আবু সাঈদ গুলিতে মারা যায়নি, অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি। এদিন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
দুলু বলেন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক আজ শেষ হয়েছে। আমি তিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনসহ তিনজনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছি। এর মধ্যে একটি হলো আবু সাঈদের ওপর যে রাবার বুলেট বা পিলেটস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ছিল কি না। কিন্তু এ নিয়ে কোনো যুক্তি খণ্ডন করেনি প্রসিকিউশন। এর অর্থ হলো আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি। অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন। অর্থাৎ হেড ইনজুরিতে (মাথায় আঘাত) মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে সমর্থন করে। কারণ তার গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র ছিল না।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত আবু সাঈদের পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটিতেও সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই। অর্থাৎ এ প্রতিবেদনটি ডিফেক্টিভ বা ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া, আবু সাঈদকে যখন ছয়জন পুলিশ ঘিরে ধরে একজন পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, তখন আবু সাঈদ নিজেকে বাঁচাতে হাতের লাঠি দিয়ে পুলিশের একজন সদস্যের হাতের লাঠিকে প্রতিহত করেন। এ মামলায় আবু সাঈদের একটি বীরত্বগাঁথা রয়েছে। তিনি সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।
গেঞ্জিতে ছিদ্র নেই প্রসঙ্গে দুলু বলেন, এ মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন যে, এই গেঞ্জির ছিদ্র নেই। গেঞ্জির অংশটি সামনের না পেছনের এটাও তিনি জানেন না। প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো প্রমাণ করা। তারা প্রমাণ করতে পারতেন এটা সামনের নাকি পেছনের অংশ। কিন্তু বলতে পারেনি। আর এ সন্দেহের কারণে আসামিরা খালাস পাবেন।
আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, এটা ছবির তথ্য। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পেলে এক্স-রে ও রেডিওস্কপি করতে হয়। এর মাধ্যমে গুলির যে অংশবিশেষ শরীরে রয়েছে তার উপস্থিতি নির্ণয় করা যাবে। যেহেতু এখানে গুলির কোনো কার্তুজ জব্দ করা হয়নি, তাহলে আমরা কি সিদ্ধান্তে আসব যে, তার দেহে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। অথবা যিনি ময়নাতদন্ত করেছেন, তিনি সঠিকভাবে করেননি।
এছাড়া চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে ওই চিকিৎসক ময়নাতদন্তই করতে পারতেন না। সাক্ষ্যে তিনি ব্যাখ্যা দিতে পারতেন যে, আমি এ কারণে এক্স-রে বা রেডিওস্কপি করতে পারিনি। অথবা এই দুটি পরীক্ষা না করার জন্য অমুক-অমুক ব্যক্তি বা পুলিশের কর্মকর্তা দায়ী। এমন বললে আমরা বুঝতে পারতাম সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ওই চিকিৎসক। তিনি বলেছিলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য পরিবর্তনে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও বলেননি এক্স-রে করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন যে আমাকে মন্তব্য লিখতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
রায়ের প্রত্যাশা রেখে দুলু বলেন, আমাদের প্রত্যাশা হলো আসামিদের খালাস দিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিচার করা। অর্থাৎ যে ছয় পুলিশ সদস্য মিলে মেরেছে, তাদের একজনকে মাত্র শনাক্ত করে আসামি বানানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনসহ যারা যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। সেই বিচারের মাধ্যমে আবু সাঈদ যে বীরত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, সেই বীরত্বকে দেখিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চকরিয়া এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোড-এ অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন, সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ জানায়, এসব ভুয়া নথি তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে তৈরি করা একটি জাল সিলও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঈদের দিন এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর সমাধির ওপর উঠে পড়েন। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই যুবক জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করে হঠাৎ মাজারের ওপর উঠে পড়েন এবং ব্লেড দিয়ে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের গলায়ও আঘাত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি সমাধির ওপর গড়াগড়ি দিচ্ছেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) কাজী মুস্তাফিজ জানান, ওই যুবক ঘুরতে এসে হঠাৎ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে Shaheed Suhrawardy Medical College Hospital-এ পাঠানো হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ জামাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। ভোর থেকেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং সব ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় হয় ৩৯৬টি জামাত। বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক ও উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো নগরী।