সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৮:৩৫
অসহায় প্রবাসী জামাল। ছবি:সংগৃহীত
অসহায় প্রবাসী জামাল। ছবি:সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজির বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

জামাল উদ্দিন কালমেঘা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

 

জামালের ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর তারা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।

 

শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে জামাল মারা যান। তার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে।

 

জামাল উদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার শুরু আগস্টের প্রথম দিকে। ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জামাল কিডনির সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না বলে সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন।

 

প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, জামাল দীর্ঘদিন আগে নিজের পৈতৃক এলাকা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন।

 

তবে জামালের দেশে ফেরার সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পরিবারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অন্যদিকে আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলা হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ সামনে আসে।

 

জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। সে সময় তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

 

ঘটনার পর জামালের ছেলে আবু রায়হানও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাবাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

 

রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন জামাল উদ্দিন। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানো এই ব্যক্তির শেষ দিনগুলো কেটেছে নিজের পৈতৃক এলাকার ভাতিজির বাড়িতে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন স্বজনরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বৈধ কাগজপত্র থাকা তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন, সামনে আসছে বিমানবন্দরে হয়রানির অভিজ্ঞতা

বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ। তিন নারী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার নিজেদের পুরোনো অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদেরই একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, যিনি ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।   গত ৮ আগস্ট নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল। তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল না। এরপরও ইমিগ্রেশনে তাদের বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারের সম্মতি এবং অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নেপাল যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।   ঘটনাটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ভিত্তি ছাড়া ভবিষ্যতে ওই তিন নারীর বিদেশযাত্রায় বাধা না দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   তবে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মানব পাচারের ঝুঁকির কারণে নেপালগামী যাত্রীদের কাগজপত্র বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ওই তিন নারী যে সেমিনারে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, তার আমন্ত্রণপত্র এবং হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি। পুলিশের সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না।   ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বামীর সঙ্গে নেপাল যাওয়ার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে স্বামীর নাম না থাকার কারণ জানতে চান। তিনি জানান, বিয়ের আগে পাসপোর্ট করা হয়েছিল। এরপর ওই কর্মকর্তা তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান বলে তার অভিযোগ।   তার ভাষ্য, বৈধ পাসপোর্টে বিদেশ যেতে কাবিননামা কেন প্রয়োজন - এমন প্রশ্ন তোলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রথমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে রাজি হননি। পরে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অন্য কর্মকর্তা তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে নেপালের বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোনটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, বিমানবন্দরে আসার গাড়িতেই ফোনটি ফেলে এসেছিলেন তিনি এবং চালক সেটি ফেরত দিয়ে যান।   পরের বছর, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমসে আরেক দফা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য, তার পাসপোর্ট ও লাগেজ আটকে রেখে বিদেশে কেনাকাটা, ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের করসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে ফোন করার পর তার পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।   এই দুটি ব্যক্তিগত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলো ওই গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবেই বিবেচ্য। তবে বিমানবন্দরে বিশেষ করে একা ভ্রমণকারী নারীদের বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি বা অভিভাবকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার আরও অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একাধিক নারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ নাগরিকের চলাফেরা এবং দেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, যদিও জনস্বার্থে আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার বিধানও রয়েছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত হওয়া কিংবা স্বামী বা অভিভাবক সঙ্গে না থাকাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   তিন নারীর নেপালযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর তাই প্রশ্নটি এখন শুধু একটি বিমানযাত্রা নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে বিদেশ যেতে চাওয়া একজন নাগরিককে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে থামাতে পারবেন এবং সেই ক্ষমতার সীমা কোথায় - আদালতের চলমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২০:৪৭
শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস

শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস

রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করার ছবি:সংগৃহীত।

শিক্ষায় অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের

জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগ পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক প্রার্থী
কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগ পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক প্রার্থী

কয়েক দিন ধরে নিয়োগের অনিশ্চয়তায় থাকা ময়মনসিংহের ২০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থী অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান নেওয়ার পর তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যেসব প্রার্থীর কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি ছিল, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র ডাকযোগে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি ১৮ জন। ফলে বাকি ২৪১ জনকে নিয়ে নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।   প্রথম পর্যায়ে ২১৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বিভিন্ন সনদসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২২ জনের নিয়োগ আটকে যায়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এসব প্রার্থী।   নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে কাফনের কাপড় পরে তারা সেখানে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলে ওই রাতেই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হয়। এরপর ২০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।   তবে আটকে থাকা ২২ জনের মধ্যে এখনো দুজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।   নিয়োগের খবর পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। নবনিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছিল। নিয়োগ পাওয়ার খবরে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   আরেক নবনিযুক্ত শিক্ষক হাসি আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর তারা নিয়োগ পেয়েছেন। এতে তারা খুবই আনন্দিত।   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নথিপত্রে ছোটখাটো ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করে ২০ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন। আর বাকি দুজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৫:৩৯
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আকাশসীমা জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান রাশিয়া থেকে

রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে ফিন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা নাবিল আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাবিলের নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফিনে দুই কোটি ডলার বিনিয়োগ, ঢাকায়ও অফিস

চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে দেশটির সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় জানান।   সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   চীন অতীতেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা প্রয়োজন। বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান।   বৈঠকে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরশক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশের শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগ বাড়লে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।   কুনমিং-চট্টগ্রাম ও অর্থনৈতিক করিডর আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপক্ষীয় যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ চীন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।   বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এর আগে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানো, শিল্পায়ন বাড়ানো এবং আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি। তবে করিডরটির বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।   বৈঠকে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি এসব উদ্যোগকে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।   তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পেও চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি। এর আগে বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে আসে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।   বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে চীনের সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণ ও অর্থায়নে চীনের সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা জানান।এ ছাড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচে ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসায় চীনা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর নিজের চীন সফর এবং সেখানে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায়ের সফর ও বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মেয়াদে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদানেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত ড. লিউ ইউইনও ছিলেন।   সাম্প্রতিক এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আলোচনায় শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ, শিল্প ও প্রযুক্তি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট—বহু ক্ষেত্র একসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের কূটনৈতিক ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ—দুই বিষয়েই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৮:৪৯
জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

সকাল থেকে নিখোঁজ শিশু, জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি বিল তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!

0 Comments