ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হা মলায় গুরুতর আ হত মার্কিন সাংবাদিক
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিন। জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চালানো এই অতর্কিত হামলায় লেভিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে রামাল্লাহর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমতীরের আবু ফালাহ নামক একটি গ্রামে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কৃষকরা যখন তাদের বাগানে আনন্দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন এবং সাংবাদিক লেভিন সেখানে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মুখ ঢাকা একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসে।
প্রাণ বাঁচাতে সবাই পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা লেভিনকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এই মার্কিন সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে মাটিতে ফেলে একের পর এক লাথি মারতে থাকে।
তার গায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ভেঙে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ অন্যের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালাতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং জলপাই গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই তাণ্ডবে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও ৪০ বছরের এক পুরুষ কৃষকও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
হামলার সময় কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নীরব ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন (এফপিএ) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এবারও হয়তো অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিন। জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চালানো এই অতর্কিত হামলায় লেভিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে রামাল্লাহর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমতীরের আবু ফালাহ নামক একটি গ্রামে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কৃষকরা যখন তাদের বাগানে আনন্দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন এবং সাংবাদিক লেভিন সেখানে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মুখ ঢাকা একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা লেভিনকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এই মার্কিন সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে মাটিতে ফেলে একের পর এক লাথি মারতে থাকে। তার গায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ভেঙে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ অন্যের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালাতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং জলপাই গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই তাণ্ডবে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও ৪০ বছরের এক পুরুষ কৃষকও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হামলার সময় কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নীরব ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন (এফপিএ) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এবারও হয়তো অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে।
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন এবার চাকরিতে বদলানোর সুযোগ, পারিশ্রমিক ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা
পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ইমামতি করেন সিবগাতুল্লাহ
গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা
ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলার সময় বিমানবন্দরে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আবুল মনসুর রিয়াজ। তিনি বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সেই মুহূর্তে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল দেশে থাকা তিন বছর বয়সী মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের মুখ। পরে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই কয়েকটি মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ। রিয়াদের একটি হাসপাতালে রিয়াজের পা, কোমর ও মাথায় আঘাতের চিকিৎসা চলছে। তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সেবা করছেন। হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশিরাও তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতো সহযোগিতা করছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন বুধবার তাঁকে দেখতে গিয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। আহত আরেক বাংলাদেশি কুমিল্লার দাউদ বিন মুহিব। তিনি রিয়াদের কিং ফাহাদ হাসপাতালে শরীরে ধাতব টুকরোর আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরব নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, হামলার স্মৃতি এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। তবে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী এবং ১৩ জন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। শাহেদ সৌদি আরবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। অন্যদিকে নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছেন। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সংঘাত কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী, প্রবাসী কর্মী এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু যাত্রীর জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, অন্যদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী
মক্কায় অনৈতিক কাজে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের
অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা
ইংল্যান্ডের সোলিহালে একটি পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ এবং সেখানে আর না আসার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত টহলদল ‘চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে বর্ণবাদী আচরণ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং চেলমসলে উড এলাকায় টহল বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে মেরিডেন পার্কে দলটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে জানতে চান, তাঁরা কেন ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং পার্কে কী করছেন। প্রকাশিত ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা আগে বার্মিংহামে থাকতেন এবং সেদিনই ওই এলাকায় এসেছেন। আরেকজন বলেন, মাস্টার্স পড়তে তিনি ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং দুই বছর ধরে সেখানে আছেন। এরপর দলটির একজন তাঁদের পার্ক থেকে দূরে থাকতে বলেন। ভিডিওতে তাঁকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সেখানে আর না আসার ‘শেষ সতর্কতা’ দিতে শোনা যায়। দলটির প্রকাশ করা ভিডিওটি পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস নিজেদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় টহল দেওয়ার দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির বক্তব্য, রাতে পার্কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছিল তারা। তবে শিক্ষার্থীরা বেআইনি কিছু করছিলেন, এমন তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি। সোলিহাল গ্রিন পার্টি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক কাউন্সিলর শেশ শেশাভাত্তর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বাইরে দেখা করা বা হাঁটার অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গায়ের রং ছাড়া তাঁদের এভাবে থামানোর অন্য কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টসের সঙ্গে তাদের কোনো অংশীদারত্ব নেই। কাউকে থামিয়ে তল্লাশি করার ক্ষমতা নির্দিষ্ট আইনের অধীনে শুধু পুলিশের। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা দলটির একজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো উদ্বেগ থাকলে নিজেরা লোকজনকে থামানোর বদলে পুলিশকে জানাতে বলেছে বাহিনীটি। পুলিশের ১৫ অক্টোবরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় টহল চলাকালে একটি বাড়ির জানালা ভাঙার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে ওই ঘটনার সঙ্গে পার্কে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার কোনো যোগসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ
এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় পাঁচজন নি হ ত, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঝুঁকিতে