ইরান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের নতুন হিসাব প্রকাশ, আহত বেড়ে ৬২৪
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের মুখে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে আরও ১৪০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্যও আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)-এ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ডিসিএএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ওয়েবসাইটে আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২ দেখানো হচ্ছিল। নতুন হালনাগাদে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পেন্টাগন ৭ জুলাই থেকে ডিসিএএসে "ওভারসিজ অপারেশনস" নামে একটি নতুন বিভাগও যুক্ত করেছে। তবে এই নতুন বিভাগের আওতায় ৭ জুলাইয়ের আগে ও পরে সংঘটিত কোন কোন সামরিক ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রকাশিত তালিকায় জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন হামলার সময় নিহত আরও এক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের পাশাপাশি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ১২ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে হতাহতের হিসাবের অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা চান।
পরে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে "সাময়িক তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটি" দেখা দেওয়ায় এ অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল। তবে কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইলেও রোববার পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি।
এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট নিয়েও নতুন আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাঠানো এক নোটিশে দাবি করেছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমার হিসাব নতুনভাবে শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা।
রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকস্কি সম্প্রতি এক শুনানিতে বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সময়সীমা পুনর্গণনার এই ব্যাখ্যা প্রশাসনকে কংগ্রেসের সাংবিধানিক নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টকে "সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক" বলে মন্তব্য করেন।
হতাহতের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশের পরও তথ্য ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং যুদ্ধসংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে শিশুদের ডে-কেয়ার ও দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ একদিকে বাড়িভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে রাখার জন্য নিয়মিত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে চাকরি করে যে আয় হচ্ছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশই চলে যাচ্ছে শিশুদের যত্নের পেছনে। সিবিএস নিউজের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৮ শতাংশ পরিবার শিশুদের যত্নের জন্য মাসে ২ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। তিন বছর আগের তুলনায় এ ধরনের পরিবারের অংশ দ্বিগুণেরও বেশি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে পরিবারগুলো গড়ে তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ৮ শতাংশ শিশুদের যত্নের পেছনে ব্যয় করেছে। অথচ প্রচলিত একটি ফেডারেল নির্দেশিকায় শিশুদের যত্নের খরচকে সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করার মানদণ্ড হলো পারিবারিক আয়ের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একটি পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। অন্যদিকে, বছরে শিশুদের যত্নের ব্যয় ২৪ হাজার ডলারে পৌঁছালে সেই খরচকে আয়ের ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে পরিবারের বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলার হওয়া প্রয়োজন। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুদের যত্নের খরচ সামলানো কতটা কঠিন হতে পারে। তবে সব পরিবার বা সব অঞ্চলে ডে-কেয়ারের মূল্য এক নয়; শিশুর বয়স, সেবার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী ব্যয়ের পার্থক্য রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২২ অক্টোবরের আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক ব্যয় ১৩ হাজার ডলারেরও বেশি ছিল। এই ব্যয়ের কারণে অনেক বাবা-মাকে কাজের সময় কমানো, পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা নেওয়া কিংবা চাকরি চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে লাভজনক কি না—তা নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে, তাদের মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রভাব অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপরও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক পরিবারের কাছাকাছি আত্মীয়স্বজন থাকেন না, ফলে সন্তান দেখাশোনার জন্য দাদা-দাদি, নানা-নানি বা অন্য স্বজনের সহায়তা সব সময় পাওয়া যায় না। তখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর সেবা নিতে হয়। এসব খরচের সঙ্গে বাড়িভাড়া, বিমা, গাড়ি বা গণপরিবহনের ব্যয় যোগ হলে পরিবারের সঞ্চয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই অভিজ্ঞতা সব অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে এক নয়। শিশুদের যত্নের খরচ বাড়ার পেছনে সেবার চাহিদা, পরিচর্যাকর্মীর ঘাটতি এবং পরিচালন ব্যয়ের মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশভিল, জ্যাকসনভিল ও ফিনিক্সে শিশুদের যত্নের মধ্যম ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। এসব শহরে জনসংখ্যা স্থানান্তর ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিও দামের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুদের যত্নের ব্যয় শুধু পরিবারের আর্থিক বিষয় নয়; এটি বাবা-মায়ের কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবককে সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব বেশি নিতে হয়, তাদের জন্য পূর্ণকালীন চাকরি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরিচর্যার খরচ যদি সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ নিয়ে নেয়, তাহলে কেউ কেউ কাজের সময় কমানো বা সাময়িকভাবে কর্মজীবন থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের যত্নের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থী প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা, হেড স্টার্ট কর্মসূচিতে অর্থায়ন, করছাড় এবং নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরছেন। তবে এসব প্রস্তাবের কোনটি বাস্তবায়িত হবে এবং পরিবারগুলোর খরচ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে নীতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য তাই চাকরির বেতন হিসাব করার পাশাপাশি শিশুদের যত্নের খরচ, কর্মস্থলের সুবিধা এবং স্থানীয় সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে আগেই খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ডে-কেয়ারে ভর্তি করার আগে লাইসেন্স, নিরাপত্তাব্যবস্থা, সময়সূচি, অতিরিক্ত ফি ও অপেক্ষমাণ তালিকা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে যোগ্য পরিবারগুলো রাজ্য বা স্থানীয় পর্যায়ে শিশু পরিচর্যার আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জানতে পারে। এসব পদক্ষেপ ব্যয় পুরোপুরি দূর করবে না, তবে পরিবারের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ সেবা বেছে নিতে সাহায্য করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ
চিকিৎসার খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, অর্থ বাঁচাতে ডাক্তার দেখানোও পিছিয়ে দিচ্ছেন অনেকে
মা-বাবা দেশে ফেরত, ১৮ বছরেই ছোট ভাইবোনদের পুরো পরিবারের দায়িত্ব তরুণীর কাঁধে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে এক ব্যক্তিকে ক্যাসিনো হোটেলে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমান্ডা ক্রাফটস (৩৫) নামের ওই শিক্ষিকা এবং তাঁর সহযোগী ভেডা এঙ্গেল (২৩)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা গত ৯ অক্টোবর সিজার্স ক্যাসিনো থেকে এক ব্যক্তিকে হারাহ'স রিসোর্টের একটি রুমে নিয়ে যান। পুলিশকে দেওয়া ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী, রুমে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে বিছানায় জোরপূর্বক চেপে ধরেন আমান্ডা। এই সুযোগে এঙ্গেল ভুক্তভোগীর আইফোনের ফেস আইডি স্ক্যান করে ফোনটি আনলক করেন এবং অ্যাপল পের মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে চারটি ভিন্ন লেনদেনে ১ হাজার ২৫০ ডলার ট্রান্সফার করে নেন। চার সন্তানের জননী আমান্ডা আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি জীবনে কখনো গ্রেপ্তার হননি এবং কেবল ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিলেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, আমান্ডা সেখানে কেবল পার্টি করতে গিয়েছিলেন এবং পতিতাবৃত্তি বা ছিনতাইয়ের কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি জানতেন না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছয় দিন কারাগারে থেকে গত ১৫ অক্টোবর তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে ২০১৬ সাল থেকে কেপ মে-এর মিডল টাউনশিপ মিডল স্কুলে কর্মরত ওই কম্পিউটার শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগে গত ডিসেম্বরে এঙ্গেলের বিরুদ্ধে এক ছদ্মবেশী পুলিশকে অর্থের বিনিময়ে যৌনতার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছিল।
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে নতুন আইনি ঝামেলায় ইনফোসিস, তদন্ত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের জন্য বড় প্রতিশ্রুতি, চাকরি ও প্রবীণদের সেবায় আসছে নতুন উদ্যোগ!
স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের লাখো বৈধ অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা বা কারাদণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ডজনের বেশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ভুল বিবৃতি দেওয়া কিংবা অভিবাসন আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিছু অভিযুক্তের বক্তব্য, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নেওয়া বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট পরিষ্কার ধারণা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়িচালকের অনুমতিপত্রের আবেদন বা নবায়নের সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ যুক্ত থাকে। ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিবন্ধনের নিয়ম না বুঝে কোনো ফরম পূরণ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে কেবল মার্কিন নাগরিকরাই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি ভুলবশত নিবন্ধিত হয়েছেন কি না, তিনি ভোট দিয়েছেন কি না এবং তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় মামলার বাস্তবতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই সব অভিযোগকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি ফরম পূরণের সময় নিজের পরিচয়, নাগরিকত্বের অবস্থা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া। কোনো ফরমের ভাষা বুঝতে অসুবিধা হলে অনুমান করে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে বা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিষয়টি গোপন না রেখে আইনগত পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা—তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, এমন তথ্য নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের আইনি অবস্থান ও সরকারি নথি যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নাগরিকত্বের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন বা গাড়িচালকের অনুমতিপত্রসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা পড়া এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈশ্বিক মিলনমেলা: ২৮–২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’
ফোবানার কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ, চেয়ারম্যান এম রহমান জহির ও সেক্রেটারি ড. প্রিয়লাল কর্মকার