শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে ঢাবিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নেওয়ার আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়, এটি দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনও জানান।
উপাচার্য আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের প্রভাবভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানের বন্ধনীতে ছিল। আগের বছরের তুলনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এই র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মান আরও উন্নত করার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণ, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন এবং গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়, এটি দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনও জানান। উপাচার্য আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের প্রভাবভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানের বন্ধনীতে ছিল। আগের বছরের তুলনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এই র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মান আরও উন্নত করার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণ, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন এবং গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়।
কম সিজিপিএতেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করুন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, জেনে নিন শর্ত
ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে মাস্টার্স-পিএইচডিতে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ভাতা ও টিউশন সহায়তা
মানিকগঞ্জের গ্রাম থেকে অক্সফোর্ডের গবেষণাগারে: নতুন অধ্যায়ে বিজ্ঞানী উজ্জ্বল
আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুধু বইয়ের অনুশীলনী শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। এর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, সময় ব্যবস্থাপনা ও উত্তর দেওয়ার নিয়ম বুঝে অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হয়। প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় ভাষা শেখার জন্য ইংরেজির চর্চায় ডুবে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, সিরিজ ও সিনেমা দেখা, সংবাদপত্র পড়া এবং নিজের দক্ষতার উপযোগী বই পড়াকে এই চর্চার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কৌশল আর পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নিয়মের পার্থক্য বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। লিসেনিংয়ে প্রথম কাজ হলো কথার অর্থ বোঝা। উচ্চারণ অপরিচিত মনে হলেও বক্তা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেদিকে মনোযোগ রাখতে হবে। রেকর্ডিং শুরুর আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, উত্তরে নাম, সংখ্যা, সময়, স্থান নাকি অন্য কোনো তথ্য চাওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের মূল শব্দ চিহ্নিত করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে রেকর্ডিংয়ে প্রশ্নের হুবহু শব্দ শোনার অপেক্ষায় থাকলে তথ্য বাদ পড়তে পারে। বক্তব্যের অর্থ বুঝে উত্তর ধরার অনুশীলন করুন। আইইএলটিএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রেকর্ডিং একবারই শোনানো হয়। নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি লিখলেও নম্বর হারাতে হয়। ম্যাপের প্রশ্নে শুরু করার জায়গা, দিকনির্দেশ এবং পরিচিত স্থাপনা আগে দেখে নেওয়া সহায়ক। ডান ও বাঁয়ের নির্দেশ বোঝার সময় বক্তার চলার দিকের সঙ্গে মানচিত্র মিলিয়ে নিন। মানচিত্র ঘুরিয়ে নেওয়াকে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য কৌশল ধরে নেওয়ার বদলে অনুশীলনে নিজের সুবিধাজনক পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া ভালো। রিডিংয়ে আগে প্রশ্ন পড়বেন, নাকি প্যাসেজে চোখ বুলিয়ে নেবেন, তা অনুশীলনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ধরে প্যাসেজে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজুন। একই তথ্য সমার্থক শব্দ বা ভিন্ন বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন। দ্রুত চোখ বুলিয়ে লেখার মূল বক্তব্য বোঝা এবং নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা আলাদাভাবে চর্চা করা দরকার। শুধু পরিচিত একটি শব্দ পেলেই উত্তর ঠিক করে ফেলবেন না। আশপাশের বাক্য পড়ে নিশ্চিত হোন, প্রশ্নে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তথ্যটি তার সঙ্গে মিলে কি না। ম্যাচিং প্রশ্নেও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপশন ব্যবহার হয়েছে মানেই সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না, এমন নিয়ম সব প্রশ্নে নেই। আইইএলটিএসের রিডিং নির্দেশনায় কিছু প্রশ্নে একই অনুচ্ছেদ বা অপশন একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই উত্তর দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নিয়ম পড়তে হবে। রাইটিংয়ের প্রস্তুতিতে নিয়মিত ছোট লেখা দিয়ে শুরু করা যায়। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে লিখে পরে ব্যাকরণ, বানান ও বাক্যের গঠন সংশোধন করুন। নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং যুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানোর অভ্যাসও গড়ে তুলুন। রাইটিং পরীক্ষায় মোট সময় ৬০ মিনিট। আনুষ্ঠানিক পরামর্শ হলো টাস্ক ওয়ানে প্রায় ২০ মিনিট এবং টাস্ক টুতে প্রায় ৪০ মিনিট ব্যয় করা। টাস্ক ওয়ানে অন্তত ১৫০ এবং টাস্ক টুতে অন্তত ২৫০ শব্দ লিখতে হয়। টাস্ক টুর মূল্যায়নের ওজনও বেশি। প্রস্তুতির সময় দ্রুত লেখার অনুশীলন করা যায়, তবে পরিকল্পনা ও ভুল সংশোধনের জন্যও সময় রাখতে হবে। টাস্ক টুর লেখায় প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্য সাজান। ভূমিকার পর যুক্তি ব্যাখ্যা করুন এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিন। শেষে উপসংহারে মূল অবস্থান স্পষ্ট করুন। সব প্রশ্নে একই কাঠামো বা সর্বোচ্চ চারটি অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ধরে লেখার বদলে বিষয় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ সাজানো বেশি কার্যকর। টাস্ক ওয়ানের ধরনও পরীক্ষাভেদে আলাদা। একাডেমিক পরীক্ষায় গ্রাফ, চার্ট, টেবিল বা ডায়াগ্রামের তথ্য বর্ণনা করতে হতে পারে। সেখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তুলনা তুলে ধরতে হয়। জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষায় টাস্ক ওয়ানে একটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে চিঠি লিখতে হয়। তাই নিজের পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। স্পিকিংয়ের জড়তা কাটাতে নিয়মিত কথোপকথন ও মক টেস্ট সহায়ক হতে পারে। আয়নার সামনে বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। মক পরীক্ষকের পরামর্শ নিয়ে দেখুন, কোথায় বক্তব্য আটকে যাচ্ছে বা একই শব্দ বারবার ব্যবহার হচ্ছে। স্পিকিংয়ের দ্বিতীয় অংশে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট পাওয়া যায়। এরপর নির্ধারিত বিষয়ে এক থেকে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। প্রস্তুতির সময় পুরো বক্তব্য লেখার চেষ্টা না করে মূল বিষয়, একটি উদাহরণ এবং বলার ক্রম সংক্ষেপে নোট করা যায়। কথা বলার সময় ভুল হলে শান্তভাবে সংশোধন করে এগিয়ে যান। পরীক্ষককে হাসানো বা কৌতুক করা নম্বর বাড়ানোর কৌশল নয়। স্পিকিংয়ে মূল্যায়ন করা হয় সাবলীলতা ও বক্তব্যের সংযোগ, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণের বৈচিত্র্য ও শুদ্ধতা এবং উচ্চারণ। প্রস্তুতির অগ্রগতি বুঝতে সময় ধরে অনুশীলন করুন এবং ভুলগুলো লিখে রাখুন। কোন অংশে বারবার সমস্যা হচ্ছে, পরের অনুশীলনে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। ইংরেজির নিয়মিত ব্যবহার এবং পরীক্ষার নির্দেশনা মেনে চর্চা, দুটিকে একসঙ্গে রাখলেই প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা সহজ হবে। সূত্র: প্রথম আলো
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা
স্টুডেন্ট লোনে সুদ কমানোর সুযোগ বাড়ল, বাড়ানো হলো আবেদনের সময়সীমা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের স্নাতক ফারিহা ইকবাল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ‘ডব্লিউসিএন রাইজিং ওয়াইল্ডলাইফ লিডার্স’ স্কলারশিপে তাঁর এই সুযোগের কথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ‘আরইউ ইনসাইডার্স’-এর এক পোস্টে জানানো হয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শুরু হতে যাওয়া শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে মঙ্গলবার রাতে অক্সফোর্ডের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর আইইএলটিএস স্কোর ৮.০। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের এই স্কলারশিপে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, যা টিউশন ফি, আবাসন, জীবনযাত্রার খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যায়। ফারিহা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সের সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন। তবে তিনি অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ড প্রথম, উইসকনসিন-ম্যাডিসন যৌথভাবে ৫৩তম এবং মেলবোর্ন ৩৭তম স্থানে ছিল। কিউএসের ২০২৬ সালের বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা স্কুল ভূগোল বিষয়ে টানা ১৬তম বছরের মতো বিশ্বে প্রথম স্থান পায়। সূত্র : Ru insiders
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপের কামড়, আইসিইউতে নুরনবী
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি