ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ছয় দিনব্যাপী জাতীয় এই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা এক মাস আগের মতোই। তবে এটি তার মেয়াদকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বোচ্চ অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ, যা তার অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি জনসমর্থনও সীমিত। জরিপে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ হামলাকে সমর্থন করেছেন, তবে মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এটি ব্যয়ের তুলনায় সার্থক হয়েছে।
জরিপে ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে “শান্ত স্বভাবের” নেতা হিসেবে দেখেন। গত এক বছরে তার মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
এদিকে ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপ লিও সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার ৩৬ শতাংশ।
নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে আরও নিরাপদ করবে। একইসঙ্গে অধিকাংশই ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক এই তিনটি বড় ইস্যুতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি অর্থপ্রদান যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা চালুর পর মৃত ব্যক্তিদের নামে প্রায় ১০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ছাড় হওয়া থেকে রোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯০০টিরও বেশি অর্থপ্রদানের অনুরোধ শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব অর্থ ছাড়ের আগেই সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোর কাছে পুনঃযাচাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের ব্যুরো অব দ্য ফিসকাল সার্ভিস প্রায় ৮৮ কোটি ৫০ লাখ সরকারি লেনদেন পর্যালোচনা করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে। পর্যালোচনাধীন অর্থের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থপ্রদানের ঘটনা অনেক ক্ষেত্রেই জালিয়াতি বা ভুল তথ্যের ইঙ্গিত বহন করে। ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারি অর্থ ছাড়ের আগেই অনিয়ম ও জালিয়াতি শনাক্ত করে করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় এই সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই যাচাইয়ে ট্রেজারি বিভাগের ‘ডু নট পে’ কর্মসূচি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থগ্রহীতার পরিচয়, যোগ্যতা ও ব্যাংক হিসাব যাচাই করে তারপর সরকারি অর্থ ছাড় করা হয়। পাশাপাশি নতুন কিছু যাচাই প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। ২০২১ সালের একটি আইনের মাধ্যমে ট্রেজারি বিভাগকে সাময়িকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ‘ফুল ডেথ মাস্টার ফাইল’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এন্ডিং ইমপ্রপার পেমেন্টস টু ডিসিজড পিপল অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষর করলে বিভাগটি স্থায়ীভাবে ওই মৃত্যুর তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার পায়। এর ফলে মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থপ্রদানের আবেদন আরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মৃত ব্যক্তিদের নামে ভুল বা অনিয়মিত অর্থপ্রদান কমিয়ে প্রায় ৩৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ নিট আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত ব্যবহৃত পেট্রোলের জাতীয় গড় মূল্য আবারও প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার অতিক্রম করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে মার্কিন জ্বালানি বাজারেও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশটির গড় গ্যাসের দাম ৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য ৪ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই গড় মূল্য ছিল ৩ দশমিক ১৪ ডলার। তবে এটি জাতীয় গড় হওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দামের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও গ্যাসের দাম ৪ ডলারের অনেক বেশি, আবার কোথাও তুলনামূলক কম। স্থানীয় সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক করের কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছর মার্চের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো গ্যাসের জাতীয় গড় মূল্য ৪ ডলারের ওপরে উঠেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি তা আবার ৪ ডলারের নিচে নেমে আসে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে তা প্রতি ব্যারেল ৮৬ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে সংঘাতের আগে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই তেলের দামও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে, যার প্রভাব শুধু জ্বালানির দামেই নয়, পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার ওপর।
বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।” বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি। তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন। এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।