সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে বদলে গেল জীবন, অর্ধেকই বিলিয়ে দিলেন এই নারী!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:৫৮
১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে মানবসেবায় অর্ধেকের বেশি দান করলেন ফ্রান্সেস কনলি
১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে মানবসেবায় অর্ধেকের বেশি দান করলেন ফ্রান্সেস কনলি

ইউরোমিলিয়ন্স লটারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জিতে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন ফ্রান্সেস কনলি। কিন্তু সেই অর্থ নিজের বিলাসী জীবনযাপনে খরচ না করে সম্পদের প্রায় অর্ধেকই দান করে দিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নীরবে এই অর্থ ব্যয় করছেন তারা।


২০১৯ সালে সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস কনলি এবং তার স্বামী প্যাডি ইউরোমিলিয়ন্সের বিশাল জ্যাকপট জেতেন। ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সেই অর্থ তৎকালীন ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকার সমান।


লটারি জেতার পর প্রথমেই সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি। এরপর বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করতে শুরু করেন তারা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন ফ্রান্সেস ও প্যাডি।


মানবসেবার কাজ আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য তারা একটি দাতব্য ট্রাস্টও গঠন করেছেন। ফ্রান্সেস জানান, সমাজসেবায় অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে খ্যাতনামা মার্কিন সংগীতশিল্পী ও সমাজসেবক ডলি পার্টনের কাজ তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে।


অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার পরও জীবনযাপনে খুব একটা পরিবর্তন আনেননি ফ্রান্সেস ও তার স্বামী। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে নিজেদের বাড়িতে সাদামাটাভাবেই থাকেন তারা। প্রশস্ত বাড়ি ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করলেও অপ্রয়োজনীয় খরচ বা অর্থের অপচয় এড়িয়ে চলেন।


এমনকি নতুন করে দামি গাড়ি বা ঘড়ি কেনার পরিবর্তে ভালো মানের ব্যবহৃত বিলাসবহুল সামগ্রী কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা।


কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দান করছেন—এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফ্রান্সেস। তার মতে, মানুষ জীবনে কী চায়, তার ওপর অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে। কেউ যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া কিংবা ক্ষমতাবানদের প্রভাবিত করাকে লক্ষ্য হিসেবে নেন, তাহলে অর্থ নিজের কাছেই জমিয়ে রাখতে পারেন।


তবে ফ্রান্সেসের বিশ্বাস, নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। লটারি জেতার সময় তার বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পর এত বিপুল অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ দেখেননি তিনি।


উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস ১৯৯০ সালে কাজের সূত্রে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে যান। এরপর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।


ফ্রান্সেসের ভাষায়, নিজের অর্জিত বা পাওয়া সম্পদ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জন্য ‘পরম সৌভাগ্যের’ বিষয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত, আহত ৫৪

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং আরও ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম। ভূমিকম্পে নাগকু শহরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।   নাগকু শহরের গণমাধ্যম কার্যালয় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার ২০টি শেড ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কাউন্টি থেকে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি উদ্ধার ও সহায়তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের স্বল্প জনবসতিপূর্ণ উচ্চভূমি এলাকায়। নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়।   মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে অন্তত সাতটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এসব পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে। প্রতিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। পরাঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিকম্পে তিব্বতের কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী ট্রেন থামিয়ে দিয়েছে। পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ায় ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩১৭-এর একটি অংশও বন্ধ করা হয়েছে। ওই সড়কে আপাতত শুধু জরুরি সেবা, উদ্ধারকাজ ও সরকারি ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি রয়েছে।   ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় এক হাজার অস্থায়ী আবাসন ইউনিট এবং প্রায় তিন হাজার তাঁবু পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভাঁজ করা বিছানা, টর্চলাইট ও শীতবস্ত্রসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। যাঁদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে, তাঁদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে এসব উপকরণ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা কাজ করছে।   এদিকে আগামী তিন দিন ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় থেমে থেমে তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। তুষারপাত হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে ত্রাণসামগ্রী পরিবহন এবং দুর্গত বাসিন্দাদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে নাগকু অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকু শহরের দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। অঞ্চলটির দুর্গম অবস্থান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ০:১৯
North Korean leader Kim Jong-un ,  his daughter Ju-ae

কিম জং উনের মেয়েকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা

যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও ধরা সৎবাবা

যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে হ ত্যা করে আ ত্মহ ত্যার নাটক সাজিয়েও ধরা সৎবাবা

শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসায় অনন্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যের ‘প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ড. আসিফ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

শত শত শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে ব্রিটেনের আজীবন সম্মাননা পেলেন পাকিস্তানি মুসলিম চিকিৎসক

গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শিশুদের জীবনকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত
যুদ্ধের মধ্যে শৈশব হারাচ্ছে গাজার শিশুরা, ৬০ হাজার শিশু হারিয়েছে বাবা-মাকে

গাজায় যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শিশুদের জীবনকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ১৬ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ লাখ শিশু বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। তাদের অনেকেই তাঁবুতে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। আনুমানিক ৬০ হাজার শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন কিংবা দুজনকেই হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য যুদ্ধের ক্ষতি শুধু বাড়িঘর হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গাজার শিশুদের দুর্ভোগ পুরোপুরি থামেনি। জাতিসংঘের শিশু তহবিল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে গাজায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গুলির ঘটনায় পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছে। আরও অন্তত ৩৩ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। এর আগে আহত হওয়া আরও দুই ছেলে পরে মারা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।   শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, অপ্রতুল স্যানিটেশন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ছয়টি বর্জ্যপানি শোধনাগারই তখনো বন্ধ ছিল। এর ফলে অপরিশোধিত বর্জ্যপানি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   খাদ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো নাজুক। শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শীত আসার আগে তাঁবু, কম্বল, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।   তবে এই সংকটের মধ্যেও আশার কিছু খবর রয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশু আবার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির সহায়তায় ২০০টিরও বেশি শিক্ষা কেন্দ্রে শিশুদের শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু স্কুলে ফিরতে পারা মানেই তাদের সব সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।   গাজার শিশুদের এই বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে: যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন? জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন এবং পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   শিশুরা কোনো যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় না, কিন্তু যুদ্ধের পরিণতি তাদের জীবনেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। গাজার শিশুদের জন্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাভাবিক শৈশব ফিরিয়ে আনা এখন মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১২:৩৯
সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন

সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ ভারতীয় নি হত, আ হত ২ বাংলাদেশিসহ ৮ জন

চীনের সুঝৌ শহরে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের হাতে জন্মদাগ দেখে তাঁকে নিজের হারিয়ে যাওয়া জন্মদাত্রী মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের আসরে জন্মদাগ দেখেই হারানো মেয়েকে চিনেন বরের মা, বরের মা ই তার জন্মদাত্রী!

ইংল্যান্ডে ২০ বছর গ্যারেজে পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমান বিক্রি হলো ২৪ হাজার ডলারে

ইংল্যান্ডে ২০ বছর গ্যারেজে পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমান বিক্রি হলো ২৪ হাজার ডলারে

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তানের বিশাল পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের সংখ্যা বাড়াতে ৫৮ সন্তানের পিতা সাদিক, সবার নামও মনে থাকে না, সন্তানরা ঘুমায় ক্ষুধা নিয়ে

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান। এত বড় পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিজের সব সন্তানের নামও সব সময় মনে রাখতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সাদিক। বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর পরিবারের এই জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে।    ৫৭ বছর বয়সী সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি পান। সেই আয়ে পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। কখনো কখনো সন্তানদের না খেয়েও ঘুমাতে হয়। অনেকের জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় তারা খালি পায়ে চলাফেরা করে।    সন্তানদের নাম মনে রাখার অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে সাদিক জানান, অনেক সময় নামের বদলে ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন। এক মেয়ের বিয়ের সময় ভুল করে অন্য মেয়ের নাম বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাবার খাওয়ার সময় কখনো সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই উপস্থিত আছে কি না।    পরিবারটির বাসস্থানে মৌলিক সুযোগসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। ঘরগুলোতে যথাযথ দরজা ও জানালা নেই। কিছু জায়গায় দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। জ্বালানির অভাবে রান্নার আগুন ধরাতে কাগজ ব্যবহার করতে হয়। ঘুমানোর সময় কখনো ছয় থেকে সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগ করে নিতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরিবারের প্রয়োজনে কয়েকজন সন্তানও কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। সাদিকের দাবি, তিনি সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অর্থের অভাব সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, সহায়তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।    বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এত কঠিন হবে জানলে এত বেশি সন্তান নিতেন না বলে স্বীকার করেছেন সাদিক। সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর পরিবারের গল্পে বড় সংসারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খাবার, নিরাপদ বাসস্থান ও শিক্ষার অভাবই সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১০:৪৩
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিপদে

সীমান্তে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

সীমান্তে মাইক বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিরক্ত করার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক

ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার পর রাশিয়ার কারাগার থেকে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক

0 Comments