ইতিহাসে প্রথমবার: বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশ পুরস্কার ‘গোল্ডম্যান প্রাইজ’ জিতলেন ৬ নারী
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী।
বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন:
ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে।
সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন।
থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা।
অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন।
ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।
গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।"
১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreপ্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে ছোট দেখানোর দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসানে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটিতে ২০১৮ সালে তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলভাবে দেখানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব মানচিত্র উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানচিত্রে ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনটি ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর তৈরি করেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌযান চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মানচিত্রের নকশা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরে থাকা অঞ্চলগুলোর আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার কাছাকাছি আকারের মনে হতে পারে। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে এই ধরনের আয়তনগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো হয়েছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসে জাতিসংঘের ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ তাঁর মতে, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনা এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামষ্টিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে। আফ্রিকান দেশগুলোর বক্তব্য, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র আফ্রিকাকে বিশ্বের তুলনায় ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে দেখানোর একটি ধারণা তৈরি করেছে। তাই নতুন মানচিত্র ব্যবহারের উদ্যোগটি শুধু মানচিত্রবিদ্যার পরিবর্তন নয়, বরং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে দুসে স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। টোগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি চলতি বছরের মধ্যেই নিজেদের বিদ্যালয়ের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে নতুন মানচিত্র যুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। এরপর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, অন্যান্য সমর্থক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আরও ব্যাপকভাবে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় দেশটি। তবে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত কোনো দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনো দেশকে মার্কেটর মানচিত্র সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে না। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের ক্ষেত্রে মার্কেটর প্রজেকশনের ব্যবহার নিয়ে এই প্রস্তাব কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে না। নৌ ও বিমান চলাচলের মতো নির্দিষ্ট কাজে এই প্রজেকশন এখনও কার্যকর। জাতিসংঘের ভোটে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’কে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, উদ্যোগটির সমর্থকেরা মনে করছেন, বাস্তব আয়তনকে আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা মানচিত্র শিক্ষা ও জনসাধারণের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’সহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন বিদ্যালয়ের পাঠ্যবই, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন ব্যবহৃত ডিজিটাল মানচিত্রে আরও নির্ভুল মানচিত্র চালুর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের মানচিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। তবে আফ্রিকার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের প্রচারণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন স্বীকৃতি পেল। সামনে বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা এই নতুন মানচিত্র গ্রহণ করে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়র কারাদণ্ড
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা
হিলারিও রেইনোসার হাত দুটো রোদ আর বয়সের ভারে ক্লান্ত। কিন্তু মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের পোজা রিকা শহরের মোরেলোস এলাকায় তাদের বাড়িতে যখন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, তখন তার সেই হাত দুটোই ছিল পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। গলাসমান পানিতে দীর্ঘক্ষণ স্বামীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেও ফিরেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বন্যার ঠিক ১৭ দিন পর সেই স্ত্রীরই দাফন করতে হলো স্বামী হিলারিওকে। সম্প্রতি আপসোকল নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাংবাদিক কৃষ্ণা মেদিনার এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। মেক্সিকোর ক্যানজোনস নদীর পানি উপচে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্মৃতিবিজড়িত ছবি, পোশাক এবং বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় আটকে পড়েন হিলারিও এবং তার স্ত্রী ইলোডিয়া রেইস। ইলোডিয়া সাঁতার জানতেন না। চারদিকে যখন কেবলই ঘোলা পানির স্রোত, তখন বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে হিলারিও তার স্ত্রীকে নিজের গলা শক্ত করে ধরে রাখতে বলেন। কারণ এছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তারা কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে পৌঁছান এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন। তারা জানতেন না এভাবে কতক্ষণ তাদের থাকতে হবে। তবে একটি বিষয় তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, যদি মৃত্যু আসে তবে দুজনের একসঙ্গেই আসবে। বুকসমান ঘোলা পানিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির একটি ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় পুরো বিশ্বে। বার্তা সংস্থা এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে ছবিটি ওই দিন ওই জায়গারই ছিল। টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই তাদের উদ্ধারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিবেশী একটি ছোট নৌকায় করে তাদের সেই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তারা তাদের জীবনের প্রায় সব সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। উদ্ধারের পর সবাই যখন এই দম্পতির বেঁচে ফেরার আনন্দে ভাসছিল, তখন কেউ জানত না তাদের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর মারা যান ইলোডিয়া। যে বাড়িটি তারা হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নারাঞ্জোস আমাতলান এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। ২৬ বছর ধরে একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হিলারিও এবং ইলোডিয়া। আজ ইলোডিয়া নেই, হিলারিওর কাছে রয়ে গেছে কেবল সেই ছবিটি। এটি যেন সেই মুহূর্তের এক নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে বন্যার পানি তাদের আলাদা করতে পারেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলোডিয়া তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, আর হিলারিও তাকে ছেড়ে যাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি
ব্রাজিল ভ্রমণে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অপরাধ ও অপহরণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে পানীয়ের দিকে নজর রাখা, এটিএম ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৩১ আগস্ট ব্রাজিলের জন্য ‘লেভেল ২ - বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন’ ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে দেশটির সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা পরিবর্তন করা হয়নি। সতর্কতা হালনাগাদের প্রধান কারণ হিসেবে অপরাধ ও অপহরণের ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাজিলের শহরাঞ্চলে দিন-রাত যেকোনো সময় সহিংস অপরাধ ঘটতে পারে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র ডাকাতি ও গাড়ি ছিনতাই রয়েছে। বিদেশিদের লক্ষ্য করেও অপরাধীরা নানা কৌশল ব্যবহার করে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে ডেটিং অ্যাপ বা বার থেকে পরিচয়ের পর অপরাধীদের কেউ কেউ বিদেশিদের মাদক প্রয়োগ করে অচেতন বা দুর্বল করে তাদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে পারে। রিও ডি জেনেইরোতে পানীয়তে ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোনো মাদক মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তাই অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় না নেওয়া এবং নিজের পানীয় সবসময় নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘এক্সপ্রেস কিডন্যাপিং’-এর ঘটনায় অপরাধীরা অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীকে একাধিক এটিএম থেকে টাকা তুলতে বা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করতে বাধ্য করতে পারে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিরাও এমন ঘটনার শিকার হতে পারেন। ভ্রমণকারীদের আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, মূল্যবান জিনিস প্রদর্শন না করা এবং রাতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসৈকত, বার, পরিবহনকেন্দ্র ও গণপরিবহনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে পাবলিক বাস ব্যবহারের সময় ডাকাতি বা হামলার ঝুঁকি বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এদিকে ব্রাজিলের কিছু এলাকায় ‘লেভেল ৪ - ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা বহাল রয়েছে। এর মধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত, অনানুষ্ঠানিক বসতি এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকা রয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও মাঝেমধ্যে ঘটে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই ব্রাজিল ভ্রমণকারীদের সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন