ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জেরে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) সম্প্রতি এই নোটিশ জারি করেছে।
ইমরান খান জন্মসূত্রে একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের মাধ্যমে ভারতে বসবাস ও কাজ করেন। মুম্বাই পুলিশের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘন করেছেন।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর আয়োজনে হওয়া ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন এই অভিনেতা। সেখানে তাকে তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন, মা নুসরাত ও ভাগনি জেইনসহ পুলিশ আটক করেছিল।
আটকের পর পুলিশের ভ্যান থেকে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, "মনে হচ্ছে আমি একটু ঘুরতে যাচ্ছি।" এই ঘটনার পরপরই ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা কিরিট সোমাইয়া ইমরান খানের বিরুদ্ধে ভারতে নৈরাজ্য ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে তার নাগরিকত্ব ও ওসিআই স্ট্যাটাস তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে এফআরআরও-এর এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরান খানের আইনি দল। তাদের যুক্তি, ভারতীয় আইনে ওসিআই কার্ডধারীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ওপর কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। অন্যদিকে ইমরান খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং মুম্বাইয়ের একজন সাধারণ বাসিন্দা হিসেবেই তিনি ওই সমাবেশে গিয়েছিলেন।
মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা কেন খর্ব করা হচ্ছে এবং সাধারণের কণ্ঠ কেন রোধ করা হচ্ছে, মূলত তার উত্তর খুঁজতেই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বোম্বে হাইকোর্টে তার এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে ভারতে ইমরান খানের ভবিষ্যৎ অবস্থান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কথিত ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছিল, অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর এবং সিতি আক্তার। তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কোন জেলা বা উপজেলায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের একটি আরবি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের শিরোনামে এক নারীর সঙ্গে মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে প্রকাশিত ইংরেজি প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগটিকে সাধারণভাবে অনৈতিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে তাঁরা ঠিক কী করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগটির যৌন প্রকৃতির হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, নির্দিষ্ট কোনো যৌনকর্মে লিপ্ত থাকার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, আত্মীয় নাকি অন্য কোনো সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। ঘটনার সময় নিয়েও রয়েছে তথ্যের ঘাটতি। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে কথিত অনৈতিক কাজটি ঠিক কবে ঘটেছিল, তাঁদের কখন আটক করা হয়েছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়া কত দিন ধরে চলেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়রেখা প্রকাশ করা হয়নি। মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে রায় বহাল রাখা হয় এবং রাজকীয় আদেশের পর সাজা কার্যকর করা হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ, বিচারিক যুক্তি কিংবা অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কূটনৈতিক নোট পাঠানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার অন্য কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সমর্থিত হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, ঘটনার তারিখ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের নিজ নিজ এলাকার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি কিংবা বাংলাদেশের কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যেতে পারে।
যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে আঘাত, দিল্লিতে আটক বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ
ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, দেশ ছাড়ার নোটিশ
নির্মাণকাজের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর দাবি
বড় ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি উপলক্ষে পরিবার নিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবর হুতি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান তিনি। তাঁর দুই ছেলে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরব নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইউসুফের আত্মীয় ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি। হাশমির ভাষ্য অনুযায়ী, মদিনার ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকার সময় বড় ছেলেকে নিয়ে জুস কিনতে গিয়েছিলেন ইউসুফ। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় হামলায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও ইউসুফকে বাঁচানো যায়নি। ইউসুফ সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। বড় ছেলের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও পরিবারের এক নারী স্বজনকে নিয়ে ওমরাহযাত্রার পরিকল্পনা করেন তিনি। আরব নিউজের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত দুই ছেলে হাসপাতালে রয়েছে। মেয়ে ও ওই নারী স্বজন অপেক্ষাকৃত কম আহত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। ইউসুফের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। তিনিই এখন আহত সন্তানদের দেখাশোনা করছেন। হাশমি জানিয়েছেন, বড় ছেলের দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ভাঙা কাচের আঘাতে পেটেও অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তাকে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। বাবার মৃত্যুর খবর সন্তানদের জানানো হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। হতাহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রীরাও ছিলেন।
লাইফবোটের খালি আসনে উঠে জীবন বাঁচান, টাইটানিক থেকে বেঁচে দেশে ফিরেই শুনতে হয় ‘কাপুরুষ’ অপবাদ
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের
বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে একই ধরনের বা অভিন্ন জুমার খুতবা চালুর একটি প্রস্তাব ঘিরে অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের এই উদ্যোগকে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুকৌশল চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। তাদের মতে, এটি কাশ্মীরি মুসলিমদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতিনীতি ও স্বাধীনতায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দর্শন আন্দ্রাবি সম্প্রতি এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বোর্ডের দাবি, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন নেতিবাচক সমস্যা দূর করতে এই অভিন্ন খুতবা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আন্দ্রাবির ভাষ্যমতে, ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবে এবং এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে গত রোববার কাশ্মীরের প্রায় দেড় হাজার আলেম ও ধর্মীয় বক্তাকে নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কমিটিতে কারা থাকবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। উল্টো প্রস্তাবের বিষয়ে আলেমরা আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে অভিযোগ করেছেন এক অংশগ্রহণকারী আলেম। প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মসজিদে খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের অধিকার একান্তই ধর্মীয় নেতাদের; ওয়াকফ বোর্ডের দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত। অঞ্চলটির প্রধান মুসলিম ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও এই উদ্যোগকে সরাসরি ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-ওলামা এবং কাশ্মীরের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান অবশ্য পরবর্তীতে তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, খুতবায় সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্বাধীন আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পর থেকেই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে মসজিদগুলোর ইমাম ও খতিবদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের ফরম বিতরণ এবং শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে ধর্ম ও রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে গভীরভাবে যুক্ত থাকায় এ ধরনের যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি করে।
‘আমি এখনো শিশু', খরার চাপে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আয় করছে আফগান পরিবারগুলো
চীনের ওপর অতিনির্ভরশীলতা ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য হু মকি, তাইওয়ানের সতর্কবার্তা