সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৭:১৮
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।

বৈধ ভারতীয় ভিসা বা প্রবেশের অনুমতিপত্র হাতে থাকলেই ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি, ভিসা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে পারে। এসব যাচাইয়ের পর ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের রয়েছে।


দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিচারপতি অমিত মহাজন এক তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকের করা আবেদন খারিজ করে বলেন, শুধু বৈধ ভিসা থাকার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের শর্তহীন বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার অর্জন করেন না।


মামলাটির সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ। তুর্কমেনিস্তানের ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই বিমানে করে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁর কাছে বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। একই ধরনের ভিসা নিয়ে তাঁর স্বামীও তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও ওই নারীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং একই দিন তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।


এরপর তিনি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর দাবি ছিল, বৈধ ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলো না, তার কারণ জানানো হোক এবং তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। একই বিমানে থাকা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টিকেও তিনি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে তুলে ধরেন।


তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়া মানেই তাঁকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চূড়ান্ত অধিকার দেওয়া নয়। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন মনে করলে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া।


আদালতও এই যুক্তিকে গ্রহণ করে। বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, ভারতের প্রচলিত আইনি কাঠামো ভিসাকে ভারতে প্রবেশের ‘পরম ও শর্তহীন অধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করে না। বিদেশি নাগরিকের প্রবেশের বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিবেচনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


মামলার শুনানিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই নারীর আগের ভারত সফর এবং তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালতের সামনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালে বহুবার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। এসব সফরের মধ্যে ব্যবসায়িক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসায় করা ভ্রমণও ছিল। কর্তৃপক্ষ তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও ভারতে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু অসঙ্গতির কথা আদালতকে জানায়।


কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল এবং ভারতে ব্যবসায়িক সফরের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক তথ্যও কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল বলে আদালতকে জানানো হয়। এর একটি অংশ আদালতের সামনে গোপন নথি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।


আদালত এসব তথ্য বিবেচনা করে জানায়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে কোনো ভিত্তি ছাড়া নেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত আরও বলে, বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জায়গায় বসে নিজের মূল্যায়ন চাপিয়ে দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য থাকার কথা জানানো হয়েছে।


ওই নারীর স্বামীকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাঁকে কেন দেওয়া হলো না—এই প্রশ্নও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে আদালত মনে করে, একই বিমানে ভ্রমণ করলেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে একই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের নথি ও পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।


ভারতে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন কার্যকর রয়েছে। আইনটি ৪ এপ্রিল ২০২৫ প্রণীত হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ ও বহির্গমন, বিদেশিদের ভিসা, নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি নথিতেও ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশিবিষয়ক আইন, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং আদেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু ভিসা থাকা নয়, অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও কর্তৃপক্ষের যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।


দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের অর্থ অবশ্য এই নয় যে বৈধ ভিসাধারী প্রত্যেক বিদেশিকেই ভারতে প্রবেশের সময় আটকে দেওয়া হবে। বরং আদালতের বক্তব্য হলো, ভিসা মূলত ভারতে প্রবেশের অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি; এটি নিজে থেকেই সীমান্ত পার হওয়ার চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় অধিকার তৈরি করে না।


অর্থাৎ কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়ার পরও বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তার যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় সন্তোষজনক না হলে অথবা আইনগত কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনো কারণ থাকলে প্রবেশের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। তবে এই রায়কে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো ভারতীয় ভিসা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। মামলাটি তুর্কমেনিস্তানের এক নাগরিককে কেন্দ্র করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো বিদেশি নাগরিকের বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ক্ষমতা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পাঞ্জাবে গু লি করে হ ত্যা করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে
পাঞ্জাবে সম কা মী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গু লি করে হ ত্যা

ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মধুসূদনকে গু লি করে হ ত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। ম্যাড সান্ধু নামে পরিচিত এই ব্যক্তি শনিবার, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় লোহারকা রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রের বাইরে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গু লি চালিয়ে পালিয়ে যায়।   পুলিশ জানিয়েছে, হ ত্যা কা ণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে অমৃতসরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সিরিভেন্নেলার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে হা ম লাটি ঘটে। গু লি বি দ্ধ সান্ধুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে।   তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ প্রভজোৎ সিং ভির্ক জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পুলিশের হাতে কিছু সূত্র এসেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দা য় স্বীকারের পোস্ট দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ওই পোস্টে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়। কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পোস্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই দা য় স্বীকারের পোস্ট থেকেই হামলাকারীদের পরিচয় বা হ ত্যা র উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সান্ধু প্রকাশ্যে নিজের সম কা মী পরিচয় নিয়ে কথা বলতেন। মেকআপ, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও লি ঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভিডিও এবং পডকাস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঞ্জাব ও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রে স্টাইলিস্ট এবং সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছু পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় নিয়ে তাঁকে বি দ্ বে ষ মূলক মন্তব্য ও হয় রা নি র মুখেও পড়তে হয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি সান্ধুর পোশাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও পুরোনো ভিডিও নিয়ে একটি নিহাং গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরো ধ হয়েছিল। ওই গোষ্ঠী তাঁর কিছু কনটেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। পরে সান্ধু অভিযোগ করেন, বিত র্ক তৈরির জন্য তাঁর পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে।   তবে অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার হরমনবীর সিং গিল এই বিরো ধের সঙ্গে হ ত্যা কা ণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, হ ত্যা র উদ্দেশ্য জানতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সান্ধু অমৃতসরের একটি ইউনিসেক্স স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং মেকআপ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী ছিল।   হ ত্যা কা ণ্ডের পর অমৃতসরের সংসদ সদস্য গুরজিৎ সিং আউজলা দাবি করেছেন, সান্ধু দীর্ঘদিন ধরে হু ম কি পাচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রে প্তা র এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:৩০
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশ নিশ্চিত নয়।

ভিসা থাকলেও ভারতে ঢোকা নিশ্চিত নয়, দিল্লি হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত

নেপালের লাংটাং অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ৩৭ দিন পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড

তেহরানের দেয়ালজুড়ে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানের যুদ্ধকালীন বিলবোর্ড

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
নির্দেশের পরও নিউইয়র্কে থাকা ইরানের দুই প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করলেন মার্কিন প্রশাসন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার দাবি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তাঁরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। একজন শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, অন্যজন শনিবার সকালে চলে যান। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে গত সোমবার ইরানের জাতিসংঘ মিশনকে প্রতিনিধিদলের সবাইকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। শুক্রবার দুই সদস্যের নিউইয়র্কে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের চলে যাওয়ার নির্দেশ আবার জানায় ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা তাঁদের ‘বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফা নির্দেশের পর দুজন পৃথক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। তাঁদের জোরপূর্বক দেশ থেকে সরানোর কোনো বিবরণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ দেয়নি।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকেও নির্ধারিত সময়ের আগে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে এপি।   তবে মূল প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কারের আগের মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের জাতিসংঘ মিশন। তাদের বক্তব্য, আগে থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সর্বশেষ যে দুই সদস্য শুক্রবার ও শনিবার দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের বিষয়ে ইরানের পৃথক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয় : দিল্লি হাইকোর্ট

ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা

ভারতে পর্যটন কেন্দ্রের ইসরায়েলি ক্যাফেতে ভারতীয়দেরই প্রবেশে বাধা

অনীতা উইং লি ও টিম মুট্টোর

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা ও বিয়ে, টিমের মধ্যেই নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন অনীতা

প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।   পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।   এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৮:০
ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী

ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী

চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার

চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার

ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন খামিস আল-বুবো I ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হা মলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন

0 Comments