গাড়ির ঋণের সুদে কর ছাড়, নতুন সুবিধা চালু আইআরএস
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র: চলতি ট্যাক্স ফাইলিং মৌসুমে মার্কিন করদাতাদের জন্য নতুন একটি কর-ছাড় সুবিধা চালু হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এখন গাড়ির লোনের সুদের ওপর কর ছাড় নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে IRS!
এই সুবিধাটি এসেছে বিগ বিউটিফুল বিল আইনের মাধ্যমে, যা রিপাবলিকানদের উদ্যোগে কংগ্রেসে পাস হয় এবং গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাট ট্রাম্প স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইন হিসেবে কার্যকর হয়।
কী সুবিধা পাওয়া যাবে - IRS প্রকাশিত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী,
• যোগ্য গাড়ির লোনের সুদের ওপর বছরে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত কর ছাড় নেওয়া যাবে
• যারা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকসন নেন এবং যারা আইটমাইজ ডিডাকশন করেন — উভয়ই এই সুবিধা পাবেন
• এই নিয়মের নাম দেওয়া হয়েছে নো ট্যাক্স অন কার লোন ইন্টারেস্ট
কোন গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য - এই সুবিধা পেতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে —
• গাড়িটি অবশ্যই নতুন কার হতে হবে
• গাড়িটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিনতে হবে
• গাড়িটি আমেরিকায় তৈরি মেড ইন ইউএসএ হতে হবে
• লোন নেওয়া হতে হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ এর পর
• লিজ নেওয়া গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়
IRS বলেছে, নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো আমেরিকায় তৈরি গাড়ি কেনায় উৎসাহ দেওয়া এবং করদাতাদের আর্থিক চাপ কমানো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঅবসরের পর কম খরচে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলো হতে পারে সবচেয়ে ভালো বিকল্প। ‘রিটায়ারমেন্ট লিভিং’-এর ২০২৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অবসরের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ১০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সাতটিই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, রেডফিন, মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ), এএএ, সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস), সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থান নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর-সুবিধা। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশটির মধ্যে এই অঙ্গরাজ্যেই আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে কম। সেখানে একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ৬৪৩ ডলার এবং একজনের মাসিক গড় মুদি খরচ ২০৫ ডলার। হিসাব অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর জীবন কাটাতে একজনের প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১৯৯ ডলার সঞ্চয় থাকলেই চলবে। এর বিপরীতে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি ওয়াইয়োমিংয়ে অবসর কাটাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার ডলার সঞ্চয়। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিসিসিপি ও আলাবামা। কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে এই দুই অঙ্গরাজ্য উচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে। মিসিসিপি তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়ের সুবিধা পেয়েছে, আর আলাবামা এগিয়ে রয়েছে কর-সুবিধার কারণে। প্রথম পাঁচে থাকা বাকি দুটি অঙ্গরাজ্য হলো ওকলাহোমা ও আরকানসাস। ওকলাহোমায় আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হলেও কর-সুবিধার ক্ষেত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকায় সামগ্রিক অবস্থান কিছুটা নেমে গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস কম আবাসন ব্যয় এবং কর-সুবিধা দুই ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী শীর্ষ ১০টি অঙ্গরাজ্যের কোনোটিই সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার ওপর রাজ্য কর আরোপ করে না, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি বড় আর্থিক সুবিধা। অন্যদিকে, অবসরজীবনের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও কর-সুবিধার ক্ষেত্রেও এর অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হাওয়াই, যেখানে আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং কলোরাডো। ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, অবসরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ১০টি অঙ্গরাজ্য হলো ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিসিসিপি, আলাবামা, ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেন্টাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস। অন্যদিকে অবসরের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি অঙ্গরাজ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ওয়াশিংটন, ওরেগন, কলোরাডো, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, উটাহ, নিউইয়র্ক এবং মিনেসোটা। বিশ্লেষকদের মতে, অবসরের জন্য অঙ্গরাজ্য নির্বাচন করার সময় শুধু আবাসন ব্যয় নয়, করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
আমার নাচ আর অঙ্গভঙ্গি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়:ট্রাম্প
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ৩ লাখ ডলারের বিশেষ প্রচারণা শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মা-বাবাকেই গুলি করে হত্যা করল ১৯ বছরের ছেলে
বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অনলাইন টক শো উপস্থাপক হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন কমেডিয়ান, ইউএফসি ধারাভাষ্যকার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জো রোগান। ফোর্বসের ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মাত্র এক বছরে তার অনলাইন অনুষ্ঠান ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ থেকে কর-পূর্ব আনুমানিক ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী জো রোগান যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান ও ইউএফসি ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত। তবে গত এক দশকে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনলাইন টক শো ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ এর মাধ্যমে। এই অনুষ্ঠানে রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, খেলাধুলা ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি স্পটিফাইসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটি মানুষ নিয়মিত দেখেন ও শোনেন। জো রোগান ২০২০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে টেক্সাসের অস্টিনে চলে যান। সেখানে তিনি প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার মূল্যের একটি বাড়ি কিনে অত্যাধুনিক স্টুডিও গড়ে তোলেন, যেখান থেকেই এখন তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কঠোর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ এবং টেক্সাসের তুলনামূলক স্বাধীন পরিবেশে কাজ করার সুযোগকে স্থানান্তরের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। যারা পডকাস্ট বা অনলাইন টক শো করেন তাদের মতে, জো রোগানের বিপুল আয়ের পেছনে শুধু ইউটিউব বা স্পটিফাইয়ের বিজ্ঞাপন নয়, বরং মাল্টি মিলিয়ন ডলারের লাইসেন্সিং চুক্তি, স্পন্সরশিপ, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের অধিকার এবং তার শক্তিশালী ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালে স্পটিফাইয়ের সঙ্গে তার নতুন চুক্তির ফলে অনুষ্ঠানটি একাধিক প্ল্যাটফর্মে বিতরণের সুযোগ পায়, যা তার আয় আরও বাড়িয়ে দেয়। ফোর্বসের সর্বশেষ তালিকায় জো রোগানের আনুমানিক ৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের আয় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রযুক্তিভিত্তিক অনুষ্ঠান টিবিপিএনের ৭ কোটি ডলারের আয়ের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে টানা আরেকবার বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অনলাইন টক শো উপস্থাপকের অবস্থান ধরে রাখলেন তিনি।
মিশিগান প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বার্তা মিনহাজ চৌধুরীর
বেতন না কেটেই জমবে সঞ্চয়! যুক্তরাষ্ট্রে আসছে নতুন ৪০১(কে) পরিকল্পনা, মিলতে পারে বাড়ি কেনার সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য ৭৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জেপিমরগান, কী সুবিধা পাবেন বাড়ির ক্রেতারা?
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভোটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদ মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক সাফল্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার। এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র 'দ্য মিশিগান ডেইলি'-তে ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। সেই সময় সারা জুকাকু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। একই প্রতিবেদনে আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, "আমি ভাবতাম, একজন মানুষের সঙ্গেই আমার দেখা হবে এবং তাকেই আমি বিয়ে করব। আমার কাছে এটিই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল রূপ।" নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিওতেও সারাকে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে তিনি সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার মুখে নিজের শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে রেসিডেন্সি করছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ইউনিয়নের গুরুত্ব বোঝেন না, কিন্তু কঠিন সময়ে সেই সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আবদুল এল-সাইয়েদ তার লেখা 'হিলিং পলিটিক্স: আ ডক্টরস জার্নি ইনটু দ্য হার্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল এপিডেমিক' বইতেও স্ত্রী সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সারার বাবা-মা ভারতের একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, জীবনে নিজের পরিচয় খুঁজে পেতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু সারা সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া সারার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। মাদার্স ডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এল-সাইয়েদ সারাকে "আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আমাদের দুই কন্যার অসাধারণ মা" বলে উল্লেখ করেন। দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নাম এমালি (Emmalee) ও সেরিন (Serene)। এল-সাইয়েদের পারিবারিক শিকড়ও বৈচিত্র্যময়। তার প্রচারণা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি বাবার পাশাপাশি সৎমা জ্যাকির সঙ্গেও বেড়ে উঠেছেন, যার পরিবারের শিকড় মিশিগানের গ্রাটিয়ট কাউন্টিতে। অন্যদিকে 'আরব আমেরিকা'র তথ্য অনুযায়ী, তার মা ডা. ফাত্তেন এলকোমি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত। এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। ইপিক-এমআরএ পরিচালিত এক জরিপে রজার্স ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এল-সাইয়েদের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিচেল রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের আরেকটি জরিপে দুজনই ৪৫ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে গ্লেনগারিফ গ্রুপের এক জরিপে রজার্স ৪৯ শতাংশ এবং এল-সাইয়েদ ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' অঙ্গরাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয় পান। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ভোটার নয়, স্বতন্ত্র ভোটারদেরও সমর্থন অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাড়িভাড়া পরিশোধে অনলাইনে অনুদান চেয়ে তদন্তের মুখে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতা
বাড়িতে আগুন লাগার সময় গাড়ির সিটে বন্দি শিশু, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা