আমেরিকা

ফোবানা ২০২৬: সিলভার প্যাকেজ গ্রহণে বিশেষ সুবিধা, দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান

ফোবানা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৩:৪৭
ফোবানা ২০২৬ কনভেনশনের অফিসিয়াল প্রচারণামূলক ব্যানার। ছবি: ফোবানা ২০২৬
ফোবানা ২০২৬ কনভেনশনের অফিসিয়াল প্রচারণামূলক ব্যানার। ছবি: ফোবানা ২০২৬

ফোবানা ২০২৬ কনভেনশনে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের জন্য সিলভার প্যাকেজ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলভার প্যাকেজ গ্রহণ করলে অংশগ্রহণকারীরা কনভেনশনের বিভিন্ন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগের সুযোগ পাবেন।

 

খালেদ রউফ আমেরিকা বাংলাকে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে ঘিরে নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিবন্ধন করছেন।

 

তিনি জানান, অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের রেজিস্ট্রেশন ও প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সিলভার প্যাকেজ গ্রহণকারীরা কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা লাভ করবেন।

 

খালেদ রউফ আরও জানান, যারা এখনো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত নিবন্ধন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহীদের কালচারাল মেম্বারশিপ নবায়ন, হাউস রেজিস্ট্রেশন এবং নির্ধারিত সাংস্কৃতিক স্লট নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, “সময়মতো নিবন্ধন ও প্যাকেজ গ্রহণ করলে অংশগ্রহণকারীরা কনভেনশনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। তাই সবাইকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১টায় ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলের বলরুমে একটি বিশেষ বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস।

 

খালেদ রউফ বলেন, এবারের কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম, স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন থাকবে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ৪০তম ফোবানা কনভেনশন উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কোর্টহাউসে অভিবাসী গ্রেপ্তারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে লাখো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে আসা অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নীতির ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত বলেছেন, আদালতকে অভিবাসী গ্রেপ্তারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।   ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ পি. কেসি পিটস মঙ্গলবার ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতিকে যুক্তিহীন এবং প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন (Administrative Procedure Act) পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং ইমিগ্রেশন আদালত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ আদালতে তাদের পদক্ষেপের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   বিতর্কিত নীতির আওতায় আইস কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত হওয়া অভিবাসীদের কোর্টরুমের বাইরে থেকেই আটক করতে পারতেন। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, এর ফলে বহু মানুষ আদালতে হাজির হতে ভয় পাচ্ছিলেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছিলেন।   রায়ে বিচারক পিটস উল্লেখ করেন, যেসব অভিবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে আদালতে হাজির হচ্ছেন, তাদের একই কারণে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই গ্রেপ্তার করা নীতিগতভাবে অসংগত। তিনি বলেন, প্রশাসনের এই নীতি একটি ভুল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।   শুধু আদালতে গ্রেপ্তারের বিষয় নয়, অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন বিচারক। তিনি এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার মাধ্যমে আটকদের ১২ ঘণ্টার বেশি হেফাজতে রাখার সীমাবদ্ধতা কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে অনেক অভিবাসীকে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনও রাতভর বা একাধিক দিন আটক রাখা হয়েছিল। বিচারক বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।   রায়ের সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কোনো ইমিগ্রেশন বিচারক বহিষ্কারের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার মতে, এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ।   অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্থান, অভিবাসীদের ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্র নয়। আদালতে উপস্থিত হওয়া এবং স্বাধীন থাকার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।   এই রায় জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই এর প্রভাব পড়বে। এর আগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিল। ম্যানহাটনের ফেডারেল বিচারক কেভিন ক্যাসটেল রায়ে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি না থাকলে ইমিগ্রেশন আদালতে গ্রেপ্তারকে ন্যায্যতা দেওয়া কঠিন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন, তাদের জন্য রায়টি সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।   তবে আইনি লড়াই এখানেই শেষ নয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:৩২
মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি

৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

অপারেশন রেড কার্ড'-এর অধীনে রোড আইল্যান্ডে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন l ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ঘিরে মানবপাচার ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে 'অপারেশন রেড কার্ড', গ্রেপ্তার ৬

ফোবানা ২০২৬ কনভেনশনের অফিসিয়াল প্রচারণামূলক ব্যানার। ছবি: ফোবানা ২০২৬

ফোবানা ২০২৬: সিলভার প্যাকেজ গ্রহণে বিশেষ সুবিধা, দ্রুত নিবন্ধনের আহ্বান

ফাইল ছবি | আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কারে আবারও অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আবারও শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ের ফলে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসরত অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসীকেও এখন অভিবাসন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা সম্ভব হবে।   মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের যুক্তরাষ্ট্র আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতি পুনরায় কার্যকর করার পথ খুলে যায়।   দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো যায়। অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তে আটক হওয়া বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিটির পরিধি বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর করে।   এই নীতি কার্যকর হওয়ার পর অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হওয়া অনেক ব্যক্তিকে আদালত চত্বর থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে।   রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয় এবং জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা যাতে ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, তবে আদালতের মতে এসব ঘটনা নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়; বরং পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১২:৫৪
এপস্টেইনের ছবিতে মুখ ঢাকা নারীর পাশে বিল গেটস।

তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস

ফোবানা ২০২৬-এর সদস্য নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ জুন।

ফোবানা ২০২৬: সংগঠন নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ জুন, সদস্য সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার নির্বাচনে মেয়র মামদানির চমক, বড় নেতাদের হারিয়ে নতুনদের ঐতিহাসিক জয়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হাউজিং বিলে সই করলেন না ট্রাম্প, নতুন শর্ত দেওয়ায় মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড়

আমেরিকার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন খরচ নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আনা একটি যুগান্তকারী 'হাউজিং বিল' বা আবাসন বিলে শেষ মুহূর্তে সই করা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হওয়া সত্ত্বেও এই দ্বিপক্ষীয় (বাইপার্টিসান) বিলটির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ট্রাম্প স্থগিত করেছেন নিজের একটি নতুন রাজনৈতিক দাবির কারণে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আইনপ্রণেতারা যতক্ষণ না 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) নামের একটি নতুন নির্বাচনী সংস্কার বিল পাস করছেন, ততক্ষণ তিনি এই আবাসন আইনে সই করবেন না।   ক্যাপিটল হিলে '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট' নামের এই ঐতিহাসিক বিলটির স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত আবাসন আইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ঘরবাড়ির সরবরাহ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন খরচ কমিয়ে আনা। বিশেষ করে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যাতে ঢালাওভাবে একক পরিবারের জন্য তৈরি বাড়িগুলো (সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম) কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেই লাগাম টানার কথা বলা হয়েছে এই আইনে। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হওয়া পর্যন্ত আজকের হাউজিং বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো, যাকে আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা মনে করি।"   মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে কোনো বিল পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট যদি ১০ দিনের মধ্যে (রবিবার বাদে) তাতে সই বা ভেটো না দেন, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আইনে পরিণত হয়। হাউস স্পিকার মাইক জনসন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত এই ১০ দিনের সময়সীমাকে কাজে লাগিয়ে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন এবং ওই সময়ের শেষ দিকে গিয়েই তিনি আবাসন বিলে সই করবেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আবাসন বিলটিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই এক বড় সাফল্য হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিল, কারণ সাধারণ মানুষের কাছে এখন আবাসন খরচ এক বড় উদ্বেগের নাম।   এদিকে ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সিনেটে যে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের দাবি জানাচ্ছেন, তার উদ্দেশ্য হলো ভোটার নিবন্ধনে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা। তবে সিনেটের রিপাবলিকান নেতারাই বারবার বলছেন যে, এই নির্বাচনী বিলটি পাস করার মতো পর্যাপ্ত ভোট তাঁদের হাতে নেই। অন্যদিক ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমার ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, "আমেরিকার সাধারণ মানুষের উপকারে আসতে পারে এমন একটি বিরল দ্বিপক্ষীয় অর্জন থেকে ট্রাম্প এভাবে সই না করে পালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এটি বাতিল করা সম্পূর্ণ হাস্যকর।"   প্রস্তাবিত আবাসন বিলে যা যা রয়েছে: বিনিয়োগকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা: বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (যাদের ১,০০০-এর বেশি বাড়ি আছে) একক পরিবারের জন্য তৈরি বাড়ি কেনায় কড়া সীমাবদ্ধতা আনা। বাণিজ্যিক ভবন রূপান্তর: পরিত্যক্ত বা খালি বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী আবাসন উপযোগী করে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকারকে বিশেষ তহবিল দেওয়া। regulatory সহজীকরণ: আবাসন নির্মাণ শিল্পকে গতিশীল করতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করা। ফ্যাক্টরি-বিল্ট হোম: কারখানায় তৈরি আধুনিক বাড়ি (ফ্যাক্টরি-বিল্ট হোম) নির্মাণের জন্য আরও বেশি সরকারি অনুদান উন্মুক্ত করা।   জ্যাক্সনভিল, ডালাস কিংবা ফিনিক্সের মতো আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোতে বর্তমানে ২০ শতাংশেরও বেশি একক পরিবারের বাড়ি জায়ান্ট ইনভেস্টর বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখলে চলে গেছে। এর ফলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা বাড়ি কিনতে গিয়ে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং প্রোপার্টির দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই লাগামহীন আবাসন সংকট থেকে সাধারণ মধ্যবিত্তদের বাঁচাতে এই বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা এখন ট্রাম্পের নতুন রাজনৈতিক শর্তের বেড়াজালে আটকে গেল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১১:১৪
ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার প্লাস্টিক আইনের বিরুদ্ধে ১৭ রাজ্যের মামলা, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা

ফোবানার ৪০তম কনভেনশন স্মরণীয় করতে বিশেষ আয়োজন।

ফোবানা ২০২৬ এর প্রস্তুতি জোরদার, বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চে থাকছেন মন্ত্রী ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র

নিউজার্সির প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত চৌধুরী ও লাকী চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত

নিউজার্সির প্রাইমারি নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত ও লাকী চৌধুরীর জয়

0 Comments