হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন স্বীকার করেছেন, নিখুঁত ‘কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য’ বলে বাস্তবে কিছু নেই। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, ব্যস্ত ক্যারিয়ার এবং কোটি ডলারের আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনের কোনো না কোনো অংশে সবসময়ই ঘাটতি থেকে যায় বলে মনে করেন তিনি।
মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান “সিবিএস সানডে মর্নিং”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
স্কারলেট বলেন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পুরোপুরি ভারসাম্য রাখা সম্ভব নয়—এ বিষয়টি মেনে নেওয়াই আসলে প্রথম ধাপ। তার ভাষায়, “সব সময় জীবনের কোনো না কোনো জায়গায় একটা ঘাটতি থেকেই যায়। সবকিছু একসঙ্গে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব না। তাই নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া শিখেছি।”
মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজেকেই সবকিছু ঠিকভাবে সামলানোর চাপ দিয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই শতভাগ নিখুঁত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
বর্তমানে স্কারলেট জোহানসন একদিকে যেমন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে পরিবার ও ব্যবসাও সামলাচ্ছেন। কৌতুক অভিনেতা কলিন জোস্টের সঙ্গে তার সংসার এবং দুই সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি নিজের ত্বক পরিচর্যা ব্র্যান্ডও চালু করেছেন তিনি।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্কারলেট জোহানসনের আয় ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে চলতি বছরের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবেও তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে সাফল্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একবার একজন তাকে বলেছিলেন, “আপনি যদি একজন অভিভাবক হিসেবে ৭৫ শতাংশ সময়ও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটাই অনেক বড় অর্জন।”
স্কারলেটের মতে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা এবং মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানো মানুষদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
হলিউড অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন স্বীকার করেছেন, নিখুঁত ‘কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য’ বলে বাস্তবে কিছু নেই। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, ব্যস্ত ক্যারিয়ার এবং কোটি ডলারের আয় থাকা সত্ত্বেও জীবনের কোনো না কোনো অংশে সবসময়ই ঘাটতি থেকে যায় বলে মনে করেন তিনি। মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান “সিবিএস সানডে মর্নিং”-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। স্কারলেট বলেন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পুরোপুরি ভারসাম্য রাখা সম্ভব নয়—এ বিষয়টি মেনে নেওয়াই আসলে প্রথম ধাপ। তার ভাষায়, “সব সময় জীবনের কোনো না কোনো জায়গায় একটা ঘাটতি থেকেই যায়। সবকিছু একসঙ্গে নিখুঁতভাবে করা সম্ভব না। তাই নিজের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া শিখেছি।” মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজেকেই সবকিছু ঠিকভাবে সামলানোর চাপ দিয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে বুঝেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই শতভাগ নিখুঁত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে স্কারলেট জোহানসন একদিকে যেমন অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে পরিবার ও ব্যবসাও সামলাচ্ছেন। কৌতুক অভিনেতা কলিন জোস্টের সঙ্গে তার সংসার এবং দুই সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি নিজের ত্বক পরিচর্যা ব্র্যান্ডও চালু করেছেন তিনি। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্কারলেট জোহানসনের আয় ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে চলতি বছরের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবেও তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাফল্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একবার একজন তাকে বলেছিলেন, “আপনি যদি একজন অভিভাবক হিসেবে ৭৫ শতাংশ সময়ও ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটাই অনেক বড় অর্জন।” স্কারলেটের মতে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে নিজের সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা এবং মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানো মানুষদের মধ্যে।
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে যার নাম চিরভাস্বর, তিনি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রুপালি পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার জীবনের ওপর নির্মিত বায়োপিক 'মাইকেল' (Michael)। তবে সিনেমাটি মুক্তির আগেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'-এ প্রকাশিত এক রিভিউতে সিনেমাটির নানা দিক উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইপো জাফর জ্যাকসন। রিভিউ অনুযায়ী, পর্দার মাইকেল হিসেবে জাফর ছিলেন অনবদ্য। তার নাচ, হাঁটাচলা এবং কণ্ঠের জাদুতে দর্শক বারবার আসল মাইকেল জ্যাকসনকেই খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে জ্যাকসনের আইকনিক কনসার্ট এবং মিউজিক ভিডিওগুলোর রি-ক্রিয়েশন দর্শকদের নস্টালজিক করে তুলবে। রিভিউতে বলা হয়েছে, পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকা এই সিনেমায় জ্যাকসনের কালজয়ী সব গান এবং অসাধারণ সাফল্যের গল্পগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এখানে অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ বা আইনি জটিলতার বিষয়গুলো যেভাবে বিস্তারিত আসার কথা ছিল, সিনেমাটি সেখানে অনেকটাই রক্ষণশীল। মনে হতে পারে, এটি মাইকেলের ইমেজকে উজ্জ্বল করার একটি প্রয়াস। বিশাল ক্যানভাসে মাইকেলের শৈশব থেকে মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্পটি দারুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। কস্টিউম থেকে শুরু করে কোরিওগ্রাফি—সবকিছুতেই ছিল নিখুঁত ছাপ। তবে গল্পের গাঁথুনিতে কিছুটা নাটকীয়তার অভাব অনুভব করতে পারেন সাধারণ দর্শকরা। সব মিলিয়ে, মাইকেল জ্যাকসন ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উপহার হতে যাচ্ছে। বিতর্ক ছাপিয়ে একজন শিল্পীর অসাধারণ শৈল্পিক যাত্রাই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
ঢালিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় নিজের রাজত্ব ধরে রেখেছেন। রিয়াজ, মান্না, শাকিব খানের মতো শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করে তিনি পৌঁছে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ‘মনের মাঝে তুমি’ বা ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’—এর মতো কালজয়ী সিনেমার এই নায়িকা বর্তমানে ছোট ও বড় পর্দা এবং উপস্থাপনায় সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে পূর্ণিমার রূপ ও সৌন্দর্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উন্মাদনার শেষ নেই। তাকে ‘চিরযৌবনা’ বা ‘তিন প্রজন্মের নায়িকা’ হিসেবে অভিহিত করেন অনুরাগীরা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভক্তদের এই অঢেল প্রশংসা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। পূর্ণিমা জানান, ভক্তদের প্রশংসা তিনি বেশ উপভোগ করেন। তবে নিজেকে আগের মতোই অপরিবর্তিত ভাবার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, "মোটেও আমি একই জায়গায় নেই, আমার মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। এরপরও সবাই যেটা বলছে, এটা আসলে ব্লেসিং।" রূপের বিচারে নিজেকেই একমাত্র সেরা ভাবতে নারাজ এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "ইন্ডাস্ট্রিতে আমার চেয়েও অনেক সুন্দরী এবং পরীর মতো দেখতে অনেকেই আছেন। তাই আমিই একমাত্র সুন্দরী নই।" ভক্তদের ভালোবাসা আর দোয়াই তাকে আজও পর্দায় টিকিয়ে রেখেছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।