সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অপরাধ

কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৬:৫৭
কেন্টাকির পার্কে গুলির ঘটনায় কিশোর নিহত, আহত চারজন, গ্রেপ্তার তরুণ। ছবি:সংগৃহীত
কেন্টাকির পার্কে গুলির ঘটনায় কিশোর নিহত, আহত চারজন, গ্রেপ্তার তরুণ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটন শহরের চার্লস ইয়ং পার্কে গুলির ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে পার্কে গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় সেখানে ‘ইস্ট এন্ড ডে’ নামে একটি কমিউনিটি আয়োজন চলছিল। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৬ বছর বয়সী ডি’ঝন রবার্টসনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ফায়েট কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

 

আহত চারজনের মধ্যে ৪ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু এবং দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

পুলিশের তদন্তে পরে ১৮ বছর বয়সী জামেট্রিয়াস গ্রিফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে তাঁকে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বন্ডে আটক রাখা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।

 

ঘটনার সময় পার্কে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুরো কমিউনিটির জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

 

লেক্সিংটন পুলিশ প্রধান লরেন্স ওয়েদার্স বলেছেন, এই সহিংসতা শহরের পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে না। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গুলির ঘটনায় যারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

এই ঘটনায় লেক্সিংটনজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতারা নিহত কিশোরের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অপরাধ

View more
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি
ট্রাংক কেটে প্রশ্ন চুরি, কর্মকর্তার কক্ষে ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচারের ভয়াবহ তথ্য

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের কর্মী এবং দালালদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে।   সিআইডির তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র চুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা কৌশল। কোথাও ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মকর্তার কক্ষের ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রশ্নের কপি করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি এসেছে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি পিএসসির এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি সংগ্রহ করে ওই কক্ষে ঢোকেন সাজেদুল। এরপর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে ফাইনাল মডারেশনের চার সেট হাতে লেখা প্রশ্নপত্র বের করেন।প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ওই কর্মকর্তার কক্ষেই থাকা অফিসিয়াল ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে চার সেট প্রশ্নের কপি করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ওই চার সেট প্রশ্নপত্রে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল। পরে প্রশ্নগুলো এক জায়গায় না লিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের বিনিময়ে সাজেদুল ইসলাম ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের নাম। সেখানে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের কর্মী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়া প্রশ্নপত্রের ছবি তোলা কিংবা কাগজ বাইরে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক কর্মী মো. খলিলুর রহমানের নাম। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে পুনর্বহাল হওয়ার পর আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।   সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে এসেছে।   এ ঘটনায় সিআইডি মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মী এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের হিসাব, প্রার্থীদের তথ্য এবং যোগাযোগের নথি উদ্ধারের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব তথ্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।   এই তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। একটি প্রশ্নপত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাজারে পৌঁছাল, কারা কোথায় সহায়তা করেছে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে চলেছে—এসব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৪:৩৭
পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য

পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

সালমান মুক্তাদির,শহিদুল আলম

সাহসের জন্য সালমানকে জড়িয়ে ধরতাম’, বললেন শহিদুল আলম

গাড়িচাপা ছবি:সংগৃহীত

গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস করল বাদীপক্ষ

আটককৃতরা ছবি:সংগৃহীত।
লিবিয়ায় প্রবাসীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২জন

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৫৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার জন্য লিবিয়ার ত্রিপোলিতে থাকতেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় বাসার সামনে থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত একটি ভবনে আটকে রাখা হয় এবং তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।    পিবিআই জানায়, অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধর করে সেই দৃশ্য ইমো ভিডিও কলের মাধ্যমে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে দেখানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই অর্থ পাঠান ফাতেমা।    অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পরও ইদ্রিসকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পিবিআই বলছে, এ সময় লোহার রড দিয়ে মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে মাত্র একটি রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পরিবার পরে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও অর্থ পাঠায়। পিবিআইয়ের হিসাবে, সব মিলিয়ে পরিবারটির কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। প্রায় এক মাস ১৪ দিন আটকে রাখার পর ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি ২০২৫ সালের ২২ জুলাই দেশে ফেরেন।    দেশে ফিরে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ইদ্রিস। তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মর্জিনা বেগম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পিবিআই জানিয়েছে, মর্জিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   পিবিআইয়ের ভাষ্য, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যারা লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান চলছে। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:২০
এনবিআর ছবি সংগৃহীত।

বিমানের শৌচাগারে গুপ্তধন! চার ঘণ্টা তল্লাশিতে মিলল ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম

মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়ায় ক্ষোভ, একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম

মো. নুরুল ইসলাম

প্রতিবন্ধী শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৭০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

রফিকুল ইসলাম ফারুক এবং সানিয়াত খান বাপ্পা ছবি:সংগৃহীত।
ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো।   মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক।   এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।    হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়।   দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৮:১
শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার।

নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ

কমলাপুর রেলস্টেশনের সিসিটিভি

কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকায় আগুন-ককটেলের নেপথ্যে কারা, সরাসরি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments