাতে টেনে আনার হুমকিও দিয়েছে, যা সরাসরি তাদের স্বার্থে আঘাত হানে। কী করতে চেয়েছিল ইরান? এই অঞ্চলে কিংবা বিশ্বজুড়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব বেশি মিত্র কোনোকালেই ছিল না, কিন্তু এখন কার্যত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি। প্রায় অর্ধশতাব্দীর ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিঘ্নকারী প্রধান দেশগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশই ইরানকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং প্রায়শই তাদের প্রতি প্রকাশ্যে শত্রুতা পোষণ করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে, ইরান সুপরিকল্পিতভাবে নিজেকে একটি শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামের অগ্রনায়ক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি সুসংহত করার চেষ্টা চালায়। সাবেক বন্ধু দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের 'প্রধান শত্রু' এবং ইসরায়েলকে 'অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর শত্রু' হিসেবেও ঘোষণা করেছিল ইরান। তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার মডেল অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা। বিশেষ করে এই অঞ্চলের শিয়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা। ইরানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, যাদের ভূখণ্ডে ইসলামের প্রধান পবিত্র স্থানগুলো অবস্থিত। বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে একে অপরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে রিয়াদ এবং তেহরান। পারস্য উপসাগরের তেল-সমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থার (রাজতন্ত্র) সঙ্গে ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহ শাসনামলের মিল রয়েছে। ফলে, আরব দেশগুলো নিজেদের দেশেও ইরানের মতো গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে বেশ আতঙ্কিত। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বেশ আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। ফলে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠা নিয়ে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের নিজস্ব স্বার্থের সাথে সরাসরি দ্বন্দ্ব তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যের এই 'স্নায়ুযুদ্ধ' কয়েক দশক ধরে চলেছিল, যা অবশেষে ২০২৩ সালে এসে থামে। সে সময় চীনের মধ্যস্থতায় নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করতে রাজি হয় রিয়াদ এবং তেহরান। আর এবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর, সৌদি আরব এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছে যে, ইরান তাদের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলতে দ্বিধাবোধ করবে না। 'আটলান্টিক কাউন্সিল' এ এক মন্তব্যে 'মিডল ইস্ট গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল'-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবের লিখেছেন, "চলমান সংঘাত যেদিকেই যাক না কেন, আঞ্চলিকভাবে ইরানের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে সেটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একবার আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে, তা পুনরায় ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।" এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব সংহত করতে ইরান কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তথাকথিত 'প্রতিরোধ অক্ষ' গড়ে তুলছে। লেবানন, সিরিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া 'হেজবুল্লাহ', ইয়েমেনের 'হুথি' এবং ইরাকের বিভিন্ন মিত্র বাহিনীকে অস্ত্র ও অর্থায়ন করেছে তেহরান। এমনকি হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে সমর্থনের মাধ্যমে, ইরান মুসলিমদের রক্ষক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে ফিলিস্তিন ইস্যুকেও ব্যবহার করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপগুলোকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের থেকেও বরং তেহরানের নিজস্ব প্রভাব বিস্তার এবং এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেই বেশি দেখেছে অনেক আরব দেশ। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়ার জন্য ইরানের আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। আস্থার সংকট যে কারণে অনেক আরব দেশ মনে করে, অতীত কিংবা বর্তমান যেকোনো সময়েই, ইরানকে সাহায্য করার অর্থ হলো এমন একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা, যাকে তারা আঞ্চলিক ভারসাম্য বিনষ্টকারী এবং নিজেদের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মনে করে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু এটি বোঝা যাচ্ছে যে, এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভঙ্গুর ভারসাম্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বলছেন, "উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পারছে যে ইরান মাত্র কয়েকটি আঘাতেই তাদের সমস্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস করে দিতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান আবারও এই অঞ্চলের প্রধান হুমকি হয়ে উঠছে।" ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ আরও যোগ করেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপট অনিবার্যভাবে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের আরও কাছাকাছি যেতে বাধ্য করবে।" "বিশেষ করে 'আয়রন ডোম'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেতে, যা দেশটির (সৌদি আরব) সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে পারে," বলেন তিনি। এদিকে, ইরান সমর্থিত শিয়া বাহিনীগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চাইলেও বর্তমানে তাদের সেই সক্ষমতা ও সুযোগ খুবই সীমিত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের ফলে যে তথাকথিত 'প্রতিরোধের অক্ষ' গড়ে উঠেছিল, সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। হেজবুল্লাহর নেতৃত্বকে অনেকটাই নির্মূল করেছে ইসরায়েল, পঙ্গু করে দিয়েছে হামাসকেও। এছাড়া বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মস্কো পালিয়ে গেছেন সিরিয়ার সাবেক নেতা ও ইরানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ। সবশেষ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ইসলামি বিশ্বে ইরানের প্রতি অবিশ্বাস আরও তীব্রতর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস বলছেন, "তেহরান সম্ভবত ভেবেছিল যে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ওপর চাপ বাড়লে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে।" পারস্য উপসাগরের কিছু দেশ ইরানের সাথেও ভালো সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। ওমান এবং কাতার অনেকবারই ইরান সরকারের সাথে সংলাপে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই দেশগুলো তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়। সুন্নি এবং শিয়া বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি (প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ), যেখানে শিয়াদের সংখ্যা তুলনামূলক কম (প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ)। প্রধান শিয়া জনগোষ্ঠীগুলোর বসবাস মূলত ইরান, আজারবাইজান, ইরাক এবং পাকিস্তানে। মূলত ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবীর মৃত্যু পরবর্তী উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধের মধ্য দিয়ে এই বিভাজনের সূত্রপাত হয়। সে সময় তার অনুসারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল এই প্রশ্নে যে, কে মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন? শিয়ারা (যাদের নামের অর্থই হলো আলীর 'অনুসারী' বা 'দল') নবীর রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয় আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে ছিলেন। তাদের দাবি ছিল যে, নবীর নিকটতম আত্মীয় এবং শিষ্য হিসেবে আলীরই খলিফা হওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, সুন্নিরা বিশ্বাস করত যে, নবীর সবচেয়ে যোগ্য এবং সম্মানিত সাহাবীদের মধ্য থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা বেছে নেওয়া উচিত। ইসলামের নবীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু বকর প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। খেলাফতের এই ক্ষমতার লড়াই শেষ পর্যন্ত ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে আলীর হত্যাকাণ্ডের দিকে মোড় নেয়। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র হাসান ও হুসাইনও শাহাদাত বরণ করেন। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালা শহরের (বর্তমান ইরাক) কাছে হুসাইনের মৃত্যু আজও শিয়াদের কাছে একটি ঐতিহাসিক শোকাবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক রাজনৈতিক মতবিরোধ ধীরে ধীরে এক গভীর ধর্মীয় ও মতাদর্শগত বিভাজনে রূপান্তরিত হয়। মূলত ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবই এই ধর্মীয় সংঘাতকে একটি ভূ-কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপান্তরিত করেছিল। তখন থেকেই মুসলিম বিশ্বে আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে শিয়া অধ্যুষিত ইরান এবং সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরব। ইরানের নেতারা প্রকাশ্যে ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থান- মক্কা ও মদিনার রক্ষক হিসেবে সৌদি রাজবংশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এছাড়া হজের সময় ইরানিদের উস্কানিতে ঘটা বেশ কয়েকটি ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তোলে। তেহরানের প্রভাব সীমিত রাখতে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও আন্দোলনকে অর্থায়ন করেছিল রিয়াদ। যেখান থেকে পরবর্তীতে এমন সব জিহাদি সংগঠনের উত্থান ঘটে যারা সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। মুসলমানদের উপর প্রভাব বিস্তার ইরান ও সৌদি আরবের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে চলা এই সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সৌদি আরবের শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিকে পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান। তিনি তার জাতীয় মহাপরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'-এ তেল থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। সৌদি আরব বর্তমানে সৌর ও বায়ু শক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তাদের স্থানীয় ফুটবল লিগে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এসব কারণেই সৌদি আরব এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানসহ তার সমস্ত প্রতিবেশীদের সাথে একটি বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ এবং তেহরান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও সম্মত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ ব্যালানশের মতে, যুবরাজ বিন সালমান যেকোনো মূল্যে এই স্থিতিশীলতা 'ধরে রাখতে' এবং সবার সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, আমিরাতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজাত আল-সাইদ মনে করেন, ইরান কখনোই তার অতীত নীতিগুলো বাতিল করতে চায়নি, বরং তারা একটি 'বিপ্লবী আদর্শের রাষ্ট্র' হিসেবেই রয়ে গেছে। যা পারস্য উপসাগরের অন্য দেশগুলোর ঠিক বিপরীত, যারা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শিক গোঁড়ামি থেকে সরে এসেছে। আল-সাইদ আরও উল্লেখ করেন যে, "সৌদি আরবের ধর্মীয় রাজনীতি থেকে জাতীয়তাবাদের দিকে বিবর্তন এবং আদর্শ নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজনে নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম। "কিন্তু আদর্শিক ব্যবস্থাগুলো সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি অনড় হয়ে ওঠে, তাদের জন্য যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন মানেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে," বলেন তিনি। আবারও প্রধান হুমকি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তিত হয় মূলত "আব্রাহাম অ্যাকর্ডস" চুক্তি স্বাক্ষরের পর। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং পরবর্তীতে মরক্কো- ইসরায়েলের সাথে নিজেদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এই নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় ক্রমেই বেশ কিছু আরব রাষ্ট্রের সাধারণ শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকে ইরান। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরবও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল, যদিও এই চুক্তির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিলিস্তিন ইস্যুটি। এখন মূল প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের পর কী ঘটবে? তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা- যা দুর্বল হলেও এখনও টিকে আছে এবং হয়তো আরও বেশি বিপজ্জনক- সেটিই কি বহাল থাকবে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে? বিশেষজ্ঞ ব্যালানশ মনে করেন, "ঘটনাপ্রবাহ যেদিকেই যাক না কেন, একটি বিষয় পরিষ্কার যে- ইরানের পক্ষে খুব শিগগিরই তার অতীত ক্ষমতার স্তরে ফিরে যাওয়া অসম্ভব বলেই মনে হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকুক বা নতুন কোনো নেতৃত্ব আসুক- ইরানকে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে, যা শাহ শাসনামলে ছিল। যখন ইরান কার্যকরভাবে মধ্যপ্রাচ্যের "পুলিশম্যান" বা প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করত।"

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝেই কিউবা দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করা তার জন্য অসম্ভব নয়, বরং এটি হতে পারে ‘একটি সম্মানের বিষয়’।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে কিউবা সংকটকে ব্যবহার করে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।   কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এই হুমকিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুৎ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চাইলে কিউবার ওপর ‘যেকোনো কিছু’ করতে পারেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে ‘দখল’ শব্দটি সরাসরি সামরিক অভিযান নির্দেশ করছে না। বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সরকার পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কাঠামো প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে।   রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা কিউবারকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।   ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বক্তব্যে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অর্থনৈতিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে।   বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটি একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য হলো আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা।   ইরান যুদ্ধ ও কিউবা সংকট, যদিও দুটি ভিন্ন ইস্যু, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট: একাধিক অঞ্চলে একযোগে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু: কতটা সংকটে পড়বে ইরান?

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ দাবি করেছে যে, ইরানের অন্যতম ক্ষমতাধর নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে। এই জোড়া আঘাত কি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে পারবে? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এইচ. এ. হেলিয়ার জানান, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা যেকোনো বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বা শূন্যতা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম।  তার মতে, দেশটির শাসনব্যবস্থা ‘স্থিতিস্থাপকতা’ বা রেজিলিয়েন্সের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এমনকি চার স্তরের গভীর পর্যন্ত উত্তরসূরি নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে যাতে শীর্ষ কোনো নেতার মৃত্যুতে প্রশাসনিক বা সামরিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা না আসে। এর আগে সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রেও যেমন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইরান সেই একই পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির কমান্ড স্ট্রাকচার এতটাই গভীরে প্রোথিত যে কোনো একক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে এই ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অচল করা অসম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: চীন ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে নতুন স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এখন আছড়ে পড়ছে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টেবিলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা দুই পরাশক্তির সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন এই বৈঠককে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তখন বেইজিংয়ের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে চরম বিরক্তি ও সতর্কবার্তা। ঘটনার সূত্রপাত হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া এক আহ্বানকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনসহ অন্যান্য দেশকেও এই অভিযানে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু বেইজিং এই প্রস্তাবে সায় না দেওয়ায় খোদ ট্রাম্পই বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও সোমবার সুর নরম করে তিনি বলেছেন, 'আমি যেতে চাই, কিন্তু দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়েছি। শি-র সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার।' তবে ট্রাম্পের এই 'চমৎকার সম্পর্কের' দাবিকে পাত্তা দিচ্ছেন না চীনা কর্মকর্তারা। বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারার নামে মার্কিন রণতরীর সঙ্গী হওয়াকে চীন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাফ জানিয়েছেন, বেইজিং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের এই আহ্বান রীতিমতো উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র 'গ্লোবাল টাইমস' প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, নাকি আমেরিকার অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি অন্যের ঘাড়ে চাপানোর ফন্দি? এমনকি কোনো কোনো প্রভাবশালী চীনা ব্লগার রসিকতা করে বলছেন, ট্রাম্পের উচিত তার জাহাজ পাহারার জন্য ইরানি নৌবাহিনীকেই দাওয়াত দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জন্য নিজের জাহাজ ও কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলা বা ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক চটানোর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে তাদের লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা; চীনের জ্বালানি তেলের জাহাজ চলাচলে তারা কোনো বাধা দেবে না। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডিং লং মনে করেন, ট্রাম্প সফর করুন বা না করুন, চীন কোনোভাবেই এই যুদ্ধে জড়াতে রণতরী পাঠাবে না। কারণ এটি হবে মার্কিন নেতৃত্বের কাছে সরাসরি নতিস্বীকার। তবে এই টানাপোড়েন চীনের জন্য উভয়সংকট তৈরি করেছে। বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ায় বেইজিংয়ের ধীরগতির অর্থনীতি চাঙ্গা করার পরিকল্পনা বা তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন চাপ কমানোর আলোচনা থমকে যেতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের অন্তত ৯টি পণ্যবাহী জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ইউন সান মনে করেন, বেইজিং হয়তো পর্দার আড়াল থেকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করবে। কারণ প্রণালিটি খুলে দিলে চীনের বাণিজ্য যেমন সচল হবে, তেমনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে দরকষাকষিতেও সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ট্রাম্পের জন্যও এই বৈঠক অত্যন্ত জরুরি, কারণ যুদ্ধের ময়দানে সফল চুক্তির কৃতিত্ব নিতে তিনিও এখন মরিয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পর কি তুরস্ক লক্ষ্যবস্তু? ইসরায়েলকে ঘিরে উদ্বেগ আঙ্কারার

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—ইরানের পর আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুরস্কও কি ভবিষ্যতে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে?   সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের নেতৃত্ব একাধিক বিবৃতিতে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে যে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।   ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এরদোয়ান বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এতে পুরো অঞ্চল বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই দিনে জানায়, বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এমন যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আঙ্কারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে হওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করে।   তুরস্কের মতে, ইরানের ওপর হামলা কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। আঙ্কারা মনে করে, এমন সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে তুরস্কের উদ্বেগ বেশি। কারণ দেশটি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের পথ ধরে আসে। হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত তীব্র হলে তুরস্কের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক মহলে তুরস্ককে ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনাও আঙ্কারার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এক বক্তব্যে বলেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্ককে উপেক্ষা করা যাবে না।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এখন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় আঙ্কারা। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও জোরদার করছে দেশটি।   পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন করে নাড়িয়ে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘থাড’ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ চীন

উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা নিজেদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড (THAAD) সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব সরঞ্জাম তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপ এশীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু (Seongju) ঘাঁটিতে থাকা থাড ইন্টারসেপ্টরগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এই সিদ্ধান্তে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে জানান, তারা এই স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাড সরিয়ে নিলেও উত্তর কোরিয়াকে ঠেকানোর মতো সক্ষমতা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রয়েছে। অন্যদিকে, চীন শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড মোতায়েনের বিরোধী। বেইজিংয়ের দাবি, এই ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার চীনের অভ্যন্তরীণ সামরিক কার্যক্রম নজরদারি করতে সক্ষম। থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো অঞ্চল থেকে সামরিক সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি জাপান ও তাইওয়ানও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত পরিবর্তন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে, উত্তর কোরিয়া এই সুযোগে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উস্কানি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন বড় হুমকি: ইরান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য কোনো নিরাপত্তা নয়, বরং বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি দাবি করেন, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কাউকে রক্ষা করতে সক্ষম নয়। ঘালিবাফ ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের তুলনায় ইসরায়েলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যে কাউকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত এবং ইসরায়েল ছাড়া অন্য কারো নিরাপত্তার পরোয়া তারা করে না। এর আগে অপর এক পোস্টে ইরানি এই নেতা দাবি করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রতারিত করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন।  বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে পরিচালিত। এই অভিযানে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   হামলার শিকার হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুধাবির আল ধাফ্রা বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি। অন্যদিকে, ইরানের ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুও প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ২৫০০ মার্কিন মেরিন সেনার একটি চৌকস দল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। এই মোতায়েন ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
আয়াতুল্লাহ: ইরানের জনগণ ও রাজনীতিতে এই পদবি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষমতার রাজনীতি এবং ধর্মীয় আভিজাত্যের কেন্দ্রে থাকা একটি শব্দ হলো ‘আয়াতুল্লাহ’। আরবি এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘আল্লাহর নিদর্শন’। শিয়া ইসলামে এটি এমন এক উচ্চতর ধর্মীয় পদবি, যা দশকের পর দশক ধরে ধর্মতত্ত্ব এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জনকারী আলেমদের প্রদান করা হয়।  তবে বর্তমান ইরানের প্রেক্ষাপটে এই পদবি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন হয়ে উঠেছে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রধান শর্ত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ হতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই একজন জ্যেষ্ঠ ইসলামি আইনবিদ বা মুজতাহিদ হতে হয়। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনালগ্নে বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম আলোচনায় আসে।  এর আগে তাকে ‘হোজাতোলেসলাম’ (আয়াতুল্লাহর নিচের পদমর্যাদা) হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে সম্বোধন করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতাবার এই পদোন্নতি মূলত তাকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে উত্তরসূরি হিসেবে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশল। ১৯৮৯ সালেও যখন আলী খামেনেই দায়িত্ব নেন, তখনও অনেকটা একইভাবে তার ধর্মীয় পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।  মোজতাবা খামেনির কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে ক্ষমতার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিতর্কিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে যুক্তরাষ্ট্র; দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশটি "প্রচুর অর্থ উপার্জন" করে। তবে এই আর্থিক লাভের চেয়েও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকেই নিজের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।   মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে "শয়তান সাম্রাজ্য" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য তথা সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর্থিক মুনাফার চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।   ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি সামরিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং
সিউল-ওয়াশিংটন যৌথ মহড়া, 'ভয়াবহ পরিণতির' হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়াকে পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা বিনাশের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের দোরগোড়ায় এই ধরনের "পেশি প্রদর্শন" এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফল "অকল্পনীয় ভয়াবহ" হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) দেশটির প্রভাবশালী নেত্রী এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-এর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "শত্রুপক্ষ যেন আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতা পরীক্ষা করার দুঃসাহস না দেখায়।" সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield) মহড়ায় প্রায় ১৮,০০০ মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে। যদিও সিউল এবং ওয়াশিংটন একে দীর্ঘদিনের প্রথাগত এবং রক্ষণাত্মক মহড়া হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে উত্তর কোরিয়া একে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে আরও বলেন, "সম্প্রতি বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং জটিল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, শত্রুপক্ষ যখন যুদ্ধের ময়দানে মহড়া দেয়, তখন রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক প্রস্তুতির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের (Unification Ministry) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিম ইয়ো জং-এর এবারের বিবৃতির ভাষা গতানুগতিক হুমকির চেয়ে কিছুটা সংযত। এতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়নি বা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম ধরে আক্রমণ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উত্তর কোরিয়া কেবল নির্দিষ্ট এই মহড়াকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, কারণ তাদের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। গত বছর কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে না, যা উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
রাশিয়ার কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে যা জানাল ইরান

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা কোনো গোপন বিষয় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহু বছর ধরে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পেতে রাশিয়া কোনো সহায়তা করছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও আরাঘচি দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সামরিক তথ্য তার কাছে না থাকলেও তেহরান ও মস্কোর সম্পর্ক এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংহত। এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং রাডার সিস্টেমের অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া।  গোয়েন্দা তথ্যের এই আদান-প্রদান মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলা চালাতে ইরানকে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যদিও এই বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একমত পাকিস্তান ও ইরান: দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি আলাপ

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে টেলিফোনে জরুরি আলাপচারিতা সেরেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  মধ্যপ্রাচ্যসহ সামগ্রিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভূত সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে জোর দিয়েছেন তারা।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ এক বার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুই মন্ত্রী সাম্প্রতিক নানা ইস্যু ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

জান্নাত নিশাত
বিশ্ব

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0