- প্রচ্ছদ
- Topic
চাকরি
নিউইয়র্ক সিটির কারা বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিটি সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘কারেকশন অফিসার’ পদে আবেদন গ্রহণ চলছে। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। লিখিত বহুনির্বাচনী পরীক্ষা ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ পদে প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫৬ হাজার ৮৩৮ ডলার। চাকরির সাড়ে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে মূল বেতন বেড়ে বছরে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি বছরে ১ হাজার ১০০ ডলারের পোশাক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে বেতনের হার পরিবর্তন হতে পারে। কারা আবেদন করতে পারবেন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যোগ্যতার জন্য একাধিক পথ রয়েছে। স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩৯ সেমিস্টার ক্রেডিট সম্পন্ন করা প্রার্থীরা আবেদনযোগ্য হতে পারেন। এ ছাড়া চার বছরের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে অন্তত এক বছরের সন্তোষজনক পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও যোগ্যতা পূরণ হতে পারে। সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব পালন, সমাজসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। বয়স, নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি অথবা নাসাউ, ওয়েস্টচেস্টার, সাফোক, অরেঞ্জ, রকল্যান্ড কিংবা পাটনাম কাউন্টির বাসিন্দা হতে হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিক্ষানবিশ চালকের অনুমতিপত্র নিয়োগের সময় থাকতে হবে এবং প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বৈধ চালকের লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া কম্পিউটারে বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। উত্তীর্ণ হতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষায় যুক্তি বিশ্লেষণ, গণিত, তথ্য মনে রাখা, সমস্যা শনাক্ত করা এবং ইংরেজি পড়া ও লেখার দক্ষতা যাচাই করা হতে পারে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান দেওয়া হবে; সেই তালিকা থেকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে। শারীরিক সক্ষমতা, চিকিৎসা ও মানসিক মূল্যায়ন এবং পটভূমি যাচাইয়ের শর্তও রয়েছে। যেভাবে আবেদন করবেন আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অনলাইন পরীক্ষার আবেদনব্যবস্থায় গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার সময় পরীক্ষার নম্বর ৭৩০২ নির্বাচন করতে হবে এবং ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নো ফি’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬। বিস্তারিত যোগ্যতা ও শর্তাবলি পড়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট: nyc.gov/examsforjobs।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব চাকরির মধ্যে কয়েকটিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইতে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ। দুটি পদই এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতাভুক্ত। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আবেদন গ্রহণ চলছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টিতে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ এবং স্যালারি গ্রেড ৬। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন ৩৭ হাজার ৮৬২ থেকে ৪৬ হাজার ৮৪৩ ডলার। এটি একটি ফুলটাইম স্থায়ী পদ। সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত কর্মদিবস সোমবার থেকে শুক্রবার। পদটিতে নির্বাচিত কর্মীকে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তার কাজ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার সময় ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নিতে হবে। ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি পদে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৮৫। কর্মস্থল নিউইয়র্ক কাউন্টি, অর্থাৎ ম্যানহাটন। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতায় থাকা এই পদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ট্রেইনি পর্যায় থেকেও নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রেইনি হিসেবে আবেদন করতে পারা মানেই কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই চাকরি পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনও চলমান রয়েছে। এই পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ৯১১ ইমার্জেন্সি কল গ্রহণ, জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষার নম্বর ৭৩০৭। প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদনের শেষ সময় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার আবেদন ফি ৬৮ ডলার। তবে বেকার ব্যক্তি, নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবেদনকারী এবং যোগ্য অন্য কিছু শ্রেণির প্রার্থীদের ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এই পদে রাতের শিফট, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কাজের সময়সূচি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ নিউইয়র্ক স্টেটের এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো, অন্তর্ভুক্ত পদগুলোতে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল সার্ভিস জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পূরণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকলেও চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের বার্ষিক বেতন ৪২ হাজার ২০৯ থেকে ৬১ হাজার ৭৬ ডলার। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি ১ পদে আবেদন করতে অন্তত ছয় মাসের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ট্রেইনি ২ পদের জন্য এক বছর এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদের জন্য দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন থাকলে অভিজ্ঞতার শর্তে বিকল্প যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এই পদের কাজের মধ্যে রয়েছে আইনি নথি ব্যবস্থাপনা, অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, ডেটা এন্ট্রি, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অ্যাটর্নিদের প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করবে না। বেসরকারি খাতেও চাকরির বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চাকরির প্ল্যাটফর্ম জব টুডের একটি সংকলনে ম্যানহাটনে ১৬১টি ক্যারিয়ার জব এবং নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮৯টি চাকরির বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো ৮ অক্টোবর নতুন প্রকাশিত স্বতন্ত্র শূন্যপদের সংখ্যা হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ শেফ পদে বছরে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের সুযোগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বর্তমান বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই পদটি এখনো আবেদন গ্রহণ করছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসে স্টাফ নার্স নিয়োগের তথ্যও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদের নির্দিষ্ট আবেদনসীমা, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত না হওয়ায় আগ্রহীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে স্টেটজবসএনওয়াইয়ের সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে গিয়ে পদের নাম অথবা ভ্যাকেন্সি নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে। সেখানে কাজের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনপদ্ধতি এবং শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে। বিশেষ করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আগ্রহীদের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে নিয়োগের জন্য শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদিকে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাজের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন কিংবা বেসরকারি চাকরি থেকে সরকারি খাতে যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এনওয়াই হেল্পসের পদগুলো বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সব পদ এন্ট্রি লেভেল নয় এবং সব চাকরির জন্য একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ফলে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে পদ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদন শেষ হবে ২২ অক্টোবর, ম্যানহাটনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ১৮ অক্টোবর এবং পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পরীক্ষার আবেদন শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। আবেদনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর প্রায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ চাকরি কমানো, বিভিন্ন সরকারি সেবা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজস্বের পথ খুঁজছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শহরের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্বকে সামনে আনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চাকরি কাটার বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হলে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে। টাকোমার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন। এর অর্থ ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কমলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের ব্যয় কমতে পারে। অন্যদিকে কর বাড়লে বাড়ির মালিক, ব্যবসা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে। টাকোমা সিয়াটল মহানগর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। তাই শহরের বাজেট সংকটের প্রভাব আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় পরিষেবা এবং সরকারি চুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি, স্থানীয় ব্যবসা বা শহরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে ৪ কোটি ডলারের ঘাটতি কমিয়ে নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। চাকরি কমানো এবং কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন সেবা অগ্রাধিকার পাবে এবং বাসিন্দাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
সাধারণ চাকরির আবেদনে এক বা দুই পৃষ্ঠার সিভিই যথেষ্ট। দীর্ঘ কর্মজীবন থাকলে সেটি কয়েক পৃষ্ঠা হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম ভিটা বা সিভি এতটাই দীর্ঘ যে সেটি দুই শতাধিক পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকাশনা, কনফারেন্স পেপার, পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তালিকা। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান্টার্কটিকায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলা এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনের ভিলাস রিসার্চ প্রফেসর এবং গ্রেগরি ব্রেইট প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে তিনি আইসকিউব প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং কো স্পোকসপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইসকিউবের সঙ্গে তার গবেষণার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। হ্যালজেনের দীর্ঘ সিভির বড় অংশ গড়ে উঠেছে তার অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দিয়ে। পার্টিকেল ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, কসমোলজি এবং নিউট্রিনো গবেষণায় কয়েক দশক ধরে তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে আইসকিউবের মতো বড় আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় প্রকাশিত বহু গবেষণাপত্রে তার নাম রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় বড় কোলাবোরেশনের প্রকাশনা তালিকা সাধারণ গবেষকের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হতে পারে। আইসকিউব কোলাবোরেশনে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিজ্ঞানী যুক্ত। ফলে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কাজের দীর্ঘ তালিকা হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ সিভিকেও অস্বাভাবিকভাবে বড় করেছে। তার সিভিতে শুধু গবেষণাপত্র নয়, শিক্ষাজীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদ, গবেষণা নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কমিটিতে দায়িত্ব এবং কয়েক দশকে পাওয়া পুরস্কারের তথ্যও রয়েছে। হ্যালজেন ১৯৬৯ সালে বেলজিয়ামের কে ইউ লুভেন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭১ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর হন। কয়েক দশক ধরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার স্বচ্ছ বরফকে বিশাল কণা ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এই অবজারভেটরি। বরফের গভীরে হাজার হাজার আলোকসংবেদনশীল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো বিরলভাবে পদার্থের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করলে যে ক্ষীণ আলোর সংকেত তৈরি হয়, তা শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির উৎস সম্পর্কে ধারণা পান। নিউট্রিনো পদার্থের সঙ্গে খুব কম প্রতিক্রিয়া করে বলে এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই অনেক সময় এগুলোকে “ঘোস্ট পার্টিকল” বা ভুতুড়ে কণা বলা হয়। আইসকিউবের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হওয়ায় মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন একটি পথ তৈরি হয়েছে। হ্যালজেন প্রথম ১৯৮৮ সালের দিকে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে এই ধরনের বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টরের ধারণা সামনে আনেন। দীর্ঘ গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পর ২০১১ সালে আইসকিউবের নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে অবজারভেটরিটি উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রকাশ করে, যা আধুনিক অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল ফিজিক্সে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দীর্ঘ গবেষণাজীবনে হ্যালজেন বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্মিথসোনিয়ান আমেরিকান ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ড, বালজান প্রাইজ, ইউরোপিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটির পুরস্কার, পন্টেকোরভো প্রাইজ এবং ব্রুনো রসি প্রাইজ। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তার আইসকিউব গবেষণা এবং মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তকরণে নেতৃত্বকে পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “২৩০ পৃষ্ঠার সিভি” দাবিটিকে কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। হ্যালজেনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সত্যিই একটি অত্যন্ত দীর্ঘ পূর্ণাঙ্গ সিভি রয়েছে, পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ নিয়মিত আপডেট হওয়ায় সংস্করণভেদে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্টভাবে ২৩০ পৃষ্ঠা স্থায়ী সংখ্যা নয়। তারপরও হ্যালজেনের সিভির অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করে। এটি চাকরির জন্য তৈরি সাধারণ সিভি নয়, বরং অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়ের গবেষণা, প্রকাশনা এবং বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড। কয়েক পৃষ্ঠার কর্মজীবনের পরিচয়ের বদলে এটি যেন একজন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণাজীবনেরই লিখিত ইতিহাস।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সেপ্টেম্বর মাসে আবারও ধীরগতির চিত্র দেখা গেছে। দেশটির নিয়োগদাতারা মাসটিতে মাত্র ২৯ হাজার নন-ফার্ম চাকরি যোগ করেছেন। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগস্টের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। চাকরি সৃষ্টির এই সংখ্যা গত এক বছরের গড় মাসিক বৃদ্ধির তুলনায় বেশ কম। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের আগে ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার নন-ফার্ম চাকরি বেড়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে মাত্র ২৯ হাজার চাকরি যোগ হওয়া শ্রমবাজারের গতি কমে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে সরকারি প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাসে বড় বড় শিল্পখাতগুলোর বেশিরভাগেই কর্মসংস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ এটি এমন কোনো প্রতিবেদন নয় যেখানে একসঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক চাকরি হারানোর চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরং নতুন চাকরি তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছালেও গত কয়েক মাসে এটি ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বেকার ছিল বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া কর্মী এবং যারা সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন, তাদের নতুন চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তবে সব খাতে একই পরিস্থিতি নয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সেপ্টেম্বরেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১৭ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, যদিও নার্সিং ও আবাসিক যত্নের কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরি কমেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই প্রবণতা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের কারণে এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজার ধীর হলেও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যাও নজরে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চাকরিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ছিল। মোট বেকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে একজন কর্মীর আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে অনেকের সঞ্চয় কমে যায়, ঋণের চাপ বাড়ে এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও অন্যান্য বড় রাজ্যের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা, গাড়ির কিস্তি, খাবার এবং শিশুদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ নিয়ে নেয়। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, গুদাম ও বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করেন। কোনো খাতে নিয়োগ কমে গেলে এসব কর্মীর নতুন চাকরি খোঁজার সময় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
নিউইয়র্কে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ন্যূনতম মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ার কথা থাকলেও চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই বৃদ্ধি আটকে যাচ্ছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১৭ ডলার এবং অঙ্গরাজ্যের বাকি এলাকায় ১৬ ডলারই থাকার কথা। অঙ্গরাজ্যের শ্রম বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসার কথা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়ন। অঙ্গরাজ্যের আইনে ২০২৭ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবছর ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা আছে। তবে একই আইনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বৃদ্ধি স্থগিত রাখার বিধানও রয়েছে। জানুয়ারি ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে নিউইয়র্কের মৌসুমি সমন্বয় করা মোট কৃষিবহির্ভূত চাকরির সংখ্যা কম থাকলে এই বিধান কার্যকর হয়। এ বছর জানুয়ারিতে অঙ্গরাজ্যে এমন চাকরি ছিল এক কোটির বেশি। এপ্রিল মাসে তা কমে প্রায় ৯৯ লাখ ৭০ হাজার এবং জুলাইয়ে প্রায় ৯৯ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়ায়। জুলাইয়ের সংখ্যা জানুয়ারি ও এপ্রিল - দুই মাসের চেয়েই কম হওয়ায় মজুরি বৃদ্ধির পথে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। এই হিসাবকে শুধু বেসরকারি খাতের চাকরির সংখ্যা বলা ঠিক হবে না। গভর্নর ক্যাথি হকুল আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে সামান্য চাকরি কমলেই মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার বদলে চাকরি কমার হার বিবেচনা করা হবে। টাইমস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ের চাকরির হিসাব মিলিয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পতন হয়েছে কি না, তা দেখা হবে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব; আইনসভায় অনুমোদন পায়নি। হকুলের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। চাকরির সংখ্যা কমার পেছনে পর্যটন ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের সমস্যার কথাও বলছে তাঁর প্রশাসন। এগুলো প্রশাসনের ব্যাখ্যা; মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের আইনি কারণ হলো নির্ধারিত মাসগুলোর চাকরির সংখ্যায় পতন। নিউইয়র্কের আইনসভা জানুয়ারিতে পরবর্তী অধিবেশনে ফিরবে। তাই আইন পরিবর্তন না হলে জানুয়ারিতে প্রচলিত মজুরির হারই বহাল থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্তকে পুরো ২০২৭ সালেই কোনো মজুরি পরিবর্তন হবে না - এমন ঘোষণা হিসেবে ধরা যাবে না; পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে। একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি। অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে। তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি খুঁজতে গেলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও সরকারি সেবার মতো বড় খাতগুলো নিয়মিত নজরে রাখা যায়। তবে এসব খাতে বছরের প্রতিটি সময় নিয়োগ চলে বা আবেদন করলেই কাজ মেলে, এমন দাবি সরকারি তথ্য সমর্থন করে না। সিটির কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে নতুন চাকরি তৈরির গতি কম থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই কোন পেশায় সুযোগ আছে, তার পাশাপাশি এখন কোন পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। প্রথমত, রেজিস্টার্ড নার্স। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি চাকরির তালিকায় কুইন্স ও ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠানে নার্স পদের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। তৃতীয়ত, ক্লিনিক্যাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। শেষের দুটি পেশার প্রশিক্ষণ নিউইয়র্ক সিটির সীমিতসংখ্যক ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্টের যোগ্য কোর্সের তালিকায় রয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব কাজের জন্য পদভেদে আলাদা লাইসেন্স, সনদ বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে। চতুর্থত, বাসচালক এবং পঞ্চমত, ট্রাক বা বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক। সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় এসব পেশার জন্য কোর্স রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের তালিকায় কোনো পেশার নাম থাকা মানেই এমটিএ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ খালি আছে, তা নয়। মূল লেখায় উল্লেখ করা এমটিএর ২ হাজার ৮৬৮টি শূন্যপদের সংখ্যাটি নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যে নিশ্চিত করা যায়নি। ষষ্ঠত, কম্পিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট এবং সপ্তমত, নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যানালিস্ট। এই পেশাগুলোও সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় রয়েছে। অষ্টমত, আনআর্মড সিকিউরিটি গার্ডের প্রশিক্ষণও একই তালিকায় আছে। আবেদনকারীর আগের দক্ষতা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট এবং নিয়োগদাতার শর্ত অনুযায়ী সুযোগ বদলায়। নবমত, নির্মাণ ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির পোর্টালে ভবন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং স্থাপনা পরিকল্পনার আলাদা বিভাগ রয়েছে। দশমত, সিটি সরকারের সামাজিক সেবা, প্রশাসন ও গ্রাহকসেবার পদ। এসব পদের কিছুতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা লাগে; কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শর্তও থাকতে পারে। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির ন্যূনতম যোগ্যতা তাই আলাদা করে পড়তে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তালিকাকে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হওয়া চাকরির তালিকা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি থেকে পুরো খাতে সারা বছর নিয়োগ চলে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে সিটি, অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, কাজের স্থান এবং আবেদনের শেষ তারিখ মিলিয়ে দেখা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় এলাকার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকেও দক্ষ কর্মী খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ বিশেষজ্ঞ কার্লোস গনজালেজ। তার এক মতামতধর্মী লেখায় গনজালেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একটি অংশ এমন একটি সমস্যার ফল, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো একই সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে কর্মী খুঁজতে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্মী না পেয়ে একই নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালাতে হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস বা এনএফআইবির আগস্ট ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছোট ব্যবসার ৩৫ শতাংশ মালিক এমন পদে নিয়োগ দিতে পারেননি যেগুলোতে কর্মী প্রয়োজন ছিল। এই হার জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ পয়েন্ট কম হলেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই জরিপে দেখা যায়, আগস্টে ৫৬ শতাংশ ছোট ব্যবসার মালিক কর্মী নিয়োগ করেছেন বা নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা যে পদগুলোতে কর্মী খুঁজছিলেন সেসব পদের জন্য যোগ্য আবেদনকারী খুব কম পেয়েছেন অথবা কোনো যোগ্য আবেদনকারীই পাননি। এনএফআইবির হিসাবে, ২৯ শতাংশ মালিক অল্পসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পেয়েছেন এবং ১৮ শতাংশ কোনো যোগ্য আবেদনকারী পাননি। শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্রও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬ সালের চাকরির সুযোগ ও শ্রমিক বদলসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খোলা ছিল। একই সময়ে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ কর্মী। গনজালেজের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বারবার একই পদে কর্মী নিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পর আবার সেই পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, নতুন কর্মী খোঁজা এবং কর্মী ধরে রাখার ব্যয় বারবার বহন করতে হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে বারবার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন বছরের পর বছর থাকে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ কর্মসূচি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। গনজালেজ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার মতে, কর্মী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি বৈধ আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শ্রমশক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এই কারণে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পরিবহন, আবাসন এবং কর্মী ধরে রাখার নীতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এনএফআইবির আগস্টের তথ্য বলছে, ছোট ব্যবসার ২৩ শতাংশ মালিক শ্রমিকের মান বা প্রাপ্যতাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এ হার ৪ পয়েন্ট কমেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে ৩১ শতাংশ ছোট ব্যবসায় দক্ষ কর্মীর জন্য পদ খালি ছিল এবং ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীর পদ খালি ছিল। গনজালেজের প্রস্তাবিত পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যেসব পদ একই প্রতিষ্ঠানে বারবার খালি হচ্ছে সেগুলোকে আলাদা করে পর্যালোচনা করা। কোনো পদ প্রকৃতপক্ষে অস্থায়ী প্রয়োজনের জন্য, আর কোনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ, তা নির্ধারণের পর নিয়োগের পথ ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই পদে বারবার একই পদ্ধতিতে কর্মী খোঁজে এবং কর্মী ধরে রাখতে না পারে, তাহলে শুধু শ্রমিকের ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিবেশ, মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তখন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, লেখক নিজেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আইনবিষয়ক পরিচালক। গ্লোবাল এক্সপ্রেস রিক্রুটিং নামের প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে এবং এ থেকে আয় করে। ফলে তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিয়োগের মডেলকে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রেক্ষাপটেও দেখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে খালি পদ ও যোগ্য কর্মী খুঁজে পাওয়ার সমস্যাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে ৭৩ লাখ চাকরির সুযোগ খোলা ছিল এবং ছোট ব্যবসার একটি বড় অংশ আগস্টেও প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা পূরণে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মী ধরে রাখা এবং আইনসম্মত আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস, ইউএসসিআইএস
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চাকরির ইন্টারভিউ ও নিয়োগ পরীক্ষাকেই সাইবার হামলার ফাঁদে পরিণত করেছে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট ‘ওয়াটারপ্লাম’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ভুয়া নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ইন্টারভিউ, কোডিং পরীক্ষা কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানের নামে ক্ষতিকর ফাইল ও কোড চালাতে প্রলুব্ধ করছে তারা। এতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে চুরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার, জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি, অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘ওয়াটারপ্লাম’কে ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নামেও শনাক্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই কার্যক্রমে ১০০টির বেশি দেশে অন্তত ৩০ হাজার ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭ হাজারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অন্তত ১.৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন ও ওয়েব৩ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, গিগ-ওয়ার্ক সেবা ও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এনএফটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফাঁদের পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া ইন্টারভিউ বা টেকনিক্যাল অ্যাসাইনমেন্টের সময় প্রার্থীকে কোনো কোড চালানো, ফাইল ডাউনলোড করা, সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধান করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বলা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার আড়ালে থাকতে পারে ক্ষতিকর কোড। সেটি চালানোর পর ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং হ্যাকাররা লগইন তথ্য, সংবেদনশীল নথি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, মেধাস্বত্ব বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের প্রতারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগে থেকেই এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট কিছু আইটি কর্মী ভিডিও ইন্টারভিউতে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে শুধু ভিডিও কলে প্রার্থীর চেহারা দেখেই পরিচয় নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ করে আইটি চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোড, ফাইল বা সফটওয়্যার নিজের মূল কম্পিউটারে চালানোর আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো চাকরির প্রস্তাবে অস্বাভাবিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে বাড়তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের সাইবার সতর্কতা তালিকাতেও ‘ওয়াটারপ্লাম’ বা ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বরের যৌথ সতর্কবার্তাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, চাকরির স্বাভাবিক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের এই কৌশল আইটি পেশাজীবী ও নিয়োগদাতা—দুই পক্ষের জন্যই নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। Source: এফবিআই, মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা পাওয়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ এই শ্রেণির চাকরিপ্রত্যাশী প্রতি ১০০ তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কাজ পাচ্ছেন না। আইএমএফের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যার Finance & Development সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এশিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ। পরিস্থিতির পেছনে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত। চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবধানও সমস্যাটিকে জটিল করছে। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুরের হিসাবে, বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। কিন্তু নতুন শিল্প ও উচ্চদক্ষতার চাকরি একই গতিতে তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। আইএমএফের পৃথক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি। ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষিত ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা ভিন্ন বয়সসীমা ও শিক্ষার সংজ্ঞার কারণে ১৫–২৪ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত এগোলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক তুলনায় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়। আইএমএফের হিসাবে একই শ্রেণির শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ, আর ভারতেও হার ৪০ শতাংশের ওপরে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হার বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাকরি হারানোর দাবি করেছেন ক্রিস স্মলস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যার কারণে তাঁর চাকরি আর থাকছে না। স্মলসের দাবি, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ওই চাকরি পান। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কয়েক ঘণ্টা পরিচিতিমূলক কাজ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তাঁকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজে যেতে বলা হয়। তবে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘পরিচ্ছন্নতার সমস্যা’র কারণে তাঁকে আর কাজে রাখা হচ্ছে না। স্মলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘Havocko’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত হাজার পাঁচশর বেশি আপভোট পায় বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহানুভূতি, সন্দেহ এবং নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। স্মলসের দাবি, চাকরির প্রথম দিন সকালে তিনি নতুন একটি পোলো শার্ট পরে কর্মস্থলে যান। আগের রাতেই তিনি গোসল করেছিলেন বলেও জানান। অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিনিধি তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার খবর দেন, তিনিও নাকি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। শুধু তাঁকে ওই দিন কী পোশাক পরেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্মলস বলেন, তিনি নিয়মিত নিজের যত্ন নেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভালোভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন। তবে তাঁর প্যান্টে কিছুটা ধুলা বা পশুর লোম থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচিতদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন স্মলস। তিনি তাঁর এক রুমমেট ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর শরীর থেকে কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় কি না। দুজনই তা অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি। স্মলস আরও বলেন, তাঁর একটি বিড়াল ও একটি কুকুর রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাসা পরিষ্কার থাকে এবং তিনি এমন একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকেন যিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশ সতর্ক। চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিটে নিজের পোস্টে তিনি অনুমান করেন, কর্মস্থলে হয়তো নাক চুলকানোর মতো কোনো অঙ্গভঙ্গিকে ভুলভাবে দেখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। ঘটনার পর স্মলস অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ দেখালেও পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি নতুন চাকরিতে যে অল্প সময় কাজ করেছিলেন, সেটির পারিশ্রমিকও তিনি তখন পর্যন্ত পাননি বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য সবাই স্মলসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটিকে হয়তো একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজন রেডিট ব্যবহারকারী ‘হায়ার-টু-ফায়ার’ বা দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে স্মলস নিজেই এই ব্যাখ্যাকে খুব একটা সম্ভাব্য মনে করছেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি নিয়ে ভাবার পর তাঁর নিজের ধারণা, কর্মস্থলে কোনো আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর আবার চাকরির সন্ধানে ফিরেছেন স্মলস। নিউইয়র্কের কর্মসংস্থান আইনের কাঠামো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি শেষ করার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের মতো নিউইয়র্কেও সাধারণভাবে ‘অ্যাট-উইল’ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর। এর অর্থ, আইন বা চুক্তিতে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে নিয়োগকর্তা বা কর্মী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মসম্পর্ক শেষ করতে পারেন, যদিও বৈষম্য বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তের মতো বেআইনি কারণের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে স্মলসের নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনায় নিয়োগকর্তা কোনো বেআইনি আচরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই স্মলসের নিজের বক্তব্য ও রেডিটে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সাবেক কর্মস্থল বা অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ নেই। ফলে চাকরি হারানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্মলসের রেডিট পোস্ট।
ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ? কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত। তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। যারা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতায় ভালো কাজের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অফিশিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইট ‘জবসএনওয়াইসি’ (JobsNYC) পোর্টালে বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। কেবল ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং সাধারণ নির্দেশনা বুঝে কাজ করার সক্ষমতা থাকলেই এই পদগুলোর জন্য আবেদন করা যাবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব প্রোবেশন তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য ছয়জন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের মূল কাজ হবে সাধারণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং ফ্রন্ট ডেস্ক সামলানো। অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসও একই পদে দুজন কর্মী খুঁজছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মালামাল ওঠানো-নামানো ও গুদামজাত করা এবং ক্লায়েন্টদের কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তা করা। এই পদের কর্মীদের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা অথবা মঙ্গলবার থেকে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শিফটে কাজ করতে হবে। উভয় বিভাগের এই পদগুলোর জন্যই বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে ৪৯ হাজার ৩০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়াও, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) হিউম্যান রিসোর্সেস ডিভিশন তাদের প্রি-এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস ইউনিটের জন্য দুজন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদে কর্মরতদের প্রধান দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা, নিয়োগ সংক্রান্ত ইভেন্টের ক্যালেন্ডার পরিচালনা করা এবং সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করা। নির্বাচিত কর্মীদের সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার শিফটে কাজ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এখনো কর্মীর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। একই সময়ে ন্যাশভিল, আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে বেকারত্বের হারও তুলনামূলক কম ছিল। তবে শুধু একটি দক্ষতা থাকলেই ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত হবে বা চাকরি নিজে থেকে খুঁজে আসবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ভাষাগত দক্ষতা, অবস্থান এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ওপর। চাহিদার দিক থেকে নার্সিং ও সেবাযত্নের কাজ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। আগামী ১০ বছর এ পেশায় কর্মসংস্থান আরও ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নার্সিং সহকারীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ২৬০ ডলার। আগামী ১০ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৩০০টি নার্সিং সহকারী ও রোগীসেবাকর্মীর পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নার্সিং সহকারী হিসেবে কাজ করতে অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রয়োজন। ট্রাক চালনাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় কর্মসংস্থানের একটি ক্ষেত্র। ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চালকদের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। আগামী ১০ বছরে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাজে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল থাকতে হয়। কারিগরি পেশাগুলোর চাহিদাও কম নয়। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর এবং ওয়েল্ডারের মতো কাজে দক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন রয়েছে। এসব পেশায় সবসময় চার বছরের কলেজ ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যভেদে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, তথ্যনিরাপত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো কাজে চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সালে কম্পিউটার সহায়তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬২ হাজার ৮৯০ ডলার। তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। আগামী ১০ বছরে তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়তে পারে। শহরভেদেও শ্রমবাজারের চিত্র আলাদা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর মধ্যে ন্যাশভিলে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। আটলান্টা, কলম্বাস ও র্যালেইয়ে তা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং শার্লটে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে র্যালেইয়ে এক বছরে বেসরকারি ও সরকারি মিলিয়ে মোট বেতনভুক্ত চাকরি ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং শার্লটে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার সময় শুধু কোন শহরে বেশি চাকরি রয়েছে, সেটি দেখলেই হবে না। নিজের দক্ষতার চাহিদা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, বৈধভাবে কাজের অনুমতি, ইংরেজি দক্ষতা, বেতন, বাসাভাড়া, কর এবং যাতায়াত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দক্ষতাই চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং বাস্তব কাজের দক্ষতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিজের চাকরির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় আসা মাদারীপুরের বিদ্যুৎকর্মী সুমন হোসেন চাকরি হারানোর পর নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন। নতুন কাজে মাত্র তিন ঘণ্টায় ২ হাজার টাকা আয় করার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সুমন হোসেন ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। তার দাবি ছিল, বিদ্যুৎ অফিস কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিদ্যুৎ অফিস ও কর্মীদের ওপর ক্ষোভ থেকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। তবে এসব ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন বলে জানান। পরে ১২ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের মিঠাপুকুর স্টেশনে লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরি হারানোর পর নিজের নতুন কর্মজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সুমন। সেখানে তিনি জানান, নতুন পেশায় মাত্র তিন ঘণ্টা কাজ করেই ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তবে নতুন পেশাটি কী, তার বিস্তারিত তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে চাকরি হারানোর পর দেওয়া এক পোস্টে সুমন নিজের তৈরি ভিডিও নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের বোঝানো যে বিদ্যুৎ অফিসগুলো কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে। কিন্তু ভিডিওটি বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় পরিস্থিতি তার ধারণার বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। সুমন আরও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। চাকরি হারানোর পর নতুন পেশায় তার এই আয়ের দাবি ফের তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।