আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন একটি বিতর্কিত প্লাস্টিক ও রিসাইক্লিং আইনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে মামলা করেছে জর্জিয়াসহ দেশের ১৭টি অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনটি কার্যকর হলে জর্জিয়াসহ পুরো আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ফেডারেল আদালতে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্লাস্টিক পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি মূলত ২০২২ সালে পাস হয়েছিল, যার চূড়ান্ত নিয়মাবলী সম্প্রতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সোমবার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে পর্যায়ক্রমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং সব ধরনের প্যাকেজিং রিসাইকেল বা পচনশীল করা বাধ্যতামূলক হবে। বাদীপক্ষ এই নিয়মগুলোকে ‘অতিরিক্ত ও শাস্তিমূলক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং সেই বাড়তি খরচের বোঝা পরোক্ষভাবে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই কাটা হবে।
জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "জর্জিয়ায় আমরা কীভাবে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করব, তা বলে দেওয়ার কোনো অধিকার ক্যালিফোর্নিয়ার নেই। কিন্তু এই প্লাস্টিক আইনটি ঠিক সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, এটি পশ্চিম উপকূলের (ওয়েস্ট কোস্ট) এলিটদের একটি অসাংবিধানিক চাপ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ আমেরিকানদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসাতে দ্বিধা করছে না। জর্জিয়ার উৎপাদক এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা এই আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন।
১৭টি অঙ্গরাজ্যের এই জোট এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হোলসেলার-ডিস্ট্রিবিউটরস দাবি করেছে যে, এই আইনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যালিফোর্নিয়া উভয়ের সংবিধান লঙ্ঘন করে। তাই তারা আদালতের কাছে আইনটিকে অবৈধ এবং অকার্যকর ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনের অর্থনৈতিক প্রভাব হবে মারাত্মক, যা বিশেষ করে কম আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি সংকটে ফেলবে। মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার রিসাইক্লিং সংস্থা ‘ক্যালরিসাইকেল’-এর পরিচালক জো হেলার এবং আইনটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ‘সার্কুলার অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-কে বিবাদী করা হয়েছে।
অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানা গার্সিয়া মে মাসে এক বিবৃতিতে এই আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, "ক্যালিফোর্নিয়া মূলত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের দায়িত্ব উৎপাদনকারীদের ওপরই চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।" তবে এই আইনের বিরোধিতা শুধু ব্যবসায়ীরাই করছেন না, বরং কিছু পরিবেশবাদী সংগঠনও এর চূড়ান্ত নিয়মাবলীকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে পৃথক মামলা করেছে। জর্জিয়ার সাথে এই মামলায় যোগ দেওয়া অন্য ১৬টি রাজ্য হলো—অ্যালাবামা, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, আইডাহো, লুইজিয়ানা, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলিনা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস, ইউটা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসে কুখ্যাত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত এক তদন্তে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য দেন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিল গেটসের দেওয়া এই জবানবন্দির গোপনীয় নথিটি সম্প্রতি জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সাক্ষ্যের প্রতিলিপি অনুযায়ী, গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে বিল গেটস প্রথমে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরবর্তীতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গেও সম্পর্কের কথা মেনে নেন। ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরট নামের ওই নারী একজন নামকরা চিকিৎসা-উদ্যোক্তা। বিশ্বের একসময়কার শীর্ষ ধনী এই ব্যবসায়ী বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তিনি দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কোনো যৌন নির্যাতন বা অপরাধ নিজে প্রত্যক্ষ করেননি। এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটানোকে তিনি অতীতেও ‘একটি বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে গেটস আবারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অজান্তেই তিনি নির্যাতনের শিকার কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে থেকে থাকতে পারেন, কারণ এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত কিছু নারী ও কিশোরী তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সাক্ষ্য চলাকালীন বিল গেটস একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করে বলেন, অতীতে তাঁর মনে এক ধরনের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে কোনো এক নারীর মাধ্যমে তিনি হয়তো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এই উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে তিনি সে সময় এপস্টেইন এবং তাঁর পরিচিত এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। গেটস জানান, ওই দুই রুশ নারীর সাথে তাঁর অবিশ্বস্ততা বা পরকীয়ার কথা জানার পর এপস্টেইন মূলত সেই তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল বা ব্ল্যাকমেইলিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কংগ্রেসের নথিতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের একটি গোপন ই-মেইলে এপস্টেইন সরাসরি ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরটের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আইনপ্রণেতারা সেই ই-মেইলটি বিল গেটসের সামনে প্রদর্শন করার পর তিনি বাধ্য হয়ে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এপস্টেইন তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও কখনো সফলভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে মোট ১২ থেকে ১৪ বার সশরীরে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপ ভিডিও কলে কথা বলেছেন। গেটস দাবি করেন, এসব বৈঠকের বেশিরভাগই মূলত দাতব্য কার্যক্রম ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার জন্য হয়েছিল। ২০১১ সালে এপস্টেইনের পূর্ববর্তী যৌন অপরাধের দণ্ড সম্পর্কে জানার পরও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় অনুদান সংগ্রহের আশায় তিনি সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তবে পরবর্তীতে কোনো প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন। ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টেইনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত বছর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ শুরু করার পর থেকেই বিল গেটসের এই পুরোনো অধ্যায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: টেলিগ্রাফ
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন একটি বিতর্কিত প্লাস্টিক ও রিসাইক্লিং আইনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে মামলা করেছে জর্জিয়াসহ দেশের ১৭টি অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনটি কার্যকর হলে জর্জিয়াসহ পুরো আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ফেডারেল আদালতে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্লাস্টিক পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি মূলত ২০২২ সালে পাস হয়েছিল, যার চূড়ান্ত নিয়মাবলী সম্প্রতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে পর্যায়ক্রমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং সব ধরনের প্যাকেজিং রিসাইকেল বা পচনশীল করা বাধ্যতামূলক হবে। বাদীপক্ষ এই নিয়মগুলোকে ‘অতিরিক্ত ও শাস্তিমূলক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং সেই বাড়তি খরচের বোঝা পরোক্ষভাবে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই কাটা হবে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "জর্জিয়ায় আমরা কীভাবে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করব, তা বলে দেওয়ার কোনো অধিকার ক্যালিফোর্নিয়ার নেই। কিন্তু এই প্লাস্টিক আইনটি ঠিক সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, এটি পশ্চিম উপকূলের (ওয়েস্ট কোস্ট) এলিটদের একটি অসাংবিধানিক চাপ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ আমেরিকানদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসাতে দ্বিধা করছে না। জর্জিয়ার উৎপাদক এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা এই আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। ১৭টি অঙ্গরাজ্যের এই জোট এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হোলসেলার-ডিস্ট্রিবিউটরস দাবি করেছে যে, এই আইনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যালিফোর্নিয়া উভয়ের সংবিধান লঙ্ঘন করে। তাই তারা আদালতের কাছে আইনটিকে অবৈধ এবং অকার্যকর ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনের অর্থনৈতিক প্রভাব হবে মারাত্মক, যা বিশেষ করে কম আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি সংকটে ফেলবে। মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার রিসাইক্লিং সংস্থা ‘ক্যালরিসাইকেল’-এর পরিচালক জো হেলার এবং আইনটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ‘সার্কুলার অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-কে বিবাদী করা হয়েছে। অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানা গার্সিয়া মে মাসে এক বিবৃতিতে এই আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, "ক্যালিফোর্নিয়া মূলত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের দায়িত্ব উৎপাদনকারীদের ওপরই চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।" তবে এই আইনের বিরোধিতা শুধু ব্যবসায়ীরাই করছেন না, বরং কিছু পরিবেশবাদী সংগঠনও এর চূড়ান্ত নিয়মাবলীকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে পৃথক মামলা করেছে। জর্জিয়ার সাথে এই মামলায় যোগ দেওয়া অন্য ১৬টি রাজ্য হলো—অ্যালাবামা, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, আইডাহো, লুইজিয়ানা, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলিনা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস, ইউটা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক নারীকে প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা) মূল্যের এক বিশাল স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির দায়ে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই-এর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ (শীর্ষ অপরাধী) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এফবিআই-এর হিউস্টন কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম এমিলি থাই, যিনি চিকিৎসার নামে ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা (জেনেটিক টেস্টিং) এবং ঘুষ বা কিকব্যাক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ জুলাই এমিলি থাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, মার্কিন সরকারের সাথে প্রতারণা এবং ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অধীনে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে একটি ল্যাবরেটরির মালিক এমিলি থাই বিভিন্ন মার্কেটিং এজেন্টের সাথে চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, সরকারি লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে এজেন্টরা চিকিৎসকদের ভুয়া সুপারিশপত্র এবং সাধারণ মানুষের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে তাঁর ল্যাবে পাঠাতেন। এফবিআই জানিয়েছে, ওই জেনেটিক পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন সরকারের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে প্রতিটি টেস্টের জন্য হাজার হাজার ডলার তুলে নেওয়া হতো। অথচ প্রকৃতপক্ষে রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই ধরনের জটিল ও ব্যয়বহুল পরীক্ষার কোনো ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। এভাবে জালিয়াতি করে এমিলির ল্যাবরেটরি থেকে সরকারি তহবিলে প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই ভুয়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার ল্যাবটিকে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা শত কোটি টাকা পরিশোধ করে। এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির পর এমিলি থাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে আদালত থেকে জামিন পান তিনি। জামিনের প্রধান শর্ত ছিল তাঁর পায়ে একটি সার্বক্ষণিক লোকেশন ট্র্যাকিং বা অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস লাগানো থাকবে। তবে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে পালিয়ে যান এমিলি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে না পেয়ে পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মার্কিন প্রশাসন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এমিলি একটি ভুয়া বা জাল পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট বিমান ব্যবহার করে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এফবিআই হিউস্টন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পলাতক এমিলি থাই বর্তমানে ভিয়েতনামে আত্মগোপন করে আছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সরকারি নথি ও রেকর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস এবং পরিবর্তনের জন্য আরেকটি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এমিলি থাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এফবিআই হিউস্টন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক এমিলিকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করতে পারে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে এই তথ্য দিতে এফবিআই-এর নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।