৭৮ মাসের সাজা, তবু কারাগারের ফোনে ফাঁস ৯৩ বছরের নারীর ৪৫ হাজার ডলারের চেকের রহস্য
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক সুমিত কুমার সিং। বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণার আগের মামলায় ৭৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার সময় কারাগারের ভেতর থেকে নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে নতুন একটি প্রতারণামূলক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৯৩ বছর বয়সী উত্তর ডাকোটার এক নারীর ৪৫ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত চেকের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলায় সিং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ডাকযোগে জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতারণাকারীরা ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কখনো তারা নিজেদের পেপ্যালের প্রতিনিধি, আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা পরিচয় দিত। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, পরিচয়পত্র তৈরি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রতিশ্রুতির আড়ালে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তর ডাকোটার ৯৩ বছর বয়সী এক নারীকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাঁকে নতুন পরিচয়পত্র পেতে এবং অর্থ ফেরত পেতে সহায়তা করবেন। এই আশ্বাসে নারীটি ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ৪৫ হাজার ডলারের একটি ব্যক্তিগত চেক ডাকযোগে পাঠান। তবে সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণার অংশ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে কারাগারে থাকা অবস্থায় পাঠানো বার্তা ও ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার রসিদ। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, সিং নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তিনি এক যোগাযোগকারীর কাছে ওই ৪৫ হাজার ডলারের চেকের ছবি পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরদিন আরেক ব্যক্তির কাছে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ক্যাশ অ্যাপের তথ্য পাঠানোর কথাও নথিতে রয়েছে।
এরপর ৬ আগস্ট টেক্সাসের এডিনবার্গ শহরে এক সহযোগী ওয়েলস ফার্গোর একটি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে চেকটি জমা দেন। একই দিন ব্যাংকের জমা রসিদের ছবিও সিং অন্য এক যোগাযোগকারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এসব ডিজিটাল যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের কাছে প্রতারণার চক্রটির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সিংয়ের আগের মামলাটি ছিল প্রবীণ আমেরিকানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বৃহত্তর প্রতারণার চক্র নিয়ে। ওই চক্রের সদস্যরা ভুয়া প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে মানুষের কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার নিতেন এবং ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের হিসাবের পর্দায় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এসেছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো। পরে ভুল করে বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে তাঁদের কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া হতো। সিং ওই চক্রে অর্থ সংগ্রহের বাহক হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্য সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তা স্থানান্তর করতেন।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আগের মামলায় সিংকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অন্য কয়েকজন আসামিও কারাদণ্ড পান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ জানায়, সিং নতুন মামলায় ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর দাখিল করা সংশোধিত অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। আগের অভিযোগপত্রে তিনজন প্রবীণ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক ডাকযোগে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ছিল।
নতুন অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি; চূড়ান্ত শাস্তি নয়। বিচারক জর্জ সি. হ্যাঙ্কস জুনিয়র নতুন মামলায় সাজা ঘোষণার দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নতুন মামলায় তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
এই ঘটনাটি দেখায়, প্রতারকেরা সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেজে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়ে অথবা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের পরামর্শ হলো, কেউ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ চাইলে বা অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে ফি দিতে বললে সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। প্রতারণার আশঙ্কা হলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা জানতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
অপরাধ
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আর্থিক প্রতারণার একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক সুমিত কুমার সিং। বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণার আগের মামলায় ৭৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার সময় কারাগারের ভেতর থেকে নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে নতুন একটি প্রতারণামূলক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৯৩ বছর বয়সী উত্তর ডাকোটার এক নারীর ৪৫ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত চেকের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলায় সিং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ডাকযোগে জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতারণাকারীরা ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। কখনো তারা নিজেদের পেপ্যালের প্রতিনিধি, আবার কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা পরিচয় দিত। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, পরিচয়পত্র তৈরি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রতিশ্রুতির আড়ালে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় উত্তর ডাকোটার ৯৩ বছর বয়সী এক নারীকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাঁকে নতুন পরিচয়পত্র পেতে এবং অর্থ ফেরত পেতে সহায়তা করবেন। এই আশ্বাসে নারীটি ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ৪৫ হাজার ডলারের একটি ব্যক্তিগত চেক ডাকযোগে পাঠান। তবে সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণার অংশ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে কারাগারে থাকা অবস্থায় পাঠানো বার্তা ও ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার রসিদ। অভিযোগের নথি অনুযায়ী, সিং নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তিনি এক যোগাযোগকারীর কাছে ওই ৪৫ হাজার ডলারের চেকের ছবি পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরদিন আরেক ব্যক্তির কাছে অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ক্যাশ অ্যাপের তথ্য পাঠানোর কথাও নথিতে রয়েছে। এরপর ৬ আগস্ট টেক্সাসের এডিনবার্গ শহরে এক সহযোগী ওয়েলস ফার্গোর একটি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবে চেকটি জমা দেন। একই দিন ব্যাংকের জমা রসিদের ছবিও সিং অন্য এক যোগাযোগকারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এসব ডিজিটাল যোগাযোগ ও লেনদেনের তথ্য তদন্তকারীদের কাছে প্রতারণার চক্রটির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সিংয়ের আগের মামলাটি ছিল প্রবীণ আমেরিকানদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বৃহত্তর প্রতারণার চক্র নিয়ে। ওই চক্রের সদস্যরা ভুয়া প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে মানুষের কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার নিতেন এবং ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের হিসাবের পর্দায় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত এসেছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো। পরে ভুল করে বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে তাঁদের কাছে অর্থ ফেরত চাওয়া হতো। সিং ওই চক্রে অর্থ সংগ্রহের বাহক হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছিলেন। অন্য সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তা স্থানান্তর করতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আগের মামলায় সিংকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় অন্য কয়েকজন আসামিও কারাদণ্ড পান। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ জানায়, সিং নতুন মামলায় ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর দাখিল করা সংশোধিত অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। আগের অভিযোগপত্রে তিনজন প্রবীণ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃথক ডাকযোগে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ছিল। নতুন অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি; চূড়ান্ত শাস্তি নয়। বিচারক জর্জ সি. হ্যাঙ্কস জুনিয়র নতুন মামলায় সাজা ঘোষণার দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত নতুন মামলায় তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তিনি কারাগারেই রয়েছেন। এই ঘটনাটি দেখায়, প্রতারকেরা সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেজে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিয়ে অথবা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের পরামর্শ হলো, কেউ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ চাইলে বা অর্থ ফেরত দেওয়ার আগে ফি দিতে বললে সরাসরি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে নম্বর নিয়ে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। প্রতারণার আশঙ্কা হলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা জানতে হবে।
ফ্লোরিডায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শনাক্তে গাড়ির ক্যামেরার তথ্য
স্বামীর আগের বিয়ের খবর জানার পর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার দুইজন
গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর সূত্র ধরে মারধরের শিকার ব্যক্তি ও তাঁকে মারধরকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের কাছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেক ব্যক্তি চড়-থাপ্পড় মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। মারধরের সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদমাধ্যমকে ওই তরুণী জানান, ব্যক্তি তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে তিনি আত্মীয় খালিদ হাসানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ আল মাসুদ (৪৮) নামের মারধরের শিকার ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন বলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাই। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। ঘটনাটি জনসমক্ষে হয়রানির অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারও বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। একইভাবে অভিযোগের জবাবে মারধর বা অপমানজনক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
পাউন্ডল্যান্ডে ২৬ দিনে ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ, ভারতীয় কর্মীর সাজা
ভুয়া শ্রোতা দিয়ে এআইয়ের গান চালিয়ে ৮০ লাখ ডলার আয়, যুক্তরাষ্ট্রে মাইকেল স্মিথের ১৮ মাসের কারাদণ্ড
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: ধর্ষণের আলামত খুঁজতে ডিএনএ পরীক্ষা, ফরেনসিকে যাচ্ছে মোবাইল
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো এলাকার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রোববার বিকেলে মেরিন কাউন্টির মিল ভ্যালির কাছের স্ট্রবেরি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে স্ট্রবেরি সার্কেলের ওই বাড়ি থেকে গুলির শব্দের খবর জানিয়ে জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে তাঁরা নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেন। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জরুরি ফোন করা ব্যক্তি নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অ্যান ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে অগ্রগামী নারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভাগের সোয়াট দলে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী ছিলেন। পরে তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান বিভাগের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২০১৮ সালে অবসরের সময় সহকর্মী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর পুলিশ বিভাগের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি লুইস ওং এক বিবৃতিতে অ্যান ম্যানিক্সকে বিভাগের একজন অগ্রগামী কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সব পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ঘটনাটির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য চলমান কোনো হুমকি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের, পাওনা টাকার বিরোধে নারায়ণগঞ্জে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড
ছাদ মেরামতের নামে ১৫ হাজার ডলার, কাজই হয়নি! ফ্লোরিডায় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ