দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সেন্সর বোর্ডের নানা জটিলতার পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে কেন মুক্তি পেল না ‘শনিবার বিকেল’? বিশেষ করে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যখন নিজেই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন, তখন কেন এই সিনেমা আলোর মুখ দেখল না—এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা।
ফারুকী জানান, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ভয় বা উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলার অনীহা নেই, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে নিছক ব্যবসায়িক বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সিনেমাটি যখন ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভ’-এ মুক্তি পায়, এরপর ইন্টারনেটে এর হাজার হাজার পাইরেটেড লিংক ছড়িয়ে পড়ে। যারা সিনেমাটি দেখতে চেয়েছেন, তাদের বড় অংশই ইতিমধ্যে তা দেখে ফেলেছেন।
যারা সিনেমাটি হলে আনার দাবি তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ফারুকী বলেন, অনলাইনে সহজলভ্য একটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া ব্যবসায়িকভাবে আত্মঘাতী। বাংলাদেশের বাজারে একটি সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিয়ে কতটুকু মুনাফা করে, তা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষ ভালো করেই জানেন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেউ যেমন এখন ‘ব্যাচেলর’ সিনেমাটি নতুন করে হলে মুক্তি দিতে বলবেন না, ঠিক তেমনি ‘শনিবার বিকেল’ নিয়েও ব্যবসায়িক কোনো সম্ভাবনা বাকি নেই।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও শৈল্পিক সত্তা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে তিনি কখনোই পিছপা হননি এবং হবেনও না। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলা জরুরি, তেমনি চেতনার নামে মানুষ গুম বা খুনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় চলমান আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আলভী, তার মা ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইকরার পরিবার। মামলায় তিথির নামও এসেছে। ঘটনার সময় আলভী ও তিথি নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন বলে জানা যায়। তিথি বলেন, ঘটনার দিনই তারা দ্রুত দেশে ফেরার চেষ্টা করেন, তবে টিকিট জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, আলভীর দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও সেদিন ফ্লাইটে সিট পাওয়া যায়নি। পরদিন টিকিট নিশ্চিত হলে পুরো টিম দেশে ফিরে আসে। আলভীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিথি জানান, নেপাল থেকে বিদায়ের পর আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। এয়ারপোর্টে শেষবার কথা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিথি বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আলভীকে বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেন। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব তথ্য সঠিক নয়। তিথি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চলমান পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, কেউ কেউ দূর থেকে সহানুভূতি জানালেও অনেকেই প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন না, আবার কাজের ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন আরেক অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাফাত মজমুদার রিংকু পরিচালিত একটি নাটকের সেটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সামিয়া। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ দাবি করেন, শুটিংয়ের প্রথম দিন থেকেই তানজিন তিশার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের শুটিংয়ে একটি দৃশ্য ধারণের সময় তিশা তাঁকে জোরে আঘাত করেন, এতে তাঁর হাত রক্তাক্ত হয়। বিষয়টি দেখে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য কারণ জানতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সামিয়ার দাবি, অতীতে অভিনেতা মুশফিক ফারহানের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে তানজিন তিশা তাঁকে ফোন করে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই পুরোনো ঘটনার জের ধরে বিরূপ আচরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তিনি আরও বলেন, শেষ দিনের শুটিংয়ে একটি চড় দেওয়ার দৃশ্য ছিল। দৃশ্যের প্রয়োজনে তিনি আস্তে করে তিশার গালে হাত রাখেন, তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিশা তাঁকে জোরে আঘাত করেন। এতে তাঁর চোখে আঘাত লাগে এবং কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন সামিয়া। এ বিষয়ে জানতে তানজিন তিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে সামিয়া জানান, বিষয়টি অভিনয়শিল্পী সংঘকে জানাবেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা ইউনিটের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা। দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অভিনেতার শ্বশুরবাড়ি পরিবার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিনেতা বর্তমানে নেপালে আছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন ইকরা। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।