অভিবাসন পথে মৃত্যুমিছিল; এক বছরেই ঝরে গেল প্রায় ৮ হাজার প্রাণ!
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন সংকট কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা প্রকাশ পেল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমানো অন্তত ৭ হাজার ৯০০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অভিবাসন পথে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সংখ্যাটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্গম পথ এবং সমুদ্রে সলিল সমাধির অনেক ঘটনাই অগোচরে থেকে যায় বলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি এই মৃত্যুমিছিল রোধে বিশ্বনেতাদের আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জীবন বাঁচাতে মরিয়া এই মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক অভিবাসন পরিস্থিতি আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবার খেয়ে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ, দেশজুড়ে ক্ষোভ
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের
মানচিত্রে ছোট দেখানো আফ্রিকার ‘প্রকৃত আকার’ তুলে ধরতে জাতিসংঘের উদ্যোগ, ১৬৪ দেশের সমর্থনে প্রস্তাব পাস
ভারতের গুজরাটের সুরাটের এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ীকে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের দায়ে ৫৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভাভেশ রাঞ্চোদভাই লাথিয়া নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ী রাসায়নিকগুলোকে ভিটামিন সি ও অ্যান্টাসিড হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন বলে আদালতের নথি ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টে বুধবার বিচারক পামেলা কে. চেন লাথিয়াকে এই সাজা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কারাদণ্ড শেষে তাকে ভারতে ডিপোর্ট করা হবে। একই সঙ্গে তাকে ২৪ হাজার ৫৬০ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাথিয়া সুরাটভিত্তিক রাক্সুটার কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ক্রেতাদের কাছে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সরবরাহ করা হতো। মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, তিনি ৫০ পাউন্ডের বেশি ফেন্টানিল প্রিকার্সর রাসায়নিক অবৈধভাবে বিক্রি ও পাচারে জড়িত ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে নিউইয়র্কের একটি ঠিকানায় পাঠানো একটি চালানে ভিটামিন সি থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই প্যাকেটে ছিল ১-বিওসি-৪-পাইপারিডোন, যা ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রিকার্সর রাসায়নিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ। পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআইয়ের আন্ডারকভার অভিযানে লাথিয়ার কার্যক্রম ধরা পড়ে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্ডারকভার এজেন্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি ২০ কেজি ১-বিওসি-৪-পাইপারিডোন বিক্রিতে সম্মতি দেন। রাসায়নিকগুলোকে অ্যান্টাসিড হিসেবে মিথ্যা লেবেল দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি দিয়েছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে একই রাসায়নিক অ্যান্টাসিডের নামে লেবেল লাগিয়ে নিউইয়র্কে পাঠানো হয়। লাথিয়াকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সিটিতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত তালিকাভুক্ত রাসায়নিক পাচার ও বিতরণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি দোষ স্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো ভারতভিত্তিক সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে ফেন্টানিল প্রিকার্সর পাচারের ঘটনায় এটি প্রথম ধরনের ফৌজদারি দোষ স্বীকারের ঘটনা। মার্কিন প্রসিকিউটরদের মতে, ফেন্টানিলের সরবরাহব্যবস্থার একেবারে শুরুতেই এ ধরনের রাসায়নিক সরবরাহ করা হয়। মেক্সিকোর বিভিন্ন মাদক পাচারকারী সংগঠন, যার মধ্যে সিনালোয়া কার্টেলও রয়েছে, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে সরবরাহ করা ফেন্টানিল প্রিকার্সর রাসায়নিক ব্যবহার করে আসছে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সিনথেটিক ওপিওয়েড। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এটি গ্রহণ করলে অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ওপিওয়েড সংকটে ফেন্টানিল অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা
বন্যার পানিতে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে ফিরেছিলেন স্ত্রী, ১৭ দিন পর সেই স্বামীকেই দেখতে হলো স্ত্রীর শেষ বিদায়
জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে। জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই। এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে। চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না। দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি