দুই দিন পর খুলল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর, ফের অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কা
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে দু'দিন বন্ধ থাকার পর দেশটির প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় পুনরায় ফ্লাইট চলাচলে ফের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়, যার মধ্যে ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
যোগাযোগমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ‘রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা ও হালিম পারদানা কুসুমা বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের দুটি ছোট বিমানবন্দর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সুমাত্রার ল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন ২-সহ তিনটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এর আগে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ২,৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।‘
তিনি আরও বলেন,’বাতাসের দিক পরিবর্তনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও বিমানে ছাই জমা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং রানওয়ে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি সময় নেওয়া হয়। এছাড়া সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।‘
সান্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত রবিবার থেকে একটানা অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর পর মঙ্গলবার সকালেও সক্রিয় ছিল। সকাল ৫টা ০৮ মিনিট ও ৫টা ৩৪ মিনিটে দুটি ছোট অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটিকে সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে এবং ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগের তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘
বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাভার মালাং থেকে রোববার সকাল থেকে জাকারিয়া ফেরার চেষ্টা করা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, ‘বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তিনি দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে রাতভর যাত্রা করে সোমবার ভোর ৩টায় জাকারিয়ায় পৌঁছান।‘
উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে বিখ্যাত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে এই 'আনাক ক্রাকাতাউ' (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরির একাংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইতালির মিলানে সহিংসতার মধ্যে পর্যটক ও পথচারীদের গির্জায় আশ্রয় দেওয়ার সময় এক তরুণের অশালীন ইঙ্গিতের জবাব একইভাবে দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ক্যাথলিক যাজক জিয়াননিকোলা মারিয়া সিমোনে। গত ১৭ অক্টোবর সান্ত আলেসান্দ্রো দি জেবেদিয়া গির্জার বাইরে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। দৃশ্যটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী এই যাজক। ইতালির সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিমোনে জানান, তিনি গির্জা থেকে আশপাশের পরিস্থিতি দেখছিলেন। ভিয়া তোরিনো থেকে লোকজন পাশের সড়কগুলো দিয়ে সান্ত আলেসান্দ্রো চত্বরের দিকে আসতে থাকলে তিনি দরজা বন্ধ করতে এগিয়ে যান। ওই সময় সহিংসতা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলেন অনেক পর্যটক ও পথচারী। সিমোনের ভাষ্য অনুযায়ী, আতঙ্কিত মানুষদের তিনি গির্জার ভেতরে ঢুকতে দেন। তাঁরা সেখানে প্রার্থনা করতে আসেননি, আশপাশের অস্থিরতার মধ্যে আটকা পড়েছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভেতরে থাকতে দেওয়া হয়। এর মধ্যেই গির্জার সামনে দিয়ে যাওয়া এক তরুণ তাঁকে মধ্যমা দেখালে তিনি পাল্টা একই ইঙ্গিত করেন। ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিমোনে নিশ্চিত করেছেন, দৃশ্যটি বাস্তব। তাঁর দাবি, কাউকে আঘাত করা কিংবা সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। সংঘর্ষের ওই পরিস্থিতির বাইরে তিনি এমন আচরণ করতেন না বলেও জানিয়েছেন। নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত কি না, এমন প্রশ্নে যাজক বলেন, তিনি কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করেননি। দীর্ঘদিন তরুণদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য, কখনো কখনো তাদের নিজেদের আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করাও প্রয়োজন। গির্জার সামনে থাকা কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন তিনি।
চেন্নাইয়ে তরুণের পকেটে টাকা না পেয়ে অ্যাপে ঋণ করিয়ে এটিএম থেকে টাকা তুলে নিল ছিনতাইকারীরা
মেগান মার্কেলের বাবার বিরুদ্ধে শত শত শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
বর অপমান করায় বিয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে ডিভোর্স দিলেন বউ
জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজার এলাকায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর মধ্যরাতের কিছু আগে ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে বোতল নিক্ষেপকারীকে খুঁজতে তৎপর হন। তবে গাড়িবহরটি চলাচল অব্যাহত রাখে। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু গভীর রাতে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই বাজারে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে তাঁর গাড়িবহরের দিকে একটি কাচের বোতল ছুড়ে দিতে দেখা যায়। এরপর পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিত লোকজনের ভিড়ের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর নির্বিঘ্নে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে লাইট রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সড়কের পাশে বহু মানুষ গাড়িবহর দেখতে ও নেতানিয়াহুকে অভিবাদন জানাতে জড়ো হন। বোতল নিক্ষেপের পর নিরাপত্তাকর্মীরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা ব্যারিকেড টপকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খোঁজার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুও বাজারে যান। সেখানে জন্মদিনের সংগীত বাজিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি তেল আবিবের হাতিকভা বাজারেও গিয়েছিলেন। ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা দায়ী ব্যক্তির সন্ধান শুরু করেন। তবে পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য বা বোতল নিক্ষেপের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৪৭ সুপারভাইজারকে ইমেইল, সাড়া দিলেন মাত্র ৩ জন, তবে মিলল ৮০ হাজার ডলারের বেশি ফান্ড
চোখে দেখা যায় না, স্পর্শও করা যায় না! ১৮ হাজার ডলারে ভাস্কর্য বিক্রি করলেন ইতালির শিল্পী
কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা আবেদনে জালিয়াতি, অভিযুক্ত পাঁচজন
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় হাইওয়েতে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে জসকিরাত সিং নওখরিয়া নামে ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ নিহত হয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সকালে মেরিটের কাছে কোকিহালা হাইওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একই গাড়িতে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই সারে শহরের বাসিন্দা। বিসি হাইওয়ে প্যাট্রোলের ১৯ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাইওয়ে ৫-এর উত্তরমুখী লেনে একটি গাড়ি দক্ষিণ দিকে চলার একাধিক অভিযোগ পায় পুলিশ। গাড়িটি থামাতে কর্মকর্তারা রওনা হওয়ার মধ্যেই হেলমার এক্সিটের দক্ষিণে মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা একটি কালো টয়োটা টাকোমা ও সাদা টয়োটা র্যাভফোরকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, সাদা র্যাভফোরের ২৪ বছর বয়সী এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের সহায়তায় খোলা গোফান্ডমি তহবিলের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় জসকিরাত সিং নওখরিয়া বলে জানা যায়। গাড়িটিতে থাকা অন্য তিনজনের বয়স ২৪ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। তাঁদের সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভারতের দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওখরিয়া হরিয়ানার কারনাল জেলার রাট্টাক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে কানাডায় যান। তাঁর পরিবারে মা-বাবা ও এক ছোট বোন রয়েছেন। তাঁর বাবা কৃষিকাজ করেন। প্রতিবেদনটিতে আহত তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। অন্য গাড়ি টয়োটা টাকোমার একমাত্র আরোহী ছিলেন কোল্ডওয়াটারের ২২ বছর বয়সী এক চালক। তিনি সামান্য আহত হন। মদ বা মাদকজাতীয় কিছুর প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত গতি ও চালকের স্বাভাবিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তদন্ত করা হচ্ছে। নওখরিয়ার শেষকৃত্য ও স্মরণানুষ্ঠানের খরচ মেটানো এবং পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির চলাচল কিংবা চালকের কর্মকাণ্ড দেখেছেন, এমন প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঠিক ক্রম নির্ধারণে ড্যাশক্যামের ভিডিওও চেয়েছেন তদন্তকারীরা।
সারোগেসিতে প্রথম সন্তানের বাবা হচ্ছেন নেদারল্যান্ডসের সমকামী প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন
তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত, আহত ৫৪