দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতি, বৈশ্বিক সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ
অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যু দ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে (জিএইচআই) অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। পাকিস্তানও রয়েছে গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির মধ্যে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সূচকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সশস্ত্র সং ঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ২৩ দশমিক ৫। অন্যদিকে, বৈশ্বিক স্কোর ১৮ দশমিক ১। সূচকের হিসাবে স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর। ২০০০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৫। দীর্ঘ সময়ে অগ্রগতি হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের স্কোর ২৮ দশমিক ৬ এবং পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫। ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১। এসব স্কোর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ক্ষুধার গুরুতর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
তবে পাকিস্তানে শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা বা স্টান্টিংয়ের হার কমছে। আফগানিস্তানে ২০১৮ সালের পর এই হার কিছুটা বেড়েছে। দুই দেশেই ২০০০ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যসংকটের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগও বড় ভূমিকা রাখছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মৌসুমে আফগানিস্তানে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত ও বেশি তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায়, ইরানসহ, প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। এ সংখ্যা বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
বিশ্বজুড়েও ক্ষুধা পরিস্থিতি আবার খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬-এর চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালের পর থেকে ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার মাত্রা অন্তত নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে ৫৭টি দেশ পিছিয়ে পড়ার পথে রয়েছে।
সূচকের চারটি প্রধান নির্দেশকের মধ্যে তিনটির অবনতি হয়েছে। এগুলো হলো অপুষ্টির হার, শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা এবং শিশুদের তীব্র অপুষ্টি। শুধু শিশুমৃ ত্যুর হার সামান্য কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধের পর বর্তমানে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সং ঘাতের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা যুক্ত হয়ে খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরে চাপ তৈরি করছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যু দ্ধ এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌপরিবহনে বিঘ্নের কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও সার উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধও গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যে।
এদিকে, খাদ্যনিরাপত্তা খাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে ২০১৬-২০১৭ সালের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি সংকুচিত হচ্ছে এবং জরুরি খাদ্য বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটির প্রণেতারা সরকারগুলোর প্রতি মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট প্রতিরোধ, আগাম ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী বোমা ফেলার বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন মাত্রার অভিযানের বিকল্প প্রস্তুত রাখেন, যার মধ্যে এই বিশাল আকারের বোমার ব্যবহার অন্যতম। এমওএবি বা জিবিইউ-৪৩/বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অতিকায় অ-পারমাণবিক বোমা, যা ব্যাপক বিস্ফোরণ ও বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সন্দেহ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলেই যে কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে, তা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ এমওএবি মূলত ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির জন্য তৈরি; এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে পুরু গ্রানাইট পাথর বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য নকশা করা হয়নি। জ্বালানি বা বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই বোমা ব্যবহার করা হলে আশপাশে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন পরিকল্পনায় জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
কাশ্মীরে সব মসজিদে অভিন্ন জুমার খুতবার উদ্যোগ, দেড় হাজার আলেমের বৈঠকের পর তীব্র বিতর্ক
‘আমি এখনো শিশু', খরার চাপে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আয় করছে আফগান পরিবারগুলো
পণ্য ও সেবার জন্য চীনা সরবরাহকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে তাইওয়ান। পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। ফলে বেইজিংয়ের ওপর এ ধরনের নির্ভরতা কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি বড় আঘাত। লিন চিয়া-লুংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক দুই দিন পরেই ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনের কার্যসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেইজিংয়ের ওপর অতিনির্ভরশীলতা হ্রাস করা। নিরাপত্তা ফোরামে তিনি মন্তব্য করেন, সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউরোপ প্রকারান্তরে নিজের স্বাধীনতারই একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও পোল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের বিদেশ সফরের কড়া বিরোধিতা করে থাকে বেইজিং। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। তবে প্রতিকূল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাইওয়ানের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্য উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি তাইওয়ানের সফল প্রযুক্তি মডেল যেমন সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি তা ইউরোপের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ইইউর উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে। যদিও পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে, তবুও তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় স্বাধীন সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
নিউজিল্যান্ডে তিন মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হিরিক, বাতিল ৭০%
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতি, বৈশ্বিক সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ
হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে ডুবল জাহাজ, সাগরে ভাসছে আইফোন-দামি পারফিউম
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে সন্দেহভাজন বোকো হারাম যোদ্ধারা। মঙ্গলবার রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১০ সেনা নি হ ত এবং আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও একজন বনরক্ষীও নি হ ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সামরিক সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বর্নো রাজ্যের গুজামালা স্থানীয় সরকার এলাকায় সেনাঘাঁটিটিতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সেনাদের প্রতিরোধ ভেঙে ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয় এবং কাছের মাইরারি গ্রামের কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুটি সামরিক সূত্র। নিরাপত্তাজনিত কারণে সূত্রগুলো নিজেদের নাম প্রকাশ করেনি। তারা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক এবং একজন বনরক্ষীও নি হ ত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি মানুষ। তবে আহতদের মধ্যে কতজন সেনা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ গনি মন্তব্যের জন্য করা ফোনকল ও পাঠানো বার্তার জবাব দেননি। ফলে হামলার বিষয়ে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সেনাঘাঁটিতে হামলার আগে কাছের একটি হ্রদসংলগ্ন গ্রাম তুমবুন বারেবারিতে মাছ ধরার ৪০টির বেশি নৌকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয় জেলে জিবরিন হাসান জানান, হামলায় তাঁর নৌকাটিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরেক জেলে বাবাগানা মুহাম্মদ জানান, সেনাঘাঁটি ও জেলেদের এলাকায় হামলাগুলো একই সময়ে চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, হামলাকারীদের তৎপরতা একযোগে চললেও জেলেদের ওপর সরাসরি শারীরিক হামলা হয়নি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা আবারও বেড়েছে। বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা এই বিদ্রোহ দমনে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও বর্নো রাজ্যে একটি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছিল আইএসডব্লিউএপি যোদ্ধারা। ওই ঘটনায় নাইজেরিয়ার সেনারা হামলা প্রতিহত করে ২৫ জনের বেশি যোদ্ধাকে নি হ ত করার দাবি জানিয়েছিল। তবে সে ঘটনায় সেনাবাহিনীর নিজেদের কতজন সদস্য হতাহত হয়েছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সামরিক স্থাপনায় হামলা, যানবাহন ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সর্বশেষ হামলায় সেনাঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ কতক্ষণ হামলাকারীদের হাতে ছিল এবং কী পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হামলার বিষয়ে সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নার্সিং স্কুলে ভর্তির আনন্দ মুহূর্তে মুছে গেল তরুণীর, চার ঘণ্টা পর জানলেন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত
মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর