ঈদের দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই দফা সংঘর্ষ, নারীসহ অর্ধশতাধিক আহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশের সরকারি জ্বালানি নীতিতেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মধ্যে ভিডিও বৈঠকে বিষয়টি আরও এগিয়ে নেওয়া হয়। বৈঠকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের প্রধান নির্বাহী নুরেদ্দিন দাউদি, আলজেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আলজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে এলএনজি ক্রয় ও সরবরাহ চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গ্যাসবাজারে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু এলএনজি কেনাবেচায় সম্পর্ক সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এলএনজির পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই দেশ। আলোচনাগুলো এগিয়ে নিতে একটি যৌথ কার্যকরী দল গঠনের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। আলজেরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতার আলোচনা অবশ্য সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়নি। গত ৯ জুলাই ঢাকায় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে আলজেরিয়ার সঙ্গে এই খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জ্বালানির পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, মৎস্য এবং জনশক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জন্য নতুন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস খোঁজার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা আমদানি করা কয়লা, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়। সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর ইউনিটের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্রহণ করতে পারে। দেশের বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারি পর্যায়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আলজেরিয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য নতুন সরবরাহ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনাগুলো মূলত সম্ভাব্য সরবরাহ ব্যবস্থা, চুক্তি ও অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত এলএনজি সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা পাওয়া যায়নি। দুই দেশের যৌথ কার্যকরী দলের পরবর্তী আলোচনা থেকে মূল্য, সরবরাহের পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত নির্ধারিত হতে পারে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না রেখে একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা। আলজেরিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা বাস্তব চুক্তিতে রূপ নিলে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলে নতুন একটি সরবরাহ পথ যুক্ত হতে পারে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলায় কথা বলবেন তারেক রহমান, জাতিসংঘে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের নতুন যাত্রা
সরকারের সংকটের কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা, বললেন ‘দোষ দিতে চাই না’
অপ্রতিম হ ত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ও সমতামূলক ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হলো ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উঠে এসেছে। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালন। তিনি ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন কোন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে বা সেসব বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রতিবছর বিশ্বনেতাদের জন্য বৈশ্বিক সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, জলবায়ু এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
ক্যান্সার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সালেও, অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী
ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা
সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন, দগ্ধ ৫
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আবারও দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৯টার পর মাজারের দানবাক্স ও তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগের তালা খোলা হয়। এরপর সেখান থেকে পাওয়া টাকা মাজার প্রাঙ্গণে এনে গণনা শুরু করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শুরুর সময় নিয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে—কোনোটিতে সকাল ৯টা, আবার কোনোটিতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের কথা বলা হয়েছে। এবার দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া গেছে। একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বলা হয়েছে, দানবাক্সগুলো থেকে প্রায় চার বস্তা টাকা বের হয়েছে। তবে গণনা শেষ হওয়ার আগে মোট অর্থের চূড়ান্ত পরিমাণ জানা যায়নি। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে গণনা চলছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়েছিল। তখন নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। ফলে প্রায় ৩৪ দিন পর আবার দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে। মাজারে বহু বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রথমবার প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয় গত ২২ জুন। প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। তৃতীয় দফার ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে যোগ করা ৫ লাখ টাকা মিলিয়ে আগের তিন দফায় নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।গণনা শেষে দানের অর্থ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখার কথা রয়েছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত
রাজধানীতে নাশকতা ঠেকাতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট, মোটরসাইকেলে বিশেষ নজরদারি