আমেরিকা

নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই বিমান, শান্ত কণ্ঠে দুর্ঘটনা ঠেকালেন নারী

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: মার্চ ২১, ২০২৬ ০:১৭
নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই বিমান, শান্ত কণ্ঠে দুর্ঘটনা ঠেকালেন নারী
নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুই বিমান, শান্ত কণ্ঠে দুর্ঘটনা ঠেকালেন নারী

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে বিমানবন্দরে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। একই সময়ে অবতরণ করতে যাওয়া দুটি বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়লেও এক নারী বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকের শান্ত ও দ্রুত নির্দেশনার কারণে শেষ মুহূর্তে বিপদ কেটে যায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান এবং একটি পণ্যবাহী বিমান ছেদকারী দুইটি রানওয়েতে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রীবাহী বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহর থেকে নিউয়ার্কে আসছিল, আর পণ্যবাহী বিমানটি একই সময়ে অন্য রানওয়ে দিয়ে নামার অনুমতি পেয়েছিল।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে থাকা নারী বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক রাডারে লক্ষ্য করেন যে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি অবস্থানে চলে এসেছে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একই স্থানে পৌঁছে যেতে পারে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে যাত্রীবাহী বিমানটিকে অবিলম্বে অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে উঠে ঘুরে আসার নির্দেশ দেন।

পাইলট সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ মেনে বিমানটিকে আবার উপরে তুলে নেন। এর ফলে রানওয়েতে নামতে থাকা অন্য পণ্যবাহী বিমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেলেও তা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনার শব্দধারণ পরে প্রকাশ হলে শোনা যায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও নিয়ন্ত্রক অত্যন্ত শান্তভাবে নির্দেশ দিচ্ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ওই নারী কর্মকর্তার প্রশংসা করে লিখেছেন, তার ধীরস্থিরতা ও পেশাদারিত্ব শতাধিক যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছে।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবতরণের সময়সূচি ও রানওয়ে সমন্বয়ে সাময়িক বিভ্রান্তির কারণে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকাকে ৭.৬ মিলিয়ন ডলার দিলেন ট্রাম্প জুনিয়র
বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকাকে ৭.৬ মিলিয়ন ডলার দিলেন ট্রাম্প জুনিয়র, কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তার সাবেক বাগদত্তা কিম্বার্লি গিলফয়েলের মালিকানার অংশ কিনে নিতে ৭.৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছেন। এর মাধ্যমে ফ্লোরিডার জুপিটারে অবস্থিত তাদের যৌথ মালিকানার বিলাসবহুল বাড়িটির পূর্ণ মালিকানা এখন ট্রাম্প জুনিয়রের হাতে চলে গেছে।    সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, গত ২৫ জুলাই এই লেনদেন চূড়ান্ত হয় এবং ৩ আগস্ট দলিলে তা নিবন্ধিত হয়। বাড়িটি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির অভিজাত অ্যাডমিরালস কোভ কমিউনিটিতে অবস্থিত। ট্রাম্প জুনিয়র ও গিলফয়েল ২০২১ সালে প্রায় ৯.৭ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কিনেছিলেন। পরে এটি ব্যাপক সংস্কার করা হয়।    ছয়টি শয়নকক্ষ, ১১টি বাথরুম, ব্যক্তিগত ডক, সুইমিং পুল, এলিভেটর এবং জলপথের মনোরম দৃশ্যসহ বাড়িটি ওই এলাকার অন্যতম বিলাসবহুল আবাসন হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের শুরুতে বাড়িটি প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জুনিয়র নিজেই সাবেক বাগদত্তার অংশ কিনে নেন।  ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও কিম্বার্লি গিলফয়েল ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কে ছিলেন এবং পরে তাদের বাগদান হয়। ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর গিলফয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গ্রিসে দায়িত্ব পালন করছেন।    অন্যদিকে ট্রাম্প জুনিয়র চলতি বছর পাম বিচের সমাজসেবী বেটিনা অ্যান্ডারসনকে বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবদম্পতি ভবিষ্যতে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন।    এই লেনদেনের মাধ্যমে ট্রাম্প জুনিয়র ও গিলফয়েলের মধ্যে ফ্লোরিডার ওই সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের যৌথ মালিকানার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১:২৭
আমেরিকার জাতীয় প্রতীক বল্ড ঈগল গুলি করে হত্যা করায় ওয়াশিংটনের বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা

আমেরিকার জাতীয় প্রতীক বল্ড ঈগল গুলি করে হত্যা করায় ওয়াশিংটনের বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা

আমেরিকায় এই ৫টি জিনিস কখনোই ফুল প্রাইসে কিনবেন না

আমেরিকায় এই ৫টি জিনিস কখনোই ফুল প্রাইসে কিনবেন না, সঠিক সময়ে কিনলেই বড় সাশ্রয়

আইসিইর জন্য বোস্টনে ২৫০ পার্কিং স্পেসের পরিকল্পনা

আইসিইর জন্য বোস্টনে ২৫০ পার্কিং স্পেসের পরিকল্পনা, শুরু তীব্র বিরোধিতা

কারাগার ১৩৬ ঘণ্টা কাজ করে পাওয়া ১৭ ডলার গাজায় দান করলেন মার্কিন বন্দি
কারাগার ১৩৬ ঘণ্টা কাজ করে পাওয়া ১৭ ডলার গাজায় দান করলেন মার্কিন বন্দি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে প্রায় চার দশক ধরে বন্দি থাকা হামজা নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মানবিক উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঘণ্টায় মাত্র ১৩ সেন্ট মজুরিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ১৩৬ দশমিক ৫ ঘণ্টা কাজ করে তিনি যে ১৭ ডলার ৭৪ সেন্ট পেচেক পান, তার পুরো অর্থই গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিলে দান করেন। পরে তার এই আত্মত্যাগের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে তার জন্য ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়।    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামজা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে পরিচ্ছন্নতা ও পোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার দীর্ঘ সময়ের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য অর্থও নিজের কাছে না রেখে মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে দান করার সিদ্ধান্ত নেন।   লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা জাস্টিন মাশুফ, যিনি বহু বছর ধরে হামজার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামজার কর্মঘণ্টার হিসাব এবং দানের চেকের ছবি প্রকাশ করেন। সেই পোস্ট দ্রুত ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অসংখ্য মানুষ জানতে চান, কীভাবে তারা হামজাকে সহায়তা করতে পারেন।  এরপর হামজার মুক্তির পর নতুন জীবন শুরুতে সহায়তা করার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে ১ লাখ ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়ে। এই অর্থ তার আবাসন, পোশাক, দৈনন্দিন প্রয়োজন, চাকরির প্রশিক্ষণসহ সমাজে পুনর্বাসনের বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়।    তবে অর্থ সংগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার পর হামজা নিজেই অনুরোধ জানান, তার জন্য আর অনুদান না দিয়ে গাজাসহ বিশ্বের অন্যান্য সংকটাপন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তার মতে, যাদের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন আরও বেশি, তাদের প্রতিই মানুষের মনোযোগ দেওয়া উচিত।    আইনি নথি অনুযায়ী, হামজা ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে কারাগারে থাকাকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্যারোলের চেষ্টা চালিয়ে যান। তার পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে তার প্যারোল প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে।    মাত্র ১৭ ডলার ৭৪ সেন্টের এই অনুদান অর্থমূল্যে ছোট হলেও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একজন বন্দির সামান্য উপার্জন নিঃস্বার্থভাবে দান করার ঘটনা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, আর সেই অনুপ্রেরণার ফলেই তার নতুন জীবনের জন্য গড়ে ওঠে লক্ষাধিক ডলারের সহায়তা তহবিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ০:১৬
অবসরজীবনের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

অবসরের পর বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য কোনটি? প্রকাশ পেল ২০২৬ সালের তালিকা

নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

আমার নাচ আর অঙ্গভঙ্গি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়:ট্রাম্প

অভিবাসীদের জন্য নতুন আইনি সহায়তা প্রচারণা শুরু করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ৩ লাখ ডলারের বিশেষ প্রচারণা শুরু

বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৯ বছর বয়সী ইউলিসেস সারভিন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মা-বাবাকেই গুলি করে হত্যা করল ১৯ বছরের ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পুটনাম কাউন্টিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের বাবা-মাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি শুক্রবার রাতে সাটসুমা এলাকার একটি বাড়ির সামনে ঘটে।   পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ১৬ মিনিটে মুসকেট ড্রাইভের একটি বাড়ি থেকে জরুরি ফোনকল আসে। ফোনকারী জানান, এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন। পরে আরেকটি ফোনকলে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার খবর পাওয়া যায়।   ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির বাইরে ১৯ বছর বয়সী ইউলিসেস সারভিনকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি ছোট শিশুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি অস্ত্রটি ফেলে দেন। এরপর শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে সারভিনকে আটক করা হয়।   পরে বাড়ির বাইরে আলাদা দুটি স্থানে সারভিনের বাবা ও মাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ৫১ বছর বয়সী মিগুয়েল সারভিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৪৭ বছর বয়সী সিসিলিয়া সারভিন।   তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, সারভিন, তার বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে একটি তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির ভেতরে থাকা আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সারভিনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যার অভিযোগ, ভবন বা যানবাহনের দিকে গুলি ছোড়ার দুটি অভিযোগ, গুরুতর হামলার তিনটি অভিযোগ এবং শিশুকে অবহেলার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুটনাম কাউন্টি কারাগারে বিচারপূর্ব আটক রয়েছেন। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেনি।   তবে তদন্ত এখনো চলমান। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। নিহত দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রেপ্তারের সময় সারভিনের সঙ্গে থাকা শিশুটির বয়স বা পরিচয় প্রকাশ করেনি। এছাড়া ঘটনাস্থলে আরও শিশু ছিল কি না বা থাকলে তাদের অবস্থা কী সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২২:২১
টেক্সাসের অস্টিনে নিজস্ব স্টুডিও থেকে ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ে জো রোগান। ছবি: সংগৃহীত

কে এই জো রোগান? অনলাইন টক শো করেই বছরে আয় ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার

মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগঘন বার্তা মিনহাজ চৌধুরীর

কর্মীদের জন্য নতুন অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছেন ৪০১(কে)-এর জনক টেড বেনা। ছবি: সংগৃহীত

বেতন না কেটেই জমবে সঞ্চয়! যুক্তরাষ্ট্রে আসছে নতুন ৪০১(কে) পরিকল্পনা, মিলতে পারে বাড়ি কেনার সুযোগ

0 Comments