সিএনএন

ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিম তীরে সিএনএন সংবাদকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি সেনার হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর ও হেনস্তা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংবাদ সংগ্রহের সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি দলের ওপর চড়াও হয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় সিএনএন-এর ফটো সাংবাদিক সিরিল থিওফিলোসের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় এবং তাকে শ্বাসরোধ করার (chokehold) চেষ্টা করা হয়। হামলায় তাদের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত সিএনএন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জেরেমি ডায়মন্ডের নেতৃত্বে সিএনএন-এর প্রতিনিধি দলটি যখন পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার খবর সংগ্রহ করছিল, তখন ইসরায়েলি সেনারা তাদের বাধা দেয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করেই এক ইসরায়েলি সেনা পেছন থেকে এসে ফটো সাংবাদিক সিরিলকে জাপটে ধরেন এবং মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় সেনারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে এবং পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সম্পত্তি বলে দাবি করে। তারা ফিলিস্তিনিদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যা দেয় এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়। সিএনএন জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর তাদের সাংবাদিকদের বেশ কিছুক্ষণ সেখানে আটকে রাখা হয়। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উগ্রবাদী আচরণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতনের বাস্তব চিত্রই এই ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সেনাবাহিনীর আগ্রাসন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ? নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরান বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতাই অঞ্চলটিতে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে ইরান তার ‘প্রক্সি’ বা ছায়াবাহিনীগুলোর মাধ্যমে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আধিপত্য বজায় রাখত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের সেই কৌশলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং অন্যদিকে ইজরায়েলি ও পশ্চিমা গোয়েন্দা তৎপরতায় দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামো বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ইরান এখন সরাসরি কোনো বড় যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা হারিয়েছে।   মূল পয়েন্টসমূহ:   ১. প্রক্সি বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল: হিজবুল্লাহ এবং হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলো ইজরায়েলের ধারাবাহিক অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিএনএন-এর মতে, ইরান তার এই মিত্রদের রক্ষা করতে বা পাল্টা বড় কোনো আঘাত হানতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা যুদ্ধের ময়দানে এক ধরনের অচলাবস্থা বা ‘ডেডলক’ তৈরি করেছে।   ২. অর্থনৈতিক সংকট ও জনরোষ: দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা এবং মুদ্রাস্ফীতির ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকারের বড় একটি অংশ মনে করছে, দেশের বাইরের সংঘাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা তেহরানের আর নেই। এই দোদুল্যমান অবস্থা সংঘাত অবসানে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইরানকে বাধা দিচ্ছে।   ৩. কৌশলগত বিভ্রান্তি: বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন এমন এক অবস্থানে যেখানে তারা না পারছে যুদ্ধ জয় করতে, না পারছে সম্মানজনকভাবে পিছু হটতে। তেহরানের এই ‘দুর্বলতা’ এবং সিদ্ধান্তহীনতা যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালের জন্য টেনে নিয়ে যাচ্ছে, কারণ কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না।   ৪. ইজরায়েলের অবস্থান: ইজরায়েল ইরানের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লেবানন এবং সিরিয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। ইরান সরাসরি কোনো জবাব দিতে না পারায় সংঘাতের মাত্রা দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।   সিএনএন-এর প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরান যদি দ্রুত তাদের কৌশল পরিবর্তন না করে অথবা বিশ্বশক্তিগুলো যদি তেহরানকে একটি নিরাপদ প্রস্থানের পথ (Exit ramp) না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। ইরানের এই ভঙ্গুর দশা স্থিতিশীলতার পরিবর্তে উল্টো অস্থিতিশীলতাকেই উসকে দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে নিহত ৩ হাজার ছাড়াল

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সিএনএনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য রয়েছেন। সর্বশেষ লেবাননের দক্ষিণ উপকূলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।   ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২০৫ জন শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ২৯৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১ হাজার ১২২ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন।   লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বেইত শেমেস শহরে একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন।   সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তারা ইরাকে বিমান দুর্ঘটনা এবং কুয়েতে ইরানি হামলায় নিহত হন। ইরাকে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্য। সেখানে একজন ফরাসি সেনাও নিহত হয়েছেন।   এ ছাড়া অন্যান্য দেশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতে ৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ জন (বাংলাদেশি নাগরিকসহ), বাহরাইনে ২ জন এবং সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন। ওমান উপকূলে ড্রোন ও বোট হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিকসহ ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।   দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
‘বড় ঢেউ’ আসছে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এখনো “পুরোপুরি শুরু হয়নি” এবং “বড় ঢেউ” সামনে আসছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কঠোর আঘাতের মূল ধাপ শুরু করেনি।   সিএনএন-এর সঙ্গে নয় মিনিটের ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানকে আঘাত করছে, তবে মূল আক্রমণের বড় ধাপ এখনো বাকি। তিনি অভিযানের অগ্রগতি দাবি করে বলেন, এটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।   স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে স্থলসেনা পাঠানো যেতে পারে এবং তিনি আগেভাগে এমন প্রতিশ্রুতি দেন না যে তা পাঠানো হবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োজনীয় নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।   ইরানের পাল্টা হামলার মধ্যে খলিজ অঞ্চলে মার্কিন দূতাবাস ও সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র একাধিক দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান অভিযানের মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, হামলা বাড়ার আশঙ্কা

ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টমাহক ভূমি-আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএম-৩ প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কৌশলগত অস্ত্রের রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।   এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার মাত্রা “উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি” পেতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে। চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মজুদে চাপ তৈরি হয়েছে।   টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত দূরপাল্লার নির্ভুল হামলায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে স্থলভিত্তিক সামরিক স্থাপনায়। অন্যদিকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দুই ধরনের অস্ত্রই চলমান সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো বা মিত্র দেশগুলোর সহায়তা নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে, যাতে বিদ্যমান মজুদ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়।   পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখন নির্ভর করছে সংঘাতের তীব্রতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তবে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই থাকা যাবে না—নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0