প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা: কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চকরিয়া এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার রাজধানীর মিন্টো রোড-এ অবস্থিত ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন, সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসব ভুয়া নথি তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে তৈরি করা একটি জাল সিলও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে আরিফ একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। সেখানে তিনি নিজেকে ‘গুমের ভিকটিম পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্যসচিব পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View more‘জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত’—নিজের লেখা বইয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের ৪ মে মৃত্যুর আগে ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটি লিখে যান আবদুর রাজ্জাক। বইটি গত মাসে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশ করে। বইয়ের শেষ দিকে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ অধ্যায়ে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি। আবদুর রাজ্জাকের মতে, ১৯৭১ সালের ভূমিকা এখনো জামায়াতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধিতা এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটি পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি—এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, অতীতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জামায়াতের পক্ষে টেকসই রাজনৈতিক পুনরুত্থান কঠিন। এজন্য নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হয়ে দায় স্বীকার ও আত্মসমালোচনার পথে যেতে হবে। দলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে জামায়াত এখনো অনেকটাই পুরোনো ও রক্ষণশীল কাঠামোয় আটকে আছে। এতে তরুণদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছে। তরুণ কর্মীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া এবং নতুন চিন্তার প্রতি অনাগ্রহ দলটির ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। জামায়াতের ভাবমূর্তির সংকট নিয়েও বইয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির ওপর রাজনৈতিক ও আবেগগত প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন রাজ্জাক। একই সঙ্গে কঠোর রক্ষণশীল ও আধুনিকতার প্রতি অনাগ্রহী দল হিসেবে জামায়াতের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা শহুরে ও শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশকে দূরে রাখছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় চাপ, গণমাধ্যমে প্রান্তিকতা ও আইনি চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত অনেক সময় নিজেদের নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছে বলেও বইয়ে উল্লেখ করেছেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জাতীয় ইস্যুতে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। ১৯৮৬ সালে জামায়াতে যোগ দেওয়া আবদুর রাজ্জাক ২০০৩ সালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন সময়ের সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করলেও জামায়াত পুরোনো বয়ান ও কৌশলে আটকে আছে বলে মনে করেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময়ও দলটি রাজনৈতিকভাবে বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে না পারাকে তিনি দলটির অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বইয়ের শেষাংশে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে জামায়াতকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। এগুলো হলো— ১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দেওয়া। ২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থীদের নেতৃত্বে আনা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো। ৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির বৈচিত্র্য আনা: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া। ৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: তরুণদের আকৃষ্ট করতে সময়োপযোগী রাজনৈতিক বয়ান ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং জাতীয় ইস্যুতে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
বিশ্বমঞ্চে বাংলায় কথা বলবেন তারেক রহমান, জাতিসংঘে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের নতুন যাত্রা
সরকারের সংকটের কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা, বললেন ‘দোষ দিতে চাই না’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রামিসা হ ত্যা কাণ্ডের মতো অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচারও দ্রুততম সময়ে শেষ করার চেষ্টা করা হবে। মন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নি খোঁ জ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আগে এবং একজনকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে অপ্রতিমের বন্ধুত্ব ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তদন্তে তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় আলামতও জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার অপ্রতিমের দা ফ ন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পরদিন তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে; তবে বিচার করবে আদালত। এখন তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, জবানবন্দি এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়াই মামলার পরবর্তী ধাপ।
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ক্যান্সার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সালেও, অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী
ঢাবি ছেড়ে জাবিতে ভর্তি, সেখান থেকে অক্সফোর্ডে পূর্ণ বৃত্তিতে সামিয়ার যাত্রা
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং সবার চিকিৎসা চলছে। দগ্ধরা হলেন—সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারা শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক সম্পত্তিতে পাশাপাশি বসবাস করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখেন। বিষয়টি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি তার ভাই ইমনকে জানান। ইমন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর শনিবার বিকেলে এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বলে স্বজনদের দাবি। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালেন। পরে সেখানে থাকা অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচজনই আগুনে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। ঘটনাটির এই বিবরণ মূলত স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইমনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিল, আগুন দেওয়ার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে পেট্রোল ব্যবহার করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৩৪ দিন পর শাহজালাল মাজারের দানবাক্স খুলল, চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত