তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত মনুষ্যবিহীন যুদ্ধযান ও দেশীয় আকাশযানগুলো। দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই) জানিয়েছে, ২০২৫ সালকে “অসাধারণ” সাফল্যের বছর হিসেবে শেষ করার পর ২০২৬ সালে নকশা উন্নয়ন, গণউৎপাদন ও সরবরাহে নতুন গতি আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহমেত দেমিরোগলু বলেন, ২০২৫ সালে টিএআই ও সামগ্রিকভাবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প একাধিক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। তাঁর ভাষায়, গত বছরের অন্যতম বড় অর্জন ছিল তুরস্কের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘টিএআই কান’ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির চুক্তি। প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা রপ্তানি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দেমিরোগলু বলেন, “এই চুক্তি টিএআই, কান প্রকল্প এবং পুরো দেশের জন্যই বিশাল প্রেরণার উৎস।”
ইউরোপের বাজারেও টিএআই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই স্পেনের কাছে প্রায় ৩০টি হুরজেট জেট প্রশিক্ষণ বিমান রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা টিএআই ও তুরস্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৫ সালে টিএআই মানববিহীন আকাশযান খাতেও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। আঙ্কা ও আকসুংগুর মডেলের মানববিহীন যুদ্ধযান রপ্তানি হয়েছে এবং একই সঙ্গে উন্নত স্টেলথ ড্রোন আঙ্কা থ্রির পরীক্ষা কার্যক্রম চলেছে। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ ও গণউৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেমিরোগলু জানান, হুরজেট ও হুরকুশ জেট প্রশিক্ষণ বিমান এবং মানববিহীন আকাশযানগুলোর সরবরাহ জোরদার করাই এখন টিএআইয়ের প্রধান অগ্রাধিকার। গোকবেয় ইউটিলিটি হেলিকপ্টারের গণউৎপাদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে হুরজেটের নতুন প্ল্যাটফর্মগুলো উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
চলতি বছরেই টিএআই তাদের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘কান’-এর পি১ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করবে। এরপর একই বছরে পি২ প্রোটোটাইপও উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হবে। দেমিরোগলু জানান, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সব প্রোটোটাইপ একসঙ্গে আকাশে উড়তে দেখা যাবে।
এ ছাড়া তুরস্কের বন অধিদপ্তরের জন্য ১০ টন ওজনের একটি হেলিকপ্টারের প্রথম উড্ডয়নের প্রস্তুতিও চলছে। তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তৈরি হেলিকপ্টারগুলোর উন্নয়ন কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ হবে এবং এরপর গণউৎপাদনে যাওয়া হবে।
অন্যদিকে নতুনভাবে নকশা করা স্টেলথ মানববিহীন যুদ্ধযান আঙ্কা থ্রির ডিজাইন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরেই এটি গণউৎপাদনে প্রবেশ করবে। দেমিরোগলু বলেন, ২০২৬ সালে আরও উন্নত ‘ঘোস্ট’ স্টেলথ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আঙ্কা থ্রি আকাশে উড়বে, যদিও প্রোটোটাইপ ও উৎপাদন পর্যায়ে এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরেই আঙ্কা থ্রির প্রথম উড্ডয়ন এবং প্রায় ২২টি হুরকুশ বিমানের সরবরাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হুরজেটের প্রথম ডেলিভারি কনফিগারেশন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উড্ডয়ন করবে এবং পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে সরবরাহ শুরু হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি এক চরম কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ইরান, অন্যদিকে শক্তিশালী অংশীদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে নয়াদিল্লিকে এখন ‘ডিপ্লোম্যাটিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা কূটনৈতিক নমনীয়তার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কানেক্টিভিটির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার এবং সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ইরান ভারতের জন্য অপরিহার্য। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সরাসরি সামরিক সংঘাত ভারতের এই স্বার্থগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতকে ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিতে বাধা দিচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের চেষ্টা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা মোদি সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি সফলভাবে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়াদিল্লির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। অন্যথায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ ভারতের অর্থনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছিলেন, তাতে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর মিসাইল জড়িত থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচিত এবং একদল গবেষকের করা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৯ মার্চের ওই ভোরে হওয়া বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য ইরানের ড্রোন হামলাকে দায়ী করলেও, এখন ঘটনার মোড় পরিবর্তন হচ্ছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার অদূরে অবস্থিত তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সক্রিয় ছিল। তবে বাহরাইন সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইলটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো গেছে। তার মতে, সরাসরি মিসাইল বা ড্রোন মাটিতে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই ওই ঘটনায় ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণটি সম্ভবত মার্কিন পরিচালিত কোনো এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি থেকে ভুলবশত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে। অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা। ক্রিকেট যখন মহৌষধ শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি। শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ ২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।