‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব
বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে গরুর মাংসকে নিজের পছন্দের খাবার হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টালিউডের অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি গরুর মাংস ও ইলিশ মাছ পছন্দের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে তার খাদ্যপছন্দের অধিকারের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।
বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি দুপুরে মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং রাতে গরুর মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, একজন মানুষ কী খাবেন, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
বিতর্কের মূল জায়গাটি অবশ্য শুধু খাদ্যপছন্দে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রয়েছে। ফলে একজন পরিচিত পাবলিক পার্সোনালিটি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে তার বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় আসে।
একটি পক্ষের বক্তব্য, খাদ্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ। কে গরুর মাংস খাবেন, কে খাবেন না কিংবা কে কোন খাবার পছন্দ করবেন, সেটি নিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, সমালোচকদের যুক্তি হলো, ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার থাকলেও পাবলিক পার্সোনালিটির প্রকাশ্য বক্তব্যে সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো খাবার বা অভ্যাস যখন ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তখন সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় সম্ভাব্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ বিশ্বজিতের বক্তব্যকে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবে দেখেছেন। আবার অন্যরা মনে করছেন, শুধু কোনো খাবার পছন্দ করার কারণে একজন মানুষকে আক্রমণ করা বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
এর আগেও বাংলাদেশি খাবার ও গরুর মাংস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৪ সালে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাংলাদেশি রান্নার একটি ভিডিও ঘিরেও একই ধরনের সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের মন্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন: ব্যক্তিগত খাদ্যস্বাধীনতা যেমন সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, তেমনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কি একজন পরিচিত ব্যক্তির বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন? সামাজিক মাধ্যমের বিতর্কে আপাতত দুই মতই জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি আবারও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, আলোচনা ভেঙে গেলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য আবার চেষ্টা করা উচিত। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করছে না। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার প্রশ্ন। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে কোন শর্তে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ২৪ অক্টোবরের বক্তব্যে পেজেশকিয়ান নতুন কোনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত বা আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিও আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা অবস্থান নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলে তেলবাহী জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব জানিয়েছে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং আলোচনার পথ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও পরিস্থিতিটি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপথ, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
আমাজনে ৪০ দিন তিন ভাইবোনকে আগলে রেখেছিল ১৩ বছরের লেসলি, বেঁচে ছিলেন প্রত্যেকেই
জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, দাবি ট্রাম্পের
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও অমুসলিম বা পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ। সৌদি আরবের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও দাঈ শায়খ আসিম আল-হাকিমের এমন একটি বিতর্কিত ফতোয়া ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দেওয়া তাঁর এই ফতোয়াটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী অবস্থানরত মুসলিম অভিবাসী ও ডায়াসপোরাদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শায়খ আসিমের যুক্তি হলো, পশ্চিমা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের যে আনুষ্ঠানিক শপথ নিতে হয়, তা একজন মুসলিমের মূল ধর্মীয় আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে ইসলামি আইন বিশ্লেষক ও সমালোচকরা এই ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত বিদেশি মুসলিমদের স্থায়ী নাগরিকত্ব প্রদান করে না। ফলে উন্নত জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, মৌলিক মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার স্বার্থেই অনেক মুসলিম পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকত্ব গ্রহণে বাধ্য হন। সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কুরআনের কোথাও পাসপোর্টের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পরিবর্তনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ফলে কুরআন-সুন্নাহর সরাসরি আদেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিগত ফতোয়ার পার্থক্য নিয়ে সাধারণ মুসলিম ও চিন্তাবিদদের মাঝে নতুন করে ধর্মীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
মার্কিন নাগরিকদের ওপর হা মলার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন
চিকিৎসকের সনদ দিয়েও অসুস্থতার ছুটির পর অফিসে গিয়ে দেখেন চাকরি নেই
যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের রিডিংয়ে প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস নিয়ে বিরোধের অবসানে বাসা ছাড়তে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি শহিদুল হক। হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন সাউদার্ন হাউজিংয়ের সঙ্গে আদালতের বাইরে এই সমঝোতা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বি রেডিওর ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিডিং কাউন্টি কোর্টে পরবর্তী শুনানিতে মামলার খরচের বিষয়টিও নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারক ক্যাথরিন ফিশার কোনো পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে আইনি খরচ দেওয়ার আদেশ দেননি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহিদুল হক ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ডেভিড স্মিথ কোর্টের এক বেডরুমের ফ্ল্যাটটিতে ওঠেন। কয়েক মাস পর তাঁর স্ত্রী ও দুই যমজ সন্তান সেখানে বসবাস শুরু করেন। আবাসনটি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত এবং সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটটি একজনের বসবাসের জন্য বরাদ্দ ছিল। পরিবার নিয়ে সেখানে থাকা চুক্তির শর্তের পরিপন্থী বলে সাউদার্ন হাউজিং ফ্ল্যাটটির দখল ফিরে পেতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আবাসন কর্তৃপক্ষের আদালতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরিবারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শব্দ ও প্রতিবেশীদের অসুবিধা সৃষ্টির অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। কয়েকজন বাসিন্দাও সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের অসন্তোষ জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। শহিদুল হকের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিরোধিতা এবং পরিবারটির আবাসনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। শহিদুল হকের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, তাঁকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে তাঁর স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে। তাঁরা ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সীমিত ইংরেজি দক্ষতা এবং সিলেটি ভাষায় চুক্তি ব্যাখ্যা না করার কারণে তিনি শর্তগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়। সাউদার্ন হাউজিং এসব যুক্তির বিরোধিতা করে চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রশ্ন তোলে। বি রেডিও জানিয়েছে, বুধবার ২১ অক্টোবরের শুনানিতে শহিদুল হকের পক্ষে আইনি খরচ পাওয়ার আবেদন করা হয়। বিপরীতে সাউদার্ন হাউজিংয়ের প্রতিনিধি জানান, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের বাইরে সমঝোতায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর বিচারক কাউকেই আইনি খরচ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া উপযুক্ত হবে না বলে সিদ্ধান্ত দেন। এই সমঝোতা মানবাধিকারসংক্রান্ত যুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
৯ বছর বয়সে চাঁদে মানুষের প্রথম পদক্ষেপ দেখেছিলেন, সেই নায়কের বাড়ি বাঁচাতে দিলেন ৪ লাখ ডলার
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বসানো হচ্ছে বিশেষ স্প্রিংযুক্ত সিলিং ফ্যান, মানসিক সেবা নিয়ে প্রশ্ন