অবশেষে মিলল রূপপুর পারমাণবিকে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল।
দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়।
প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreথাইল্যান্ডের কৃষি ও নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথা সামনে এলেও বাংলাদেশিদের নিয়োগ কবে শুরু হবে, কতজন কর্মী নেওয়া হবে কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে কৃষি ও নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে শ্রমিকের চাহিদা থাকায় দেশটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের বৈধ পথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন শ্রমবাজারের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আরও নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে একই ধরনের চুক্তি বা চূড়ান্ত নিয়োগসূচি প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরির খবরকে সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা, কর্মীর সংখ্যা, যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং পারিশ্রমিকের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় থাকবে। কর্মীদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থান চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি কাজের অনুমতিপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণের মতো শর্তও পূরণ করতে হবে। চুক্তিতে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। বিদেশি কর্মীরা যেন স্থানীয় কর্মীদের মতো ন্যায্য আচরণ ও শ্রম আইনের আওতায় প্রাপ্য সুবিধা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাকরির শর্ত নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। শ্রীলঙ্কার কর্মীদের ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আরও দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে। মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার ওপর থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য শুধু বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং বৈধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ, কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং মানব পাচারের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী সুযোগ তৈরি হতে পারে? বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে কৃষি ও নির্মাণ খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন ধরনের কাজে লোক নেওয়া হবে, কী যোগ্যতা লাগবে, বেতন কত হবে এবং নিয়োগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা অভিজ্ঞতার শর্ত থাকবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় কতজন কর্মী যাবেন, নিয়োগের আবেদন কখন শুরু হবে কিংবা কোন সরকারি সংস্থা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার কর্মী নিয়োগের সময়সূচি বা চুক্তির শর্ত সরাসরি বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তবেই এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কতা থাইল্যান্ডে কাজের সুযোগের খবর সামনে আসায় আগ্রহী কর্মীদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তবে সরকারি ঘোষণা, অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থা এবং নির্দিষ্ট চাকরির তথ্য প্রকাশের আগে কাউকে টাকা দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ভিসার প্রতিশ্রুতি কিংবা আগাম টাকা চাওয়া কোনো প্রস্তাব যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়োগকর্তার পরিচয়, লিখিত চুক্তি, বেতন, কাজের ধরন এবং কাজের অনুমতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা জরুরি। সব মিলিয়ে, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও নিয়োগ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগ্রহী কর্মীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানো ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ কমিশনের
দুর্গাপূজায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপের নিরাপত্তায় থাকবে বিজিবি
এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধনে কোন কাগজ লাগবে, জানুন আবেদনের নিয়ম
মোটরসাইকেলের পেছনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি সামনেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শর্ত মেনে এই প্লেট স্থাপন করতে হবে। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যমুনা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বিআরটিএ। সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদার করতে মোটরসাইকেলের সামনের দিকেও নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে আরএফআইডিযুক্ত রেট্রো রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে মালিকদের নিজ উদ্যোগে সামনের ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট তৈরি ও সংযোজন করতে হবে। সামনের নম্বরপ্লেটটি স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যায় নিবন্ধন নম্বর লিখতে হবে। প্লেটে কোনো ধরনের নকশা বা বাড়তি শোভাবর্ধন করা যাবে না। স্কুটারের ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। এতে ব্যবহৃত অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য সাধারণ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা হতে হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার। বিআরটিএ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত অনুসরণ করে সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপনের জন্য মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: যমুনা টেলিভিশন
১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চলে না, ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজপথে পোশাকশ্রমিক
মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু
আজ রাত থেকেই সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা
১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এক দশকেরও কম সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী জোটের অধিগ্রহণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারিত হয় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি। ব্যবসার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় বড় অনুদানের মাধ্যমেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন খোদা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিবরণে তাঁর ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে আসা এবং সেখান থেকে বড় পরিসরের ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ার যাত্রার কথা উঠে এসেছে। ক্লাউড সেবা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়। ব্ল্যাকস্টোন ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড বা সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস। বিক্রেতা ছিল ম্যাককুয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও পিএসপি ইনভেস্টমেন্টস। ঘোষণায় বলা হয়, এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্ল্যাকস্টোনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। চুক্তির সময় এয়ারট্রাঙ্কের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি ছিল। গ্রাহকদের জন্য প্রতিশ্রুত সক্ষমতা ছিল ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এক গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা গড়ার উপযোগী জমি ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে। নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জানায় এয়ারট্রাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার অধিগ্রহণ এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম লেনদেন। অধিগ্রহণের পরও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে যুক্ত থাকেন খোদা। তবে ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু। এই অঙ্ককে খোদার ব্যক্তিগত সম্পদ বা তাঁর একার প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না। ব্ল্যাকস্টোনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা খোদার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাটি এগিয়ে নিচ্ছেন। এয়ারট্রাঙ্কের পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভারতও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পাঁচ গিগাওয়াটের বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘোষণা, ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে যাওয়া অর্থের হিসাব নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে খোদার বড় উদ্যোগ আসে তাঁর পারিবারিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি জানায়, খোদা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের ১০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অনুদানে ২০ বছরের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, এটি তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম অনুদান। ওয়েস্টার্ন সিডনির মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বা স্টেম বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশা গড়তে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথও তৈরি করবে উদ্যোগটি। ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব টেকনোলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফেলো নির্বাচিত হন রবিন খোদা। ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর পেশাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লাভ নেই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি
রাতে নেশার টাকার জন্য বাড়ি ভাঙচুর, সকালে ছেলের র ক্তাক্ত ম রদেহ উদ্ধারের পর পলাতক বাবা