নিউইয়র্কে ফুড স্ট্যাম্পে জালিয়াতি ঠেকাতে কার্ডে যুক্ত হচ্ছে চিপ প্রযুক্তি
নিউইয়র্কে ফুড স্ট্যাম্প (এসএনএপি) সুবিধাভোগীদের অর্থ চুরি ও কার্ড স্কিমিং প্রতিরোধে বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে অঙ্গরাজ্য সরকার। গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে ধাপে ধাপে চিপ প্রযুক্তিসংবলিত নতুন সুবিধা কার্ড বিতরণ শুরু হবে, যা বর্তমান ম্যাগনেটিক-স্ট্রাইপ কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
বর্তমানে ব্যবহৃত কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রাইপ থেকে তথ্য চুরি করে অপরাধীরা সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে। নতুন চিপ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কার্ডের তথ্য কপি বা ক্লোন করা অনেক কঠিন হবে, ফলে স্কিমিংয়ের মাধ্যমে জালিয়াতির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্স জানিয়েছে, নতুন কার্ড সরবরাহের জন্য ফিডেলিটি ইনফরমেশন সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ নতুন কার্ড তৈরি করে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে ধাপে ধাপে বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে মুদি দোকান ও অন্যান্য খুচরা বিক্রেতার পেমেন্ট টার্মিনাল চিপ প্রযুক্তি সমর্থন করার উপযোগী করা হবে।
ততদিন পর্যন্ত সুবিধাভোগীরা বর্তমান কার্ডই ব্যবহার করবেন। নতুন কার্ড ইস্যুর আগে প্রত্যেক গ্রাহককে আলাদাভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গভর্নর হোকুল বলেন, খাদ্য সহায়তার অর্থ চুরি থেকে নিউইয়র্কবাসীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ইবিটি ব্যবস্থাকে আধুনিক করা রাজ্যের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর প্রাপ্য সুবিধা আরও নিরাপদ থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক চিপ প্রযুক্তিসংবলিত সুবিধা কার্ড চালুর পথে থাকা অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের একটি। ইতোমধ্যে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের কার্ড চালু হয়েছে এবং নিউইয়র্কসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষ সুবিধাভোগীদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছে। ফোন, টেক্সট বার্তা বা ই-মেইলে কেউ কার্ড নম্বর বা পিন চাইলে তা কখনোই শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি অ্যাপ বা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনে কার্ড সাময়িকভাবে লক রাখার সুবিধাও ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমানুষের মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে প্রায় ৫৭ হাজার কোষ ও ১৫ কোটি সিন্যাপস শনাক্ত করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুগল রিসার্চের গবেষকেরা। ২০২৪ সালের মে মাসে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের সংযোগ ও মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণের জন্য একটি বিস্তারিত তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। নমুনাটি নেওয়া হয়েছিল মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স থেকে। হার্ভার্ড গেজেটের বর্ণনা অনুযায়ী, এর আকার ছিল প্রায় অর্ধেক চালের দানার সমান। এই ক্ষুদ্র অংশের কোষ, সংযোগ ও রক্তনালির গঠন তুলে ধরতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪ পেটাবাইট তথ্য, যা দশমিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ গিগাবাইটের সমান। গবেষকেরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টিস্যুর অতি পাতলা স্তরগুলোর উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণের সাহায্যে কোষের অংশগুলো শনাক্ত ও একত্র করে ত্রিমাত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে স্নায়ুকোষের শাখা এবং তাদের সংযোগস্থল পৃথকভাবে অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিন্যাপস হলো স্নায়ুকোষের মধ্যে সংকেত আদানপ্রদানের সংযোগস্থল। তবে শনাক্ত করা ৫৭ হাজার কোষের সবই স্নায়ুকোষ নয়। গবেষণায় স্নায়ুকোষের পাশাপাশি গ্লিয়া নামে পরিচিত সহায়ক কোষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নমুনাটিতে গ্লিয়া ও স্নায়ুকোষের অনুপাত পাওয়া গেছে প্রায় দুই অনুপাতে এক। মানচিত্রে কিছু অস্বাভাবিক সংযোগের ধরনও দেখা গেছে। অধিকাংশ সংযোগের পাশাপাশি এমন বিরল উদাহরণ পাওয়া যায়, যেখানে একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি কোষের সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০টি সিন্যাপস তৈরি করেছে। এসব কাঠামোর কার্যকর ভূমিকা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যভান্ডার অন্য গবেষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সার্কিটের গঠন নিয়ে নতুন প্রশ্ন পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অংশের মানচিত্র তৈরির পদ্ধতি উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এই কাজের এইচ০১ তথ্যভান্ডার প্রথম উন্মুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালে, আর বিস্তারিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। এই মানচিত্র পুরো মানব মস্তিষ্কের চিত্র নয়। এটি একটি ক্ষুদ্র নমুনার গঠন তুলে ধরে, স্মৃতি বা চিন্তা কীভাবে তৈরি হয় তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। তবে কোষগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তা এত সূক্ষ্মভাবে দেখার সুযোগ মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। সূত্র: সায়েন্স বাংলা
আমেরিকা থেকে দেশে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাঠানোর সঠিক নিয়ম, একটি ভুলে বাতিল হতে পারে দলিল
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা
ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেডিকেইডে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দিয়ে তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক আরেক মামলায় রোগী পরিবহনের ভুয়া বিল দিয়ে ১৬ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন দুই ভাই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ও কম্পট্রোলারের দপ্তর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর জানিয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী নাসিমি নাসাউ কাউন্টির হিকসভিলের বাসিন্দা। কুইনসে তাঁর ‘টুথ ফ্রেশ মেডোজ’ ডেন্টাল ক্লিনিকের মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সদস্যের নামে না দেওয়া চিকিৎসার বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিলের মধ্যে রুট ক্যানাল ও দাঁতে ক্রাউন বসানোর মতো চিকিৎসাও ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের জুলাইয়েই ক্লিনিক বন্ধ থাকা এবং নাসিমির ইউরোপে ছুটি কাটানোর সময়ে এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়। ভুয়া বিলের কারণে কয়েকজন রোগী পরে অন্য ডেন্টিস্টের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অনুমোদন পাননি। মেডিকেইডের নথিতে তাঁদের সেই চিকিৎসা আগেই দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো ছিল। নাসিমি ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ৪০টি করে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থ আত্মসাৎ, হেলথ কেয়ার জালিয়াতি ও মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ক্লিফটন পার্কের বাসিন্দা জাওয়াদ চৌধুরী ও জুনাইদ চৌধুরী রোগী পরিবহনের বিল জালিয়াতির মামলায় অ্যালবানি কাউন্টি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রাজ্যের কম্পট্রোলার টমাস পি. ডিনাপোলির দপ্তর জানিয়েছে, তাঁরা আত্মসাৎ করা অর্থ পুরোপুরি ফেরত দেবেন। সাজা ঘোষণার জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, একই গাড়িতে একাধিক রোগী পরিবহন করেও আলাদা যাত্রার বিল দেখানো হতো। কখনো রোগী পরিবহন না করেই বিল জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জুনাইদের এ১ রাইডসের মাধ্যমে ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং জাওয়াদের এনওয়াই জেট ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে চার লাখ ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। তদন্তে রাইড টু রিকভারি নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়। দেশজুড়ে হেলথ কেয়ার জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে বিচার বিভাগের ২৩ জুনের ঘোষণায় ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার তথ্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯০ জন চিকিৎসক ও অন্যান্য লাইসেন্সধারী চিকিৎসা পেশাজীবী। বিভিন্ন মামলায় মোট ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ভুয়া দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই হিসাব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা; সবাইকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা নয়।
জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ! চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের
এআই নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার নাম বদলালেন মেলানিয়া ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ব্রিজ এয়ারওয়েজ। নতুন এই রুটগুলোতে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি-ডারহাম এবং সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ ও চার্লসটনে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। ২০২৭ সালের জুনের শেষ দিকে শুরু হবে ফ্লাইট চলাচল। এরপর জুলাইয়ের প্রথম দুই দিনে বাকি দুটি রুট চালু হবে। নতুন ফ্লাইটগুলোর টিকিট বুকিংও শুরু হয়েছে। বিমান সংস্থাটির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, র্যালি-ডারহাম রুটে ফ্লাইট শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৯ জুন। এ রুটে সপ্তাহে চার দিন—সোমবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার বিমান চলাচল করবে। এরপর ১ জুলাই থেকে মার্টল বিচ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে। এ রুটে বৃহস্পতিবার ও রোববার যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। সবশেষে ২ জুলাই চার্লসটন রুটে ফ্লাইট শুরু হবে। সেখানে সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার বিমান চলবে। নতুন রুটগুলো চালু হলে বাফলো থেকে এসব শহরে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের সরাসরি ফ্লাইটের বিকল্প বাড়বে। বিশেষ করে যারা ছুটি কাটাতে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সমুদ্রসৈকত এলাকায় যেতে চান, তাদের জন্য মার্টল বিচের রুটটি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে, র্যালি-ডারহাম ও চার্লসটনের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবসা, ব্যক্তিগত ভ্রমণ এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করার যাত্রাকে সহজ করতে পারে। কোন রুটে কত ভাড়া ব্রিজ এয়ারওয়েজের ঘোষণায় নতুন রুটগুলোর জন্য প্রচারমূলক একমুখী ভাড়ার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। র্যালি-ডারহাম রুটে ভাড়া শুরু হচ্ছে ৪৯ ডলার থেকে। মার্টল বিচ রুটে প্রাথমিক ভাড়া ৫৯ ডলার এবং চার্লসটন রুটে ৬৯ ডলার থেকে শুরু। তবে এসব ভাড়া নির্দিষ্ট প্রচারমূলক বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কম ভাড়ার টিকিটের শর্ত, যাত্রার তারিখ এবং আসনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে প্রকৃত মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিমান সংস্থার প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, প্রচারমূলক ভাড়াগুলো নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং নির্ধারিত রুটে যাত্রার জন্য ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। কর ও সরকারি ফি ঘোষিত ভাড়ার অন্তর্ভুক্ত হলেও অতিরিক্ত সেবা, ভাড়া-সংক্রান্ত শর্ত ও অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে। এ কারণে টিকিট কেনার আগে নির্দিষ্ট তারিখে ভাড়া যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আগেভাগে বুকিংয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত ভাড়া খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রচারমূলক ভাড়া সব তারিখে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চার্লসটনে প্রথম সরাসরি সংযোগ চার্লসটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় জানিয়েছে, বাফলো ও চার্লসটনের মধ্যে এই রুটই হবে প্রথম সরাসরি বিমান সংযোগ। ২০২৭ সালের ২ জুলাই থেকে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চলবে। এতে পশ্চিম নিউইয়র্কের যাত্রীদের সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য নতুন বিকল্প তৈরি হবে। একইভাবে চার্লসটন এলাকার বাসিন্দারাও বাফলোতে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবেন। চার্লসটন ঐতিহাসিক স্থাপনা, উপকূলীয় আকর্ষণ ও পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত। নতুন রুটটি চালু হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে নতুন সংযোগের ফলে যাত্রীসংখ্যা কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়নি। বাফলো বিমানবন্দরে বাড়ছে ভ্রমণের বিকল্প ব্রিজ এয়ারওয়েজ ২০২১ সালে কার্যক্রম শুরু করে। বিমান সংস্থাটি তুলনামূলক কম ভাড়ায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেয়। সংস্থাটির ঘোষিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ২০২৭ সালে বাফলো থেকে নতুন তিনটি রুট চালুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে সেবা বাড়ানোর কথা রয়েছে। বিমান সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মোট ৯৫টি শহরে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। বাফলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নতুন রুট চালু হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীদের সামনে আরও বেশি সরাসরি ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে। এত দিন যেসব যাত্রীর গন্তব্য ছিল র্যালি-ডারহাম, মার্টল বিচ কিংবা চার্লসটন, তাদের জন্য নতুন সূচি অনুযায়ী সরাসরি ফ্লাইট বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের দিন, টিকিটের মূল্য, লাগেজ ও পরিবর্তন-সংক্রান্ত শর্ত যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। নতুন তিনটি রুটের টিকিট ইতিমধ্যে বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা ব্রিজ এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখের ফ্লাইট ও ভাড়া যাচাই করতে পারবেন। সময়সূচি ও ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে বলে বুকিংয়ের সময় সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার ৫০ ডলারের টিকিট চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক ভিসায় পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগ, স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে চাপে বাংলাদেশিরা